Showing posts with label ডেঙ্গু. Show all posts
Showing posts with label ডেঙ্গু. Show all posts

Wednesday, 15 November 2017

রসগোল্লা রহস্য

আজ রবিবার, তোপসের টিউশন পড়তে যাওয়া নেই। তাই বিকালবেলা সোফায় শুয়ে শুয়ে ইনস্টাগ্রামে সদ‍্য শুরু হওয়া ফ্লিম ফেস্টিভ্যালের ছবি দেখছে। শাহরুখ আর পিসির ছবি দেখে তার হঠাৎ 'করন অর্জুন' সিনেমার কথা মনে পড়ে গেল। ব‍্যাকগ্রাউন্ডে মনে হলো গান বাজছে, বন্ধন ইয়ে, প‍্যার কা বন্ধন হ‍্যায়। তোপসের চোখে অটমেটিক জল এসে গেলো। তোপসে দেখল পাশে বসে ফেলুদা তখন টিভিতে খবর দেখছে, কেষ্টা প্রকাশ‍্যে হুমকি দিচ্ছে। এমন হুমকি তো মাফিয়া গুন্ডারা দেয়, তোপসের মুখে এই কথা শুনে ফেলুদা বলল, সাধে কি আর উনি বলেছেন, আমি গুন্ডা কন্ট্রোল করি।

এমন সময় কলিং বেজ বেজে উঠলো। দরজা খুলতেই লালমোহন বাবু রেগেমেগে হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করলো। তারপর সোফাতে ধপাস করে বসে বলল, হরেন্ডাস ব‍্যাপার মশাই! কি ব‍্যাপার ফেলুদা জিঞ্জেস করাতে লালমোহন বাবু বললেন, দিব‍্যি আপনার বাড়িতে আসছিলাম। নিউ টাউনের সিগন‍্যালে দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ গাড়ির পিছনে জোর ধাক্কা। প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো গাড়ি এসে ঠুকলো বুঝি! কিন্তু নেমে দেখি হরেন্ডাস ব‍্যাপার, গাড়ি না! আমাদের গরমেন্টের তৈরি বিশ্ব বাংলার বল। ব‍্যাক লাইটটা ভেঙে গুড়ো হয়ে গেলো! ফেলুদা মুচকি হেসে বললেন, ওটা ভাইপোর বল। তোপসে অবাক হয়ে বলল, ওটা তো সরকারি বল! ফেলুদা বলল, বল গড়াগড়ি খাওয়ার আগে পর্যন্ত সবাই সেটাই জানতো।

লালমোহন বাবু ফেলুদাকে বলল, তা এবারে শীতে কোথায় যাওয়া হবে ঠিক করলেন কিছু? ফেলুদা একটা চারমিনার ধরিয়ে দুটো রিঙ ছেড়ে বললেন, গ‍্যাং বা ড‍্যাং তো যাওয়া যাবেনা! পাহাড় খুব জোর হাসছে। লালমোহন বাবু উত্তেজিত হয়ে বললেন, তাহলে রাজস্থানেই যাওয়া হোক। সেই কবে সোনারকেল্লা দেখেছিলাম, আপনার মনে আছে? ফেলুদা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো। লালমোহন বাবু বললেন, ছোট্টো ছেলে মুকুলটা তো ভয়ে আমার কোলের ভিতর ঢুকে পড়েছিল। আচ্ছা মিত্তির মশাই, মুকুল অনেক বড়ো হয়ে গেছে না! এখনও কি ভয় পায়? ফেলুদা চারমিনারে আরেকটা টান দিয়ে বলল, হ‍্যাঁ ভয় পায়। তবে সিবিআইয়ের, তাইতো সে এখন পদ্ম বনে লুকায়। লালমোহন বাবু ফেলুদার কথার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে না পেরে তোপসের মুখের দিকে তাকায়। তারপর ফেলুদাকে উদ‍্যেশ‍্য করে বলেন, মুকুল সম্বন্ধে আরেকটি প্রশ্ন করতে পারি? ফেলুদা ঘাড় নাড়তে লালমোহন বাবু বললেন, মুকুল কি কাঁটা বেছে পদ্ম বনে ঢুকেছে?

