Showing posts with label নরেন মুদি. Show all posts
Showing posts with label নরেন মুদি. Show all posts

Tuesday, 13 September 2016

কালীপিসি এখন "ওয়ার্ল্ড ট্যুরে"

                              কালীপিসি এখন "ওয়ার্ল্ড ট্যুরে"
নরেন মুদির দোকানে গেলে মুদি কালীপিসিকে প্রায়ই দেশ বিদেশের নানান গল্প শোনায়, সেলফি দেখায়। পিসি অভিমানের সুরে বলে "আমার তো তোমার মতন কালোধন নেই, যাকে সম্বল করে দেশে দেশে ঘুরে সেলফি তুলে বেড়াবো!" এমনিতে পিসি বাংলা ছেড়ে কোথাও খুব একটা যাননা। মাঝেমধ্যে একটু টেনশনে থাকলে পুরী গিয়ে পুজো দিয়ে, সোনারতরীতে দুদিন কাটিয়ে আসেন। বহুকাল আগে একবার সিঙ্গাপুর আর বছর খানেক আগে লন্ডন ঘুরে এসেছিল বটে। আর বাংলাদেশ তো একরকম নিজের বাংলার মতন। ওটাকে পিসি 'ফরেন' তালিকায় রাখেন না। তাই এবারে ট্রাভেল এজেন্সিকে দিয়ে দুবাই, রোম আর জার্মানীর প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করেছেন।
পিসি দুবাইয়ে নেমেই সটান বুর্জ-আল-খলিফার মাথায় উঠে গেলেন। বলে কিনা ওখান থেকে ধর্মঘট মনিটরিং করতে সুবিধা হবে। সারাদিন বুর্জের মাথায় বসে থেকে সন্ধ্যাবেলায় যখন বললেন 'ধর্মঘট পুরোপুরি ব্যর্থ' তখন দুবাইয়ের মরুভূমির উঠ গুলোও দাঁত বার করে হাসছিলো। তারাও বুঝতে পেরেছে পিসি বুর্জ থেকে নেমে বুজরুকি দিচ্ছেন।
পরেরদিন রোমে গিয়ে সন্ধ্যাবেলায় রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ত্রিফলার আলো দেখে পিসির স্নেহের ভাই কানন, পিসিকে বলল "এরাও দেখছি আমাদের মতন ত্রিফলা লাগিয়েছে!" পিসি হাসি মুখে বললেন " বাংলা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এটাই তো বিশ্ব বাংলা! এগিয়ে বাংলা!" পাশে থাকা (আ)বাপের ব্যাটা, নিরাশাবুল বলল " দিদি, ত্রিফলার গায়ে তো কই নীল-সাদা সাপ নেই!" দিদি বলল "রোমের আর্থিক অবস্হা বাংলার থেকেও খারাপ। তাই আর খরচা বাড়ায়নি।" নিরাশাবুল কৌতূহল বশে জিজ্ঞাসা করিল "সিপিএম কি রোমেও ৩৪বছরের বেশি ক্ষমতায় ছিল?"
রাতে পিসি হঠাৎ বায়না জুড়ে দেয়,'মাদার' মানেই 'মা' আর তিনি তো 'মামাটিমানুষের' প্রতিষ্ঠাতা, তাই তাকেও মাদারের 'সন্ত উপাধি প্রদান' অনুষ্ঠানে দু-চার কথা বলতে দিতেই হবে। সেই মত বাসুকে দিয়ে পোপের কাছে আবেদনও করেন। কিন্তু পিসি যদি বলতে উঠে আবার স্লোগান দেওয়া শুরু করে! তাই চার্চ রিক্স নেয়নি। আর তাতেই পিসি চটে গেছেন। চেঁচিয়ে বলে, "আমি ২১৩ (বোনাস ২ সহ), আমাকে বলতে দেবেনা!" পিসি তো পোতিবাদে ভাটিকানের রাস্তায় একটা মঞ্চ বেঁধে অনশন শুরু করবেন ঠিক করেছিলেন। অবশেষে সবাই অনেক বোঝানোয় পিসি শান্ত হন। শেষে পিসি সবাইকে নিয়ে রোমের গলিতে গলিতে এর পোতিবাদে পোতিবাদী-গান করে বেড়ালেন - "আজ মাদার হবে সন্ত, ভাটিকানেও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র!"
জার্মানীতে নামতেই এয়ারপোর্টে কালীপিসিকে সন্দেহবশত কয়েকজন সিকিউরিটি গার্ড জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে নিরাশাবুল তার মিডিয়া নেটওয়ার্ক থেকে জানতে পারেন যে ওরা নাকি নাৎসি বাহিনীর সাথে পিসির কি একটা লিঙ্ক খুঁজে পেয়েছিলেন। পিসি অবাক হয়ে বলে, " আমি সবাইকে চমকাই আর এরা কিনা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসায়! এতো বড়ো সাহস! আগে জানলে অধিকারীকে নিয়ে আসতুম।"
গতবার সিঙ্গাপুরে থেকে ফিরে বায়না করেছিল ধর্মতলায় একটা বড়ো সিংহ-মূর্তির ফোয়ারা বসাবে, তার গাল থেকে নীল-সাদা জল বের হবে। অতি কষ্টে সেবারে বোঝানো গিয়েছিল পিসিকে, একেই বর্ষার জলে কোলকাতা জলকাতাতে পরিনত হয় ওটা বসালে সমস্যা আরও বাড়বে। আর এবারে মিউনিখে গিয়ে বায়না জুড়েছে, সিঙ্গুরের জমিতে BMWএর কারখানা করবে। তিন ঘন্টা রিসেপশানে বসে থাকার পর যখন BMW এর কর্মকর্তারা পিসিকে ডেকে জমি সমস্যার কথা বললেন, তখন তো পিসি রেগে আগুন তেলে বেগুন হয়ে বললেন, "ডোন্ট আন্ডার এস্টিমেট দ্যা পাওয়ার অফ 'অনিচ্ছুক কৃষক'। তারা টাটার মতন ভিখারী কম্পানি আর ন্যানোর মতন ছোট গাড়ির জন্য জমি দেয়না। কিন্তু বিএমডাবলিউ এর জন্য অবশ্যই জমি দেবে।"

