Showing posts with label নারদ. Show all posts
Showing posts with label নারদ. Show all posts

Thursday, 20 April 2017

কালীপিসির পুরী ভ্রমণ

অনেকদিন ধরেই পিসি ভাবছে পুরী গিয়ে পুজো দিয়ে আসবে কিন্তু লন্ডন জার্মানি একটার পর একটা ট‍্যুর, বিশ্ব ব‍্যাঙ্গ সম্মেলন, আহারে বাহারে নানা উৎসব আর কাজের মধ‍্যে সময় হয়নি। তাই উনি ঠিক করেছেন, হার্মাদের দেশে যাবার আগে এবারে পুজোটা দিয়েই যাবেন। তাছাড়া পুরীর কাছেই ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে পিসির দুই ভাই, দীপ আর মাল, পা ভেঙে ভর্তি আছে। তাদের সাথে দ‍্যাখাও করবে। গোলাপী উপত‍্যাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে পা ভাঙে। কয়েক মাস হলো ভর্তি আছে। পিসি ভাইয়েদের দেখতে যায়নি বলে তারা খুব দুঃখু পেয়েছে। দীপ হাসপাতালে পিসিকে দেখেই,' দিদি গো..' বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো! পিসি দীপের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আহারে বাছা একেবারে শুকিয়ে গেছে! জিম না করেই ১৫-২০কিলো ওজন কমিয়ে ফেলেছে! দীপ বরাবরই সাইকেল চালাতে খুব পছন্দ করে, তাই পিসি ভেবেছিল সবুজ সাথীর সাইকেল একটা দিয়ে আসবে। কিন্তু পা তো ভাঙা, চালাবে কি করে! তাই একটা ডায়েরি দিয়ে বলে এসেছে, এটাতে গান কবিতা যা মনে আসে লেখ, ছবি আঁকো। আমি বই মেলাতে এটাকে প্রকাশ করবো। নাম হবে, 'হাসপাতালের ডায়েরি'। 'মাল'টার সাথে পিসি আর দ‍্যাখা করেনি। পিসি খোঁজ নিয়ে দেখেছে, 'মাল'টা হাসপাতালে প্রতিদিন ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন খেয়ে দিব‍্যি আছে।


এদিকে হয়েছে আরেক বিপত্তি। গতবছর পিসির এক ভাই কৃষ্ণ দাস মানে কেডিভাই পিসির বাড়িতে নারায়ণ পাঠিয়ে ছিলেন পুজো করার জন‍্য। পিসির আরেক ভাই 'বাল'এশ্বর দায়িত্ব নিয়ে পুজো করিয়ে সবাইকে প্রসাদ দেয়। পিসির বেশকিছু ভাই, ভাইপো, ভাইঝি পুজোর প্রসাদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। খবরটা গোটা পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই তারা মাঝে মধ‍্যেই অসুস্থ হয়ে পড়তো। বেলভিউতে ভর্তিও করতে হয়েছে কয়েকবার। পিসি তার নিজের ডায়গনস্টিক সেন্টারে সবাইকে ফ্রিতে পরীক্ষা করবে বলেছিল। সেটা বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর টেনশানে আর করে উঠতে পারেনি। তবে জনস্বার্থে, এই অসুখ ছোঁয়াচে কিনা জানার জন‍্য স‍্যাম্পেল দিল্লীর ল‍্যাবে পাঠানো হয়েছিল। প্রসাদ প্রায় সবাই খেয়েছিল। কেউ তোয়ালে মুড়ে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল, তো কেউ খবরের কাগজ মুড়ে নিয়ে গিয়েছিল! কেউ আবার ব‍্যাগে করে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল! পিসির নকুল ভাই তো সবারচেয়ে বেশী প্রসাদ খেয়েছিল। এক ভাই জলখাবারে সিঙাড়া দিয়েই খেয়েছিল আর মাতাল ভাইটা তো পুজোর ফলকে চাট বানিয়ে পেগ মারতে মারতে খেয়েছিল। ভাইপোর ফিজিক্সের প্রাইভেট টিউটর, ফুটবল কোচ সবাই খেয়েছিল। পিসির ফ‍্যামেলি ফিজিসিয়ন মিতালী আর হাকিম সাহেবও খেয়েছিল। এমনকি বাড়ির সিকিউরিটি গার্ডও খেয়েছিল। এটা নিশ্চিত, প্রসাদ আরও অনেকে খেয়েছিল। তবে বাকিদের অবস্থা দেখে আর কেউ মুখ খুলছে না! পাড়ার লোকজনের মুখে একটাই কথা, পিসির বাড়ির নাযরাণ পুজো আর পিসি প্রসাদ পায়নি! এটা হতেই পারে না।

দিল্লীর ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ১৩জনের ইনফেকশনের রিপোর্ট এসেছে। মনেহয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। উডবার্নে রেখে চিকিৎসা করলে রোগ সারবে না তাই ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হবে। সেটা পিসি ভালো ভাবেই জানেন। খুব শীঘ্রই আরও জনা পোনেরোর রিপোর্ট পাঠাবে জানিয়েছে দিল্লী থেকে। তাই ভাইয়েদের হাসপাতালে থাকতে যাতে কোনো অসুবিধা নাহয় সেটাই তদারকি করতে উনি এসেছেন। অবশ‍্য সেকথা পিসি স্বিকার করেনা। বলে, আমি পুজো দিতে এসেছি।

একটার পর একটা টেনশানে পিসি যখন জর্জরিত তখন ভাবলেন পুরীর সমুদ্রে জয় জগন্নাথ বলে একটা ঢুব দিয়ে মন্দিরে একবার মাথা ঠেকিয়ে আসি। কিন্তু সমস‍্যা যেন পিসির পিছু ছাড়ছে না! এক পান্ডা হুমকি দিয়েছে, পিসিকে পুজো দিতে দেবেনা। এতো আর সাংবাদিক পান্ডা নয়, যে পিসির চাবকানির ভয়ে চুপ করে যাবে! এ আই এস আই ছাপ যুক্ত বিশুদ্ধ হিন্দু পান্ডা। পিসির রাফ এন্ড টাফ মেজাজকে তোড়াই কেয়ার করে! পান্ডাটা নিশ্চয়ই পিসিকে হিজাব পরে টিভিতে দেখেছে। অনেক কষ্টে নিজেকে 'পোকিতো হিন্দু পোমান' করে পিসি পুজো দিতে পেরেছে।

এতো ঝামেলার চাপে পড়ে কাকাতুয়া থেকে ভাইপোর জন‍্য জিভেগজা কিনবে সেটাও ভুলে গিয়েছে। জিভেগজা যে ভাইপোর ফেবারিট। বারবার করে পিসিকে জিভেগজা আনতে বলেছে ভাইপো। তাই পিসি সোনার তরী থেকে বার হবার সময় হোটেলের ম‍্যানেজারকে ২০০০এর একটা নোট দিয়ে বললো, কাউকে দিয়ে খাজা এনে দিন তো। ম‍্যানেজার মুচকি হেসে বলল, নিতে হবেনা ম‍্যাডাম! কদিন বাদেই তো ছোটোবাবু এখানে আসবে। তখন প্রতিদিন খাজা খাবে।

বি.দ্র. - বাস্তবের সাথে এই গল্পের কোনো মিল নেই। থাকলে কাকতালীয়।

Wednesday, 22 March 2017

কালীপিসির কবিতা পাঠ

                               কালীপিসির কবিতা পাঠ
গতকাল বিশ্ব কবিতা দিবস ছিল। কিন্তু ঐ নারদ মামলার জন‍্য ওটা আর সেলিব্রেশন করা হয়নি। বুঝতেই তো পারছো কতো চাপে রয়েছি। 'সুপিম কোট' একমাস সময় দিয়েছে, তাই একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচলুম। একমাসের ভিতর ঠিক ম‍্যানেজ করে নেব। যাক সে কথা! শুনলুম এদিকে নাকি 'শিজাত' আমার 'মাকেট' ডাউন করে দিয়েছে! কি দুলাইন লিখে সব টিআরপি কেড়ে নিয়েছে! 

