Thursday, 5 October 2017

কার্নিভাল কাহিনী

দুর্গা= কৈ রে, বলি তোদের সাজুগুজু করা হলো! তাড়াতাড়ি নে, তোদের পিসি রেড রোডে অপেক্ষা করছে তো। 

সরস্বতী = মা, এই স্কার্টটা কেমন? এটা পরেই ভাবছি এবারে ক‍্যাট ওয়ার্ক করবো! 

দুর্গা = তুই কি পাগল নাকি! এই টাইট মিনিস্কার্ট পরে ওখানে কেউ হাঁটে নাকি! যদি হঠাৎ জ্বর বমি হয়ে যায়! 

সরস্বতী = আরে চিন্তা করছো কেন! আঙ্কেল তো এবারের কার্নিভালে নেই, ভুবনেশ্বরে আছে। তাই কোনো চিন্তা নেই!

দুর্গা = ওরে আঙ্কেল নেই তো কি হয়েছে, আঙ্কেলের ছেলেরা তো আছে। যদি ফস করে ঢুকে পড়ে! তাছাড়া আশেপাশে অনেক দুষ্টু দামালরা থাকবে। বিদায় বেলায় যদি একটা ছোট্টো ঘটনা ঘটে যায়! তোর পিসি তো ক্ষতিপূরণ ঘোষনা করেই খালাস হয়ে যাবে।

সরস্বতী = তাহলে কি পরবো? দিদি নম্বর ওয়ানে জেতা শাড়িটা? নাকি এবছরের লেটেস্ট, বাহুবলী চুড়িদার?

দুর্গা = চুড়িদারটাই পর। বাহুবলী নামটার মধ্যে একটা ইয়ে আছে...

লক্ষী = মা, আমার কন‍্যাশ্রীর বালা দুটো খুঁজেই পাচ্ছি না! পিসি বারবার করে বলে দিয়েছে ও দুটো পরে আসতে। 

দুর্গা = থাক মা, ও দুটো আর পরে কাজ নেই। ওখানে ছিঁচকে চোর থেকে ডাকাত, তোলাবাজ থেকে গুন্ডা সবাই আছে।

লক্ষী = পিসি তো গুন্ডা কন্ট্রোল করে, তাহলে ভয় কিসের?

দুর্গা = সেটা যেমন ঠিক, তেমন তোর পিসি মিলেমিশে ভাগ করে খেতেও বলে।

কার্তিক = মা, আমি ভাবছি, ময়ূরে করে না গিয়ে এবারে সবুজ সাথীর সাইকেলে করে কার্নিভালে যাবো।

দুর্গা = ঐ তো সাইকেলের হাল! দেখিস মাঝপথে ভেঙে যায়!

গনেশ = (সিঙাড়া খেতে খেতে এসে ) মা আমি তাহলে দাদার ময়ূরে চড়ে যাবো?

দুর্গা = না বাবা গনশা, তোমার চাপে যদি ময়ূর মাঝপথে কেঁদে ফেলে তাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে! আর তুমি এভাবে সিঙাড়া খেতে খেতে বাইরে বেরিও না, সিবিআই ইডির চোখে একবার পড়লে আর রক্ষে থাকবে না!

মহিষাসুর = মা, আমি কি গতবারের মতন মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে যাবো?

দুর্গা = ওটা ব‍্যাকডেটেড, পিসি কেসটা অনেকদিন আগেই শেষ করে দিয়েছে।

মহিষাসুর = তাহলে কি ফ্রেঞ্জকাট দাড়ি নিয়ে হাতে ক্রিকেট ব‍্যাট নিয়ে হাঁটবো?

দুর্গা = এটা যদিও টাকটা কেস, তবে আমার মনেহয় তুই একটা রঙিন জহরকোট পরে মাথায় একটা পাহাড়ি টুপি পরে নে। আর হ‍্যাঁ, হাঁটার সময় চোখ দুটো ছোট করে খুলবি।

কলা বৌ = মা, পিসি গতবছর বলেছিলো, পরেরবার বিএমডব্লিউ আর ভলবো করে কার্নিভালে নিয়ে যাবে। তা কই এবারে তো কিছু পাঠালো না!

