Showing posts with label ভাইপো. Show all posts
Showing posts with label ভাইপো. Show all posts

Thursday, 3 August 2017

ভাইপোর লিপস নড়ছে না

কালীপিসির মনটা খুব বিচলিত। সন্তানসম ভাইপোটা কিছুই খাচ্ছেনা। দিব‍্যি আলুরচপ মুড়ি খেতে খেতে সন্ধাবেলায় 'টাইমস নাও'এ খবর দেখছিল। তারপর হঠাৎ কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেনা পিসি। কিছুতেই মুখে কিছু তুলছে না! ছোট্টো নাতনি ঘরে খেলছিল। সে কালীপিসিকে কেবল বলছে, পিসিদিদা পিসিদিদা, পাপা লিপ উন্ড। নাতনির কথা শুনে কালীপিসি ভাবলো বর্ষাকাল, ঠান্ডা লেগে ভাইপোর ঠোটে হয়তো ব‍্যাথা হয়েছে। কিন্তু এমনকি হয়েছে যে ভাইপো কথা বলছে না! পিসি কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।

এমন সময় মদনার ফোন। একটু ইতস্ততঃ করে রিসিভ করতেই মদনার জড়ানো গলা ভেসে এলো, আমি পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলাম বলে আমাকে শহীদ দিবসে স্টেজে উঠতে দাওনি। জুলিকে নিয়ে রাস্তায় বসে আমাকে সেদিন পোগ্গাম দেখতে হয়েছিল। দিদি, তোমার অভি লিপস এন্ড বাউন্ডসের জন‍্য মুদীর কাছ থেকে ১.১৫কোটি টাকা নিয়েছে। এবারে দেখবো তুমি তোমার ভাইপোকে স্টেজে চান্স দাও কিনা?

এতক্ষণে পিসির কাছে স্পষ্ট হলো নাতনির 'লিপ উন্ড' আসলে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস। রেগে গিয়ে ভাইপোকে ধিক্কার জানিয়ে বলল, ছিঃ অভি ছিঃ! শেষে কিনা মুদীজির কাছ থেকে টাকা নিলি! বড়দার সাথে তুই এমন করবি আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। উনি আমাদের ভোটের সময় কতো সাহায্য করেন, উনি না থাকলে এত সিট জিততে পারতিস! উনি সাহায‍্য না করলে আমাকে ক‍্যাবিনেট মিটিং জেলে বসেই করতে হতো। তুই কি ভেবেছিস তোর সুদীপদা সত‍্যিই বীর! আরে বড়দা না থাকলে ওকেও ভুবনেশ্বরে বসে ডায়েরী লিখতে হতো। তোর ছেলে ঢোকানো দাদা, যে এখন নিজেই ঢুকে আছে। সে যে জেলের মধ‍্যে দুবেলা ফ্রায়েড রাইস চিলিচিকেন গিলছে, সেটাও বড়দার দয়ায়। আর যে বড়দা আমাদের জন্যে এতকিছু করে তুই কিনা তার কাছ থেকে..... ছিঃ...

পিসির মুখে ভৎসনা শুনে এবারে ভাইপো হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, পিসি আমি টাকা নিয়েছি মুদীর কাছ থেকে ঠিকই কিন্তু আমি তোমার বড়দাকে ঠকাইনি, বড়দার কাছ থেকে টাকা নিইনি। পিসির এবারে খটকা লাগলো, মুদীর কাছ থেকে নিয়েছে অথচ বড়দাকে ঠকায়নি! ভাইপোর দিকে কটমট করে তাকিয়ে পিসি বলল, কি ব‍্যাপার খুলে বলো অভি। ভাইপো কাঁদতে কাঁদতে বলল, তুমি বি....শ্বাস করো পি.....সি আমি তোমার বড়...দার থেকে টা....কা নিইনি। আমি কিশোর কাকু্র কাছ থেকে নিয়েছি। পিসি এবারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, আগে বলবি তো এটা দ্রাপর যুগের নয়, বৈদিক যুগের টাকা। আর আমিও ঐ মাতালটার ফোন পেয়ে সাত পাঁচ না ভেবে কতো কিছু বললাম তোকে।