'শিজাত' যদি 'তিশূল' নিয়ে কবিতা লিখতে পারে তাহলে আমিও 'তিফলা' নিয়ে ওর থেকেও হাজার গুন ভালো 'পোতিবাদী' কবিতা লিখতে পারি!
"শুক্ততে লাগে কাঁচকলা/ঐ দ‍্যাখো জ্বলছে তিফলা/খেতে ভালোবাসতো অভীর বাপ/তিফলার গায়ে নীলসাদা সাপ/শুক্ত বড়োই প্রিয় আমার/রাজ‍্যে উন্নয়নের জোয়ার"। কেমন হলো বল! একি, হাততালি কই!

হতে পারে ও 'শিজাত', কবিতা জিনিটা কিন্তু আমার সহজাত। ভেতর থেকে অটোমেটিক চলে আসে। এই যেমন ধরো, আমি পাহাড়ে সভা করতে যাচ্ছি, হঠাৎ ঝন্না দেখে দুলাইন লিখে ফেললুম। 'ঝন্না ঝন্না ঝন্না/পাহাড়ে আনবো উন্নয়নের বন‍্যা/ হাইওয়েতে ধন্না/আমিই অগ্নিকন‍্যা"। যখন মন্দারমনিতে সান্ধ‍্য 'ভোমোনে' বেরিয়ে 'সূয্যাস্তের' আলোয় রোজভ‍্যালির হোটেলটাকে দেখতাম, ঠিক যেন তাজমহল মনে হত। নিজের অজান্তেই লিখে ফেলতাম,'রোজভ‍্যালি রোজভ‍্যালি/হাততালি হাততালি/কালিঘাটে আছে কালী/আমি হবো তোমার মালি'। আবার যখন জঙ্গলমহলে 'ছত্তধরের' সাথে সভা করতে যেতাম তখন শাল পলাশের 'পেমে' পড়ে দুলাই লিখে ফেলতাম,' ওরে আমার শাল/ওরে আমার পলাশ/তোদের মাঝেই পড়ে আছে সালুক সোরেনের লাশ'। আমি বিদেশ 'ভোমোন' করে এসে একটা 'আন্তোজাতিক' মানের কবিতা লিখেছিলাম, ' লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর/বিনিয়োগ অনেক দুর/ কোনদিনই আসবে না মানি/ বিএমডাবলিউ দেবেনা 'জাম্মানি'।'

সামনে বসা ভিড়ের মধ‍্যে থেকে একজন বলল, পিসি বিশ্ব বাংলা নিয়ে দুলাইন। পেছনের দিক থেকে একজন বলল, বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে একটা হয়ে যাক! পাশ থেকে একজন বলল, পিসি শিশুদের জন‍্য শিশুচুরি নিয়ে একটা ছড়া হোক। কালীপিসি হাত তুলে বলল, ঠিক আছে সব হব। কবিতা শুনে জোরে হাততালি দিতে হবে কিন্তু!" বিশ্ব বাংলা, আহারে বাংলা/খাচ্ছে দ‍্যাখো যেন হ‍্যাংলা/ এতকিছু কি করে গেলো/ভুলেও যেও না অ্যাপেলো"। এবারে শিশুচুরি ছড়া," ইশ্বর আল্লা জিশু/জুহি চন্দনা শিশু/প‍্যান্টে করে হিসু/এটা ঐতিহাসিক ইসু।"

ভিড়ের মধ‍্যে থেকে 'পিসি পিসি' বলে আবদার এলো, নরেন মুদিকে নিয়ে একটা রোমান্টিক কবিতা বলতে হবে। শুনেই তো পিসির গাল লজ্জায় গেরুয়া হয়ে গেলো। তারপর পিসি কবিতা শুরু করলো,' তুমি লাড্ডু, আমি ল‍্যাংচা/ তুমি পদ্ম, আমি ঘাস/ তুমি দিতেই পারো না আমায় বাঁশ/এটা আমার অন্তরের বিশ্বাস'।

তবে এই বিশ্ব কবিতা দিবসে আমি মামাটির জন‍্য একটা 'ইস্পেশাল' কবিতা লিখেছি সেটা বলেই আজকের সভা শেষ করবো।
এই আমরা কারা - তিনোমূল
যাচ্ছে কারা - তিনোমূল
এই রাজপথেতে - তিনোমূল
এই বুক চিতিয়ে - তিনোমূল

(হঠাৎ ভিড়ের মাঝে থেকে একজন বলে উঠলো) পিসি এটা তো এসএফআই-এর স্লোগান!

এই কে বললি রে? কেষ্টা, ভিড়ের মধ‍্যে থেকে মালটাকে বার করে নিয়ে স্টেজের পিছনে আন তো...

Wednesday, 22 February 2017

অভিমানী মদন

                                      অভিমানী মদন

পাঁচ নম্বর বোতলটা শেষ হবার পর যখন ছ নম্বর বাংলার বোতলটা হারু খুললো, ততক্ষণে চাট শেষ। হারু কিন্তু কিন্তু করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল! তার আগেই মদন বলল, চাট শেষ তো কি হয়েছে! তুই ঢাল, আজ চাট ছাড়াই খাবো।

সকাল থেকেই আজ দাদার মুডটা অফ। সকালবেলায় দাদা হোয়াস অ্যাপে জেনেছে সিঙ্গুরের সোনালী ইতিহাস থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন অবশ‍্য ব‍্যাপারটা পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি! কেবলই মনে হয়েছে, দিদি এমন কাজ করতেই পারে না। তবে মনের মধ‍্যে একটু খচখচানি ছিল! তাই নাতি স্কুল থেকে ফিরতেই ইতিহাস বইটা খুলে দেখে দাদার চোখ স্থির, গাল হাঁ! বাড়ির সবাই ছুটে এলো, ভেবেছে আবার প‍্যানিক অ্যাটাক হয়েছে বুঝি! দাদার গাল হাঁ! এমনিতে দাদা দিনে দুবার মুখ খোলে, খেতে আর খিস্তি দিতে। ছেলে তো ফোন করে উডবার্ণের বেড বুক করে ফেলল। প্রায় দশ মিনিট পর দাদা করুনভাবে বলল, আমি বাদ!