দুর্গা = বলিহারি বৌমা তোমার আশা, যে বন‍্যা ত্রানে হেলিকপ্টার পাঠায় না, সে আমাদের জন্য ভলবো বিএমডব্লিউ পাঠাবে! খোলা ট্রাকে করে হাওয়া খেতে চলো।

( দুর্গার স্বপরিবারে কার্নিভালে প্রবেশ)

পিসি = আরে গৌরী, নীলসাদা শাড়িতে তোমাকে দারুণ লাগছে! গলায় উজ্জ্বল মুক্তোর হারটা দেখে মনে হচ্ছে ওটা ত্রিফলার গায়ে পেঁছিয়ে থাকা আলো। আমার তো দেখেই অটোমেটিক কবিতা পাচ্ছে..

(এই কথা শোনা মাত্রই সরস্বতী আর লক্ষী কানে হেডফোন গুঁজে দিয়েছে)

দুর্গা = দয়াকরে আমাকে গৌরী নামে ডাকবেন না। আসলে ঐ নামে ডাকলেই মনেহয় কেউ আমাকে এখুনি গূলি করবে।

পিসি = হ‍্যাঁরে গনশ, তোকে কতো করে বলেছি ডায়েট কন্ট্রোল কর। তোর মধ‍্যপ্রদেশ তো পাত্তোকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে। এই ভুড়ি নিয়ে ক‍্যাট ওয়ার্ক হয়! এবারে যাওয়ার সময় এক পেটি সিঙ্গুর সরিষার তেল নিয়ে যাবি। একেবারে কোলেস্টেরল ফ্রী। আর তোর বৌ-টা তো শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে আহারে বাংলা বা ইলিশ উৎসবে নিয়ে এসে ভালোমন্দ খাওয়া। 

(কার্তিককে ডিএসএলআর-এ ছবি তুলতে দেখে পিসি রেগে গিয়ে)

পিসি = এই! এই কাতু! ওটা ব‍্যাগে ঢোকা আগে। চালাকি পায়া হ‍্যায়! কার্নিভালে এসে ম‍্যাথুর মতন স্টিং করতা হ‍্যায়!

কার্তিক = আরে না না! আমি ফেসবুকে দেব বলে ছবি তুলছি। 

পিসি = ওসব আমি নেহি জানতা হ‍্যায়! ক‍্যামেরা দেখলেই আমার স্নেহের ভাই গুলো ভয় পায়! আসলে, গোয়াল বার্নিং কাউ ফিয়ার সিঁদুরে ক্লাউড, আরকি!

(কার্তিক ক‍্যামেরা ব‍্যাগে ঢুকিয়ে আবার তীর ধনুক নিয়ে পোজ দিতে শুরু করলো)

পিসি = তুই কি রে কাতু! এখনো তীর ধনুকেই পড়ে আছিস! ওরে কেস্টা ওকে দু-চারটে পেটো অন্তত দে।

(লক্ষীর দিকে তাকিয়ে)
পিসি = তোকে কতোবার ফোন করে বিশ্ব ব‍্যাঙ্গ সম্মেলনে আসতে বললাম, তাও একবারও এলি না! আগে তো প্রায় সুদীপ কাকুর সাথে অ্যাম্বুলেন্সে চড়েও আসতিস! 

(সরস্বতী নোটপ্যাড নিয়ে ব‍্যস্ত। তার দিকে তাকিয়ে খানিকটা রেগে গিয়ে)

পিসি = যতই খুটুর পুটুর করো না কেন, ভুলে যেও না , ইন্টারনেট ব‍্যালেন্স আমার গরমেন্টই ভরে। 

মহিষাসুর = পিসি আমাদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তিটার কি হলো?

পিসি = আমি তোর সাথে একটাও কথা বলবো না। আমাকে মা বোলতা হ‍্যায়। ওউর হামার বিরুদ্ধে চক্কান্ত করতা হ‍্যায়!