ফেলুদা চারমিনারের শেষটা অ্যাসট্রেতে গুঁজে লালমোহন বাবুকে বললেন, রহস্য উপন্যাসের জন‍্য রাজস্থানে না গিয়ে দেগঙ্গা বা ভাঙড়ে যেতে পারেন। প্রতিদিনই মার্ডার হচ্ছে, সবাই জানে খুনি কে, কিন্তু কেউ মুখ খুলছে না। লালমোহন বাবু অবাক হয়ে, বলেন কি মশাই! কেন কেউ মুখ খুলছে না? ফেলুদা হেসে বলেন, ওটাই তো রহস্য। তোপসে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, তুমি কি ডেঙ্গুর কথা বলছো! ফেলুদা তোপসের পিঠ চাপড়ে বলে, সাবাস! আস্তে আস্তে তুই আমার অ্যাসিসেন্ট হওয়ার যোগ‍্য হচ্ছিস। লালমোহন বাবু অবাক হয়ে বলেন, ডেঙ্গু তো বাংলায় নেই! ওরা তো ভিনদেশী। ফেলুদা লালমোহন বাবুকে বলল, বুঝলেন গাঙ্গুলী বাবু ডেঙ্গু নিয়ে লিখলে একটা সমস‍্যা আছে। উপন্যাস আপনি প্রকাশ করতে পারবেন না। তার চেয়ে বরং আপনি রসগোল্লা নিয়ে একটা উপন্যাস লিখুন। সদ‍্য ওড়িশা থেকে যুদ্ধ জয় করে ফিরেছে। মার্কেটে ভালো খাচ্ছে সবাই। দুদিনেই জুকেরবার্গের সুগার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। লালমোহন বাবু হেসে বললেন, এটা দারুণ বলেছেন। তাছাড়া রসগোল্লার ওপর আমার দুর্বলতা রয়েছে অনেকদিন থেকেই। কিন্তু উপন্যাসের নাম কি দেব? লালমোহন বাবু মাথা চুলকাতে লাগলেন।

বাড়ি ফেরার সময় গাড়ির দরজা খুলতে গিয়ে হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠলেন, পেয়েছি! পেয়েছি! তারপর গদগদ মুখে ফেলুদার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার পরবর্তী উপন্যাসের নাম 'রসগোল্লা রহস্য'। ফেলুদা প্রত‍্যুতরে হেসে বললেন, এবারে আপনার ডি-লিট পাওয়া আর কেউ আটকাতে পারবে না...