অন‍্যদিনের মতন সন্ধ‍্যা থেকেই নয়! বিকাল থেকেই দাদা আজ 'অন' হয়ে গেছে। কালু আর হারু কাঁচা ছোলা, বাদাম ভাজা আর এক পেটি বাংলা নিয়ে দাদার ঘরে ঢুকেছে। আজ আর মিউজিক সিস্টেমে ভোজপুরি চলছে না! চলছে, 'ইয়ে দুনিয়া ইয়ে ম‍্যায়ফিল মেরে কাম কি নেহি'। দাদা অপলক দৃষ্টিতে সামনের দেওয়ালে টাঙানো পিয়ালীর ছবিটার দিকে তাকিয়ে একটার পর একটা পেগ মেরে যাচ্ছেন। হারু কিছুট ভয় পেয়ে কালুকে বলল, গতিক ভালো না! দাদার যদি পার্থর মতন অবস্থা হয়! কালু দাদার অন‍্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে চট করে একটা পেগ মেরে গালে দুটো ছোলা ফেলে বলল, দাদার কুশপুতুল পোড়াবে কার এতো সাহস! হারু বলল, তোর নেশা হয়ে গেছে, আমি সাইকো পার্থর আত্মহত‍্যার কথা বলছিলুম!

দাদা কাঁদো কাঁদো গলায় পিয়ালীর ছবির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো, তুমি তো সব জানো! বলো আমি কিনা করেছি সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়! ওনার অনুপ্রেরণায় আইটির ছেলেটাকে মঞ্চের পেছনে নিয়ে গিয়ে 1,2,3 করিয়েছি। ওনার জন‍্য ১০কিমি দুর থেকে চকলেট কিনে এনেছি! সারারাত মশার কামড় খেয়ে মঞ্চে শুয়ে থেকেছি! হারু বলল, ভাগ‍্যিস সোয়াই-ফ্লু হয়ে যায়নি!

পরের পেগটা হাতে নিয়ে আবার ছবির দিকে তাকিয়ে দাদা বলল, সবার নাম আছে আর আমার নামটাই বাদ! হারু এবার কালুকে বলল, ওরে নুর ভাবিকে একবার ফোন কর! এদিকে দাদা বলেই চলেছে, আমাকে জেলে একদিনও দেখতে আসেনি, এমনকি জেল থেকে ছাড়া পাবার পর একবারও নবান্নে বা কালীঘাটে ডাকেনি তাও আমার এতো দুঃখ হয়নি! কালু বলল, দাদা এবারে বুঝেছি কেন তোমার নাম দেয়নি! তুমি জেল খেটেছো বলে। দাদা এবার ছবি থেকে চোখ সরিয়ে কালুর দিকে কটমট করে লাল চোখে তাকিয়ে বলল, জেল তো সাইকেল চোরও খেটেছে! কালু বললো, তুমি তো এখন পোভাবশালী নও তাই হয়তো বাদ দিয়েছে! হারু পাশেই ছিল, সঙ্গে সঙ্গে একটা জোরে চাটা মারলো কালুর মাথায়।

নারদের ভিডিও গোটা রাজ‍্য দেখলো, ছেলে ঢুকাতে গিয়ে একজন জেলে গেলো, আরেক জন বিনে পয়সায় দেখিয়ে দিলো আর আমার বেলায় যত দোষ! হারু বলল, দাদা আমি সিওর, চক্রান্ত করে দিদি নামটা বাদ দিয়েছে! কালু বলল, চক্কান্ত তো সিপেম করে! হারু বলল, চিন্তা করো না দাদা, তোমার ইতিহাস ঐ অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীরা বুঝবে না! তোমার ইতিহাস ডিগ্রিকোর্সে পড়ানো হবে। কালু জল ছাড়াই শেষ পেগটা মেরে গেঞ্জীর কলারটা টেনে মুখটা মুছে বলল, আমরা এই দাবীতে কাল থেকে অনশনে বসবো!

( বি.দ্র. - এটি একটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই। থাকলে সেটা কাকতালীয় )

Tuesday, 4 October 2016

দেবীর আগমন

                                      দেবীর আগমন
দেবী আগে থেকেই হোয়াটস অ্যাপে খবরটা পেয়ে গিয়েছিল যে এবারে পুজোর ছুটি পঞ্চমী থেকেই, তাই আগে থেকেই প্যাকিং শুরু করে দিয়েছিল। কার্তিকের কলেজ এমনিতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ আর গণেশের স্কুল তো ডেঙ্গুর জন্য একমাস ধরে ছুটি। সরস্বতী খুব খুশী, এবারে টেট পরীক্ষায় পাশ করেছে। তবে দেবীর একটাই আফসোস, নেশা খোর বাপটা যদি টাকা পয়সা গুলো চিটফান্ডের পিছনে না ওড়াতো তাহলে হয়তো কিছু টাকা অনুদান দিয়ে মেয়ের চাকরির ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যেত। তবে লক্ষ্মীর মনটা খারাপ! আই ফোন সেভেন কিনবে ঠিক করে রেখেছিল। তখন কি জানতো যে শিল্প চাষ দুটোরই ! ওর আসার একদম ইচ্ছে নেই!
পোলাপান নিয়ে দেবী পাহাড়ে ল্যান্ড করতেই বুঝতে পারলেন আবহাওয়া ভালো নয়! আকাশ গুরুং গুরুং করছে। মনে মনে নারদকে দুটো কাঁচা খিস্তি দিয়ে বললেন, 'হতচ্ছাড়াটা বলল কোনো সমস্যা হবেনা! পাহাড় জঙ্গল সবই এখন দাঁত ক্যেলিয়ে হাসছে। চারিদিকে কেবল উন্নয়নের জোয়ার! ব্যাটা ঢপবাজ। এখন বুঝলাম ব্যাটা ভুঁইয়ার সাথে কেন এতো ফেসবুকে চ্যাট করতো!" বাধ্য হয়েই একরাত ডেলোতে কাটিয়ে পরেরদিন রওনা হবেন স্থির করলেন।
সকালে উঠে আবার আরেক ঝামেলা! লক্ষ্মী আর সরস্বতী দুই বোনে ঝগড়া লেগে গেছে। লক্ষ্মী বলছে BMW তে যাব, আর সরস্বতীর বায়না VOLVO। দুর্গা যখন দুই বোনের ঝগড়া সামলাতে ব্যস্ত, তখন কার্তিক তার রয়্যাল এনফিন্ড স্টাট দিয়ে গণশাকে পিছনে নিয়ে বলল, ' তোমাদের ঝগড়া শেষ হলে তোমরা এসো! আমরা এগোলাম"। অনেক কষ্টে দুই বোনকে বুঝিয়ে শেষে OLA বুক করে দেবী রওনা দিলেন। মাঝ পথে হঠাৎ কার্তিকের ফোন, " মা, বাইকের তেল শেষ! পাম্পের লোক বলছে হেলমেট না থাকলে তেল মিলবে না! আমি আমাজনে একটা হেলমেট বুক করেছি। ওটা আসলেই তেল ভরে বেরিয়ে পড়বো। দেরি হলে চিন্তা করো না!"
দূর্গা কোলকাতা পৌঁছে জানলো যে তার আসতে দেরী হচ্ছে দেখে দিদি প্যান্ডেল উদ্বোধন করা শুরু করে দিয়েছে। দূর্গা রেগে গিয়ে তখন নবান্নে ফোন লাগালেন, 'কি ব্যাপার কি! আমি আসার আগেই উদ্বোধন হয়ে গেলো!" ওপার থেকে উত্তর এলো,'আমাকে এবছর ২১৪টা (২১১+বোনাস ৩) প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে হবে। তাছাড়া আমরা কোনো কাজ ফেলে রাখা মোটেই পছন্দ করিনা। আমরা সবসময় রেডি থাকি রে"! দেবী মনে মনে ভাবলো, স্বর্গ থেকে মর্তে আসতে আমার কি তাহলে ৩০০বছর লেগে গেলো! তারপর দেবী বলল,'আমার পুজো, আমারই পারমিশন নেওয়ার প্রয়োজন হলো না! এটা কিন্তু অন্যায়।" ওপার থেকে উত্তর, 'কুৎসা করবেন না! রাজ্যে গণতন্ত্র আছে! আইন আছে! আইন আইনের পথে চলে! ৩৪ বছর আপনি আপনার ইচ্ছে মতন চলেছেন, আর নয়! ভুলে যাবেন না আমিও শীঘ্রই সেন্ট উপাধি পেতে চলেছি!"
হতাশ হয়ে এবারে দুর্গা বলল,' কোন অসুরটাকে মারবো সেটা তুমিই তাহলে ঠিক করো! একটা যদিও বা জেলে বন্দি ছিল সেটাকেও জামিন করিয়ে দিলে! আরেকটার তো এমনিতেই অক্সিজেন কম যায়! ও ব্যাটা তো লড়তেও পারবে না! আবার নতুন নিয়ম করেছ, সিন্ডিকেট থেকে যে অসুর নিয়ে কাজ চালিয়ে তাতেও হাজার ঝামেলা! কোন মালটা মিনিমাম আর কোনটা ম্যাক্সিমাম সেটা বুঝতেই তো বছর ঘুরে যাবে!' ওপার থেকে, " আপনাকে বেশি চাপ নিতে হবেনা! আমি অধিকারীকে বলে দিয়েছি, ও অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে অসুর অপহরণ করতে। পেলেই ফোন করবে।"

