Showing posts with label কালীঘাট. Show all posts
Showing posts with label কালীঘাট. Show all posts

Wednesday, 22 March 2017

কালীপিসির কবিতা পাঠ

                               কালীপিসির কবিতা পাঠ
গতকাল বিশ্ব কবিতা দিবস ছিল। কিন্তু ঐ নারদ মামলার জন‍্য ওটা আর সেলিব্রেশন করা হয়নি। বুঝতেই তো পারছো কতো চাপে রয়েছি। 'সুপিম কোট' একমাস সময় দিয়েছে, তাই একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচলুম। একমাসের ভিতর ঠিক ম‍্যানেজ করে নেব। যাক সে কথা! শুনলুম এদিকে নাকি 'শিজাত' আমার 'মাকেট' ডাউন করে দিয়েছে! কি দুলাইন লিখে সব টিআরপি কেড়ে নিয়েছে! 

'শিজাত' যদি 'তিশূল' নিয়ে কবিতা লিখতে পারে তাহলে আমিও 'তিফলা' নিয়ে ওর থেকেও হাজার গুন ভালো 'পোতিবাদী' কবিতা লিখতে পারি!
"শুক্ততে লাগে কাঁচকলা/ঐ দ‍্যাখো জ্বলছে তিফলা/খেতে ভালোবাসতো অভীর বাপ/তিফলার গায়ে নীলসাদা সাপ/শুক্ত বড়োই প্রিয় আমার/রাজ‍্যে উন্নয়নের জোয়ার"। কেমন হলো বল! একি, হাততালি কই!

হতে পারে ও 'শিজাত', কবিতা জিনিটা কিন্তু আমার সহজাত। ভেতর থেকে অটোমেটিক চলে আসে। এই যেমন ধরো, আমি পাহাড়ে সভা করতে যাচ্ছি, হঠাৎ ঝন্না দেখে দুলাইন লিখে ফেললুম। 'ঝন্না ঝন্না ঝন্না/পাহাড়ে আনবো উন্নয়নের বন‍্যা/ হাইওয়েতে ধন্না/আমিই অগ্নিকন‍্যা"। যখন মন্দারমনিতে সান্ধ‍্য 'ভোমোনে' বেরিয়ে 'সূয্যাস্তের' আলোয় রোজভ‍্যালির হোটেলটাকে দেখতাম, ঠিক যেন তাজমহল মনে হত। নিজের অজান্তেই লিখে ফেলতাম,'রোজভ‍্যালি রোজভ‍্যালি/হাততালি হাততালি/কালিঘাটে আছে কালী/আমি হবো তোমার মালি'। আবার যখন জঙ্গলমহলে 'ছত্তধরের' সাথে সভা করতে যেতাম তখন শাল পলাশের 'পেমে' পড়ে দুলাই লিখে ফেলতাম,' ওরে আমার শাল/ওরে আমার পলাশ/তোদের মাঝেই পড়ে আছে সালুক সোরেনের লাশ'। আমি বিদেশ 'ভোমোন' করে এসে একটা 'আন্তোজাতিক' মানের কবিতা লিখেছিলাম, ' লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর/বিনিয়োগ অনেক দুর/ কোনদিনই আসবে না মানি/ বিএমডাবলিউ দেবেনা 'জাম্মানি'।'

সামনে বসা ভিড়ের মধ‍্যে থেকে একজন বলল, পিসি বিশ্ব বাংলা নিয়ে দুলাইন। পেছনের দিক থেকে একজন বলল, বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে একটা হয়ে যাক! পাশ থেকে একজন বলল, পিসি শিশুদের জন‍্য শিশুচুরি নিয়ে একটা ছড়া হোক। কালীপিসি হাত তুলে বলল, ঠিক আছে সব হব। কবিতা শুনে জোরে হাততালি দিতে হবে কিন্তু!" বিশ্ব বাংলা, আহারে বাংলা/খাচ্ছে দ‍্যাখো যেন হ‍্যাংলা/ এতকিছু কি করে গেলো/ভুলেও যেও না অ্যাপেলো"। এবারে শিশুচুরি ছড়া," ইশ্বর আল্লা জিশু/জুহি চন্দনা শিশু/প‍্যান্টে করে হিসু/এটা ঐতিহাসিক ইসু।"

ভিড়ের মধ‍্যে থেকে 'পিসি পিসি' বলে আবদার এলো, নরেন মুদিকে নিয়ে একটা রোমান্টিক কবিতা বলতে হবে। শুনেই তো পিসির গাল লজ্জায় গেরুয়া হয়ে গেলো। তারপর পিসি কবিতা শুরু করলো,' তুমি লাড্ডু, আমি ল‍্যাংচা/ তুমি পদ্ম, আমি ঘাস/ তুমি দিতেই পারো না আমায় বাঁশ/এটা আমার অন্তরের বিশ্বাস'।

তবে এই বিশ্ব কবিতা দিবসে আমি মামাটির জন‍্য একটা 'ইস্পেশাল' কবিতা লিখেছি সেটা বলেই আজকের সভা শেষ করবো।
এই আমরা কারা - তিনোমূল
যাচ্ছে কারা - তিনোমূল
এই রাজপথেতে - তিনোমূল
এই বুক চিতিয়ে - তিনোমূল

(হঠাৎ ভিড়ের মাঝে থেকে একজন বলে উঠলো) পিসি এটা তো এসএফআই-এর স্লোগান!

এই কে বললি রে? কেষ্টা, ভিড়ের মধ‍্যে থেকে মালটাকে বার করে নিয়ে স্টেজের পিছনে আন তো...