ভাইপো এবারে করুনভাবে জিঞ্জেস করলো, আচ্ছা পিসি সবাই তো সব জেনে গেছে, ওদের হাতে প্রমাণও আছে, যদি সিবিআই আমাকে জেলে ভরে দেয়? পিসি একগাল হেসে বলল, ধুর পাগলা আমি কি উলের কম্বলটা এমনি এমনি পাঠিয়েছি। সিবিআই ইডি সবাই ওটা চাপা দিয়ে শীতঘুমে চলে যাবে। এতক্ষণে ভাইপোর মুখে হাসি ফুটলো। কৌতূহলবশত ভাইপো পিসিকে জিঞ্জেস করলো, আচ্ছা আমি তো ১.১৫কোটি নিয়েছি তাহলে এস বি আই নিশ্চয়ই আমাকে ৪%সুদ দেবে, তাই না পিসি? কালীপিসি হেসে বলল, দুষ্টু একটা...

(বি.দ্র. - এটি একটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই। থাকলে কাকতলীয়)

Tuesday, 21 February 2017

লালু

                                                                           লালু

তখন শীত পড়েছে, হঠাৎ 'সিজিও' নামে এক জটিল (কমপ্লেক্স) রোগ দেখা দিলে। পরিবর্তনের সোনার বাংলাতেও সিজিওর নামে লোকের প‍্যানিক অ্যাটাক হতে লাগলো। কারোর সিজিও-র সংক্রমন হয়েছে শুনলে তার বাড়িতে হাঁড়ি পর্যন্ত চড়তো না। আসলে সে আর বাড়ি ফিরবে কিনা সে ব‍্যাপারে বাড়ির লোক নিশ্চিত ছিলো না! মারা গেলে দাহ করার লোক মেলা দুষ্কর হতো। পাছে তারও ছোঁয়া লেগে যায়! কিন্তু সে সুদিনেও(!) আমাদের ওখানে একজন ছিলেন যাঁর কখনো আপত্তি ছিল না। গোপালখুড়ো তাঁর নাম, জীবনের 'অনুপ্রেরণা' ছিল মড়া-পোড়ানো। কারও প‍্যানিক হয়েছে শুনলে তিনি ডাক্তারের কাছে প্রত্যহ সংবাদ নিতেন। আশা নেই শুনলে খালি পায়ে গামছা কাঁধে তিনি 'ঘণ্টা খানেক'-এর আগেই সেখানে গিয়ে উপস্থিত হতেন। আমরা জনকয়েকছিলাম তাঁর দামাল চ্যালা। মুখ ভার করে বলে যেতেন,— চাপ প্রচুর বেড়েছে! আগে কেবল উডবার্ণে খোঁজ নিলেই চলতো, এখন আবার ভুবনেশ্বরেও ছুটতে হচ্ছে। ওরে,আজকের উনি প্রেস-মিটে কার কার নাম বলে মন দিয়ে শুনিস! আমাদের দলের মধ্যে ছিল লালুও একজন। ১০০ দিনের কাজে বাইরে না গেলে সে কখনো না বলত না।