Thursday, 16 June 2016

অথ মদনানন্দ বচনামৃত


(জেলের মধ্যে এক কয়েদী ও কনস্টেবলের কাল্পনিক কথোপকথন)

কনস্টেবল = অনেক রাত হলো, এবারে ঘুমিয়ে পড়ুন।

(কয়েদী কনস্টেবলের দিকে না তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে নিজের পেগ বানাতেই ব্যস্ত)

কনস্টেবল = বলছিলাম কি স্যার, আজ অনেকটা খেয়েছেন। তাছাড়া আপনার শরীরটাও এখন ভালো যাচ্ছে না। এমনিতেই প্রায় প্যানিক অ্যাটাক হয়। সেদিন তো এস এস কে এম-এর সিঁড়িতেই মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন।

কয়েদী = (কটমট করে লাল চোখে তাকিয়ে) স্যার! কে স্যার? কার স্যার? স্যার তো এখন ঐ মেদনীপুরিয়া। অধিকারীরই তো এখন সব অধিকার। আমি তো বলির পাঁঠা!

কনস্টেবল = (মনে মনে) ব্যাটা ছিল ছাগল, হয়েছে পাঁঠা! (প্রকাশ্যে) ছিঃ! ছিঃ! কি যে বলেন, আপনিই তো আমাদের স্যার, আপনিই আমাদের দাদা! মাত্র কয়েকটা ভোটেরই তো পার্থক্য! মানুষ কিন্তু আপনার বিন্দু বিন্দু করে উন্নয়নের সিন্ধু করার কথা মোটেই ভোলেনি।

কয়েদী = (এক ঢোকে পেগটা শেষ করে দিয়ে) তিন দিন, বুঝলে মাত্র তিন দিন আমাকে বাইরে ছেড়ে দিয়ে আবার ভোট করুক। দেখি কত দম! কম করে পঞ্চাশ হাজার ভোটে জিতবো!

কনস্টেবল = বলেন কি দাদা! (মনে মনে) নেশাটা বেশ চড়েছে তাহলে!

কয়েদী = কি বিশ্বাস হচ্ছে না! মা সারদার দিব্যি, পঞ্চাশ হাজারে যদি না জিতি তাহলে সার্টিফিকেটই নেব না। আরে মানুষ আমার বক্তৃতা শুনলো না, আমাকে চোখে দেখল না, তাতেই এতো ভোট। তাহলে ভাবো আমি যদি বাইরে থাকতাম তাহলে কি রেজাল্ট হতো!

কনস্টেবল = শুনেছিলাম ভোটের সময় বীরভূম থেকে ঢাকী এসেছিল কামারহাটিতে চড়াম্‌ চড়াম্‌ করে ঢাক বাজাবে বলে! কেন্দ্রীয় বাহিনী আর কমিশনের জন্য নাকি তারা ঠিকমতো ঢাক বাজাতেই পারেনি?

কয়েদী = হ্যাঁ, কমিশন তো সিপিএমের হয়েই কাজ করেছে। কিন্তু তাতেও সিপিএমের এখন যা অবস্থা, তাতে OLX- বেচে দিতে হবে।

কনস্টেবল = কিন্তু স্যার, কেরালায় তো সিপিএম আবার জিতলো। ত্রিপুরাতেও ওদের গরমেন্ট আছে!

কয়েদী = আরে, ত্রিপুরাটা সামনের বার নিয়ে নেবো! খালি আমাকে একটু বেরোতে দিক না! কেরালাটাও ওদের হাতছাড়া হবে। সাউথে অনেকগুলো নায়িকা আমার জানাশোনা!

কনস্টেবল = (মনে মনে) নেশাটা একেবারে ব্রহ্মতালুতে চড়ে গেছে মনে হচ্ছে! (প্রকাশ্যে) আচ্ছা, আপনাকে তাহলে ছাড়ছে না কেন, স্যার! সবাইকেই তো ছেড়ে দিচ্ছে! এই তো মুন্নাভাই ছাড়া পেয়ে গেলো! দিদিভাই একটু দাদাভাইকে বলে ব্যবস্থা করতে পারছে না?

কয়েদী = (একটু হতবিহ্বল চোখে কিছুক্ষণ কনস্টেবলের দিকে তাকিয়ে রইলো, তারপর মুখ খুললো) হবে, হবে! সব হবে! তাছাড়া, আমি তো এখন ‘প্রভাবশালী’ও নই, ‘প্রাক্তন’  হয়ে গেছি। সিনেমাটা কিন্তু দেখার ইচ্ছে ছিল। দেখি, সিডিটা আনিয়ে নিতে হবে! 