Tuesday, 21 February 2017

হর্ষবর্ধন ও গোবর্ধন

                                                           হর্ষবর্ধন ও গোবর্ধন

হর্ষবর্ধন ও গোবর্ধন দুই ভাই, বর্ধন এন্ড বর্ধন কোম্পানির মালিক। ভুবনেশ্বরে তাদের বিশাল কাঠের ব্যাবসা। সারা দেশে তো বটেই, এমনকি বিদেশেও প্রচুর নাম ডাক তাদের। গতকাল রাতে হর্ষবর্ধন তার ভাইকে বলল - বুঝলি গোবরা, চল কদিন কোলকাতায় ঘুরে আসি। তাছাড়া কালীঘাট থেকে ম্যাডাম ফোন করেছিল। বলে দরকার আছে, তাড়াতাড়ি একবার দ্যাখা করো। শুনে গোবর্ধন বলল - মনেহয় ভাইপোর বিয়ের ফার্নিচারের অর্ডার দেবে! হর্ষবর্ধন বিরক্ত হয়ে বলল, তোর মাথায় সত্যিই গোবর আছে গোবরা। আরে গতকাল ধিমানসভায় যে ভাংচুর হয়েছে, তার অর্ডার। গোবরা দাঁত বার করে বলে, হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক বলেছ। তাছাড়া অনেকদিন হলো কোথাও যাওয়া হয়নি, আর আমদের উপর তো কোর্টের নিযেধাজ্ঞা নেই যে ভুবনেশ্বরেই পড়ে থাকতে হবে! সিবিআই-ও আমাদের ‘পোভাবশালী’ তকমা দেয়নি। তাই যেতে তো অসুবিধা নেই।
পাক্কা আধা ঘন্টা বিমান আকাশে চক্কর কাটার পর ল্যান্ড করতে গোবরা বলল, যাক বাবা তাহলে ষড়যন্ত্র নয়। এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়ে মিনিট কুড়ি ছোটাছুটি করে, খান কুড়ি নীলসাদা ‘নো-রিফিউজাল’ লেখা ট্যাক্সি দ্বারা রিফিউজ হয়ে শেষে গোবরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ততক্ষণে দাদা তার জিও সিম লাগানো ফোন দিয়ে ওলা বুক করে ফেলেছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গাড়ি হাজির।
গাড়ি শহরে ঢোকার মুখেই জ্যামে পড়ল। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করে জানলো, সামনে তৃণমূলের মিছিল। তবে কিসের জন্য মিছিল সেটা জানার পর গোবরার গাল হাঁ! কিছুদূর যেতে ধর্ষনের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদ মিছিলও দেখা গেল। আরও কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার ধারে একটা জমায়েত চোখে পড়লো। স্টেজের পিছনের ব্যানারটা দ্যেখে হর্ষবর্ধন কেটে কেটে বলতে লাগল, ‘ভা ঙ ড় স ং হ তি ম ঞ্চ’। ব্যাপার কি জিজ্ঞেস করাতে, এবারে ড্রাইভার হাঁ! বলেন কি! আপনারা কিছুই জানেন না! গোবরা বলল জানি তো! উদয়ন তেল মেখেছে, মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়েছে, ঘন্টাখানেক ধরে চেষ্টা করে কষা হেগেছে!
লন্ডনের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে তারা নবান্নে পৌঁছে গেলো। নবান্নে গিয়ে ম‍্যাডামের কথা মতন মুখার্জী'দার সাথে দ‍্যাখা করতে দুই ভাই তার কেবিনে ঢুকলো। কি মুখার্জী বাবু, কেমন আছেন বলুন! মুখার্জী হর্ষবর্ধনকে দেখে একগাল হেসে বললেন, আরে আসুন আসুন! এই নিন কালিঘাটের সিঙাড়া খান, একদম গরম! এই বলে প্লেটে চারটে সিঙাড়া দিয়ে দুই ভাইয়ের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। গোবর্ধন ইতস্তত করে বলল - দাদা, গোপন ক্যামেরা চালু থাকতে পারে কিন্তু! গোবরার কথায় হর্ষবর্ধনের মনে খটকা লাগলো! তাই হর্ষবর্ধন হেসে মুখার্জীকে বলল, গতবার আহারে বাংলায় সিঙাড়া খেয়ে আমার ডাইরিয়া হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে সিঙাড়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। গোবরাও তাল মেলাল, এক সপ্তাহ ধরে পায়খানা বমি জ্বর, ধর্ষনটা হতেহতে বেঁচে গিয়েছিল! অগত্যা মুখার্জী নিজেই চারটে সাবাড় করে দিয়ে বলল, চলুন এবারে তাহলে ধিমানসভায় যাওয়া যাক। আর হ্যাঁ, খরচটা ২% বাড়িয়ে বলবেন। ওটা আমার 'মিনিমাম' কমিশন। ঘর থেকে বেরানোর সময় গোবরা তার দাদাকে ফিসফিস করে বলল, এই লোকটা ধিমানসভায় ‘চোলি কে পিছে ক্যায়া হ্যায়’ চালিয়ে ঢুকেছিল না? হর্ষবর্ধন সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে চাপা গলায় বলল, দুবার চ্যাংদোলা করে ধিমানসভার বাইরে বার করে দেওয়া হয়েছিল।
ধিমানসভায় পৌঁছে দ্যাখে ম্যাডাম আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত। দুই ভাইকে দেখে ম্যাডাম বললেন - আসুন আসুন, ভালো করে দেখুন। এগুলো মেরামত করতে কতো খরচ হতে পারে? গোটা বিধানসভা ভালো করে দেখার পর হর্ষবর্ধন বলল, ফার্নিচার তো তেমন কিছু ভাঙেনি! গতবার এরচেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছিল। হর্ষবর্ধনের মুখে এই কথা শুনে উনি রেগে বললেন, যে ফার্নিচার গুলোর গায়ে একটু আঁচড় লেগেছে সেগুলোকেও পাল্টাতে হবে। সব ফার্নিচার চন্দন কাঠের বানাবেন। কাঠ স্টকে কম থাকলে আমাদের উইলক্লিনসের কাছ থেকে নিয়ে নেবেন। গোবরা বলল, চন্দন কাঠের ফার্নিচার তো ভালো হয়না! ম্যাডাম রেগে গিয়ে বলল, আমাকে কাঠ চেনাচ্ছ ছোঁড়া! গোটা জঙ্গলমহল আমার চষা! আর হ্যাঁ, পেমেন্টটা বিরোধীদের কাছ থেকে নিও। আমার এমনিতেই ৩৪বছরের দেনা!
হর্ষবর্ধন কিন্তু কিন্তু করে বলল, গতবারের পেমেন্টা কিন্তু পুরো কথাটা শেষ হলো না উনি হঠাৎ বাজখাই গলায় চিৎকার করে উঠলেন, মার্শাল! এই মার্শাল! ইধার এসো, এই দুটাকে এক্ষুনি ঘাড় ধক্কা দে কে বাহার নিকালো।