সেদিন সন্ধ্যাবেলা বিষণ্ণমুখে খুড়ো এসে বললেন, ব‍্যানার্জী পরিবারটা বুঝি রক্ষে পেলে না! সবাই চমকে উঠলাম। 'সততার পোতিক' কার্তিক বাবুর দিদি, টালির ঘরে কোনো মতে এসি লাগিয়েছিলেন। ছবি এঁকে আর কবিতা লিখে নীল-সাদা জীবন কাটছিলো। তার কিনা সিজিও-র ছোঁয়া লাগলো! একমাত্র অসুস্থ ভাইপো যে পিসির প্রতি একান্ত নির্ভরশীল। এই গোষ্ঠীদ্বন্দের জগতে আপন বলে তার আর কেউ রইল না! সে যেন আজ মাতৃহারা! রাত্রি আন্দাজ আটটা, পিসিকে আমরা ঘর থেকে উঠানে নামালাম। ভাইপো ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলেন। পিসি চলে যাবার দুঃখে কাঁদবেন! নাকি ক্ষমতা থেকে সম্পত্তি, সব নিজের হওয়ার আনন্দে পাগলু ডান্স করবেন! মৃতদেহ তোলবার সময় ভাইপো বললেন— নিয়ে যাবারসময় পিসির পায়ে হাওয়াই চপ্পল পরিয়ে দিবিনে লালু?
গঙ্গার তীরে লালু খাট ছুঁয়ে মাটিতে পা ছড়িয়ে বসল। গঙ্গায় তখন উন্নয়নের জোয়ারে জলে ঢেউ উঠেছে, তার কোন-কোনটা লালুর পায়ের প্রায় নীচে পর্যন্ত আছাড় খেয়ে-খেয়ে পড়ছে। শহরের উইলকিনসন কোম্পানি থেকে শ্মশানে চন্দন কাঠ আসে, কি জানি সে কতক্ষণে পৌঁছবে। আধ-ক্রোশ দূরে পথের ধারে ডোমদের বাড়ি; আসার সময়ে আমরা তাদের হাঁক দিয়ে এসেছি, তবে আসবে বলে মনহয় না! এক সপ্তাহ ধরে চলা 'পিন্ডি উৎসব' গতকাল সবে শেষ হলো। কাল রাতে মালও টেনেছে প্রচুর। সহসা গঙ্গার ওপারে দিগন্তে একটা গাঢ় কালো মেঘ উঠে প্রবল উত্তরে হাওয়ায় হু হু করে সেটা এপারে ছুটে আসতে লাগল। ভাবতে-ভাবতেই মুষলধারায় বৃষ্টি নেমে এলো। দিদি রইল পড়ে, প্রাণ বাঁচাতে কে যে কোথায় ছুট দিলে তার ঠিক-ঠিকানা নেই।
জল থামলে 'ঘণ্টা-খানেক' পরে একে একে সবাই ফিরে এলাম। মেঘ গেছে কেটে, চাঁদের আলো ফুটেছে দিনের মত। ইতিমধ্যে গাড়ি এসে পৌঁছেচে, গাড়োয়ান কাঠ এবং শবদাহের অন্যান্য উপকরণ নামিয়ে দিয়ে ফিরে যাবার উদ্যোগ করচে। কিন্তু ডোমদের দেখা নেই। গোপালখুড়ো বললেন, ও-ব্যাটারা ঐ রকম। প্রতিশ্রুতি দিয়ে কখনও না। মণি বললে, কিন্তু লালু এখনো ফিরলো না কেন? ভয়ে বাড়ি পালালো না ত? খুড়ো লালুর উদ্দেশে রাগ করে বললেন, ওটা মানসের জাত ভাই। যদি এতই ভয়, মড়া ছুঁয়ে বসতে গেলি কেন? আমি হলে সার্জিক‍্যাল স্টাইক হলেও মড়া ছেড়ে যেতাম না। ছেড়ে গেলে কি হয় খুড়ো? কি হয়? কত-কি?