কনস্টেবল = আচ্ছা স্যার, আপনি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটা দেখেছিলেন? ওটা তো ১০কোটি টাকার গালা মেগা ইভেন্ট! প্রচুর ঘ্যামা লোকজন এসেছিল। সবাই বলাবলি করছিল, এটা নাকি বিশ্বমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে! ঢালাও খানাপিনারও আয়োজন ছিল। হায়াত রিজেন্সি থেকে খাবার এসেছিল।

কয়েদী = যেতে তো পারিনি, তাই এই লক-আপে বসে বসেই আমার এল ই ডি-তে দেখেছি। অনেকগুলো সুবিধাবাদী লোক স্টেজে ঘোরাফেরা করছিল। কয়েকটা দিব্যি মন্ত্রীও হয়ে গেল। আমার এক চ্যালা এসে বললো, ‘গুরু খাওয়া-দাওয়ার মেনুতে সব দারুণ দারুণ চাট্‌ ছিল।’ আমার কপাল খারাপ তাই এই জেলে বসে শুকনো ছোলাভাজা, শসা আর কাঁচা লঙ্কা দিয়েই কাজ চালাচ্ছি।

কনস্টেবল = নবান্নে ঢুকতেই পুষ্পবৃষ্টি! আমাদের ডিপার্টমেন্ট তো ওনাকে 'গার্ড অব অনার' দিলো।

কয়েদী = (এবারে কিছুটা বিরক্ত হয়ে) আরে অমন পুষ্পবৃষ্টি আমি যখন জেলে ঢুকি তখন অনেকেই দিয়েছিল। আর কি বললে! গার্ড অব অনার! ওটা অনার (Honour) নয়, ওনার (Owner)। মানে আগামী পাঁচ বছর তুমি টেবিলের নিচে থাকো।

কনস্টেবল = আচ্ছা দিদি তো বলেছিলেন, আগে জানলে যারা নারদাকান্ডে অভিযুক্ত তাদেরকে টিকিটই দিতেন না। আর জেতার পরই তাদেরই মন্ত্রী করে দিলো! এটা একটা কেমন কেমন হলো না?

(কয়েদী পরের পেগটা বানাতে বানাতে হঠাৎ থমকে গিয়ে কট্‌মট্‌ আবার কনস্টেবলের দিকে তাকালেন)

কনস্টেবল = (চকিতে মনে পড়ে গেলো, ইনিও তো নারদায় অভিযুক্ত। তাই তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ পাল্টে) না মানে, অনেকেই তো হেরে গিয়েও মন্ত্রী সমতুল্য পদ পেল। তাই বলছিলুম, যদি আপনাকেও আবগারি দপ্তর বা কারা বিভাগের উপদেষ্টামন্ডলীর চেয়ারম্যান করে দিতেন তাহলে খুব ভালো হতো। আফটার অল, এই দুটি দপ্তর সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তো আপনারই সবচেয়ে বেশি।

কয়েদী = (কপট রেগে গিয়ে পেগটাতে জল-সোডা কিছুই না মিশিয়ে একেবারে র’ মেরে দিলো। তারপর চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট চুপ থাকার পর মুখ খুললো) নাহ, আমি কিছুতেই কুনাল হবো না। আমার হাজার রাগ হলেও আমি ওনার বিরুদ্ধে কিছুতেই মুখ খুলবো না। (তারপর দুটো ছোলাভাজা গালে ফেলে, রিমোটটা হাতে নিয়ে মিউজিক সিস্টেমটার ভলিউম বাড়িয়ে দিলো)

কনস্টেবল = আচ্ছা, আপনি তো বলেছিলেন ভোটের রেজাল্টের পর ভোজপুরী শুনবেন। তাহলে হঠাৎ মহম্মদ রফি শুনছেন কেন?

কয়েদি = ভোজপুরী আমার বরাবরই প্রিয়। তবে এখন এই জেলের ভিতর একা একা বসে ভোজপুরী শুনতে বড়ো কষ্ট হয়। বারে বারে মনটা পিয়ালীর জন্য হু হু করে ওঠে। চোখের সামনে পুরনো দিনগুলোর স্মৃতি ভেসে ওঠে।

(চোখের কোনে হালকা জল গারদের আবছা আলোতে একবার চিক্‌চিক্‌ করে ওঠে। মিউজিক সিস্টেমে তখন রফির কন্ঠ ভেসে আসছে, ‘জিনা ইঁহা, মরনা ইঁহা, ইসকে সিবা জানা কাঁহা!’)

(cartoon: collected from net)

******

Monday, 11 April 2016

সখী, ঘুষ কাহারে বলে

সখী,    ঘুষ কাহারে বলে,
সখী,    অনুদান কাহারে বলে।

তোমরা যে বলো দিবস-রজনী    অনুদান’ ‘অনুদান’—
        সখীঅনুদান কারে কয়!  সে কি কেবলই নারদাময়।
        সে কি কেবলই হাতের মল?   সে কি কেবলই সি বি আই-র শ্বাস?
        লোকে তবে করে   কী সুখেরই তরে এমন দুখের আশ।
                
আমার চোখে তো সকলেই শোভন,
        সকলেই মির্জা, সকলেই হাকিম,    সুনীল আকাশ, মুকুল মদন,
        বিশদ জোছনা, কুসুম কাকলিসকলেই আমার মতো।
        তারা  কেবলই হাসে, কেবলই গায়,   অনুদান লইয়া মরিতে চায়
        না জানে বেতন, না পায় মদন,   না জানে সাধের যাতনা যত ।
      
টাকা সে হাসিতে হাসিতে ঝরে,   পুলিশ হাসিয়া মিলায়ে যায়,
        হাসিতে হাসিতে সূর্যসাগরে   মানুষের ভোট হারায়ে যায় ।
        আমার মতন সুখী কে আছে,   আয় সখী, আয় আমার কাছে
        সুখী হৃদয়ের সুখের গান   শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ।
      
প্রতিদিন যদি নারদ আসে    একদিন নয় কাঁদিবি তোরা
        একদিন নয় অনুদান লয়ে    সকলে মিলিয়া জেলে যাবো মোরা।....

(কবিগুরুর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী)
সৌজন্য: অঞ্জন মুখোপাধ্যায়


Saturday, 26 March 2016

অনুদান কাহারে কয়?


জন্‌মেজয় কহিলেন, হে মহর্ষি! অনুদান কাহারে কয়? আপনি কহিলেন যে ‘পরিবর্তন’-এর যুগে সততার নামে এক প্রকার লুটেরার দল বাংলায় ক্ষমতায় আসিবেন। তাঁহারা কিভাবে অনুদান লইবেন এবং অনুদান লইবার পর ধরা পড়িলে কি রূপ আচরণ করিবেন তাহা শুনিতে বড় কৌতূহল জন্মিতেছে। আপনি অনুগ্রহ করিয়া সবিস্তারে বর্ণনা করুন।

বৈশম্পায়ন কহিলেন, হে নরবর! আমি সেই মহান অনুদান বিশ্লেষণ করিব, আপনি শ্রবণ করুন।। আমি সেই নারদ কর্তৃক দংশিত অনুদান বর্ণনা করিতেছি, আপনি শ্রবণ করুন। হে রাজন, যে অর্থ প্রত্যক্ষ ভাবে না লইয়া, শান্তি-রক্ষকের বেশে কিছু দালালের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়, তাহাকেই অনুদান কয়। যে অর্থ হস্তগত হইলে সুলতানও গোলামে পরিণত হয় তাহাকেই অনুদান কয়। সমাজের কিছু বহুরূপী সান্ধ্য জলযোগে সিঙাড়ার সহিত উদরস্থ করিয়া থাকেন।