Tuesday, 25 October 2016

✍✍✍✍ চারমূর্তী ✍✍✍✍

                                 ✍ চারমূর্তী 
পটলডাঙার চারমূর্তী চলল মিলন মেলায় 'আহারে বাংলা' উৎসবে। 
(ট্রেনে যেতে যেতে। অ্যাক্সিডেন্টের ভয়ে প্রাইভেট গাড়ি আর ভাড়া করেনি ) 

প্যালা = খাবারের মোচ্ছব, ভাবা যায়!

হাবুল = এমন একখান আইডিয়া কেবল আমাগো দিদির মাথা থ্যাইকাই বার হতে পারে।

প্যালা = আচ্ছা টেনিদা, খানে আলুরচপ বেগুনি পিঁয়াজী ডালবড়া পাওয়া যাবে?

টেনিদা = (জানালার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেগে গিয়ে ) অমন মোফিস্টোফিলিসের মতন কথা বলিস না প্যালা। আমি এতক্ষণ ভালো ভালো খাবারের কথা ভাবছিলুম আর ব্যাটা দুম করে আলুরচপ নিয়ে হাজির হলো! তোর মাথাটা সত্যিই আলু থাসাতেই ভর্তি।

( মিলন মেলাতে চারমূর্তীর প্রবেশ )

ক্যাবলা = আরিব্বাস! এতো খাবারের দোকান!

টেনিদা = গাল বন্ধ কর ক্যাবলা। মাছি ঢুকে যাবে। আয় আমার পিছনে পিছনে আয়। প্রথমে মাছ দিয়েই শুরু করা যাক! কি বলিস হাবুল?

হাবুল = তাই হোক। তবে আমি আগে একটু জলের বোতলটা ভরে নিই। খেতে খেতে যদি বিশম লাগে!

টেনিদা = হ্যাঁ এটা ঠিক বলেছিস, খাবার আগে 'জল ধর, জল ভর'।

( মাছের স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে )

টেনিদা = ইলিশ ভাপা, সরষে পাবদা, ভেটকির পাতুরি, তোপসের ফ্রাই, তেলকই, চিতলের মুইঠ্যা, চিলি পমপ্লেট , দই কাতলা আর তিনটে ফিস ফিঙ্গার।

চারজনে টেবিলে বসে আছে। টেনিদার অর্ডার শুনেই প্যালার মুখ থেকে জল টপে পড়ছিল। ওয়েটার পদ গুলি দিয়ে যেতেই হাবুল ক্যাবলা আর প্যালার প্লেটে একটা করে ফিস ফিঙ্গার তুলে দিয়েই বাকি প্লেট গুলো নিজের দিকে টেনে নিলেন।

প্যালা = এটা কি হলো টেনিদা! তুমি একা এতগুলো পদ খাবে আর আমাদের কপালে মাত্র একটা ফিস ফিঙ্গার!

টেনিদা = (ভেটকির পাতুরিটা গালে দিয়ে ) কতোবার তোকে বলেছি, সবসময় 'মিনিমাম' খাবি। আমার মতন 'ম্যাক্সিমাম' খেলে হজম করতে পারবি না।

হাবুল = (প্যালাকে উদ্দেশ্য করে) টেনিদা তো ঠিক কইসে, তাছাড়া একটা আস্ত ফিস ফিঙ্গার কি কম খাওয়া! (ফিসফিস করে) চেপে যা প্যালা, নাহলে ঝাল গাঁট্টা খেতে হবে।

টেনিদা = ( সবগুলো প্লেট খালি করে ) এই রে! মাছ খাবার পর হঠাৎ খিদেটা বেড়ে গেলো মনে হচ্ছে! চল ক্যাবলা একটু মাংসের আইটেম গুলো টেস্ট করে দেখি!

ক্যাবলা = বলছিলুম কি টেনিদা, একটু চাইনিজ খেলে হতো না?