Monday, 29 August 2016

শুভ জন্মাষ্টমী

                                                                শুভ জন্মাষ্টমী 
আজ হতে ৫২৩৮ বছর পূর্বে ১৯শে জুলাই তারিখে ভাদ্রমাসের অষ্টমী তিথিতে কৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ করেন বলে একে জন্মাষ্টমী বলা হয়। যদিও অনেকে এখন দাবী করছেন কৃষ্ণের জন্ম নাকি ২১শে জুলাই হয়েছিল। কংশের কারাগারে বসুদেব ও দেবকীর সংসারে তিনি জন্ম নেন। বাসুদেব কিন্তু কোনো চিটফান্ডের মালিক ছিলেন না! আসলে উন্নয়নপ্রেমী কংশকে কে ভগবান একদিন ওয়াসঅ্যাপ করে জানায় যে তার বোন দেবকীর অষ্টম সন্তান তাকে হত্যা করবে। তাই তিনি তার বোন ও ভগ্নিপতীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে বন্দি করে রাখেন। তারপর চক্রান্ত করে একের পর এক সাতটি সন্তানকে হত্যা করে আর বোনের কাছে এসে কুমিরের কান্না কেঁদে বোনে 'ছোট্টো ঘটনা' বলে সান্ত্বনা দেয়। এমনকি ক্ষতি পূরনের আশ্বাস দিয়ে রেটও ঠিক করে দেন।
অবশেষে এক গভীর রাতে কৃষ্ণের জন্ম হয়। জেলের ম্যাক্সিমাম কর্মীরা সন্ধ্যা থেকেই চটুল নাচের আসরে মদ মাংস খেয়েছিল। তাই তারা বেহুঁশ হয়ে ঘুমাচ্ছিল। আর জেলের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব কংশ যেদিন থেকে কোহরাবকে দিয়েছিল কোহরাব সেদিন থেকেই জেলের গারদের লোহা গুলি চুরি করা শুরু করেছিল। এখন গারদের দরজার কেবল ফ্রেমটাই আছে, মাঝের রড গুলি নেই। আসলে কংশ 'মিনিমাম' খেতে বললেও কোহরাব 'ম্যাক্সিমাম' খেয়েছিল। কংশ নিজেও একসপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুতে সজ্জাসায়ী। তাই কৃষ্ণকে নিয়ে বাসুদেবের কারাগার থেকে পালাতে অসুবিধা হয়নি। তবে রাস্তায় বাসুদেবকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়ছিল। রাস্তা জলমগ্ন হওয়ায় তাকে ত্রিফলার খোলা তার বাঁচিয়ে সাবধানে হাঁটতে হচ্ছিলো। বাসুদেব জানতো গত মার্চেই ওভার-ব্রিজটা ভেঙে পড়েছিলো। তাই তিনি নদীটা সাঁতরে পার হবেন ঠিক করলেন। তবে কাজটা মোটেই সহজ ছিলো না। কারণ DVC চক্রান্ত করে প্রচুর জল ছাড়ায় নদী উত্তাল ছিল।
নদী পার হয়ে গোকুলের নন্দ-যশোদা দম্পতির কাছে কৃষ্ণকে রেখে আসেন।অন্যদিকে সেই দম্পতির সদ্য জন্মনেওয়া কন্যাসন্তানকে কারাগারে দেবকীর কোলে স্হান দেন। নিন্দুকের অনেকেই বলেন বাসুদেব নাকি কন্যাশ্রীর টাকা পাবার জন্য এমন করেন। ছোটবেলা থেকেই কৃষ্ণ দামাল প্রকৃতির ছিলো। আর চুরি করার জিনটা তো মাতুলকুল থেকেই পেয়েছিল। কংশ অনেক চেষ্টা করেছিল গোকুলের পুরসভা দখল করার, নন্দকে অর্থের প্রলোভনও দেখিয়েছিল। নন্দ ছিলো গো-পালক গোষ্ঠীর প্রধান। তাই কংশ, নন্দের বাড়ির ফ্রিজে গো-মাংস আছে বলে কুৎসা রটান। পরে তা মিথ্যা প্রমানিত হয়। এরপর থেকেই নন্দ গোকুলের সমস্ত গরুর আধার কার্ড করে দেন। কংশ কৃষ্ণকে মারতে পুতনাকে পাঠান। পুতনা গোকুলে গিয়ে হুমকি দিতে থাকে - ' কোথায় সেই বাচ্চা? তাড়াতাড়ি বলো, নাহলে আমি সবার বাচ্চা খসিয়ে দেব"। ছোট্টো কৃষ্ণ পুতনাকে উচিত শিক্ষা দিয়েছিল। পুতনাকে দিয়ে কাজ না হওয়াতে চাষার ব্যাটাকে দিয়ে কালিয়া নাগ পাঠায় কৃষ্ণকে হত্যা করতে। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।
কৃষ্ণের মধ্যে যে কেবল মাতুল থেকে চুরির জিন এসেছিল তা নয়! কৃষ্ণের মধ্যে তার মদন মামার জিনও ছিলো। কৈশরেই রাধা নামের এক কিশোরীকে ফ্লাট করতো। ফেসবুকেই দুজনের পরিচয় হয়। প্রথমে চ্যাট তারপর যমুনার পাড়ে ডেটিং। কৃষ্ণের ইনবক্স খুলে দেখা যায় সে ১৬১০০ গোপিনীর সাথে চ্যাট করত প্রতিদিন। রাধার সঙ্গে যৌবনে মথুরায় প্রত্যাবর্তন করে কৃষ্ণ তাঁর মামা কংশের অনুগামীদের দ্বারা সংঘটিতবহু হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে আত্মরক্ষা করে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল খাটিয়ে কংশকে হত্যা করেন।
(বি.দ্র. - এটা একটা কাল্পনিক লেখা। পুরাণ বা ধর্মের সাথে এর কোনো সংযোগ নেই)