Thursday, 14 April 2016

কালীপিসির কোলাভাই


ভবানীপুরের কালীপিসির প্রচুর ট্যালেন্ট! পিসি যেমন তিন আঁচড়ে কোটি টাকার ছবি আঁকেন, তেমনই হঠাৎ আপন খেয়ালে হিং টিং ছট্‌ কবিতাও লেখেন। এমনকি পিসির মুড ভালো থাকলে, উর্দুতেও দু-চার কলি লিখে ফেলেন। বাংলা সাহিত্যে অপরিসীম জ্ঞান। প্রচুর পুঁথি পড়েছেন। শুধু পড়েই ক্ষান্ত হননি! নামকরণের ওপরে একটা আস্ত বইও লিখে ফেলেছেন।

পিসির ভাইপোরাই পাড়ার সবাইকে বলে বেড়ায়, ‘জানিস, আমাদের পিসি ডক্টরেট! বিলেত থেকে বাক্সবন্দি করে প্রচুর ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন।’ পিসি নিজেও দু-একবার নামের আগে ‘ডঃ’ লিখেছেন। তবে পাড়ার লোকের মনে প্রথম দিন থেকেই খটকা লেগেছিল। হাটে বাজারে এই নিয়ে কানাঘুষো চলতো, কিন্তু পিসিকে সাহস করে জিজ্ঞেস করার মুরোদ কারো হয়নি। আসলে কালীপিসি বড্ড ‘রাফ এন্ড টাফ’, গুন্ডা কন্ট্রোল করে। তার ওপর পিসির ‘বেচারা’ ভায়েরা যদি রাতে ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেয়! তাই পাড়ার লোকেরা চুপ করে থাকতো।

তবে ঐ ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, আর ‘সততা’র জালি দেরিতে হলেও ধরা পড়ে। পিসির জালি সার্টিফিকেটের কথা তাই বেশিদিন চাপা থাকলো না। আর যেই খবরটা বাইরে এলো অমনি খিল্লি শুরু হয়ে গেলো। কালীপিসি রাতারাতি ‘জালিপিসি’ হয়ে গেলো।