হে রাজন, যে অর্থ গ্রহণ পশ্চাৎ শ্বেতশুভ্র খন্ডিত বস্ত্র কর্তৃক অতীব যত্নসহকারে আভরিত হইয়া রক্ষিত হইবে, তাহাই অনুদানরূপে সমাজ স্বীকৃত হইবে। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিও ইহাকে আপন সিন্দুকে ভরিতে ভুল করিবে না। মনুষ্য অনুদান লওয়াকে নিম্নবর্গের প্রাণীহত্যার সহিত তুলনা করিলেও ইহাকে প্রত্যাখ্যান করিবার মতন মুর্খামি করবে না। শিক্ষিত ব্যক্তির হস্তে ইহা পড়িলে তিনি সাময়িক কুন্ঠা বোধ করিবেন বটে, তবে ইহার লোভ সংবরণ করিতে পারিবে না। নারীর সম্মুখে যদি ইহা সজ্জিত থাকে, তাহলে তিনি সহাস্য বদনে ইহা গ্রহণ করিবেন। কতিপয় বিলুপ্ত প্রজাতির মনুষ্য ইহার অংশীদারিত্ব চাহিয়া বসিবেন। এমনকি ক্রীড়ামোদী মনুষ্যও অনুদানের মোহে মোহগ্রস্ত হইয়া পড়িবেন।

মহারাজ, ‘পরিবর্তন’-এর যুগে অনুদানের নানান রূপ অর্থ হইবে। সিন্ডিকেট নামক শিল্পপ্রেমীদের নিকট ইহা উৎসাহবর্ধক রূপে পরিচিত হইবে। ‘তোলাবাজ’ নামক সমাজসেবীদের নিকট ইহা প্রাত্যহিক প্রণামী বুঝাইবে। ইহাই বেকারের চাকুরির নিশ্চয়তা প্রদান করিবে। অনুদানই হইবে ধর্ষিত নারীর সম্মানের পরিমাপক। দরিদ্রের নিকট হইতে বিন্দু বিন্দু করিয়া গৃহীত অর্থ যখন সিন্ধুতে পরিণত হয়, তখন তাহাকেই অনুদান কয়।

হে নরাধীপ! গরল পানপূর্বক মৃত্যু ঘটিলেও ইহা প্রদান করা হইবে। ইহাই গণবন্টন ব্যবস্থায় নিজ নিজ নাম নথিভুক্তকরণে সাহায্য করিবে। অনুদানই ব্যক্তির গলে ঝোলাইতে পারে ‘বি পি এল’ নামক  কামধেনু স্বর্ণহার। ইহাই পারে আপনার বার্ধক্য ভাতা বিধবা ভাতার মতন সরকারি নথিগুলির গতি ত্বরান্বিত করিতে।


বৈশম্পায়নের অমৃতবাণী শ্রবণপূর্বক জন্‌মেজয় কহিলেন, মুনিবর, আপনার দিব্যজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হইয়া অবগত হইলাম যে অনুদান ও উৎকোচ এক নহে। অনুদান লওয়া কোনো পাপ নহে। বরং অনুদান গ্রহণকারীরা গর্বের সহিত বলিতে পারে ‘‘আমরা সবাই অনুদান গ্রহণকারী’’।

Wednesday, 23 March 2016

‘‘খাইসে, আবার নারদ আইসে’’

হোলির দিন সন্ধ্যাবেলায় পাড়ার ক্লাবে জমিয়ে ফিস্ট হচ্ছে। প্যালা আর ক্যাবলা খাসির মাংস রান্না করছে। পার্ক সার্কাসে হাজী সাহেবের দোকান থেকে ভোরবেলা লাইনে দাঁড়িয়ে কিনে এনেছে হাবুল আর ক্যাবলা। একেবারে রেওয়াজী খাসি! হালকা করে মিউজিক সিস্টেম চালানো হয়েছে। কিন্তু হাবুলের যা অভ্যেস, নাগাড়ে টিভির রিমোট সার্ফ করে চলেছে। একটা খবরের চ্যানেল দেখে হঠাৎ হাবুল চিৎকার করে উঠলো, ‘‘খাইসে, আবার নারদ আইসে।’’ প্যালা আর ক্যাবলা রান্না ছেড়ে লাফ দিয়ে টিভির সামনে চলে এলো।

এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে ক্লাবে প্রবেশ করলো টেনিদা। উপস্থিত সবাইকে ও স্টোভের উপর ফুটন্ত মাংসের কড়াটার দিকে চেয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে বললো- ‘‘যাক্‌, তাহলে খাওয়া এখনো শুরু হয়নি।’’ হাবুল বললো, ‘‘জানো টেনিদা, আজ না আবার সেই নারদ আইছিল! পিসির সৎ ভাইপোটারে আনছিল, লগে লগে একটা মাইয়ালোকরেও দেখাইতাছিল।’’

টেনিদা টেবিলের উপর রাখা প্যালার বিড়ির প্যাকেট থেকে একটা বিড়ি বার করে কানের পাশে দুবার ঘুরিয়ে, মুখে ফু দিয়ে তারপর দেশলাই জ্বালালেন। তারপর বিড়ির প্যাকেটটা বেমালুম নিজের পকেট ঢুকিয়ে চেয়ারে পা মুড়ে বসে একটা লম্বা টান দিয়ে বললেন, ‘‘জানিস, আমিও এককালে এমন অনেক স্টিং অপারেশন করেছি।’’ প্যালা বললো, ‘‘গুরু! তুমি আর কি কি করেছ! একবার লিস্টিটা দাও না মাইরি!’’ হাবুল বললো, ‘‘চুপ কর প্যালা। জানস্‌ না, আমাগো টেনিদা একাই ১০০!’’ সঙ্গে সঙ্গে ক্যাবলা বললো, ‘‘১০০ নয়! নতুন থিওরি অনুযায়ী টেনিদা একাই ২৯৪।’’ টেনিদা পুলকিত হলেও মুখে বললো, ‘‘ক্যাবলা, তুই কিন্তু এবার গাঁট্টা খাবি।’’ হাবুল বললো, ‘‘টেনিদা, তুমি প্যালাটারে ইগ্‌নোর কইরা দাও। অখন তোমার গল্পখান আমাগো একবার শুনাও তো!’’

টেনিদাতো তাঁর গুলগল্প বলার জন্য মুখিয়েই ছিলেন। বলতে শুরু করলেন, ‘‘ সে প্রায় বছর দশেক আগেকার কথা হবে। তখন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে আমার নিত্য যাতায়াত। একদিন চা আর সিঙাড়াসহযোগে সান্ধ্য আড্ডা চলছে, তখন উনি...।’’ হঠাৎ প্যালা মাঝখানে ফুট্‌ কাটলো, ‘‘আচ্ছা, সুব্রতবাবুও ছিলেন? না, মানে সিঙাড়া ছিলো তো তাই...।’’ টেনিদা এবার সত্যিই প্যালার মাথায় কষিয়ে দিলেন তাঁর বিখ্যাত একটা ঝাল গাঁট্টা। প্যালায় মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো। তারপর আবার শুরু করলেন,‘‘...উনি আমাকে বললেন, ‘‘টেনি, তোমায় একটা দুঃসাহসিক কাজ করতে হবে! তোমাকে একটা স্টিং অপারেশন করতে হবে। গোটা রাজ্যজুড়ে কঙ্কাল খুঁজে বের করতে হবে।’ আমিও স্টিং অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হলাম। গোটা রাজ্য থেকে প্রায় ১০ হাজার কঙ্কাল উদ্ধার করলাম। সুশান্তবাবুর বাড়ির উঠান থেকেই ১হাজার কঙ্কাল পাওয়া গেল। সেই ফুটেজ এনে ওনাকে দিলাম।’’ ক্যাবলা বলল, ‘‘ফুটেজ দেখে উনি নিশ্চয়ই খুশিতে ডগমগ হয়ে গিয়েছিলেন!’’ টেনিদা মুচকি হেসে বললেন, ‘‘যা, আগে চারপিস কষা মাংস আমার জন্য নিয়ে আয়,  একটু টেস্ট করে দেখি। বাকিটা পরে বলছি।’’