দুর্গা = পিসি এবারে অন্তত বিদায় দিন। আমার ভোলেবাবা হয়তো আমাকে ভুলেই গেছে..

পিসি = চিন্তা করিস না! যেতে দেরি হবে সেটা আমি হোয়াটস অ্যাপ করে দিয়েছি। আর হ‍্যাঁ, ভোলেবাবা যাতে একাএকা বোরিং না হয় তাই মদনাকে পাঠিয়ে দিয়েছি।

গান্ধী স্মরণে কালীপিসি

আজ গান্ধীজির জম্মোদিন। আমার সাথে ওনার জীবনের যথেষ্ট মিল আছে। দুজনকেই অনেক লড়াই করতে হয়েছে। অবশ‍্য আমাকে ওনার থেকে একটু বেশীই লড়তে হয়েছে। ওনার সময় তো বিটিশরা কুৎসা অপপোচার করতো না। আমাকে যেমন সবাই অগ্নিকন‍্যা বলে ডাকে, ঠিক তেমনই ওনাকে সবাই বাপুজি বলে ডাকতো। তোমরা যে এখন বাপুজি কেক খাও ঐ কেকের কারখানা উনিই করেছিলেন। আমি যেমন হাওয়াই চটি আর ছাপাশাড়ি পরে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াই উনিও তেমনই সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। ওনার সময়ে যদি মোবাইল থাকতো তাহলে উনিও একটা আইফোন কিনে অহিংসাই পরম ধম্মো লিখে, টুইট করতেন। ডান্ডি মার্চ ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করতেন। উনি সত‍্যাগ্রহে বিশ্বাসী ছিলেন, আর আমি সততার পোতীক। যদিও ইদানিং আমার তেরো হাত কাটআউট একটু কম জনপিয়। 

উনি আমার মতন আন্দোলন করার সময় মাঝেমধ্যেই অনশন করতেন। রবীন্দোনাথ একবার ফলের রস খাইয়ে অনশন ভাঙান, সেটা আগেই তোমাদেরকে বলেছি। আমি অবশ্য চকলেট খেয়েই অনশন করতাম। আমাকে যেমন সবাই কন‍্যাশ্রীর জননী বলে, ওনাকেও লোকে জাতীর জনক বলে। উনিও আমার মতন আইন নিয়ে পড়েছিলেন। আমাদের খোকাবাবু যেখানে চাঁদের পাহাড়ের সুটিং করেছিল সেই আফ্রিকায়। তবে ওনার কলেজের বাইরে সিপেম স্টেনগান নিয়ে অপেক্ষা করতো না। তবে ওনাকে আমার মতন সিঙ্গাপুর, লন্ডন, জার্মানি ঘুরে বিনিয়োগ আনার ঝামেলা পোয়াতে হয়নি। আমি যেমন গলায় 'আমরা সবাই চোর' লিখে মহানগর মার্চ করেছিলাম, সিঙ্গুরে সর্ষে চাষের দাবী নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। উনিও ঠিক তেমনই ডান্ডি মার্চ করেছিলেন। 

আমি যেমন ২০১১ আগে প্রায় প্রতি মাসেই দুচারটে বনধ ঢেকে, হাইওয়ে অবরোধ করে সরকারের সাথে অসহযোগিতা করেছিলাম, উনিও ঠিক তেমনই অসহযোগ আন্দোলন করেছিলেন বিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে। আমি যেমন ডেলোতে গোলটেবিল বৈঠক করছি, উনিও তেমনই বিটিশদের সাথে গোলটেবিল বৈঠক করেছিলেন। আমি যেমন ডাক দিয়েছি, সিপেম ভারত ছাড়ো। উনিও ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলন করেছেন। 

