Showing posts with label গুন্ডা কন্ট্রোল. Show all posts
Showing posts with label গুন্ডা কন্ট্রোল. Show all posts

Thursday, 5 October 2017

কার্নিভাল কাহিনী

দুর্গা= কৈ রে, বলি তোদের সাজুগুজু করা হলো! তাড়াতাড়ি নে, তোদের পিসি রেড রোডে অপেক্ষা করছে তো। 

সরস্বতী = মা, এই স্কার্টটা কেমন? এটা পরেই ভাবছি এবারে ক‍্যাট ওয়ার্ক করবো! 

দুর্গা = তুই কি পাগল নাকি! এই টাইট মিনিস্কার্ট পরে ওখানে কেউ হাঁটে নাকি! যদি হঠাৎ জ্বর বমি হয়ে যায়! 

সরস্বতী = আরে চিন্তা করছো কেন! আঙ্কেল তো এবারের কার্নিভালে নেই, ভুবনেশ্বরে আছে। তাই কোনো চিন্তা নেই!

দুর্গা = ওরে আঙ্কেল নেই তো কি হয়েছে, আঙ্কেলের ছেলেরা তো আছে। যদি ফস করে ঢুকে পড়ে! তাছাড়া আশেপাশে অনেক দুষ্টু দামালরা থাকবে। বিদায় বেলায় যদি একটা ছোট্টো ঘটনা ঘটে যায়! তোর পিসি তো ক্ষতিপূরণ ঘোষনা করেই খালাস হয়ে যাবে।

সরস্বতী = তাহলে কি পরবো? দিদি নম্বর ওয়ানে জেতা শাড়িটা? নাকি এবছরের লেটেস্ট, বাহুবলী চুড়িদার?

দুর্গা = চুড়িদারটাই পর। বাহুবলী নামটার মধ্যে একটা ইয়ে আছে...

লক্ষী = মা, আমার কন‍্যাশ্রীর বালা দুটো খুঁজেই পাচ্ছি না! পিসি বারবার করে বলে দিয়েছে ও দুটো পরে আসতে। 

দুর্গা = থাক মা, ও দুটো আর পরে কাজ নেই। ওখানে ছিঁচকে চোর থেকে ডাকাত, তোলাবাজ থেকে গুন্ডা সবাই আছে।

লক্ষী = পিসি তো গুন্ডা কন্ট্রোল করে, তাহলে ভয় কিসের?

দুর্গা = সেটা যেমন ঠিক, তেমন তোর পিসি মিলেমিশে ভাগ করে খেতেও বলে।

কার্তিক = মা, আমি ভাবছি, ময়ূরে করে না গিয়ে এবারে সবুজ সাথীর সাইকেলে করে কার্নিভালে যাবো।

দুর্গা = ঐ তো সাইকেলের হাল! দেখিস মাঝপথে ভেঙে যায়!

গনেশ = (সিঙাড়া খেতে খেতে এসে ) মা আমি তাহলে দাদার ময়ূরে চড়ে যাবো?

দুর্গা = না বাবা গনশা, তোমার চাপে যদি ময়ূর মাঝপথে কেঁদে ফেলে তাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে! আর তুমি এভাবে সিঙাড়া খেতে খেতে বাইরে বেরিও না, সিবিআই ইডির চোখে একবার পড়লে আর রক্ষে থাকবে না!

মহিষাসুর = মা, আমি কি গতবারের মতন মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে যাবো?

দুর্গা = ওটা ব‍্যাকডেটেড, পিসি কেসটা অনেকদিন আগেই শেষ করে দিয়েছে।

মহিষাসুর = তাহলে কি ফ্রেঞ্জকাট দাড়ি নিয়ে হাতে ক্রিকেট ব‍্যাট নিয়ে হাঁটবো?

দুর্গা = এটা যদিও টাকটা কেস, তবে আমার মনেহয় তুই একটা রঙিন জহরকোট পরে মাথায় একটা পাহাড়ি টুপি পরে নে। আর হ‍্যাঁ, হাঁটার সময় চোখ দুটো ছোট করে খুলবি।

কলা বৌ = মা, পিসি গতবছর বলেছিলো, পরেরবার বিএমডব্লিউ আর ভলবো করে কার্নিভালে নিয়ে যাবে। তা কই এবারে তো কিছু পাঠালো না!

দুর্গা = বলিহারি বৌমা তোমার আশা, যে বন‍্যা ত্রানে হেলিকপ্টার পাঠায় না, সে আমাদের জন্য ভলবো বিএমডব্লিউ পাঠাবে! খোলা ট্রাকে করে হাওয়া খেতে চলো।

( দুর্গার স্বপরিবারে কার্নিভালে প্রবেশ)

পিসি = আরে গৌরী, নীলসাদা শাড়িতে তোমাকে দারুণ লাগছে! গলায় উজ্জ্বল মুক্তোর হারটা দেখে মনে হচ্ছে ওটা ত্রিফলার গায়ে পেঁছিয়ে থাকা আলো। আমার তো দেখেই অটোমেটিক কবিতা পাচ্ছে..