অগত্যা নির্দেশ পালন। নিমেষে চারপিস কষা সাঁটিয়ে টেনিদা আবার শুরু করলেন, ‘‘এর বেশ কিছুদিন পর উনি একদিন হঠাৎ আমাকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, ‘টেনি, তোমাকে এবার নন্দীগ্রামে যেতে হবে। ভাইপো বঙ্কুকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাটা একেবারে অকর্মার ঢেঁকি! ইলিয়াসের একটা ফুটেজ ছাড়া আর অন্য কিছুই জোগাড় করতে পারেনি! এখন তুমিই আমার একমাত্র ভরসা।’ আমি ওনার কথামতন নন্দীগ্রাম গেলাম স্ট্রিং অপারেশনে। যুদ্ধের যা ফুটেজ আনলাম তা দেখে ওনার চক্ষু ত্রিফলার উপর উঠে গেলো। লালবাবু একাই হাতে এ কে ৪৭ নিয়ে গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকশো হার্মাদ সেই লাশগুলো তুলে জাহাজে ভর্তি করছে আর সেই জাহাজভর্তি লাশ বঙ্গোপোসাগরে পাড়ি দিচ্ছে।’’


প্যালা বলল, ‘‘কিন্তু টেনিদা, ভিডিওটা কোন্‌ টিউবে আপলোড করেছ? কই দেখতে পেলুম না তো!’’ টেনিদা বললেন, ‘‘অমন নেফিস্টোফিলিসের মতন কথা বলিস না প্যালা। জানিস না উনি কুৎসা পছন্দ করেন না! তাই ভিডিও-র ট্রান্সক্রিপশন কালীঘাটে টাইপ করে সব কাগজে আর টিভি চ্যানেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা যা বলেছি, যা পাঠিয়েছি, চ্যানেলগুলো সেটাই সম্প্রচার করেছে। কাগজেও তাই ছাপা হয়েছে। শুধু ভিডিওটাই যা দেখানো হয়নি!’’

Tuesday, 15 March 2016

চোরের মায়ের বড়ো গলা


স্বর্গের দেবতাদের কাছে দেবাদিদেব মহাদেবের জরুরী তলব গিয়েছে অবিলম্বে কৈলাসে আসার জন্য। সব দেবতারা হাজির হবার পর মহাদেব বললেন- ‘‘আজ আমরা ঘোর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। মর্তে কেউ আর আমাদের পূজা করছে না। সবাই এখন ৫৬ফুট সততার মূর্তির পূজায় ব্যস্ত। জনসাধারণকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে ঐ নারী ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ। তাই মানুষের মোহ কাটাতে আমাদের অবিলম্বে কিছু একটা করতে হবে।’’ দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর নারায়ণ সিদ্ধান্ত জানালেন – ‘‘আমরা ঠিক করেছি, সততার পর্দা এবার উন্মোচন করবোই। তাই নারদকে আমরা মর্তে স্টিং অপারেশনের জন্য পাঠাচ্ছি।’’

ব্রহ্মান্ডের প্রথম সাংবাদিক নারদ তো এই প্রাইম অ্যাসাইনমেন্ট পেয়ে যারপরনাই উৎফুল্ল। এমনিতেই লোকের হাঁড়ির খবর নেওয়া তাঁর চিরকালের অভ্যেস। শুধু খবর নেওয়াই নয়, সেই খবর অন্য লোকের কাছে চালান করা বা কান ভাঙানোতেও তিনি রীতিমত সুনাম(!) কুড়িয়েছেন। এবারও তিনি কামাল করে দেওয়ার লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে নিলেন। অতঃপর বাহন ঢেঁকিতে চড়ে তিনি স্বর্গলোক থেকে মর্তে রওনা হলেন তাঁর স্টিং অপারেশনের লক্ষ্যে। সবার প্রথমেই গেলেন সততার পালের অন্যতম গোদা নকুলের বাড়িতে। সাতসকালে গিয়ে দরজার বেল বাজালেন। দরজা খুলতেই বাতাসে সন্দেহজনক শিউলির গন্ধ পেলেন। একটু ইতিউতি ভালো করে দেখে নিয়ে তবে নকুলের ঘরে ঢুকলেন। নকুল তো নারদকে দেখে বেজায় খুশি। কারণ, নারদ যখনই আসেন, তখন এটা ওটা সঙ্গে নিয়ে আসেন।  

কথাবার্তা এরকম এগোতে থাকলো:
নারদ = ভাই নকুল, স্বর্গে তো আর ব্যবসা তেমন চলছে না। তাই ভাবছিলাম, তোমাদের বাংলায় যদি একটু আমাকে ব্যবসা করতে দাও!
নকুল = অবশ্যই করতে দেব। আমাদের দিদির অনুপ্রেরণায় তো আমরা সব ব্যবসায়ীকেই সব ব্যবসা করার সমস্ত রকম ছাড়পত্র দিচ্ছি। তা কী ব্যবসা করবেন, দাদা? চিট ফান্ড! ওটার কিন্তু এখানে হেব্বি ডিমান্ড। তবে ওটার রেট অনেক বেশি।
নারদ = আরে না না। আমার অতো পুঁজি নেই ভাই।
নকুল = তাহলে বোমা শিল্প করুন। সামনেই ভোট, তাই বাজার খুব গরম। তাছাড়া সারা বছর আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই, মানে বিভিন্ন গোষ্ঠী সামলানোর জন্য ওটার ডিমান্ড প্রচুর।
নারদ = আমি ভাবছিলুম একটা ল্যাংচা হাব বানাবোইমপেক্স ল্যাংচা হাব। তাই যদি একটু ব্যাপারটা দেখ! মানে জমি সমস্যা তো আছেই....
নকুল = ঠিক আছে, ঠিক আছে। কোনো চিন্তা করবেন না। আমি সব সাল্‌টে নেব। তবে ২০ লাখ দিতে হবে।
নারদ = সেকি, একেবারে ২০ লাখ!!!!
নকুল = হ্যাঁ। আমার ২০ লাখ, আর বাকিদের ৫লাখ করে দিলেই হবে। আসলে আমারটার মধ্যে সততা দেবীর ভাগটাও ধরা আছে তো! আর একটা কথা, সততা দেবীর মতই আমিও নিজের হাতে এখন টাকা নিই না। তাছাড়া এখন একটু সি বি আই, আর এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের চাপে আছি।
নারদ= হ্যাঁ, আমি কিছু কিছু শুনেছি।
নকুল= সেই জন্য টাকাটা আপনি আমার বিশ্বস্ত দালাল মীরজাফরকে দিয়ে দিন। বাকি কথা পরে আমার এলগিন রোডের অফিসে আসুন, ওখানেই হবে। আজ আমি একটু ব্যস্ত আছি। কথা পাক্কা হয়ে রইলো। টাকাটা কিন্তু আজই দিয়ে দেবেন।