এই এই চোপ! চোপ! কেউ কথা বলবে না! তবে এতোকিছু মিল থাকার স্বত্ত্বেও বেশকিছু অমিলও আছে। উনি কিন্তু আমার মতন, কবিতা লিখতে, গান লিখতে, কোটি টাকার ছবি আঁকতে পারতেন না। উনি অহিংসায় বিশ্বাসী আর আমি, বদল নয় বদলা চাই। আমি ওনার থেকে অনেক বেশি রাফ এন্ড টাফ, গুন্ডা কন্টোল করি। চৌরিচৌরায় আগুন লাগলে উনি আন্দোলন থামিয়ে দেন আর আমি বিধানসভা ভাঙচুর করে আন্দোলন শুরু করি। 

হঠাৎ সামনে থেকে উঠে এক দামাল বলল- পিসি, এবারে আমরা বুঝেছি আপনার অনুপ্রেরণা না থাকলে উনি এতকিছু করতেই পারতেন না! পিসি মুচকি হেসে বলল, দুষ্টু। ওনার জন্মদিনে, আমার বড়দাও আজ ওনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ওনাকে স্মরণ করেছেন। যদিও কিছু লোকে কুৎসা করে, বড়দার বড়দা নাকি ওনাকে গুলি করেছিল। যাই হোক সেসব পুরোনো কথা ভুলে গিয়ে আমরা সবাই মোহনভগবত, সরি! সরি! মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে শোদ্ধার সাথে স্মরণ করি চলুন...
ইন্দোনীল একটা গান করে অনুষ্ঠান শেষ করো...

Tuesday, 19 September 2017

মহিষাসুরমর্দিনী

প্রতি বছরই মা কৈলাস থেকে ফ্লাইট ধরে দার্জিলিং-এ ল‍্যান্ড করেন। তারপর দার্জিলিং থেকে কোলকাতায়। এবছর দার্জিলিংয়ের আবহাওয়া ভালো নয়। আকাশ 'গুরুং, গুরুং' করছে। 'হড়কা' বানের সম্ভবনাও আছে। মা তো ক্ষেপে ব‍্যোম! সরাসরি গঙ্গাপাড়ের বাড়িতে ফোন, বলি পাহাড় এতো হাসলে আমি ল‍্যান্ড করবো কি করে? আর কতদিন লাগবে হাসি থামাতে? ওপার থেকে পিসি, না মানে ওরা কোন ট্র‍্যাকে খেলতে চাইছে সেটা ধরে ফেলেছি। আর মাত্র কয়েকটি দিন। দেবী রেগে গিয়ে, তোমরা কেমন খেলছো সেটা বাইচুং-কে দেখেই বুঝতে পারছি! লক্ষী বলল, মা এবারে তাহলে পাতলেবাসে যাওয়া হবেনা? দেবী গম্ভীরভাবে বললে, এবারে শুধু বাসেই যেতে হবে বোধহয়।

গনেশ এতক্ষণ খবর দেখছিল। সে হঠাৎ ছুটে এসে বলল, মা এবারে অন্ডালে ল‍্যান্ড করি চলো। ওখান থেকে 'বুলেটপ্রুফ' ট্রেনে কোলকাতায় যাওয়া যাবে। দেবী অবাক হয়ে বলল, বলিস কিরে গনশা! তোর পিসি বুলেটপ্রুফ ট্রেন চালু করে দিয়েছে! ভালো করে খোঁজ নিয়ে দ‍্যাখ ঢপ দেয়নি তো! হ‍্যাঁরে সর, তুই কিছু শুনেছিস? সরস্বতী ফেসবুক ঘাঁটতে ঘাঁটতে বলল, পিসি কন‍্যাশ্রীর পুরস্কার পাওয়ার প্রচার ছাড়া আর কিছু করছে বলে শুনিনি। অতপর দোনামোনা ক‍রে অন্ডালেই মা ল‍্যান্ড করলেন। তারপর বুলেটপ্রুফ ট্রেন না পেয়ে মা পুরো খচে ব‍্যোম! অনেক কষ্টে কার্তিক শান্ত করে। নারদ কাকুকে হোয়াটস অ্যাপ করতে, উনি ওলা নিয়ে হাজির হন। লং জার্নিতে এমনিতেই ক্লান্ত, খিদেও পেয়েছে তাই ল‍্যাঙচা আর শিঙাড়া কিনে নিয়ে ওলাতে চাপলো সবাই। ল‍্যাঙচাটা জঘন্য খেতে। তবে সিঙাড়াটা দারুণ। কার্তিক হেসে বলল, জানতাম এটা ভালো হবে। দোকানের ওপরে তো সুব্রত কাকুর হোল্ডিং ঝুলছে দেখেছি।

