Showing posts with label প্যানিক অ্যাটাক. Show all posts
Showing posts with label প্যানিক অ্যাটাক. Show all posts

Wednesday, 22 February 2017

অভিমানী মদন

                                      অভিমানী মদন

পাঁচ নম্বর বোতলটা শেষ হবার পর যখন ছ নম্বর বাংলার বোতলটা হারু খুললো, ততক্ষণে চাট শেষ। হারু কিন্তু কিন্তু করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল! তার আগেই মদন বলল, চাট শেষ তো কি হয়েছে! তুই ঢাল, আজ চাট ছাড়াই খাবো।

সকাল থেকেই আজ দাদার মুডটা অফ। সকালবেলায় দাদা হোয়াস অ্যাপে জেনেছে সিঙ্গুরের সোনালী ইতিহাস থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন অবশ‍্য ব‍্যাপারটা পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি! কেবলই মনে হয়েছে, দিদি এমন কাজ করতেই পারে না। তবে মনের মধ‍্যে একটু খচখচানি ছিল! তাই নাতি স্কুল থেকে ফিরতেই ইতিহাস বইটা খুলে দেখে দাদার চোখ স্থির, গাল হাঁ! বাড়ির সবাই ছুটে এলো, ভেবেছে আবার প‍্যানিক অ্যাটাক হয়েছে বুঝি! দাদার গাল হাঁ! এমনিতে দাদা দিনে দুবার মুখ খোলে, খেতে আর খিস্তি দিতে। ছেলে তো ফোন করে উডবার্ণের বেড বুক করে ফেলল। প্রায় দশ মিনিট পর দাদা করুনভাবে বলল, আমি বাদ!

অন‍্যদিনের মতন সন্ধ‍্যা থেকেই নয়! বিকাল থেকেই দাদা আজ 'অন' হয়ে গেছে। কালু আর হারু কাঁচা ছোলা, বাদাম ভাজা আর এক পেটি বাংলা নিয়ে দাদার ঘরে ঢুকেছে। আজ আর মিউজিক সিস্টেমে ভোজপুরি চলছে না! চলছে, 'ইয়ে দুনিয়া ইয়ে ম‍্যায়ফিল মেরে কাম কি নেহি'। দাদা অপলক দৃষ্টিতে সামনের দেওয়ালে টাঙানো পিয়ালীর ছবিটার দিকে তাকিয়ে একটার পর একটা পেগ মেরে যাচ্ছেন। হারু কিছুট ভয় পেয়ে কালুকে বলল, গতিক ভালো না! দাদার যদি পার্থর মতন অবস্থা হয়! কালু দাদার অন‍্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে চট করে একটা পেগ মেরে গালে দুটো ছোলা ফেলে বলল, দাদার কুশপুতুল পোড়াবে কার এতো সাহস! হারু বলল, তোর নেশা হয়ে গেছে, আমি সাইকো পার্থর আত্মহত‍্যার কথা বলছিলুম!

দাদা কাঁদো কাঁদো গলায় পিয়ালীর ছবির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো, তুমি তো সব জানো! বলো আমি কিনা করেছি সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়! ওনার অনুপ্রেরণায় আইটির ছেলেটাকে মঞ্চের পেছনে নিয়ে গিয়ে 1,2,3 করিয়েছি। ওনার জন‍্য ১০কিমি দুর থেকে চকলেট কিনে এনেছি! সারারাত মশার কামড় খেয়ে মঞ্চে শুয়ে থেকেছি! হারু বলল, ভাগ‍্যিস সোয়াই-ফ্লু হয়ে যায়নি!

পরের পেগটা হাতে নিয়ে আবার ছবির দিকে তাকিয়ে দাদা বলল, সবার নাম আছে আর আমার নামটাই বাদ! হারু এবার কালুকে বলল, ওরে নুর ভাবিকে একবার ফোন কর! এদিকে দাদা বলেই চলেছে, আমাকে জেলে একদিনও দেখতে আসেনি, এমনকি জেল থেকে ছাড়া পাবার পর একবারও নবান্নে বা কালীঘাটে ডাকেনি তাও আমার এতো দুঃখ হয়নি! কালু বলল, দাদা এবারে বুঝেছি কেন তোমার নাম দেয়নি! তুমি জেল খেটেছো বলে। দাদা এবার ছবি থেকে চোখ সরিয়ে কালুর দিকে কটমট করে লাল চোখে তাকিয়ে বলল, জেল তো সাইকেল চোরও খেটেছে! কালু বললো, তুমি তো এখন পোভাবশালী নও তাই হয়তো বাদ দিয়েছে! হারু পাশেই ছিল, সঙ্গে সঙ্গে একটা জোরে চাটা মারলো কালুর মাথায়।

