Showing posts with label ময়না. Show all posts
Showing posts with label ময়না. Show all posts

Tuesday, 21 February 2017

দুই বৌদির ব‍্যক্তিগত কথপোকথন

                                                দুই বৌদির ব‍্যক্তিগত কথপোকথন
ময়না = (কেঁদে কেঁদে ) হ্যলো নন্দিনী, শুনেছিস তোর দীপ’দাকেও সিবিআই ঢুকিয়ে দিলো! শেষ রক্ষা করতে পারলুম না!
নন্দিনী = ( স্বামী জেলে সঙ্গী পেয়েছে সেই আনন্দ চেপে, দুখী দুখী ভাব করে ) হ‍্যাঁ, খবরে দেখলুম।
ময়না = ( ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ) তোর মতন আমিও সারাদিন সিজিওতে পড়েছিলুম। বীরের মতন সাতসকালে এসেছিল, শেষে টানতে টানতে নিয়ে গেলো।
নন্দিনী = কপাল দিদি, কপাল! শাশুড়ির ওপর অবিচারের ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে। তা নাহলে সবাই খীর খেল, এমনকি ভিডিওতেও দেখা গেল, আর কেবল আমাদের দুজনের স্বামী ভিতরে ঢুকলো!
ময়না = শোন না, তুই তো ভালো রান্না করিস! তোর দীপ’দা পোস্ত খেতে খুব ভালোবাসে। তুই দু’দিন পোস্তোর বড়া আর আলুপোস্ত করে জেলে নিয়ে যাবি! উড়েদের জেলের রান্না যদি তোর দীপ'দা সহ্য করতে না পারে!
নন্দিনী = আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি কবে আসছো?
‌‌‌‌‌‌‌‌‌
ময়না = আরে আমার টিকিট কনফার্ম হলেই রওনা দেব। ‌