টেনিদা = না একদম নয়! উরি হামলায় আমার দেশপ্রেম জাগ্রত হবার পর থেকেই আমি সমস্ত চাইনিজ খাবার বর্জন করেছি। তোরা যদি খাস তাহলে তোরা দেশদ্রোহী হয়ে যাবি।

হাবুল = তাহলে চাইনিজ খাইয়া আর কাম নাই! চল অন্য কিছু খাই!

প্যালা = আচ্ছা টেনিদা, থাই ইটালিয়ান বা কন্টিনেন্টাল খাবর তো খাওয়া যেতেই পারে। ওটাতে তো কোনো আপত্তি নাই!

টেনিদা = ব্যাটা পিলে রুগী, গুড়জল খেলে অম্বল হয়। তাও দ্যাখো খাই খাই, বলে কি না খাবে থাই!

( মাংসের স্টলের সামনে গিয়ে )

টেনিদা = কি কি আইটেম আছে?

ওয়েটার = কোয়েল বিরিয়ানি, টার্কি গন্ধরাজ, তন্দুরি কোয়েল, রোস্টেড ডাক, এমু, পর্ক, খরগোশ। কি খাবেন বলুন?

ক্যাবলা = দাদা এটা ফুডস্টল নাকি চিড়িয়াখানা?

টেনিদা = কচি পাঁঠার ঝোল পাওয়া যাবে?

ওয়েটার = সরি স্যার! পাঁঠার আইটেমের জন্য একটা পাঁঠা আমরা রেখেছিলাম বটে কিন্তু কদিন আগেই তাকে কোর্টের নির্দেশে ছেড়ে দিতে হয়।

টেনিদা = তাহলে ঐ কোয়েল বিরিয়ানি চারপ্লেট আর একটা রোস্টেড ডাক দিয়ে দাও।

ক্যাবলা = আচ্ছা টেনিদা, কোয়েল বিরিয়ানি আর পটলডাঙার কাউয়া বিরিয়ানি কি একই!

টেনিদা = দ্যাখ ক্যাবলা, আর একবার যদি এমন অপপ্রচার করিস তাহলে তোর কান টেনে কালীঘাটে পাঠিয়ে দেব কিন্তু!

( বিরিয়ানি খেতে খেতে)

প্যালা = বিরিয়ানির স্বাদটা যেন কেমন! মনেহয় ২টাকা কেজি চাল দিয়ে বানিয়েছে।

টেনিদা = দ্যাখ প্যালা, খেতে না ভালো লাগে আমার প্লেটে দিয়ে দে। কিন্তু কুৎসা করবি না! সমস্ত রান্না পতঞ্জলীর খাঁটি আয়ুর্বেদীক মাল দিয়েই করা হয়েছে। এমনকি সরষের তেলটাও বিশুদ্ধ 'সিঙ্গুর সরষের তেল' ব্যবহার করা হয়েছে। ওরে হাবুল আমি আর উঠতে পারছি না। তুই মিস্টির স্টল থেকে গোটা কুড়ি ল্যাংচা নিয়ে আয় তো!

( হাবুল ২০টা ল্যাংচা নিয়ে এলো)

প্যালা = এর পরেও ২০টা ল্যাংচা খাবে!

টেনিদা = ( মিষ্টির প্লেটটা থেকে শেষ ল্যাংচাটা গালে পুরে আঙুল চুসতে চুসতে ) আমি একটু বেশি খাই বলে তোদের হিংসে হয়, তাই না রে!

হাবুল = আরে না না! তুমি আর এমনকি বেশি খাও! পরের বছর আবার সবাই মিলে খেতে আসা হবে। আর আমি যেহেতু এত বছর পর টেটে পাশ করেছি তাই পরের বছর সব খরচ আমার।

টেনিদা = (চিৎকার করে ) লা গ্ল্যান্ডি ... ইয়াক ইয়াক।

Thursday, 22 September 2016

জমি আন্দোলনের নবজাগরণ

                              জমি আন্দোলনের নবজাগরণ
কালীপিসি সিঙ্গুরের ৪০০০ বর্গ ফুট চিতা থেকে ঘোষণা করলেন " কথা দিয়েছি, কথা রেখেছি"। অমনি 'হর্ষধ্বনি'তে ফেটে পড়েছিল কার্শিয়াং থেকে কালীঘাট। ৯৯৭ একরের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন বেশ কিছু লুপ্তপ্রায় প্রাণী। এরা যে বেঁচে আছে সেটা এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান নাহলে রাজ্যবাসী জানতেও পারতো না! জ্বলন্ত চিতায় দাঁড়িয়ে হুমকির সুরে শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করলেন, সাত দিন সময় দিলাম, এর মধ্যে জমি নিতে হয় নিন। আজ সাতদিন অতিক্রান্ত। কোনো শিল্পপতি ওনার হুঙ্কারের 'সনমান' জানিয়ে সাড়া দিয়েছে বলে কোনো খবর নেই। ওনার অপহরণ মন্ত্রীও জার্মানী থেকে BMW এর কর্মকর্তাদের অপহরণ করতে ব্যর্থ।

তবে উনি জমি আন্দোলনের নবজাগরণ ঘটিয়ে অনিচ্ছুক(!) কৃষকদের জমি ফেরত দিয়ে বাংলায় আবার 'সবুজ বিপ্লব' ঘটানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা কিন্তু আজ অন্য মাত্রা নিয়েছে। ওনার জমি আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় আজ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকেরা তাদের অধিগৃহিত জমি ফেরত পাবার স্বপ্ন নতুন করে দেখছে। তারা আজ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, সিঙ্গুরের কৃষক যদি টাকা নিয়েও জমি ফেরত পায় তাহলে আমরা পাবোনা কেন! শুভ কাজে মিষ্টি মুখ করতে হয়, তাই ল্যাংচা হাবের জমি দিয়েই এই কর্মসূচীর শুভ সূচনা হয়।