তবে এমন মহান কৃতিত্বের অধিকারী যে পিসি একা তা কিন্তু নয়! পিসির অনুপ্রেরণায় তার ‘বেচারা’ ভাই-ভাইপোরাও এখন জাল সার্টিফিকেট বানাতে সিদ্ধহস্ত। পিসির এই মাথামোটা কোলাব্যাঙের মতন ভাইটা, ব্যাটা অকর্মার ঢেঁকি। কোনো কাজই ঠিকঠাক করতে পারে না। পিসি ওকে তার কারখানা চালাতে দিয়েছিল, সেটা সে লাটে তুলে দিতে বেশি দেরি করেনি। তারপর পিসি সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে স্কুলটা চালাতে দিয়েছে, কিন্তু তাতেও প্রতিদিন যেভাবে নাকানি-চোবানি খাচ্ছে, পিসির বিরক্তির একশেষ! পিসি তো এখন ওকে ‘ব্যর্থ’ বলেই ডাকে।

ওমা! সেই ব্যর্থ ভাইটাও ডক্টরেট করার জন্য হঠাৎ খেপে উঠলো। অনেক খুঁজে খুঁজেও ইস্ট জর্জিয়া নামে মার্কিন মুলুকে কোনো ইউনিভার্সিটির হদিশ না পেয়ে শেষমেষ উত্তরবঙ্গের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভুঁইমালির সাহায্যে ভুঁইফোড় জালি সার্টিফিকেট বের করে নিলো! তবে পাপ বাপকেও ছাড়ে না! দিনদুয়েক আগে হঠাৎ টেলিগ্রাম এলো, ব্যাটা পি এইচ ডি -এর থিসিসে দিব্যি নাকি অন্যের নোট কপি-পেস্ট করেছে। তবে পাড়ার লোক এতে আদৌ অবাক হয়নি। তারা বলছেন- ‘‘সারাজীবন যে ছেলেটা টুকলি করেই পাশ করছে, সে কপি-পেস্ট করবে না তো কি করবে!’’ লোকেদের কানাঘুষোতেই জানা গেলো, সত্তরের দশকে নিউ আলিপুর কলেজে একা একটা ঘরে বইখাতা নিয়ে বসে পরীক্ষকদের ‘বদান্যতা’য় পরীক্ষা দিয়ে গ্রাজুয়েশন করেছে কোলাভাই। সেই সার্টিফিকেট আর দাদাদের হাত মাথায় থাকার জোরে মস্ত চাকরিও জুটিয়ে নিয়েছিল। তবে তাও না টেঁকায় দিদির শেল্টারেই এখন রয়েছে।

কালীপিসি কিন্তু এসব কেয়ার করে না। তার কাছে যোগ্যতা এটাই। এমনকি, পিসির যার সঙ্গে ইন্টুমিন্টুর কথা শোনা যায় সেই নরেন মুদির এক দুঃসম্পর্কের বোনেরও এমন কীর্তি আছে। জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে বিয়ে করে দিব্যি বৌমা হয়ে সংসার করছিলেন। কিন্তু যেদিন বৌমা থেকে তিনি শাশুড়ি হলেন, সেদিন সন্দেহের বশে নিজের বৌমার সার্টিফিকেট পরীক্ষা করতে গেলেন। কারণ ঐ একটাই ‘কিউ কি সাস ভি কভি বহু থি!’ কিন্তু মর্ডান বৌমা উল্‌টে শাশুড়িকেই হিপনোটাইজ করে তার ‘স্মৃতি’-তে তল্লাশি চালিয়ে সব সত্যি বের করে নিলো।


পাড়ার প্রবীণেরা বলাবলি করে, ‘‘পিসির পুরো বংশটাই জালি। এই রোগ সারবার নয়!’’ আর পাড়ার ছেলে-ছোকরাগুলোতো এখন কালীপিসির কোলাভাইকে দেখলেই বলছে, ‘জালি পিসির জালি ভাই’।