নন্দিনী = তুমি দেরি না করে দাদার সাইকেলটা নিয়েই বেরিয়ে পড়ো!
মরনা = ধুস! সবুজসাথীর ঐ লক্কড় সাইকেল ভুবনেশ্বর পর্যন্ত আমার থোড়াই সাথ দেবে!
নন্দিনী = আরে না না! আমি বহরমপুরের সাইকেলের কথা বলছিলুম!
ময়না = না বাবা! ওটা ওর জীবনের প্রথম সাইকেল, যেতে যেতে যদি ভেঙে যায় তাহলে আর রক্ষে থাকবে না!
নন্দিনী = বলছি, মলন'দা জেলে থাকার কোনো টিপস দিলো?
ময়না = ও হ‍্যাঁ, বলতে ভুলেগেছি! মদনদা পই পই করে বারন করেছে প‍্যানিক অ্যাটাকের অভিনয় করতে। ওখানের হাসপাতালে কোনো উডবার্ন নেই!
নন্দিনী = আচ্ছা, রায় বৌদি'কে একবার ফোন করে সিবিআইয়ের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার টিপস চাইলে কেমন হয়!
ময়না = ধুস! উনি কিছুই জানেন না। গোকুল'দার ছাড়া পাওয়ার রহস‍্য একমাত্র শিউলি জানে।
নন্দিনী = তা দিদি আর কেউ ভুবনেশ্বরে আসছে? কিছু খবর পেলে?
ময়না = খবরে বলছিল জেলে নাকি এবারে বেদে আর তার মেয়ে জ্যোৎস্না আসছে!
নন্দিনী = বেদেকে নিয়ে চিন্তা নেই, চিন্তা তো জ‍্যোৎনাকে নিয়ে৷ আমার 'মাল'টাকে তো আমি হাড়ে হাড়ে চিনি! জেলের ভিতরেই যদি ... তুমি দীপ'দাকে বোলো ওকে সচেতন করে দিতে। জেলের বাইরে হোক বা ভিতরে, দীপ'দাই তো মূখ‍্য সচেতক!
ময়না = আমাদের স্বামীদের জেল থেকে ছাড়ানোর কোনো গা নেই দিদির!
নন্দিনী = ঠিক বলেছ দিদি, তাও দীপ'দাকে ধরতে তবুও একটু নড়েচড়ে উঠেছে! আমার বরকে ধরার পর মনে হয়েছিল, সিবিআই চন্দননগরের মালকে না ধরে একটা পকেটমারকে ধরেছে!
ময়না = আর কি এমন নড়েচড়ে উঠল শুনি! ঐ একদিন এবিপির মতন ঘন্টাখানেক অবরোধ সঙ্গে একটা শিশু মৃত‍্যু। ব‍্যাস! খেল খতম!
ময়না = যা বলেছ দিদি! ছেলে গুলোকে কোথায় এখন সিজিওতে ঢোকাবে! না এখন কলেজে কলেজে এস এফ আই পেটাতে পাঠাচ্ছে!
নন্দিনী = দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে লোক হাসাতে হাজির হয়েছিল! ওটা একটা আন্দোলন!
ময়না = নামেই সুলতান, আর পুলিশের প‍্যাঁদানির ভয়ে পালাচ্ছে। আর ঐ নাট‍্যকার জাল গাড়ির ভিতর প্রেক্ষীত খুঁজে বেড়াচ্ছে! ঢং দেখলে গা পিত্তি জ্বলে যায়!
নন্দিনী = এক সপ্তাহ হতে গেলো, এখনও গোষ্টো পালের পায়ের নিচে অনশন মঞ্চের বাঁশ পর্যন্ত পড়ল না!
ময়না = মদনার বেলায় পুষ্প বৃষ্টি, অনশন, কতো আয়োজন! আর আমাদের বরেদের বেলায় ... চক্রান্ত কে করছে আমরা বুঝি না! যেদিন ভাইপোকে তুলে নিয়ে যাবে সেদিন দেখবি হাওয়াই চটি খুলে ছুটছে!
নন্দিনী = যা বলেছ দিদি। ঠিক ফোন করে সেটিং করে নেবে! তবে আজকে একটু আশার আলো দেখেছি। দিদি অনেকদিন পর সংখ‍্যালঘু ছেড়ে সংখ‍্যাগুরুদের প্রশংসা করেছেন। মনেহয় গাড়ি ঠিক লাইনেই যাচ্ছে। জয় জগন্নাথ।
( নেটওয়ার্ক প্রবলেম )
ময়না = ধুস! জিওর কানেক্সশানটা দিনে দিনে যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে! আচ্ছা শোন, আমি দুদিনের মধ‍্যেই যাচ্ছি। দাদার খেয়াল রাখিস! ওকে বাই!
( বি. দ্র. = বাস্তবের সাথে এই সংলাপের কোনো মিল থাকলে সেটা কাকতালীয় )

Thursday, 12 May 2016

হ য ব র ল — ছিল হাওয়াই চটি, হয়ে গেল ময়না



বেজায় গরম। ফুটপাতে ত্রিফলার নিচে অল্প  ছায়ার মধ্যে চুপচাপ শুয়ে আছি, ঘেমে অস্থির। ত্রিফলা বাতিস্তম্ভে এখন নীল-সাদা টিউব জড়িয়ে দেওয়ায় গরম আরো বেড়ে গেছে। নীল-সাদা লোহার রেলিং-এর পাশেই আমার হাওয়াই চটিজোড়া রাখা ছিল। আকাশের দিকে তাকিয়ে আপন খেয়ালে যেই না আমি বললাম, ‘‘এবছরে মনে হয় কালবৈশাখী আর ‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল’ করবে না!’’ 

অমনি হাওয়াই চটি বললো, ‘কুৎসা!’ কি আপদ! চটিটা আবার কুৎসা বলে কেন?

চেয়ে দেখি আমার হাওয়াই চটিটা আর চটি নেই, দিব্যি একটা ময়না পাখি হয়ে গেছে! প্যাট্ প্যাট্ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলছে, ‘‘আমি কালীঘাটের ময়না!’’

আমি বললাম, ‘‘কি মুশকিল! ছিল হাওয়াই চটি, হয়ে গেল একটা ময়না।’’

অমনি ময়না বলে উঠল, ‘‘মুশকিল আবার কি? ছিল ত্রিফলা, হয়ে গেলো ‘জ-ফলা’, ছিল ঘুষ, হয়ে গেল দিব্যি অনুদান। এ তো হামেশাই হচ্ছে।’’

আমি খানিক ভেবে বললাম, ‘‘তা হলে তোমায় এখন কি বলে ডাকব? তুমি তো সত্যিকারের ময়না নও, আসলে তুমি হচ্ছো হাওয়াই চটি।’’

ময়না বলল, ‘‘ময়না বলতে পার, সারদাও বলতে পার, নারদাও বলতে পার।’’

আমি বললাম, ‘‘আবার সারদা-নারদা কোথা থেকে এলো?’’