ক্রমে ডেঙ্গুর থেকেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই জমি ফেরত পাওয়ার আন্দোলন। পুরুলিয়ায় রঘুনাথপুর ১ ব্লকের দুরমুট মৌজায় শিল্পতালুকের জন্য অধিগৃহিত ১,৮৯৭ একর জমি এবারে ফেরত চাইছেন কৃষকেরা। আন্দোলনের জোয়ার শিলিগুড়িতে পৌঁছে গেছে, দু এক সপ্তাহের মধ্যেই পাহাড়ে পৌঁছে যাবে মনেহয়। আন্দোলন যে কেবল পাহাড়মুখী, তা কিন্তু নয়! কোলকাতামুখীও বটে। নিউটাউন রাজারহাটের কৃষকেরাও এই জমি আন্দোলনের কর্মযঞ্জে ইতিমধ্যেই সামিল হয়েছেন।

এরপর যদি এই ঐতিহাসিক আন্দোলন যদি সিলেবাসে ঢোকে তাহলে তো আর কথাই নেই! একেবারে খাপে খাপ, মান্নার বাপ! ইডেনের বাইশ গজও একদা উর্বর দোফসলা জমি ছিলো। তাই ক্লাব হাউসের নিচেই মঞ্চ বেঁধে অনশনের টেস্ট ম্যাচ শুরু হয়ে যাবে।
এরপর রাজ্যের যেখানে যত অধিগৃহিত সরকারি জমি আছে, সেখানে সেখানেই জমিদাতারা বিক্ষোভ করবেন জমি ফেরতের জন্য। কারণ আপনিই ওদের এইভাবে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে শিখিয়েছেন। তাই এই সমস্যার মুখোমুখি আপনাকে প্রতিনিয়ত হতেই হবে, তা আপনি 'ইচ্ছুক' হন বা 'অনিচ্ছুক'! অবশ্য এতো কিছুর পরেও আপনি স্বভাবসিদ্ধ ডোন্ট-কেয়ার অ্যাটিচিউডে, এসব 'ছোট্টো' সমস্যায় 'আমারা সবসময় রেডি থাকি রে' বলতেই পারেন!

কোনদিন সকালে কিছু কৃষককে যদি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে, তাদের খাল পাড়ের জমি ফেরত পাওয়ার জন্য বিক্ষোভ দেখেন তাহলে আশ্চর্য হবেন না! পিসি কি তখন ঐ অধিগৃহিত জমি ফেরত দেবে! নাকি পিসি কোনো 'অলৌকিক' শক্তিবলে অধিকৃত 'অবৈধ' জমিটিকে বৈধ্য করে নেবেন! আসলে দেবীরা (ঠাকুর) সবই পারেন .....

Wednesday, 24 August 2016

কাল্পনিক বক্তৃতা

                                                                 কাল্পনিক বক্তৃতা
আজ কিশোর কুমারের জন্মদিন। উনি বেশ কিছু ভালো গান গেয়ে ছিলেন বটে, কিন্তু পোতিবাদী গান খুব বেশী গাননি। উনি ভার্সেটাইল গায়ক ছিলেন তবে আমার মতন ভার্সেটাইল শিল্পী ছিলেন না। আজ ওনার জন্মদিনে, ওনার সাথে কাটানো কিছু স্মৃতির কথা বারেবারে মনে পড়ছে। আমার জীবনের চলার পথে প্রতিটি পদক্ষেপে আমি ওনাকে খুঁজে পাই। এই! এই! এই! চোপ! চোপ! আমি কি বলছি মন দিয়ে শোনো!
ওনার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় যোগমায়া দেবী কলেজের সোসালে। উনি স্টেজে তখন গান করছেন "রূপ তেরা মস্তানা", আর আমি তখন সামনের সারিতে বসে। সোসালের শেষে আমাদের কালিঘাটের বাড়িতেও আসেন। তোমরা জানো না, কালিঘাট খালের পাড়ে বসেই কিন্তু উনি প্রথম "চিংগারী কোয়ি ভড়কে" গানটি গেয়ে ছিলেন।