নারদের ভিডিও গোটা রাজ‍্য দেখলো, ছেলে ঢুকাতে গিয়ে একজন জেলে গেলো, আরেক জন বিনে পয়সায় দেখিয়ে দিলো আর আমার বেলায় যত দোষ! হারু বলল, দাদা আমি সিওর, চক্রান্ত করে দিদি নামটা বাদ দিয়েছে! কালু বলল, চক্কান্ত তো সিপেম করে! হারু বলল, চিন্তা করো না দাদা, তোমার ইতিহাস ঐ অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীরা বুঝবে না! তোমার ইতিহাস ডিগ্রিকোর্সে পড়ানো হবে। কালু জল ছাড়াই শেষ পেগটা মেরে গেঞ্জীর কলারটা টেনে মুখটা মুছে বলল, আমরা এই দাবীতে কাল থেকে অনশনে বসবো!

( বি.দ্র. - এটি একটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই। থাকলে সেটা কাকতালীয় )

Tuesday, 21 February 2017

দুই বৌদির ব‍্যক্তিগত কথপোকথন

                                                দুই বৌদির ব‍্যক্তিগত কথপোকথন
ময়না = (কেঁদে কেঁদে ) হ্যলো নন্দিনী, শুনেছিস তোর দীপ’দাকেও সিবিআই ঢুকিয়ে দিলো! শেষ রক্ষা করতে পারলুম না!
নন্দিনী = ( স্বামী জেলে সঙ্গী পেয়েছে সেই আনন্দ চেপে, দুখী দুখী ভাব করে ) হ‍্যাঁ, খবরে দেখলুম।
ময়না = ( ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ) তোর মতন আমিও সারাদিন সিজিওতে পড়েছিলুম। বীরের মতন সাতসকালে এসেছিল, শেষে টানতে টানতে নিয়ে গেলো।
নন্দিনী = কপাল দিদি, কপাল! শাশুড়ির ওপর অবিচারের ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে। তা নাহলে সবাই খীর খেল, এমনকি ভিডিওতেও দেখা গেল, আর কেবল আমাদের দুজনের স্বামী ভিতরে ঢুকলো!
ময়না = শোন না, তুই তো ভালো রান্না করিস! তোর দীপ’দা পোস্ত খেতে খুব ভালোবাসে। তুই দু’দিন পোস্তোর বড়া আর আলুপোস্ত করে জেলে নিয়ে যাবি! উড়েদের জেলের রান্না যদি তোর দীপ'দা সহ্য করতে না পারে!
নন্দিনী = আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি কবে আসছো?
‌‌‌‌‌‌‌‌‌
ময়না = আরে আমার টিকিট কনফার্ম হলেই রওনা দেব। ‌