নকুলের বাড়ি থেকে ঢেঁকি চড়ে নারদ চললেন বর্ধমানে মীরজাফরের বাড়িতে। মীরজাফর আগেই নকুলের হোয়াটস্‌অ্যাপ্‌ মেসেজ পেয়ে গিয়েছিল। তাই সে নারদকে খুশি মনেই স্বাগত জানালো। তাছাড়া, সকালবেলাতেই আমদানি কার না ভালো লাগে!
মীরজাফর = আরে নারদ ভাইসাব, আসুন, আসুন! আমি সুবাসাম এতো আল্লাকে ডাকি তবুও তাঁর দেখা মেলে না। আর আপনাকে না ডাকতেই আপনি চলে এলেন।
নারদ = আসলে নকুলবাবু আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছে।
মীরজাফর = হ্যাঁ, হ্যাঁ, জানি। ওঁর সাথে কথা হয়েছে। আসলে লেনদেনটা আমিই ডিল করি তো। তবে আমার ৫লাখ কিন্তু আলাদা।
নারদ= সে আমি জানি! এক্সট্রাটা সঙ্গেই এনেছি। পুরো পঁচিশ লাখ আছে।

মীরজাফরকে টাকা মিটিয়ে নারদ চললেন বিখ্যাত কবি হাকিমের বাড়ি। তিনি বর্তমানে সততার ঘনিষ্ঠতম সাঙাৎদের একজন। নকুলের থেকেও তাঁকেই এখন বেশি ভরসা করেন তিনি।
জাহাজপাড়ায় হাকিমের বাড়ি পৌঁছে গেলেন জলদি। বাড়ি তো নয়, প্যালেস একটা! নিজের চেম্বারের রিভলভিং চেয়ারে খোলামেলা অবস্থায় দোল খাচ্ছিলেন হাকিম...
নারদ = আসলে হাকিম সাহেব, আমি বাংলায় একটা ল্যাংচা হাব খুলতে চাই, আপনি যদি একটু সাহায্য করেন আর কি!!
হাকিম = কেন করবো না! উপযুক্ত পারিশ্রমিক পেলে নিশ্চয়ই করবো। তবে প্রথমেই বলে রাখি, আমি কিন্তু ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করি না! ৫লাখের একটা টাকাও কম আমি নিই না।
নারদ = ঠিক আছে, ঠিক আছে, তাই হবে। তবে পরে কোনো সমস্যা হবে না তো!
হাকিম = আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আর হ্যাঁ, টাকাটা নীচে আমার লোক আছে, ওকে দিয়ে দিন। পরে গুনে নেবো।
নারদ নিচে গিয়ে হাকিমের লোকের হাতে টাকা তুলে দিলেন। ছেলেটা একটু ফচ্‌কে টাইপের। নারদ কোথায় থাকেন জানতে চাইছিল। কায়দা করে এড়িয়ে গেলেন তিনি।

নারদ তারপর চললেন অশোভন বাবুর অফিসে। সেখানে গিয়ে দেখলেন অশোভন বাবু এসি চালিয়ে বন্ধ কেবিনে দিব্যি সিগারেট টানছেন---
নারদ = অশোভন বাবু, আমার ল্যাংচাটা যদি একটু দেখেন!
অশোভন = নিশ্চয়ই দেখব। তবে তার আগে আপনি আমার ল্যাংচাটা  দেখুন! রসেবশে না থাকলে তো শুকিয়ে লাট হয়ে যাচ্ছে মাইরি!
নারদ = এই নিন, রসের জোগান দিয়ে দিলাম। ভালো করে গার্টার লাগিয়ে দিয়েছি। যাতে পড়ে না যায়!
অশোভন = আমি এই সততার শালে মুড়ে রেখে দিলুম, এবার আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আরে, আমিই আপনাকে ওনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। মাসখানেক বাদে আসুন। তবে আসার সময় কিছু নিয়ে আসবেন। বুঝতেই তো পারছেন!
দেঁতো হাসি হেসে নারদ রওনা নেক্সট্‌ টারগেটের দিকে।

নারদের পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ কলকাতায় তরমুজের বাড়ি। তরমুজ নারদের পুরনো খদ্দের, বহুদিনের আলাপ। একসময় লাল-নীল জল ছাড়া তাঁদের দোস্তি জমতো না। তবে এবারে স্টিং অপারেশনের চাপ। তাই তরমুজের সাথে সিঙাড়া-টিঙারা খেয়ে খোশমেজাজে গল্প-গাছা করে, তাঁকে তাঁর পাওনা মিটিয়ে দিয়ে খুশি করলেন। পরে ঝড়ের গতিতে একে একে বাকি কাজ সারলেন নারদ। শেফালির ক্লায়েন্ট চিনতে প্রথমে একটু অসুবিধা হয়েছিল বটে, কিন্তু পরে ৫লাখ পেয়ে আনন্দে মন ভরে যায়। অধ্যাপকবাবু এতোগুলো টাকা হাতে পেয়ে হিপনোটাইজ্‌ হয়ে গেলেন। রসুনবাবু টাকা হাতে পেয়ে ওডাফার থেকেও বেশি খুশি হলেন। যেন আই এস এল নয়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার চান্স পেয়ে গেছেন। আর মাতালটা তো নেশায় চুর হয়ে আছে। উঠে টাকা নেবে সে ক্ষমতাও নেই।
নবাব আর তাঁর ভাইসাহেবও টাকা পেয়ে খুবই খুশি। সবাই নারদকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেন।

সফলভাবে স্টিং অপারেশন সমাপ্ত করার পর নারদ কৈলাসে ফিরে গেলেন। সততার টিমের প্রায় গোটাটাই তিনি ৫২ঘন্টা ফুটেজে ধরে ফেলেছেন। তাতে পর্দা তুলতে কোনো অসুবিধা হবে না। কৈলাসে তখন সমস্ত দেবতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে সবাই তো অবাক! তাহলে সততার টিমের এটাই আসল চেহারা! মহাদেব নন্দী-ভৃঙ্গীকে অর্ডার দিলেন-‘‘এখুনি নেট চালাও, ওয়াই-ফাই অন করো। ইউ টিউবে ভিডিওটাকে আপলোড করে দাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা যেন ভাইরাল হয়’’। মহাদেবের আদেশ পেয়ে নন্দী-ভৃঙ্গী তুরন্ত ভিডিও আপলোড করে দিলেন। তক্ষুনি সমস্ত দেবতাই প্রায় একসঙ্গে ফেসবুকে শেয়ার করলেন ভিডিওটা। মূহুর্তে মর্তলোকে হই হই রব পড়ে গেলো। সততা দেবী তখন কৈলাস পাহাড়ের কোলেই একটা অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন। তাই তাঁর  চিৎকারই সবচেয়ে জোরে ভেসে আসতে লাগলো– ‘‘ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্র। কুৎসা, কুৎসা, কুৎসা’’


মহাদেব মুচকি এসে দেবতাদের উদ্দেশ্যে বললেন – ‘‘ঐ দেখ! চোরের মায়ের বড়ো গলা।’’