দীর্ঘ জার্নি শেষ করে অবশেষে তারা গঙ্গা পাড়ের বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়ির নীচে নারদকে আটকে দিলো সিকিউরিটি। দেবী জিজ্ঞেস করাতে সিকিউরিটি বলল, ম‍্যাডামের নিষেধ আছে। যদি আবার স্টিং ফিং কিছু করে বসে। তারপর লিফ্টে করে চোদ্দ তলায় পৌঁছালেন দেবী। দেবী বললেন, এতো কড়া সিকিউরিটি! এতোগুলো কুকুর পাহারায়! কার্তিক বলল, আমাদের দেখে ঘেউঘেউ করেই চলেছে। পিসি হেসে বলল, নারে কাতু, তোদের দেখে নয়! ওরা ডিএ-র জন‍্য চ‍্যাঁচাচ্ছে। তারপর পিসি দেবীকে উদ‍্যেশ‍্য করে বললেন, এত লাগেজ নিয়ে একা একা কেউ আসে! নন্দী ভিঙ্গীকে সাথে করে আনতে পারতে তো! দেবী আক্ষেপের সুরে বললেন, নিয়ে আসবো তো ঠিকই ছিল, তারপর হঠাৎ কোথা থেকে খবর পেল যে অষ্টমী থেকে টানা পাঁচদিন জল বন্ধ। ব‍্যাস, আর আসতে চাইলো না। পিসি হেসে বললে, আরে ধুর, ওটা তো নামেই বন্ধ। আসলে যারা ব্ল‍্যাকে বেচে তাদেরকেও তো দেখতে হবে নাকি! ওরা আবার প্রচুর অনুদান দেয়। এরপর পিসি হাসি মুখে সবার খোঁজ নিতে লাগলো, তা সর, কন‍্যাশ্রীর টাকা পেয়েছ তো? লক্ষী মা, সবুজ সাথীর সাইকেল পেয়েছো? গনেশের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল, ওমা! ১৫০০ কেজির বাচ্চাটা কতো বড়ো হয়ে গেছে! ওমা, কাতুটাকে কি সুন্দর লাগছে! তুই বাংলা সিনেমা কর। আরে চিন্তা করিসনা, আমি ছবি ট‍্যাক্স ফ্রি করিয়ে দেব।

আরও এটা সেটা কথার পর দেবী বললেন, তা এবারে কোন অসুরটাকে মারবো? বয়স হয়েছে আমার তাই বেশি ছোটাছুটি করতে পারবো না। একটা ভালো দেখে অসুর বেছে দাও, আমি তার ফোনে ব্লু হোয়েল ইনস্টল করে দেব ব‍্যাস। পিসি বললেন, এবারে আর কাউকে মেরোনা! এমনিতেই সিবিআইয়ের চাপে বড়ো বড়ো অসুরগুলো সব আধমরা হয়ে আছে। চাপ সবাই নিতে পারছে না। দেবী বললেন, সেকি! অসুর না মেরেই ফিরে যাবো! সেটা কি করে হয়! এত খরচা করে স্বপরিবারে এলাম! পিসি বলল, তাতে কি হয়েছে! আমিও তো দলবল নিয়ে সিঙ্গাপুর, লন্ডন, জার্মানি ঘুরি। আমি কি বিনিয়োগ আনি নাকি!