সুদীপ্তটাও বড়ো কিশোর পাগল ছিলো। আমার আজও মনে পড়ে ডেলোর বাংলোতে সেই রাতে, সবাই তখন আমার জন্য অপেক্ষা করছিল, আমি আসতেই সুদীপ্ত গেয়ে উঠেছিল "রাত কলি এক খাওব ম্যায়ে আয়ি, অউর গলে কা হার হুয়ি"। আমি তো ওর গানে খুশি হয়ে আমার প্রিয় পেন্টিংটাই দিয়ে দিয়েছিলাম। পরে অবশ্য ও দাম দিয়েছিল। বেচারা কিশোর প্রেমের জন্যই পুলিশের হাতে ধরা পড়ল। দেবজানী কে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে কাশ্মীরের রাস্তায় দুজনে হাত ধরে " হাম দোনো দো প্রেমী, দুনিয়া ছোড় চলে" গাওয়ার কোনো দরকার ছিলো! এখন জেলে বসে "ইয়ে ক্যায়া হুয়া, ক্যায়সে হুয়া" শুনছে। তবে লোকজন টাকা টাকা করে যখন আমার পিছনে ছোটে তখন আমার ঐ গানটার কথাই মনে পড়ে "আদমি যো দে হ্যায়, আদমি যো লেতা হ্যায়, জিন্দেগি ভর ও সাজায়ে পিছা করতি হ্যায়।"
মাস খানেক আগে আলিপুর জেলের পাশ থেকে আসছিলাম, হটাৎ জেলের ভিতর থেকে দেখি কিশোরের কন্ঠ ভেসে আসছে - " বড়ি শুনি শুনি সি হ্যায়, জিন্দেগী ইয়ে জিন্দেগী"। ড্রাইভার বলল ওটা মদনার ঘরে বাজছে। নারদার ভিডিও প্রকাশ হবার পর সত্যিই খুব ভেঙে পড়েছিলাম। তখনও ওনার গান " কুচ তো লোগ ক্যাঁহেঙ্গে, লোগোকা কাম হ্যায় ক্যাঁহনা" আমাকে লড়াই করার শক্তি দিয়েছে। আর ৩৪ বছর ধরে কিশোরের গাওয়া " ইয়ে লাল রঙ, কব মুঝে ছোড়ে গা" গানটা আমি প্রতিদিন রাতে শুনতাম।
সিপিএম যখন কুৎসা করে, কন্যাশ্রী আমাদের প্রকল্প, সাইকেল আমরা চালু করেছি, তখন আমি কানে হেড ফোন লাগিয়ে শুনি " কো ই হোতা জিসকো আপনা, হাম আপনে ক্যাহেলেতে ইয়ারো"। আরে দল থেকে যখন ঐ চাষার ব্যাটাকে বহিষ্কার করলো, তখন তো আমিই আশ্রয় দিলাম। মন্ত্রী করার পর দেখি আমাকে বলছে " হামে অউর জিনে কি চাহত না হোতি, আগর তুম না হোতে"।
এই তো সেদিন নজরুল মঞ্চের গ্রীনরুমে দুজনে একটু গপ্প করছিলাম, হটাৎ ওনার মোবাইলটা গেয়ে উঠল "পল পল পল, দিল কে পাশ তুম .."। উনিও কিশোর ভক্ত সেটা সেদিনই জানলুম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন 'তোমার রিংটোন কি'? আমিও আমার রিংটোনটা শুনিয়ে দিলাম " দিলবার মেরে কবতক মুঝে ইঁউহি তড়পায়ো গে"। উনি হেঁসে জানতে চাইলেন এমন রিংটোন সেট করেছি কেন? আমিও হেসে বলেছিলাম 'CBI এফেক্ট'। তারপর উনি বললেন, শেয়ার ইট খোলো আমি একটা ভালো গান পাঠিয়ে দিচ্ছি। ওটাকে রিংটোন কোরো। তাই ওনার দেওয়া কিশোরের সেই গান আজ আমার রিংটোন। কানন, এই কানন! একটা মিসকল দাও তো! রিংটোনটা সবাইকে শোনাই।
কানন মিসকল দিতেই ওনার ফোনে কিশোরের কন্ঠ ভেসে উঠল - " কসমে ওয়াদে নিভায়েঙ্গে হাম ......."