নন্দিনী = তুমি দেরি না করে দাদার সাইকেলটা নিয়েই বেরিয়ে পড়ো!
মরনা = ধুস! সবুজসাথীর ঐ লক্কড় সাইকেল ভুবনেশ্বর পর্যন্ত আমার থোড়াই সাথ দেবে!
নন্দিনী = আরে না না! আমি বহরমপুরের সাইকেলের কথা বলছিলুম!
ময়না = না বাবা! ওটা ওর জীবনের প্রথম সাইকেল, যেতে যেতে যদি ভেঙে যায় তাহলে আর রক্ষে থাকবে না!
নন্দিনী = বলছি, মলন'দা জেলে থাকার কোনো টিপস দিলো?
ময়না = ও হ‍্যাঁ, বলতে ভুলেগেছি! মদনদা পই পই করে বারন করেছে প‍্যানিক অ্যাটাকের অভিনয় করতে। ওখানের হাসপাতালে কোনো উডবার্ন নেই!
নন্দিনী = আচ্ছা, রায় বৌদি'কে একবার ফোন করে সিবিআইয়ের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার টিপস চাইলে কেমন হয়!
ময়না = ধুস! উনি কিছুই জানেন না। গোকুল'দার ছাড়া পাওয়ার রহস‍্য একমাত্র শিউলি জানে।
নন্দিনী = তা দিদি আর কেউ ভুবনেশ্বরে আসছে? কিছু খবর পেলে?
ময়না = খবরে বলছিল জেলে নাকি এবারে বেদে আর তার মেয়ে জ্যোৎস্না আসছে!
নন্দিনী = বেদেকে নিয়ে চিন্তা নেই, চিন্তা তো জ‍্যোৎনাকে নিয়ে৷ আমার 'মাল'টাকে তো আমি হাড়ে হাড়ে চিনি! জেলের ভিতরেই যদি ... তুমি দীপ'দাকে বোলো ওকে সচেতন করে দিতে। জেলের বাইরে হোক বা ভিতরে, দীপ'দাই তো মূখ‍্য সচেতক!
ময়না = আমাদের স্বামীদের জেল থেকে ছাড়ানোর কোনো গা নেই দিদির!
নন্দিনী = ঠিক বলেছ দিদি, তাও দীপ'দাকে ধরতে তবুও একটু নড়েচড়ে উঠেছে! আমার বরকে ধরার পর মনে হয়েছিল, সিবিআই চন্দননগরের মালকে না ধরে একটা পকেটমারকে ধরেছে!
ময়না = আর কি এমন নড়েচড়ে উঠল শুনি! ঐ একদিন এবিপির মতন ঘন্টাখানেক অবরোধ সঙ্গে একটা শিশু মৃত‍্যু। ব‍্যাস! খেল খতম!
ময়না = যা বলেছ দিদি! ছেলে গুলোকে কোথায় এখন সিজিওতে ঢোকাবে! না এখন কলেজে কলেজে এস এফ আই পেটাতে পাঠাচ্ছে!
নন্দিনী = দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে লোক হাসাতে হাজির হয়েছিল! ওটা একটা আন্দোলন!
ময়না = নামেই সুলতান, আর পুলিশের প‍্যাঁদানির ভয়ে পালাচ্ছে। আর ঐ নাট‍্যকার জাল গাড়ির ভিতর প্রেক্ষীত খুঁজে বেড়াচ্ছে! ঢং দেখলে গা পিত্তি জ্বলে যায়!
নন্দিনী = এক সপ্তাহ হতে গেলো, এখনও গোষ্টো পালের পায়ের নিচে অনশন মঞ্চের বাঁশ পর্যন্ত পড়ল না!
ময়না = মদনার বেলায় পুষ্প বৃষ্টি, অনশন, কতো আয়োজন! আর আমাদের বরেদের বেলায় ... চক্রান্ত কে করছে আমরা বুঝি না! যেদিন ভাইপোকে তুলে নিয়ে যাবে সেদিন দেখবি হাওয়াই চটি খুলে ছুটছে!
নন্দিনী = যা বলেছ দিদি। ঠিক ফোন করে সেটিং করে নেবে! তবে আজকে একটু আশার আলো দেখেছি। দিদি অনেকদিন পর সংখ‍্যালঘু ছেড়ে সংখ‍্যাগুরুদের প্রশংসা করেছেন। মনেহয় গাড়ি ঠিক লাইনেই যাচ্ছে। জয় জগন্নাথ।
( নেটওয়ার্ক প্রবলেম )
ময়না = ধুস! জিওর কানেক্সশানটা দিনে দিনে যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে! আচ্ছা শোন, আমি দুদিনের মধ‍্যেই যাচ্ছি। দাদার খেয়াল রাখিস! ওকে বাই!
( বি. দ্র. = বাস্তবের সাথে এই সংলাপের কোনো মিল থাকলে সেটা কাকতালীয় )

Friday, 14 October 2016

বিজয়ার পেন্নাম

                             ✍ বিজয়ার পেন্নাম 
দশমীর দুদিন পরে হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে একটু ভিড় হালকা হতেই সন্ধ্যাবেলায় বিজয়ার প্রণাম করতে হাজির মদনা আর মৃনাল। বৈঠকখানার ঘরে দুজনেই বসে অপেক্ষা করতে লাগল দিদিমনির। 

মৃনাল = যাক বাবা, অবশেষে জেলের বাইরে পুজো কাটালুম। ভেবিছিলুম এজম্মে বুঝি আর পুজো দেখা হবে না!

মদনা = তা যা বলেছিস ভাই! আমি তো ভেবিছিলুম এবছরের নবমীতেই বোধহয় বলি দিয়ে দেবে আমাকে!