শুনে ময়না, ‘‘তাও জানো না?’’ বলে এক চোখ বুজে ফ্যাঁচ্‌ফ্যাঁচ্ করে বিশ্রীরকম হাসতে লাগল। আমি ভারি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো, ঠিকই তো, ঐ সারদা-নারদা কথাটা নিশ্চয় আমার বোঝা উচিত ছিল। তাই থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, ‘‘ও, হ্যাঁ-হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।’’

ময়নাটা খুশি হয়ে বললো, ‘‘হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে - সারদার স, জালিয়াত-এর ত, ক্ষমতার তা- হলো ‘সততা’কেমন, হল তো?’’

আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না, কিন্তু পাছে ময়নাটা আবার সেইরকম বিশ্রী করে হেসে ওঠে, তাই সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নেড়ে হুঁ-হুঁ করে গেলাম। তার পর ময়নাটা খানিকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠল, ‘‘গরম লাগে তো এই লন্ডনে কেন, সুইজারল্যান্ডেই গেলেই পার। শিয়ালদা থেকে ট্রেনে চাপলেই তো রামপুরহাটের মামাবাড়ি হয়ে সোজা রাস্তা।’’

আমি বললাম, ‘‘বলা ভারি সহজ, কিন্তু বললেই তো আর যাওয়া যায় না? ওখানকার আবহাওয়া নাকি এখন মোটেই ভালো নয়! আকাশ নাকি প্রায়ই ‘গুরুং গুরুং’ করে ডাকে, ‘হড়কা’ বানের ভয়ও আছে।’’

ময়না বলল, ‘‘যত সব কুৎসা। দিব্যি সুইজারল্যান্ড হাসছে।’’

আমি বললাম, ‘‘কি করে যেতে হয় তুমি জানো?’’

ময়না একগাল হেসে বলল, ‘‘তা আর জানি নে? বললাম তো একবার! লিখে নাও—কালীঘাট, পার্ক স্ট্রীট, কাকদ্বীপ, কামদুনি, কাটোয়া, লাভপুর, বারাসাতরানাঘাট, সুইজারল্যান্ড, ব্যাস্! সিধে রাস্তা, সওয়া ঘণ্টার পথ, গেলেই হলো।’’

আমি বললাম, ‘‘তা হলে রাস্তাটা আমায় বাতলে দিতে পারো?’’

শুনে ময়নাটা হঠাৎ কেমন গম্ভীর হয়ে গেল। তার পর মাথা নেড়ে বলল, ‘‘উঁহু, সে আমার কর্ম নয়। আমার মোদো-মাতাল ভাইটা যদি থাকতো, তা হলে সে ঠিকঠাক বাতলাতে পারতো।’’

আমি বললাম, ‘‘সেটা আবার কে? থাকে কোথায়?’’

ময়না বলল, ‘‘মাতালের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই।’’

আমি বললাম, ‘‘কোথায় গেলে তার সাথে দেখা হবে?’’

ময়না খুব জোরে মাথা নেড়ে বলল, ‘‘উহুঁ, সেটি হচ্ছে না বাপু, সেটি হবার জো নেই।’’

আমি বললাম, ‘‘সে আবার কি রকম?’’

ময়না বলল, ‘‘সে কিরকম তুমি জানো? মনে করো, তুমি যখন যাবে কামারহাটিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, তখন তিনি থাকবেন মিডল্যান্ড পার্কের অফিসে। যদি মিডল্যান্ড পার্কে যাও, তা হলে শুনবে তিনি আছেন চাঁদনির কোনো বারে। আবার সেখানে গেলে দেখবে নারায়নপুরে সিদ্ধা পাইনের ফ্ল্যাটে গেছেন। ওখানে গিয়ে শুনবে তিনি আছেন আলিপুরের জেলে। আলিপুরে যদি যাও, খোঁজ করে জানবে সে উডবার্ণে আছে। কিছুতেই দেখা হবার জো নেই। এসব দেখেই তো কবি লিখেছিল, ‘হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে।’’

আমি বললাম, ‘‘তা হলে তোমরা কি করে দেখা করো?’’