(এই কথা শোনা মাত্রই সরস্বতী আর লক্ষী কানে হেডফোন গুঁজে দিয়েছে)

দুর্গা = দয়াকরে আমাকে গৌরী নামে ডাকবেন না। আসলে ঐ নামে ডাকলেই মনেহয় কেউ আমাকে এখুনি গূলি করবে।

পিসি = হ‍্যাঁরে গনশ, তোকে কতো করে বলেছি ডায়েট কন্ট্রোল কর। তোর মধ‍্যপ্রদেশ তো পাত্তোকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে। এই ভুড়ি নিয়ে ক‍্যাট ওয়ার্ক হয়! এবারে যাওয়ার সময় এক পেটি সিঙ্গুর সরিষার তেল নিয়ে যাবি। একেবারে কোলেস্টেরল ফ্রী। আর তোর বৌ-টা তো শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে আহারে বাংলা বা ইলিশ উৎসবে নিয়ে এসে ভালোমন্দ খাওয়া। 

(কার্তিককে ডিএসএলআর-এ ছবি তুলতে দেখে পিসি রেগে গিয়ে)

পিসি = এই! এই কাতু! ওটা ব‍্যাগে ঢোকা আগে। চালাকি পায়া হ‍্যায়! কার্নিভালে এসে ম‍্যাথুর মতন স্টিং করতা হ‍্যায়!

কার্তিক = আরে না না! আমি ফেসবুকে দেব বলে ছবি তুলছি। 

পিসি = ওসব আমি নেহি জানতা হ‍্যায়! ক‍্যামেরা দেখলেই আমার স্নেহের ভাই গুলো ভয় পায়! আসলে, গোয়াল বার্নিং কাউ ফিয়ার সিঁদুরে ক্লাউড, আরকি!

(কার্তিক ক‍্যামেরা ব‍্যাগে ঢুকিয়ে আবার তীর ধনুক নিয়ে পোজ দিতে শুরু করলো)

পিসি = তুই কি রে কাতু! এখনো তীর ধনুকেই পড়ে আছিস! ওরে কেস্টা ওকে দু-চারটে পেটো অন্তত দে।

(লক্ষীর দিকে তাকিয়ে)
পিসি = তোকে কতোবার ফোন করে বিশ্ব ব‍্যাঙ্গ সম্মেলনে আসতে বললাম, তাও একবারও এলি না! আগে তো প্রায় সুদীপ কাকুর সাথে অ্যাম্বুলেন্সে চড়েও আসতিস! 

(সরস্বতী নোটপ্যাড নিয়ে ব‍্যস্ত। তার দিকে তাকিয়ে খানিকটা রেগে গিয়ে)

পিসি = যতই খুটুর পুটুর করো না কেন, ভুলে যেও না , ইন্টারনেট ব‍্যালেন্স আমার গরমেন্টই ভরে। 

মহিষাসুর = পিসি আমাদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তিটার কি হলো?

পিসি = আমি তোর সাথে একটাও কথা বলবো না। আমাকে মা বোলতা হ‍্যায়। ওউর হামার বিরুদ্ধে চক্কান্ত করতা হ‍্যায়!

দুর্গা = পিসি এবারে অন্তত বিদায় দিন। আমার ভোলেবাবা হয়তো আমাকে ভুলেই গেছে..

পিসি = চিন্তা করিস না! যেতে দেরি হবে সেটা আমি হোয়াটস অ্যাপ করে দিয়েছি। আর হ‍্যাঁ, ভোলেবাবা যাতে একাএকা বোরিং না হয় তাই মদনাকে পাঠিয়ে দিয়েছি।

Tuesday, 25 October 2016

✍✍✍✍ চক্কান্তের গন্ধ ✍✍✍✍

                                  ✍ চক্কান্তের গন্ধ 
মা মারা যাবার পর ভাইপো ছাড়া কালীপিসির সাত কুলে আপন বলে কেউ নেই! রক্তের সম্পর্কের ভাই কার্তিক গনশা আছে বটে, তবে তাদেরকে পিসি বেশি পাত্তা দেয়না। পিসি জানে তারা সারাক্ষণ পিসির সম্পত্তি হাতানোর জন্য নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। পিসি তার ভাইয়েদের কান্ড দেখে তার চিটফান্ডের টাকা থেকে ছবি বিক্রির টাকা, সোনার তরী হোটেল, কবিতার বইয়ের ল্যয়ালিটি স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি এমনকি নতুন আইফোন-৭ টাও ভাইপোর নামে উইল করে দিয়েছে। কদিন আগে পিসির ভিক্ষা-মা মারা গেলেন। তারপর থেকে পিসি আরও একা হয়ে পড়েছে। তাই সারাক্ষণ পিসি তার ভাইপোকে আগলে রাখেন।