Saturday, 19 March 2016

মাথার ব্যামো




পিসির মাথার ব্যামোটা আজকের নতুন নয়! এটা অনেকদিনের পুরনো অসুখ। আর গরম পড়লেই সেই ব্যামোটা আরও বাড়তে থাকে। তাই তো পিসি সবসময়ই ‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল’ থাকতে চান। আরে পিসি মানে আমার নিজের পিসি নয়। আমাদের সার্বজনীন পিসি, আমাদের পাড়ার কালিপিসি। এবছর শীতটা দুম করে চলে গেলো, আর গরমটা হুট করে পড়ে গেলো। বসন্তটা মাঝখান থেকে ভ্যানিস হয়ে গেলো। আর গরম পড়তেই পিসির ব্যামোটা শুরু হয়ে গেল। যত দিন যাচ্ছে গরমও বাড়ছে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিসির ব্যামোও চড়চড় করে বাড়ছে। তবে পাড়ার লোক পিসির এতে  আদৌ অতিষ্ঠ নয়। তারা তো জানেই যে পিসির মাথার ব্যামো আছে। তাই এটাকে জাস্ট এনজয় করছে। মাঝে মধ্যে পাড়ার বখাটে ছেলেগুলো একটু পিনিক্‌ দেয়, আর তাতেই পিসি সারাদিন উল্টোপাল্টা বকবক করতে থাকে।

কালিপিসির সাথে কংস-দার ব্রেক-আপ হয়েছে, তা প্রায় বছরখানেক হলোপিসির তিরিক্ষি আচরণই একপ্রকার কংসদাকে বাধ্য করেছিল সম্পর্ক ছেদ করতে। আসলে পিসির জীবনে তো শুধু কংসদা একাই আসেনি! আরও অনেকে এসেছিল। পটলখুড়োকে মনে আছে তো! পটলখুড়োর গেরুয়া মাফলারের প্রেমে ফিদা হয়ে গিয়েছিল তো পিসি। পটলখুড়ো তার আধবোজা-আধখোলা চোখের অ্যাডভান্টেজ নিয়ে সবার সামনেই পিসিকে চোখের ইশারা করতেন। কেউ বুঝতেই পারতো না। তবে পিসি কিন্তু সিগন্যালটা ঠিক ধরতে পারতেন। 

পটলখুড়োর ভাই নরেনখুড়োকেও পিসি ছাড়েনি। সেই যে বার নরেনখুড়ো যখন গুজরাট থেকে ফিরল, পিসিই তো তাকে এক তোড়া গোলাপ আর একটা ভ্যালেনটাইন কার্ড দিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়ে ছিল। সেই থেকে পিসির সাথে ওনার গোপন কেমিস্ট্রি। তবে পিসি কারোর কাছে সে কথা স্বীকার করে না। ওপাড়ায় নরেনখুড়োর মুদির দোকানে প্রায়ই পিসির আনাগোনা। এই নরেনমুদির সাথে পিসি নজরুল মঞ্চে জলসা শুনতে গিয়ে একান্তে গল্প করেন। খুড়োও পিসির জন্য তেওরীর লাড্ডু নিয়ে আসেন। তবে প্রকাশ্যে কেউই স্বীকার করে না, তাদের মধ্যে গোপন বোঝাপড়ার কথাতবে পাড়ার লোক সবই বোঝে। পাড়ার বয়স্করা প্রায়ই বলে থাকেন, এই মেয়েটা যে আর কটা ছেলের মাথা খাবে কে জানে!