মৃনাল = অনেকদিন পর পুজোটা চুটিয়ে এনজয় করলুম। অনেকগুলো প্যান্ডেল ঘুরে দেখলুম।

মদনা = আমি তো ভাই ভবানীপুর ছেড়ে বেরুতে পারলুম কই! তবে জেলের থেকে ঢের ভালো। তা হ্যাঁরে, শুনলুম তোর জামিন নাকি মাত্র ২লাখেই হয়ে গেছে? আমার বেলায় ৩১লাখ নিলো কেন তাহলে?

মৃনাল = তুই তো 'পোভাবশালী' তাই তোর স্পেশাল রেট। আমার রেটটা ঐ বিষ মদ, ক্লাব অনুদান, শহীদ স্মরণের মতন গড়পত্তা আরকি! তাছাড়া আমি তো শুধু টাকাই খেয়েছি। তুই তো টাকাও খেয়েছিস আবার এনজয়ও করেছিস।

মদনা = বাজে কথা বলিস না! আমি বেশি খাইনি!

মৃনাল = সে তুই বিন্দু বিন্দু করে কতটা খেয়েছিস সেটা সবাই জানে। আসলে খাওয়ার সময় তোর কোনো হুঁশ থাকেনা আর খাওয়ার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারিস না।

মদনা = তোর কাছে কোনো প্রমাণ আছে? শুধু শুধু কেন কুৎসা করছিস আমার নামে!

মৃনাল = দ্যাখ ভাই! আর মুখ খোলাস না! খাওয়ার পর তোর কি অবস্হা হয় সেটা নারদার ভিডিওতে সবাই দেখেছে।

( এমন সময় দিদিমনি বৈঠকখানার ঘরে প্রবেশ করলেন। দুজনেই এক সঙ্গে 'দিদি গো' বলে পায়ের উপর লুটিয়ে পড়ল। দিদি দুজনের মাথায় স্বস্নেহে তার মমতাময়ী হাত দুটো রাখলেন। )

দিদিমনি = ওরে হয়েছে, হয়েছে! এবারে ওঠ!

মৃনাল = দিদি, আমি তোমার জন্য তোমার প্রিয় ল্যাংচা এনেছি।

দিদিমনি = (একটা ল্যাংচা তুলে কামড় দিয়ে ) আহা! কদ্দিন এমন ল্যাংচা খেতে পারবো কে জানে! হাবটা বোধহয় আর করা হবেনা!

মদনা = দিদি, আমি তো এখন 'অভাবশালী' তাই নতুন গুড়ের বাতাসা এনেছি।

দিদিমনি = তুই যে গুড়ের কিছু এনেছিস সেটা আমি ঘরে ঢুকেই বুঝতে পেরেছি। আর 'পোনাম' করে যখন উঠলি তখন বুঝলাম গুড়জল খেয়েও এসেছিস।
(মদনা লজ্জায় মাথা নিচু করে ব্যাপারটা চাপতে গেল অমনি একটা ঢেকুরের সাথে গোটা ঘর দিশির গন্ধে ভরে গেল।)

মদনা = (অভিমানের সুরে) তুমি আমাকে একটুও ভালোবাস না! এতদিন ধরে জেলে ফেলে রেখে দিলে! কতো কষ্ট হয়েছে আমার তুমি জানো!

মৃনাল = তুই কদিন বা জেলে কাটিয়েছিস! সারাক্ষণ তো উডবার্ণেই শুয়েই কাটিয়ে দিলি। জেলে আবার তোর জন্য মিউজিক সিস্টেম থেকে রঙীন জল, রাজকীয় আয়োজন ছিল। আমার অবস্হাটা ভাব! আমি তো ভেবিছিলুম দিদি আমাকে ভুলেই গেছ! তাই তো অভিমানে দু-চারটে কথা বলেছিলুম।

দিদিমনি = ওরে আমি তোদের সব কষ্ট বুঝি! CIB কে সামলানো কি 'চাড্ডি'খানি কথা! কতোবার এজন্য দিল্লি যেতে হয়েছে জানিস! দুটো আসন কুরবানী দিতে হয়েছে। তারপর আবার নারদের ঝামেলা। ওটাকে আগে না সামলালে আমার পুরো মন্ত্রীসভাই তো এতদিন জেলে পুজো সেলিব্রেশন করতো!

মৃনাল = দিদি, কোনো পদ খালি নেই? আমরা কি না খেতে পেয়ে মারা যাবো!