দেবী বলল, অসুর যখন মারা হবে না তাহলে এবছর দশমীর দিন সকালেই ফ্লাইট ধরে ফিরবো। পিসি হেসে বলল, আসা পঞ্জিকা মতে, কিন্তু যাওয়া আমার ইচ্ছায়। রেড রোডে ফ‍্যামিলি প‍্যারেড না করেই চলে যাবে, ওটি হচ্ছে না। দেবী অবাক হয়ে বলল, মানে! আমাকে আরও দুদিন থাকতে হবে! কার্তিক খুব খুশি। আচ্ছা পিসি, এবারের কার্নিভালটা ব্রাজিলিয়ান স্টাইলে করলে হয়না! ইওয় ভয়েস উইথ বেঙ্গা বয়েস! পিসি হেসে বলল, দুষ্টু...

Thursday, 3 August 2017

ভাইপোর লিপস নড়ছে না

কালীপিসির মনটা খুব বিচলিত। সন্তানসম ভাইপোটা কিছুই খাচ্ছেনা। দিব‍্যি আলুরচপ মুড়ি খেতে খেতে সন্ধাবেলায় 'টাইমস নাও'এ খবর দেখছিল। তারপর হঠাৎ কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেনা পিসি। কিছুতেই মুখে কিছু তুলছে না! ছোট্টো নাতনি ঘরে খেলছিল। সে কালীপিসিকে কেবল বলছে, পিসিদিদা পিসিদিদা, পাপা লিপ উন্ড। নাতনির কথা শুনে কালীপিসি ভাবলো বর্ষাকাল, ঠান্ডা লেগে ভাইপোর ঠোটে হয়তো ব‍্যাথা হয়েছে। কিন্তু এমনকি হয়েছে যে ভাইপো কথা বলছে না! পিসি কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।

এমন সময় মদনার ফোন। একটু ইতস্ততঃ করে রিসিভ করতেই মদনার জড়ানো গলা ভেসে এলো, আমি পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলাম বলে আমাকে শহীদ দিবসে স্টেজে উঠতে দাওনি। জুলিকে নিয়ে রাস্তায় বসে আমাকে সেদিন পোগ্গাম দেখতে হয়েছিল। দিদি, তোমার অভি লিপস এন্ড বাউন্ডসের জন‍্য মুদীর কাছ থেকে ১.১৫কোটি টাকা নিয়েছে। এবারে দেখবো তুমি তোমার ভাইপোকে স্টেজে চান্স দাও কিনা?

এতক্ষণে পিসির কাছে স্পষ্ট হলো নাতনির 'লিপ উন্ড' আসলে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস। রেগে গিয়ে ভাইপোকে ধিক্কার জানিয়ে বলল, ছিঃ অভি ছিঃ! শেষে কিনা মুদীজির কাছ থেকে টাকা নিলি! বড়দার সাথে তুই এমন করবি আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। উনি আমাদের ভোটের সময় কতো সাহায্য করেন, উনি না থাকলে এত সিট জিততে পারতিস! উনি সাহায‍্য না করলে আমাকে ক‍্যাবিনেট মিটিং জেলে বসেই করতে হতো। তুই কি ভেবেছিস তোর সুদীপদা সত‍্যিই বীর! আরে বড়দা না থাকলে ওকেও ভুবনেশ্বরে বসে ডায়েরী লিখতে হতো। তোর ছেলে ঢোকানো দাদা, যে এখন নিজেই ঢুকে আছে। সে যে জেলের মধ‍্যে দুবেলা ফ্রায়েড রাইস চিলিচিকেন গিলছে, সেটাও বড়দার দয়ায়। আর যে বড়দা আমাদের জন্যে এতকিছু করে তুই কিনা তার কাছ থেকে..... ছিঃ...

পিসির মুখে ভৎসনা শুনে এবারে ভাইপো হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, পিসি আমি টাকা নিয়েছি মুদীর কাছ থেকে ঠিকই কিন্তু আমি তোমার বড়দাকে ঠকাইনি, বড়দার কাছ থেকে টাকা নিইনি। পিসির এবারে খটকা লাগলো, মুদীর কাছ থেকে নিয়েছে অথচ বড়দাকে ঠকায়নি! ভাইপোর দিকে কটমট করে তাকিয়ে পিসি বলল, কি ব‍্যাপার খুলে বলো অভি। ভাইপো কাঁদতে কাঁদতে বলল, তুমি বি....শ্বাস করো পি.....সি আমি তোমার বড়...দার থেকে টা....কা নিইনি। আমি কিশোর কাকু্র কাছ থেকে নিয়েছি। পিসি এবারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, আগে বলবি তো এটা দ্রাপর যুগের নয়, বৈদিক যুগের টাকা। আর আমিও ঐ মাতালটার ফোন পেয়ে সাত পাঁচ না ভেবে কতো কিছু বললাম তোকে।