পাড়ার মহিলামহলে এখন আলোচনার বিষয় একটাই, কংসদা আর বামাচরণবাবুর মেয়ের কেমিস্ট্রি। দুজনের বন্ধুত্বের কথা, একে অপরের প্রতি সহানুভূতির কথা, দুজনে একসাথে মিলে কালিপিসির দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদ করার কথা আজ পাড়ার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। আর সেটাই হয়েছে পিসির কাল। এই তো সেদিন দুপুরবেলায় ঘন্টাখানেক ধরে সুমনদের বাড়িতে পাড়ায় মহিলাদের জটলায় কংসদা আর বামাচরণবাবুর মেয়ের প্রসঙ্গ নিয়েই চর্চা হচ্ছিলো। আচমকা পিসি সেখানে গিয়ে হাজির! সুমনের মা পিসিকে কংসদার কথা জিজ্ঞেস করতেই পিসি একেবারে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠলো ‘‘ওরা যা খুশি করে করুক। ওরা মিলেনিয়াম পার্কে যাক, বা ভিক্টোরিয়ায় যাক। ওরা চিনেবাদাম খাক, বা ফুচ্‌কা খাক, তাতে আমার কি! আমি ওদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’’ নিজের অতীতের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে পিসি বললো, ‘‘তবে ওদের এমন রাস্তায় রাস্তায় হাত ধরে ঘোরা কিন্তু মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। অবশ্য এটা ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপার আমি নাক গলাব না।’’

কিন্তু নাক গলাবো না বললেও রাগেক্ষোভে পিসির কথার তোড় ছুটতেই লাগলো। গজ্‌গজ্‌ করতে করতে বলেই চললো, ‘‘শুনলাম, দুজনে জুটি বেঁধে আজ মুর্শিদাবাদ তো কাল বর্ধমান, আজ শিলিগুড়ি তো কাল মেদিনীপুর ছোটাছুটি করছে। তবে আমি ওদের এই ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাই না। কংস ভুলে গেলো কি করে বামাচরণবাবুর সব কথা! সব আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে শেষে কিনা ঐ মেয়ের হাত ধরল! আর বলিহারি মেয়েটাকে, তোর বাপকে যে এককালে এতো গালাগালি দিয়েছিল, আজ তুই কিনা তার হাত ধরেই ড্যাং ড্যাং করে রাস্তায় ঘুরছিস! ওরা সাবালক, আমি ওদের ব্যাপারে কেন মন্তব্য করতে যাব! তবে এককালে কংস আমার খুব ক্লোজ ছিল, তাই কংসর জন্য খুব কষ্ট হয়। কংসর ভালোর জন্যেই বলছি ওর অবিলম্বে এই সম্পর্ক ব্রেক করা দরকার। ও জানে না বামাচরণবাবুর মেয়ে ওর কতো ক্ষতি করতে পারে! মরুকগে ওরা, আমি কেন বারণ করবো!


আরও দু-চারটে খিস্তি দিয়ে পিসি সুমনদের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বিড়বিড় করে একটাই কথা বলতে লাগলো, ‘‘পাড়ার সবার কাছে ভালোমানুষ সাজা! দাঁড়াও, আমার নামও কালি, ওদের মুখ মুখোশ দুটোই খুলে দেব।’’ 

পিসি বেরিয়ে যাবার পর সুমনের মা যখন বলল, ‘‘ওরে, রাঁচিতে বুকিং কর! পিসি বুঝি এবারে না সত্যিই পাগল হয়ে যায়!’’ উপস্থিত বাকি মহিলারা হো হো করে হেসে উঠলো।

Thursday, 18 February 2016

নরেন মুদি ও কালীপিসির কেমিস্ট্রি


নরেন খুড়োর বিশাল বড়ো মুদির দোকান। প্রায় ৫৬ স্কোয়ার মিটার। পাড়ার অনিল, মুকেশ, রতন, আদিত্য সবাই খুড়োর দোকানে বাজার করে। লোক হিসাবে খুড়ো খুবই খিটখিটে, বিশেষ করে মুসলিম খরিদ্দার দোকানে এলেই চটে যান। ঐ অসহিষ্ণু আর কি!

তবে খুড়ো খুব ধার্মিক মানুষ, দোকানদারির এতো ব্যস্ততার মধ্যেও সময় পেলেই রামনাম জপ করেন। খুড়োর একটু শুচিবাই রোগও আছে। দোকানের সামনে নোংরা খুড়ো মোটেই দেখতে পারনে না। দিনে চার-পাঁচবার ঝাঁটা দিয়ে দোকান পরিষ্কার করেন। স্বচ্ছতা আরকি!