মদনা = মাইরি বলছি, তোমার দিব্যি! এবার থেকে মিনিমামই খাবো, আর ম্যাক্সিমাম নয়!

দিদিমনি = মরণ! তোর যা অবস্হা তাতে মিনিমাম খেলেও প্যানিক অ্যাটাক হবে।

মদনা = তুমি মিছিমিছি আমাদের দূরে সরিয়ে রাখছ! আজ রেড রোডে তো আমাদের দুজনের জন্য দুটো আসনের ব্যবস্থা করতে পারতে! কি সুন্দর সিঁদুর খেলা হচ্ছিলো!

দিদিমনি = সামনে বছর মহালয়া থেকেই সব প্যান্ডেল চালু করে দেব। আর ৭৫ টা ক্লাবকে ডাকবো। তার পরের বছর ২১৪টা ক্লাবকে ডাকবো। 'প্যান্ডেলশ্রী' 'পোতিমাশ্রী' পুরস্কার দেব। তখন তোদেরকে নিশ্চয়ই ডাকবো!

মৃনাল = ওরে মদনা, এবারে তো স্বভাবটা পাল্টা!

দিদিমনি = শোন দুদিন বাদেই দেবজানীরও জামিন হয়ে যাবে। আর মাসখানেকের মধ্যেই দীপ্তটার জামিন হয়ে গেলেই, আবার সবাই মিলে ডেলো ঘুরতে যাবো। (উদাস হয়ে) কতদিন হয়ে গেলো আমার একটাও পেন্টিং আর বিক্রি হয়নি....

বেরোনোর সময় দিদিকে আবার দুজনে প্রণাম করে, মদনার এক চ্যালার মোটর বাইকে চাপাচাপি করে তিনজনে বসল। কারোর মাথায় হেলমেট নেই! দিদি বলল, সাবধানে যাস! বাইক স্টার্ট নিয়ে টলমল করে এগোতেই মদনা হাত তুলে বলল, সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ।

(এটি কাল্পনিক কথপোকথন। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল থাকলে সেটা কাকতালীয়)

Monday, 19 September 2016

বোতলের দৈত্য

                                     বোতলের দৈত্য 

নিমাই'দার বাংলার দোকান থেকে কেষ্ট'দা প্রতিদিনের মতন আজও একটা বাংলার বোতল কিনে বাড়ি ফিরল। আজ কেষ্ট'দার কি হলো, কে জানে! মাত্র একটা বোতলেই ফুল আউট! নেশার ঘোরে খালি বোতলটার গায়ে হাত বুলাতে বুলাতে কি সব বলছিল যেন। হঠাৎ বোতলের মধ্যে থেকে ধোঁয়া বার হতে লাগল। তারপর সেই ধোঁয়ার ভিতর থেকে একটা দৈত্য বেরিয়ে এসে বলল " হুকুম করো আকা, আমি আপনার অনুগত দাস।" কেষ্ট'দা তো দেখে হ্যাঁ হয়ে গেলো!

পরবর্তী কথোপকথন .....

কেষ্টদা = তুমি কে বাওয়া???

দৈত্য = আমি বোতলের দৈত্য। আপনার অনুগত দাস।

কেষ্টদা = যাহঃ কেলো! এতদিন জানতুম প্রদীপ ঘসলে দৈত্য বার হয়। এখন দেখছি বোতল ঘসলেও দৈত্য আসে!

দৈত্য = এটা পরিবর্তনের যুগ। এখন সবই সম্ভব।

কেষ্টদা = তোর মুখটা কতোকটা মদনার মতন লাগছে! আচ্ছা আমি যা বলবো তুই সব শুনবি? কই দেখি আমার জন্য একটা বাংলার বোতল নিয়ে আয় দেখি!

দৈত্য = (পকেট থেকে একটা একটা বাংলার বোতল বার করে কেষ্টদার হাতে দিয়ে) চাট কিছু লাগবে স্যার!

কেষ্টদা = ছোলা ভাজা আর কাঁচালঙ্কা হলেই চলবে। অনেকদিনের ইচ্ছা বারে বসে গান শুনে শুনে মাল খাবো। জুট মিলটা লক আউট হওয়ার পর থেকেই হাতে আর একটিও পয়সা নেই! সখটা আর এ জন্মে পূরণ হলো না!

দৈত্য = আপনি চাইলেই এখুনি গানের ব্যবস্থা করে দিতে পারি!