শ্মশানভূমি কিনা! শ্মশানে একলা বসে থাকতে আপনার ভয় করত না? ভয়! আমার? নন্দীগ্রামের সময় অন্ততঃ দশ হাজার মড়া পুড়িয়েছি জানিস! চিটফান্ড এজেন্ট থেকে আলুচাষির ঝুলে পড়া, বিষ খাওয়া হাজার খানেক বডি তো আছেই। নোট বাতিলের পর বেশ কিছু দাহ করেছি। গঙ্গাসাগরের ৯টা বডি থেকে ভাঙড়ে খুন হওয়া ২টো বডি, সব সতকার আমি নিজে হাতেই করেছি। এছাড়া সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফের দু দশটা বডি তো রোজই পোড়াই।
এর পরে মণি আর কথা কইতে পারলে না। শ্মশানে গোটা-দুই কোদাল পড়েছিল, খুড়ো তার একটা তুলে নিয়ে বললেন, আমি চুলোটা কেটে ফেলি, তোরা হাতাহাতি করে কাঠগুলো নীচে নামিয়ে ফেল। খুড়ো চুলি কাটচেন, আমরা কাঠ নামিয়ে আনচি; নরু বললে, আচ্ছা, মড়াটা ফুলে যেন দুগুণ হয়েছে, না?খুড়ো কোনদিকে না তাকিয়েই জবাব দিলেন, ফুলবে না? ওনার মধ‍্যে কি কম 'পোতিভা' ছিলো! কবিতা, গান, ছবি আঁকা, গুন্ডা কন্ট্রোল করা। তাছাড়া উনি তো এখন অনশন মঞ্ছে শুয়ে নেই যে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে!
কাঠ বহা প্রায় শেষ হয়ে এলো। নরুর দৃষ্টি ছিল বরাবর খাটের প্রতি। হঠাৎ সে থমকে দাঁড়িয়ে বললে,—খুড়ো, মড়া যেন নড়ে উঠল। খুড়োর হাতের কাজ শেষ হয়েছিল, কোদালটা ছুঁড়ে ফেলেদিয়ে বললেন, তোর সাথে মনেহয় সেলফি তুলতে চাইছে! গাধা কোথাকার! আবার মিনিট-দুই গেল। এবার মণি হঠাৎ চমকে উঠে পাঁচ-সাত পা পিছিয়ে দাঁড়িয়ে সভয়ে বললে, না খুড়ো, গতিক ভালো ঠেকছে না। সত্যিই মড়াটা যেন নড়ে উঠলো। খুড়ো এবারে হাঃ হাঃ—করে হেসে বললেন, ছোঁড়ার দল—তোরা ভয় দেখাবি আমাকে? যে ৩৪ বছর ধরে মড়া পোড়াচ্ছে—তাকে? নরু বললে, ঐ দেখুন আবার নড়চে।
খুড়ো বললেন, হাঁ নড়চে, ভূত হয়ে তোকে কিষেনজির মতন খুন করবে বলে—মুখের কথাটা তাঁর শেষ হলো না, অকস্মাৎ লেপকাঁথা জড়ানো মড়া হাঁটু গেড়ে খাটের উপর বসে ভয়ঙ্কর বিশ্রী খোনা গলায় চেঁচিয়ে উঠলো,— চক্কান্তো, ষড়যন্ত্র, কুৎসা, অপোপোচার, — ওরে বাবা রে! আমরা সবাই মারলাম ঊর্ধশ্বাসে দৌড়। গোপালখুড়ো পড়লেন গঙ্গার জলে। সেই কনকনে ঠাণ্ডা একবুক জলে দাঁড়িয়ে চেঁচাতে লাগলেন—বাবা গো, গেছি গো— খেয়ে ফেললে গো!—বাম—বাম—বাম—এদিকে সেই ভূতও তখন মুখের ঢাকা ফেলে দিয়ে চেঁচাতে লাগল—ওরে নির্মল, ওরে মণি, ওরে নরু, পালাস নে রে—আমি লালু—ফিরে আয়—ফিরে আয়!