এই নরেন মুদির সাথেই আবার আমার কালীপিসির হেব্বি বাওয়াল। প্রতিদিন খুড়োর দোকানে বাজার করতে গেলে ঝগড়া হবেই হবে। এই তো সেদিন খুড়ো মুগের বদলে ভুল করে মুসুর ডাল দিয়েছিল, আর তাতেই পিসি ক্ষেপে গিয়ে বললো "এমন করলে তোমার কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাবো"। 

মাঝে মাঝেই পিসি রেগে গিয়ে নরেন খুড়োকে 'ঝগড়াবাজ' বলেন। কিন্তু পাড়ার বয়স্করা বলেন, ওদের দুজনের মধ্যে একটা আলাদা কেমিস্ট্রি আছে। ওরা লোকদেখানো ঝগড়া করে। পাছে ওদের গোপন কেমিস্ট্রি জানতে পেরে গেরামের লোক কুমন্তব্য করে। লুকিয়ে লুকিয়ে দুজনে ঝালমুড়ি, লাড্ডু সবই খায়।

কদিন আগেই পাড়ার মাস্টারমশাই 'যোগেন্দ্র নাথ উপাধ্যায়' অর্থাৎ জেএনইউ-বাবুর কোচিং সেন্টারে নরেন খুড়োর দুই ছেলে গোলমাল পাকালো, আর দোষটা বেমালুম নরেন খুড়ো চাপিয়ে দিলো তার চিরশত্রু রামবাবুর ছেলে কানাইয়ের উপর। এমনকি, তাকে 'পাড়াদ্রোহী' তকমা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলো! শুধু তাই নয়, রামবাবুর বাড়ির নেমপ্লেটেও কালি লাগিয়ে নোংরা করলো ছেলে পাঠিয়ে। এই ঘটনায় গোটা গ্রামের লোক প্রতিবাদে মুখর হলেও আমার কালীপিসি কিন্তু স্পিক্‌টি নট। অন্যায় দেখলেই যে কালীপিসির ‘পোতিবাদ’-এর ভিসুভিয়াস জেগে ওঠে, সেই পিসি আজ আশ্চর্যজনকভাবে বজরঙবলীর কৃপায় একেবারে নীরব। নরেন খুড়োর এহেন আচরণে উনি অনশন বা মিছিল তো দুরের কথা, নিদেনপক্ষে একটা ‘পোতিবাদী’ টুইটও পর্যন্ত করলেন না!

পিসিকে কারণ জিজ্ঞেস করাতে পিসি ঝাঁজিয়ে উঠে বললো, ‘সাধে কি আমি চুপ করে আছি! পোতিবাদ করলেই তো আমাকে ঐ মুদি ব্যাটা ভয় দেখায়।’ আমি বললাম, ‘পিসি, তুমি তো গুন্ডা কন্ট্রোল করো, তোমার ভয় কিসের!’ 

পিসি আক্ষেপের সুরে বললো, ‘বড়ো মেয়ে সারদার বিয়ের সময় বেশ কিছু টাকা ধার করেছিলাম তোদের নরেন খুড়োর কাছ থেকে, সেটা এখনও শোধ করতে পারিনি। তাই মাঝে মাঝে সারদার বিয়ের টাকার কথা তুলে চমকায় আমাকে। বলে জেলে ঢোকাবে। আমার ভাগ্নে মদনা পোতিবাদ করেছিলো একবার। তাকে সেই যে জেলে ঢুকিয়েছে বেচারি এখনও হাজতে বসে বসে দিনরাত আমাকে আর নরেন মুদিকে খিস্তি করছে। তাই আমাকে ঐ নরেন খুড়োর সাথে আলগা পিরিত করেই চলতে হয়।’ 

আমি বললুম, ‘পিসি তুমি তো দারুণ ছবি আঁকো। তাহলে দু-চারটে ছবি এঁকে সেগুলি বিক্রি করে সারদার বিয়ের দেনা চুকিয়ে দিলেই তো পারো!’ 

পিসি করুণ হেসে বললো, ‘ওরে আমার কি আর সে জো আছে? ছবিগুলো কিনবে কে? যে কিনতো, সে ও তো আজ জেলে।’


( বি.দ্র. : সব চরিত্র কাল্পনিক )