Friday, 19 August 2016

✍✍✍✍ রাখী উৎসব ✍✍✍✍



                                                     ✍ রাখী উৎসব 
রাখীর দিবসে প্রাতকাল হইতেই কালীঘাটে ভীড় উপছাইয়া পড়িতেছে। ক্ষণকাল পূর্বে ভাইপো বৈঠকখানায় আগমন পূর্বক সমবেত সভ্যগণকে(!) ক্ষণিকের জন্য অপেক্ষা করতে বলিয়াছেন। সমাবেত সভ্যগণ নিজ নিজ উপহার হস্তে লইয়া অধীর আগ্রহে বসিয়া রহিয়াছেন। উপস্হিত সভ্যেরা(!) নিজেদের মধ্যে বাক্যালাপে ব্যস্ত, ইতিমধ্যে ভাইপো বৈঠকখানায় প্রবেশ করিয়া সবাইকে অবগত করিলেন যে 'উনি আসিতেছেন'। সভ্যগণ আকুল নয়নে দুয়ারের পানে চাহিয়া রহিলেন। সবার উদ্বেগের অবসান করিয়া, হাস্য বদনে, দন্ত বিকশিত করিয়া, সবার উদ্দেশ্যে হস্ত হেলন করিয়া উনি প্রবেশ করিলেন।
প্রথমেই রাখী লইয়া উনি ওনার স্নেহের কাননের নিকট উপস্হিত হইলেন। কাননকে রাখী পরাইতেই কানন একখানি মূল্যবান তোয়ালে ওনাকে উপহার দিয়া কহিলেন "ইহা বিদেশ হইতে আনিয়াছি"। নব্য তোয়ালেটি হস্তে লইয়া উনি কহিলেন "তোমার পুত্র নিশ্চয়ই ইহা আনিয়াছে! ইহা হইতে সোমরসের সুগন্ধ বাহির হইতেছে যে"! কানন দন্ত বিকশিত করিয়া সম্মতি জানাইলে। অতপর উনি অমিতের নিকট উপস্হিত হইলেন। রাখী পরাইবার পর অমিতকে জিজ্ঞাসিল " কি আনিয়াছ"? অমিত প্রত্যুত্তরে কহিলেন "মহার্ঘ্য ভাতা বকেয়া, পিতার ৩৪বৎসরের দেনা, তাই তিওয়ারীর লাড্ডু না লইয়া দাশুর লাড্ডু আনিয়াছি"। সুব্রত হাসিয়া কহিলেন "আমি কিন্তু শক্তিগড়ের ল্যাংচা আনিয়াছি"। খুশী হইয়া উনি কহিলেন "কেবল ল্যাংচা! আলুরচপ সিঙাড়া আনোনাই! সিঙাড়া তো তোমারও খুব প্রিয়"। পার্থের নিকট হইতে একখানি গীতাঞ্জলি উপহার পাইয়া উনি পার্থকে একখানি কথাঞ্জলী প্রত্যাউপহার (রিটার্ন গিফ্ট) করিলেন। ইতমধ্যে মুকুল তার প্রিয় পুষ্প 'শিউলী' ওনার চরনে দিয়া প্রণাম সারিয়া নিয়াছে।
কৃষক পুত্রের উপহারের মোড়কটি খুলিয়া ওনার চক্ষু কপালে উঠিয়া গেল! 'কেউটিয়া' নামক একটি বিষধর সর্প উপহার দিয়াছে। সর্পটি শান্ত দেখিয়া তাহার কারণ জানিতে চাহিলে, কৃষক পুত্র কহিলেন "বৈদেশীক তৈল উহার উপরে না ফেলিলে এ সর্প জাগ্রত হইবে না"। জ্যোতিপ্রিয় এক বস্তা গোবিন্দভোগ চাল আনিয়াছে দেখিয়া উনি কহিলেন "এই চালই তো আমি ২টাকা কেজি দরে বিতরণ করিতেছি"। অনুব্রত নিকটেই গুড় জল লইয়া দাঁড়িয়ে ছিল, ওনার কথা শুনিয়া তারস্বরে হাসিতে লাগিল। উনি ধমক দিয়া কহিলেন "অতো হাসিওনা কেষ্টা, বাড়িয়া যাইবে অক্সিজেন তেষ্টা"।
তাপসকে খুব দুঃখী দেখিয়া কহিলেন " চিন্তার কিছু নাই! শারদীয়ার পূর্বেই শ্যলক গৃহে প্রত্যাবর্তন করিবে"। মন্টু সুন্দরবনের বাঘের দুগ্ধ, সাধন ইলিশ, গৌমত 'ডানকানে চা' আর অরুপ কিছু ডেঙ্গুর ভাইরাস লইয়া সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। উনি ওদের রাখী পরাতে যাইবেন এমন সময় পশ্চাত্ হইতে রবি তাঁর লম্বায়মান হস্ত এই বামনদিগের ওপর হইতে প্রসারিত করিলেন। হটাৎ গোলযোগ শুনিয়া উনি গৃহের এক কোনে চাহিয়া দেখিলেন, বিজন ও সমীর উপহার লইয়া এগিয়ে আসিতে চাহিছে কিন্তু দেবনারায়ণ উহাদের হস্ত পশ্চাতে টানিয়া কহিতেছে "না না না না না আমি প্রথমে রাখী পরিব"।
উপস্হিত সভ্যদের রাখী পরানো সম্পন্ন হইলে উনি ভাইপো ডাকিয়া তাহার হস্তে দুটি রাখী দিয়া কহিলেন "একটিকে দিল্লিতে পাঠাইবার ব্যবস্থা করো আর অপরটিকে আলিপুর সংশোধনাগারে"। সারাটা দিন উপস্হিত সভ্যগণ প্রচুর আনন্দ করিল। ভোজনের ও চটুল নৃত্যেরও আয়োজন হইয়াছিল। সবাই দারুণ উপভোগ করিল এই রাখী উৎসব। কেবল উনি গৃহে প্রবেশ করিতে নিষেধ করিয়াছেন বলিয়া আরাবুল আর কাইজার উপহার লইয়া সারাটা দিন বাহিরে অপেক্ষারত রহিলেন।

Wednesday, 20 April 2016

কালীঘাটে কেলেঙ্কারি


গতকাল সন্ধ্যাবেলায় বৈঠকখানার ঘরে বসে ফেলুদা টিভিতে খবর দেখছে, আর আমি সোফাতে শুয়ে শুয়ে বন্ধুদের সাথে হোয়াটস্‌অ্যাপ-এ চ্যাট করছি। এমন সময় লালমোহনবাবু হাজির হলেন। হাতে একটা কাগজের তেল-জব্‌জবে ঠোঙা। আমি ঠোঙাটার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘‘নিমাইয়ের তেলেভাজা’’। লালমোহনবাবু বিগলিত হেসে বললেন, ‘‘ভাই তপেশ, তুমি তো দেখছি কদিন পরে গোয়েন্দাগিরিতে তোমার দাদাকেও হার মানিয়ে দেবে। চলো, এখন তাড়াতাড়ি এগুলোর সদ্‌ব্যবহার করা যাক।’’

ফেলুদা তখনও খবরের মধ্যে ডুবে আছেন দেখে লালমোহনবাবু আবার বললেন, ‘‘ও! মিত্তির মশাই! খবর পরে শুনবেন, আলুর চপ যে ঠান্ডা হয়ে যাবে মশাই!’’ ফেলুদা টিভির সামনে থেকে উঠে এসে আমার পাশে সোফায় বসলেন। লালমোহনবাবুর দিকে তাকিয়ে ফেলুদা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বললেন, ‘‘এই গরমে রোজ রোজ আলুর চপ না খেয়ে, মাঝেমধ্যে একটু গুড়-বাতাসার জল খান। শরীরটা ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল থাকবে।’’

লালমোহনবাবু একসাথে দুটো চপ মুখে পুরে গলাধঃকরণ করতে করতেই ফেলুদাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘‘তা মশায়, ভোটের হাওয়া কি বুঝছেন!’’ ফেলুদা ফস্‌ করে একটা চারমিনার ধরিয়ে, লম্বা একটা টান দিয়ে বললেন, ‘‘চড়াম্‌ চড়াম্‌’’। লালমোহনবাবু বললেন, ‘‘এটা কি ভূতুড়ে কান্ড মিত্তির মশাই! ভোট হয়ে যাওয়ার তিন চারদিন পরেও কি করে ভোটের হার বাড়ে!’’ ফেলুদা হেসে বললেন, ‘‘এটা ঐ বাংলা সিরিয়ালের ভূতুর কাজ। হাইলি সাস‘পিসি’আস!’’