দুই বৌদির ব‍্যক্তিগত কথপোকথন

                                                দুই বৌদির ব‍্যক্তিগত কথপোকথন
ময়না = (কেঁদে কেঁদে ) হ্যলো নন্দিনী, শুনেছিস তোর দীপ’দাকেও সিবিআই ঢুকিয়ে দিলো! শেষ রক্ষা করতে পারলুম না!
নন্দিনী = ( স্বামী জেলে সঙ্গী পেয়েছে সেই আনন্দ চেপে, দুখী দুখী ভাব করে ) হ‍্যাঁ, খবরে দেখলুম।
ময়না = ( ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ) তোর মতন আমিও সারাদিন সিজিওতে পড়েছিলুম। বীরের মতন সাতসকালে এসেছিল, শেষে টানতে টানতে নিয়ে গেলো।
নন্দিনী = কপাল দিদি, কপাল! শাশুড়ির ওপর অবিচারের ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে। তা নাহলে সবাই খীর খেল, এমনকি ভিডিওতেও দেখা গেল, আর কেবল আমাদের দুজনের স্বামী ভিতরে ঢুকলো!
ময়না = শোন না, তুই তো ভালো রান্না করিস! তোর দীপ’দা পোস্ত খেতে খুব ভালোবাসে। তুই দু’দিন পোস্তোর বড়া আর আলুপোস্ত করে জেলে নিয়ে যাবি! উড়েদের জেলের রান্না যদি তোর দীপ'দা সহ্য করতে না পারে!
নন্দিনী = আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি কবে আসছো?
‌‌‌‌‌‌‌‌‌
ময়না = আরে আমার টিকিট কনফার্ম হলেই রওনা দেব। ‌

নন্দিনী = তুমি দেরি না করে দাদার সাইকেলটা নিয়েই বেরিয়ে পড়ো!
মরনা = ধুস! সবুজসাথীর ঐ লক্কড় সাইকেল ভুবনেশ্বর পর্যন্ত আমার থোড়াই সাথ দেবে!
নন্দিনী = আরে না না! আমি বহরমপুরের সাইকেলের কথা বলছিলুম!
ময়না = না বাবা! ওটা ওর জীবনের প্রথম সাইকেল, যেতে যেতে যদি ভেঙে যায় তাহলে আর রক্ষে থাকবে না!
নন্দিনী = বলছি, মলন'দা জেলে থাকার কোনো টিপস দিলো?
ময়না = ও হ‍্যাঁ, বলতে ভুলেগেছি! মদনদা পই পই করে বারন করেছে প‍্যানিক অ্যাটাকের অভিনয় করতে। ওখানের হাসপাতালে কোনো উডবার্ন নেই!
নন্দিনী = আচ্ছা, রায় বৌদি'কে একবার ফোন করে সিবিআইয়ের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার টিপস চাইলে কেমন হয়!
ময়না = ধুস! উনি কিছুই জানেন না। গোকুল'দার ছাড়া পাওয়ার রহস‍্য একমাত্র শিউলি জানে।
নন্দিনী = তা দিদি আর কেউ ভুবনেশ্বরে আসছে? কিছু খবর পেলে?
ময়না = খবরে বলছিল জেলে নাকি এবারে বেদে আর তার মেয়ে জ্যোৎস্না আসছে!
নন্দিনী = বেদেকে নিয়ে চিন্তা নেই, চিন্তা তো জ‍্যোৎনাকে নিয়ে৷ আমার 'মাল'টাকে তো আমি হাড়ে হাড়ে চিনি! জেলের ভিতরেই যদি ... তুমি দীপ'দাকে বোলো ওকে সচেতন করে দিতে। জেলের বাইরে হোক বা ভিতরে, দীপ'দাই তো মূখ‍্য সচেতক!
ময়না = আমাদের স্বামীদের জেল থেকে ছাড়ানোর কোনো গা নেই দিদির!
নন্দিনী = ঠিক বলেছ দিদি, তাও দীপ'দাকে ধরতে তবুও একটু নড়েচড়ে উঠেছে! আমার বরকে ধরার পর মনে হয়েছিল, সিবিআই চন্দননগরের মালকে না ধরে একটা পকেটমারকে ধরেছে!
ময়না = আর কি এমন নড়েচড়ে উঠল শুনি! ঐ একদিন এবিপির মতন ঘন্টাখানেক অবরোধ সঙ্গে একটা শিশু মৃত‍্যু। ব‍্যাস! খেল খতম!
ময়না = যা বলেছ দিদি! ছেলে গুলোকে কোথায় এখন সিজিওতে ঢোকাবে! না এখন কলেজে কলেজে এস এফ আই পেটাতে পাঠাচ্ছে!
নন্দিনী = দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে লোক হাসাতে হাজির হয়েছিল! ওটা একটা আন্দোলন!
ময়না = নামেই সুলতান, আর পুলিশের প‍্যাঁদানির ভয়ে পালাচ্ছে। আর ঐ নাট‍্যকার জাল গাড়ির ভিতর প্রেক্ষীত খুঁজে বেড়াচ্ছে! ঢং দেখলে গা পিত্তি জ্বলে যায়!
নন্দিনী = এক সপ্তাহ হতে গেলো, এখনও গোষ্টো পালের পায়ের নিচে অনশন মঞ্চের বাঁশ পর্যন্ত পড়ল না!
ময়না = মদনার বেলায় পুষ্প বৃষ্টি, অনশন, কতো আয়োজন! আর আমাদের বরেদের বেলায় ... চক্রান্ত কে করছে আমরা বুঝি না! যেদিন ভাইপোকে তুলে নিয়ে যাবে সেদিন দেখবি হাওয়াই চটি খুলে ছুটছে!
নন্দিনী = যা বলেছ দিদি। ঠিক ফোন করে সেটিং করে নেবে! তবে আজকে একটু আশার আলো দেখেছি। দিদি অনেকদিন পর সংখ‍্যালঘু ছেড়ে সংখ‍্যাগুরুদের প্রশংসা করেছেন। মনেহয় গাড়ি ঠিক লাইনেই যাচ্ছে। জয় জগন্নাথ।
( নেটওয়ার্ক প্রবলেম )
ময়না = ধুস! জিওর কানেক্সশানটা দিনে দিনে যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে! আচ্ছা শোন, আমি দুদিনের মধ‍্যেই যাচ্ছি। দাদার খেয়াল রাখিস! ওকে বাই!
( বি. দ্র. = বাস্তবের সাথে এই সংলাপের কোনো মিল থাকলে সেটা কাকতালীয় )