ছোটবেলা থেকেই ভাইপোও পিসি ন্যাওটা। সারাদিন পিসির নীল-সাদা আঁচল ধরে গোটা পাড়া ঘুরে বেড়াতো। পাড়ার কেউ ভাইপোর নামে অভিযোগ করলে পিসি তার বাড়ি গিয়ে ঝগড়া করে আসে। রীতিমতো পাড়ার সবাইকে হুমকি দিয়ে রেখেছে, ' যদি কেউ ভাইপোর নামে কোনো কুৎসা অপপ্রচার করে আমি কিন্তু চাবকে লাল করে দেব।' এমনিতেই পাড়ার লোকজন জানে কালীপিসি গুন্ডা কন্ট্রোল করেন, তাই পিসির সাথে কেউ ঝামেলায় যায়না। একবার বে-পাড়ার একটা ছোকরার সাথে ভাইপোর কথা-কাটাকাটি হচ্ছিলো। হঠাৎ ছোকরাটি ভাইপোকে সপাটে চড় মারাতে পিসির গুন্ডারা সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে দিয়েছিল।

দুদিন আগে ভাইপো জুলফির সিনেমা দেখে তার এক বন্ধুর সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তার উল্টোদিক থেকে আসা এক গোয়ালার সাইকেলের সাথে হঠাৎ ধাক্কা! গোয়ালার সাইকেলের ক্যারিয়ারে দুটো দুধ ভর্তি জার থাকায় ভাইপোদের সাইকেলটা ধাক্কা মেরেই পাল্টি খেল। চোট বিশেষ হয়নি! চোখের কোলে একটু ছিলে গেছে আর হাতটা মুচড়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার কিছু লোকে ভাইপোকে নিয়ে বেলতলার পীর বাবার কাছে নিয়ে ছুটলো। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটা ছড়িয়ে পড়তে গোটা পাড়া বেলতলায় জড়ো হলো। পিসিও পড়ি মরি করে বেলতলায় ছুটে এলেন। পীর বাবা যখন পিসিকে বলল যে, চিন্তার তেমন কিছু নেই! তখন পিসি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। তারপর দুটো বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস নিয়ে উপস্হিত পাড়ার সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, গন্ধটা বড়ো সন্দেহ জনক!

এমনিতেই পিসির সন্দেহের শুচিবাই জিনটা বেশ প্রখর! লোকে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে পার্ক সার্কাসের পচা গন্ধ পায় না। কিন্তু উনি কালীঘাট থেকে কালিংপঙের চক্কান্তের গন্ধ পান। পোলার বিয়ারও পিসির কাছে শিশু। তবে হ্যাঁ, উনি কেবল 'চক্কান্ত'এর গন্ধই পান। অন্য কোনো গন্ধে পিসির অলফ্যাক্টরি লোব কাজ করেনা। পিসি গম্ভীর ( গৌতম নয় ) ভাবে বলল, তদন্ত করে দেখতে হবে এটা ম্যান-মেড দুর্ঘটনা কিনা! সঙ্গে সঙ্গে পিসির এক অপহরণ স্পেশালিস্ট সাগরেদ বলল, দিদি বলেন তো গোয়ালা মালটাকে তুলে আনি! পিসি প্রথমে খোঁজ নিলেন, গোয়ালাটা কি লাল পোশাক পরেছিল? যদি না পরে থাকে তাহলে খোঁজ নিয়ে দ্যাখো দুর্ঘটনার দিন ওর চৌত্রিশ গুষ্টির কেউ লাল পোশাক পরেছিল কিনা? এই কেষ্টা, যে ছোকরাটি ভাইপোকে সাইকেলে করে নিয়ে আসছিল ওর মুখটা শুঁকে দ্যাখ তো! গুড়জলের গন্ধ বার হচ্ছে কিনা? কেউ নিশ্চয়ই ওকে 'চক্কান্ত' করে কিছু খাইয়ে দিয়েছে! কিন্তু পিসির কোনো প্রেডিকশানই মিলল না!

পিসির এই পাগলামো দেখে হাসতে হাসতে পাড়ার লোকজন যে যার কাজে ফিরে গেলেও কালীপিসি কিন্তু তখনও বেলতলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ সি পি প্রদ্যুম্নের মতন হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলতে লাগলো, কুচ তো গড়বড় হ্যায় ! চক্কান্ত ! চক্কান্ত !
পীর বাবা, পিসির দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইপোর অসুখের ঔষধ আমার কাছে আছে, কিন্তু পিসির রোগের ঔষধ আমার কাছে নেই ...