( সঙ্গে সঙ্গে মিউজিক সিস্টেম হাজির। ভোজপুরী গান চলতে লাগল। কেষ্টদা বোতলটা খুলে পেগ বানাতে যাবে এমন সময় দৈত্য কেষ্টদার হাত থেকে বোতলটা নিয়ে নিলো)

দৈত্য = স্যার আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আমিই পেগ বানাচ্ছি।

কেষ্টদা = (দৈত্যের পেগ বানানো দেখে) ভাই তুমি এত 'বিন্দু বিন্দু করে' মেপে মেপে পেগ বানাচ্ছো কেন?

দৈত্য = আমি সবাইকে বিন্দু বিন্দু করেই সিন্ধু দর্শন করাই স্যার। একটা অনুরোধ ছিল স্যার! আসলে আমার সামনে কেউ বাংলা খেলে আমার গলাটা কেমন শুকিয়ে যায়। তাই যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আপনার সাথে আমিইও পেগ দুই মারি!

কেষ্টদা = এতে আবার পারমিশনের কি আছে! মদ সবসময় মিলে মিশে ভাগ করে খেতে হয়। এতে একটা 'উৎসবের' পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

(পেগ দুই খাবার পর আরও নেশা চড়ে গেলো কেষ্টদার)

কেষ্টদা = আমার দাদার সিন্ডিকেটের ব্যবসা, প্রচুর পয়সা। কিন্তু শালা লোকের কাছে কেঁদে বেড়ায়, বাপের '৩৪' লাখ দেনা শোধ করতেই নাকি ওর সব টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে!

দৈত্য = ( আক্ষেপের সুরে ) আমার দিদিও আমাকে আর দেখেনা। ২২মাস টানা বোতল বন্দি ছিলাম। একদিনও দেখা করতে আসেনি! সে যাই হোক আপনি চাইলে আপনারও একটা অফিস করে দিতে পারি মিডল্যান্ড পার্কে!

কেষ্টদা = জুট মিলের কাজটা যেদিন চলে গেলো, সেই সন্ধ্যায় বৌ তল্পিতল্পা বেঁধে মেয়েকে নিয়ে বাপেরবাড়ি গিয়ে উঠলো। তিন মাসে একটাও ফোন করলো না! পাশের বাড়ির চম্পা বৌদি আগে আমাকে দেখে কি ঢলানি মারতো! বৌকে লুকিয়ে কতো গিফ্ট কিনে দিয়েছি। যেদিন শুনলো আমার কাজটা নেই, একবারও আমার দিকে ফিরেও চাইলো না! ( হঠাৎ দৈত্যের চোখ ছলছল করে উঠলো ) কি হলো তুমি কাঁদছো কেন?

দৈত্য = না ও কিছু নয়! পিয়ালীর কথা মনে পড়ল।

কেষ্টদা = ওপাড়ার হারুদা, ছেলের বিয়ে দিলো ধুমধাম করে। কতো লোক খেলো! আমার ছেলেটার মেয়েটার যদি অমন যাঁকজমক করে বিয়ে দিতে পারতুম! শালা কন্যাশ্রীর টাকার পুরোটাই মেরে দিলো পঞ্চায়েত প্রধান!

দৈত্য = যদিও আমি এখন আর আগের মতন প্রভাবশালী নেই নেই! এখন একটু অভাবশালী তবুও চিন্তা করবেন না স্যার! আপনার মেয়ের বিয়েতে ২৫০০টাকার প্লেট হবে। (পকেট থেকে দুটো কাগজ বার করে ) এই নিন আপনার মেয়ের বিয়ের মেনুকার্ড আর ডেলোর বাংলোতে হানিমুনের টিকিট।

কেষ্টদা = মেয়ের বিয়ের জন্য যখন এতকিছু করলেন, তখন একটা ভালো সরকারি চাকুরে ওয়ালা ছেলে খুঁজে দিন না! রাজ্য সরকার নয়! কেন্দ্রীয় সরকার। DAএর জন্য সংসারে অশান্তি হোক আমি চাইনা। ঐ কেন্দ্রীয় সরকারের যেকোনো ডিপার্টমেন্ট হলেই হবে। আর সিবিআই হলে তো কোনো কথাই নেই! সোনার টুকরো জামাই হবে।

সিবিআই এর নাম শুনে দৈত্যের প্যানিক অ্যাটাক হলো। দৈত্য ধোঁয়া হয়ে আবার বোতলে ঢুকে গেলো।