Tuesday, 25 October 2016

✍✍✍✍ চক্কান্তের গন্ধ ✍✍✍✍

                                  ✍ চক্কান্তের গন্ধ 
মা মারা যাবার পর ভাইপো ছাড়া কালীপিসির সাত কুলে আপন বলে কেউ নেই! রক্তের সম্পর্কের ভাই কার্তিক গনশা আছে বটে, তবে তাদেরকে পিসি বেশি পাত্তা দেয়না। পিসি জানে তারা সারাক্ষণ পিসির সম্পত্তি হাতানোর জন্য নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। পিসি তার ভাইয়েদের কান্ড দেখে তার চিটফান্ডের টাকা থেকে ছবি বিক্রির টাকা, সোনার তরী হোটেল, কবিতার বইয়ের ল্যয়ালিটি স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি এমনকি নতুন আইফোন-৭ টাও ভাইপোর নামে উইল করে দিয়েছে। কদিন আগে পিসির ভিক্ষা-মা মারা গেলেন। তারপর থেকে পিসি আরও একা হয়ে পড়েছে। তাই সারাক্ষণ পিসি তার ভাইপোকে আগলে রাখেন।

ছোটবেলা থেকেই ভাইপোও পিসি ন্যাওটা। সারাদিন পিসির নীল-সাদা আঁচল ধরে গোটা পাড়া ঘুরে বেড়াতো। পাড়ার কেউ ভাইপোর নামে অভিযোগ করলে পিসি তার বাড়ি গিয়ে ঝগড়া করে আসে। রীতিমতো পাড়ার সবাইকে হুমকি দিয়ে রেখেছে, ' যদি কেউ ভাইপোর নামে কোনো কুৎসা অপপ্রচার করে আমি কিন্তু চাবকে লাল করে দেব।' এমনিতেই পাড়ার লোকজন জানে কালীপিসি গুন্ডা কন্ট্রোল করেন, তাই পিসির সাথে কেউ ঝামেলায় যায়না। একবার বে-পাড়ার একটা ছোকরার সাথে ভাইপোর কথা-কাটাকাটি হচ্ছিলো। হঠাৎ ছোকরাটি ভাইপোকে সপাটে চড় মারাতে পিসির গুন্ডারা সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে দিয়েছিল।