ময়না বলল, ‘‘সে অনেক হাঙ্গামা। আগে বিন্দু বিন্দু করে হিসেব কষে দেখতে হবে, ভাই কোথায় কোথায় নেই; তারপর হিসেব করে দেখতে হবে, ভাই কোথায় কোথায় থাকতে পারে; তারপর দেখতে হবে, ভাই এখন কোথায় আছে। তারপর দেখতে হবে, সেই হিসেব মতো তুমি যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছোবে, তখন ভাই কোথায় থাকবে। তারপর দেখতে হবে কার সাথে কি অবস্থায় থাকবে, তারপর দেখতে হবে জলের ঘোরে ‘অন’ হয়ে আছে কিনা! ‘অফ’ হলেই তবে দেখা মিলবে।’’

আমি তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললাম, ‘‘সে কিরকম হিসেব? এ তো বড়ই জটিল লাগছে!’’

ময়না বলল, ‘‘হুঁ হুঁ বাবা, সে ভারি শক্ত। দেখবে কিরকম?’’

এই বলে সে একটা কাঠি দিয়ে ঘাসের উপর লম্বা আঁচড় কেটে বলল, ‘‘এই মনে করো মাতালভাই।’’ বলেই খানিকক্ষণ গম্ভীর হয়ে চুপ করে বসে রইলো।

তার পর আবার ঠিক তেমনি একটা আঁচড় কেটে বললো, ‘‘এই মনে করো পিয়ালীর ফ্ল্যাট’’—বলে আবার ঘাড় বেঁকিয়ে চুপ করে রইলো।

তার পর হঠাৎ আবার একটা আঁচড় কেটে বললো, ‘‘এই তিন আঁচড় দিয়ে দিলাম, এবারে ১কোটি ৮৬লক্ষ টাকা দাও।’’

এইরকম শুনতে-শুনতে শেষটায় আমার কেমন যেন রাগ ধরে গেলো। আমি বললাম, ‘‘দূর ছাই! কি সব আবোল তাবোল বকছো, একটুও ভালো লাগছে না।’’

ময়না বলল, ‘‘আচ্ছা, তা হলে আর একটু সহজ করে বলছি। চোখ বোঁজ, আমি যা বলবো, মন দিয়ে শোনো।’’ আমি চোখ বুঁজলাম।

ময়না বলতে শুরু করলো- ‘‘মাতাল ভাইটা চোলাই খেয়ে খেয়ে নিজের বাঁশ নিজেই নিয়েছে। প্রায়ই এখন এস এস কে এম ছুটতে হয়। কদিন নজরবন্দি করে রেখেও লাভ হয়নি। অ্যালকোহল আর ওর ওপর ‘প্রভাবশালী’ নয়। আগে সকাল সন্ধ্যা মিউজিক সিস্টেমে হরিনাম শুনতো। এখন আবার ভোজপুরি শোনার সখ জেগেছে। তবে ইদানীং ভাই আমার প্রায় নাকি ‘ঐশ্বরিক দুঃস্বপ্ন’ দেখছে, হার্মাদরা নাকি আবার ‘দুষ্টগ্রহ’-র দুঃস্বপ্নেও তাকে তাড়া করে ফিরছে..।’’ 

এই বলে ময়নাটা সেই যে চুপ করে গেলো, তারপর আর কোনো কথাই নেই।

চোখ বুঁজেই আছি, বুঁজেই আছি, অনেকক্ষণ হয়ে গেলো ময়নাটার আর কোনো সাড়া-শব্দ নেই। হঠাৎ কেমন সন্দেহ হল, চোখ চেয়ে দেখি ময়নাটা গাছের ডালে বসে একটা ৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা হনুমানের সাথে সেলফি তুলছে। কান পাততে শুনতে পেলুম ফিস্‌ফিস্‌ করে ডিগ্রি নিয়ে কিসব আলোচনা করছে!


************