এমন সময় টেবিলের উপর রাখা টেলিফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠলো। আমি ফোনটা রিসিভ করেই রীতিমতো স্ট্যাচু হয়ে গেলাম! ফেলুদার দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলতে লাগলাম, ‘‘কা..কা..কালীঘাট থেকে পি..পি..সি।’’ ফেলুদা তড়াং করে লাফ উঠে গিয়ে ফোনটা আমার হাত থেকে প্রায় কেড়ে নিয়ে বললেন, ‘‘হ্যাঁ বলুন, হুঁ! হুঁ! কখন? কখন? আচ্ছা, আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি আসছি।’’ ফোন রেখে ফেলুদা বললেন, ‘‘রেডি হওয়ার জন্য ফাইভ মিনিটস্‌ অনলি!’’ তড়িঘড়ি তিনজনে লালমোহনবাবুর নীল-সাদা অ্যাম্বাসাডরে চড়ে রওনা দিলাম কালীঘাটের উদ্দেশ্যে।

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে ঢুকতেই ওনার ভাইপো আমাদেরকে গেস্টরুমে বসতে দিয়ে বললেন, ‘‘একটু অপেক্ষা করুন, পিসি এখুনি আসছে।’’ মিনিটপাঁচেক পরে তিনি হন্তদন্ত হয়ে গেস্টরুমে প্রবেশ করলেন। চোখ মুখ দেখে বোঝা গেলো, ব্যাপক চাপে আছেন। ফেলুদা ওনার সঙ্গে আমার আর লালমোহনবাবুর পরিচয় করিয়ে দিলেন। লালমোহনবাবু তো রীতিমতো উত্তেজিত! উৎসাহের আতিশয্যে তিনি বলেই ফেললেন, ‘‘ম্যাডাম! আমি আপনার আঁকা ছবির দারুণ ফ্যান! আপনি কেন হঠাৎ ছবি আঁকাটা ছেড়ে দিলেন বলুন তো?’’ মুখচোখ দেখে বোঝাই গেলো, এমন প্রশ্নে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তিনি প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বললেন, ‘‘আমিও আপনার উপন্যাসের একজন গুণমুগ্ধ পাঠক।’’ লালমোহনবাবু বললেন, ‘‘আপনি তো ভালো নামকরন করেন, যদি আপনি আমার আগামী উপন্যাসের নামকরণটা করে দেন তাহলে আমি নিশ্চিত ওটা বেস্ট সেলারের তালিকায় স্থান পাবে।’’ উনি মুচকি হেসে সম্মতি জানালেন। তারপর ফেলুদার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘মিত্তিরমশাই! আপনার সাথে আমার একটু প্রাইভেট কথা আছে, আপনি বরং আমার সাথে একটু ভেতরের কেবিনে আসুন।’’ ভাইপো দুটো ঠান্ডা স্প্রাইট এনে আমাকে আর লালমোহনবাবুকে দিল। আমার দিকে তাকিয়ে পিসি বললেন, ‘‘তোমরা ততক্ষণ ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল হও, আমরা এখুনি আসছি।’’ উনি ফেলুদাকে নিয়ে পাশের রুমে চলে গেলেন।

লালমোহনবাবু অবাক হয়ে রুমটা দেখতে দেখতে আমাকে বললেন, ‘‘ভাই তপেশ! টালির বাড়িতে সেন্ট্রালি এসি, ভাবা যায়! সবই সুদীপ্তের অনুপ্রেরণা।’’ আমি বুঝলাম এতক্ষণে স্প্রাইট তার কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। ‘‘সিধি বাত, নো বাকওয়াস।’’ একটুর বদলে প্রায় একঘন্টা পর ফেলুদা ফিরলেন। কি কথা হলো ফেলুদাকে জিজ্ঞেস করায় ফেলুদা শুধু একটু মুচকি হাসলেন।

চলে আসার সময় উনি লালমোহনবাবুকে মেমেন্টো হিসেবে একটা ‘কথাঞ্জলি’ গিফ্‌ট করলেন। দরজায় দাঁড়িয়ে বিদায় জানাবার সময় উনি ফেলুদাকে অস্পষ্ট সুরে করুণভাবে বললেন, ‘‘মিত্তির মশাই! বাঁচার কি কোনও উপায় নাই!’’ ফেলুদা কথার কোনো উত্তর দিলেন না। তিনজনে গাড়িতে বসলাম। ড্রাইভার স্টার্ট দিলো একবার, দু’বার, তিনবার, তবুও কিছুতেই চালু হচ্ছে না। উনি দরজায় চৌকাঠে দাঁড়িয়ে ফেলুদাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘‘গাড়িটা খারাপ হয়ে গেলো নাকি মিত্তির মশাই!’’ ঠিক তখনই গাড়িটা চালু হলো। 

ফেলুদা জানালা দিয়ে ওনার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, ‘‘আসলে এটা বাম আমলের গাড়ি তো! তাই মাঝেমধ্যে একটু সমস্যা করে।’’