দুদিন আগে ভাইপো জুলফির সিনেমা দেখে তার এক বন্ধুর সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তার উল্টোদিক থেকে আসা এক গোয়ালার সাইকেলের সাথে হঠাৎ ধাক্কা! গোয়ালার সাইকেলের ক্যারিয়ারে দুটো দুধ ভর্তি জার থাকায় ভাইপোদের সাইকেলটা ধাক্কা মেরেই পাল্টি খেল। চোট বিশেষ হয়নি! চোখের কোলে একটু ছিলে গেছে আর হাতটা মুচড়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার কিছু লোকে ভাইপোকে নিয়ে বেলতলার পীর বাবার কাছে নিয়ে ছুটলো। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটা ছড়িয়ে পড়তে গোটা পাড়া বেলতলায় জড়ো হলো। পিসিও পড়ি মরি করে বেলতলায় ছুটে এলেন। পীর বাবা যখন পিসিকে বলল যে, চিন্তার তেমন কিছু নেই! তখন পিসি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। তারপর দুটো বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস নিয়ে উপস্হিত পাড়ার সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, গন্ধটা বড়ো সন্দেহ জনক!

এমনিতেই পিসির সন্দেহের শুচিবাই জিনটা বেশ প্রখর! লোকে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে পার্ক সার্কাসের পচা গন্ধ পায় না। কিন্তু উনি কালীঘাট থেকে কালিংপঙের চক্কান্তের গন্ধ পান। পোলার বিয়ারও পিসির কাছে শিশু। তবে হ্যাঁ, উনি কেবল 'চক্কান্ত'এর গন্ধই পান। অন্য কোনো গন্ধে পিসির অলফ্যাক্টরি লোব কাজ করেনা। পিসি গম্ভীর ( গৌতম নয় ) ভাবে বলল, তদন্ত করে দেখতে হবে এটা ম্যান-মেড দুর্ঘটনা কিনা! সঙ্গে সঙ্গে পিসির এক অপহরণ স্পেশালিস্ট সাগরেদ বলল, দিদি বলেন তো গোয়ালা মালটাকে তুলে আনি! পিসি প্রথমে খোঁজ নিলেন, গোয়ালাটা কি লাল পোশাক পরেছিল? যদি না পরে থাকে তাহলে খোঁজ নিয়ে দ্যাখো দুর্ঘটনার দিন ওর চৌত্রিশ গুষ্টির কেউ লাল পোশাক পরেছিল কিনা? এই কেষ্টা, যে ছোকরাটি ভাইপোকে সাইকেলে করে নিয়ে আসছিল ওর মুখটা শুঁকে দ্যাখ তো! গুড়জলের গন্ধ বার হচ্ছে কিনা? কেউ নিশ্চয়ই ওকে 'চক্কান্ত' করে কিছু খাইয়ে দিয়েছে! কিন্তু পিসির কোনো প্রেডিকশানই মিলল না!

পিসির এই পাগলামো দেখে হাসতে হাসতে পাড়ার লোকজন যে যার কাজে ফিরে গেলেও কালীপিসি কিন্তু তখনও বেলতলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ সি পি প্রদ্যুম্নের মতন হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলতে লাগলো, কুচ তো গড়বড় হ্যায় ! চক্কান্ত ! চক্কান্ত !
পীর বাবা, পিসির দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইপোর অসুখের ঔষধ আমার কাছে আছে, কিন্তু পিসির রোগের ঔষধ আমার কাছে নেই ...