ভাইপো এবারে করুনভাবে জিঞ্জেস করলো, আচ্ছা পিসি সবাই তো সব জেনে গেছে, ওদের হাতে প্রমাণও আছে, যদি সিবিআই আমাকে জেলে ভরে দেয়? পিসি একগাল হেসে বলল, ধুর পাগলা আমি কি উলের কম্বলটা এমনি এমনি পাঠিয়েছি। সিবিআই ইডি সবাই ওটা চাপা দিয়ে শীতঘুমে চলে যাবে। এতক্ষণে ভাইপোর মুখে হাসি ফুটলো। কৌতূহলবশত ভাইপো পিসিকে জিঞ্জেস করলো, আচ্ছা আমি তো ১.১৫কোটি নিয়েছি তাহলে এস বি আই নিশ্চয়ই আমাকে ৪%সুদ দেবে, তাই না পিসি? কালীপিসি হেসে বলল, দুষ্টু একটা...

(বি.দ্র. - এটি একটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই। থাকলে কাকতলীয়)

Tuesday, 6 June 2017

পরিবেশ সচেতন কালীপিসি

আজ ৫জুন, 'আনতোরজাতিক পোরিবেশ' দিবস। এই পোসঙ্গে আমি দু-চারটে কথা বলবো, সবাই মন দিয়ে শোনো। পোরিবেশ মানে জীব জগত, আকাশ, বাতাস, মাটি। আর মাটি মানেই তো তোমারা জানো, মামাটি! সুতরাং পোরিবেশ রক্ষা মানে, মামাটিকে রক্ষা করা। আর পোরিবেশ নিয়ে আন্দোলন মানে, মামাটির আন্দোলন!

বত্তোমান সময়ে গোটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো সমস্যা পোরিবেশ দূষণ। চারিদিকে এতো কলকারখানা, এতো শিল্পো, প্রতিদিন দূষণ ঘটাচ্ছে। আমাদের গরমেন্ট পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। তাই আমরা কারখানা ধ্বংস করে সেখানে সর্ষে চাষ করে বাংলাকে পোরিবেশ বান্ধব গড়ে তুলেছি। হাইওয়ের পাশে আমার চকলেট অনশন, আসলে পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলন। এটা চিপকো আন্দোলনের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন। আমরা ইতিমধ্যে সেই আন্দোলনের কথা ইতিহাসের সিলেবাসে দিয়েছি। ওনার সাথে কথা হয়েছে! উনি বলেছেন, এটা আইসিএসসি আর সিবিএসসি-র সিলেবাসে চালু করে দেবেন।

আমাদের গরমেন্ট কেবল এদেশের শিল্পো নয়, বিদেশ থেকেও শিল্পো আনতে চায় না! সিঙ্গাপুর, লন্ডন থেকে কতো বিনিয়োগ আসতে চেয়ে ছিল! কতো কারখানা করবে বলেছিল! জাম্মানি তো কালীঘাটের খাল পাড়ে বিএমডাবলিউ কারখানা খুলবে বলে উঠেপড়ে লেগেছিল! আমি সবাইকে না করে দিয়েছি! বলে দিয়েছি, বাংলার পোরিবেশ আমি নষ্ট হতে দেব না!

আমাদের গরমেন্ট পোথোম দিন থেকেই পোরিবেশ সচেতন। আমরা কোনো বন্ধ কারখানা খোলার উদ‍্যোগ নিইনি, বরঞ্চ অনেকগুলো চালু কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। এই যে চা শোমিকরা পোতিদিন গাছের পাতা আর কুঁড়ি ছিঁড়ে ক্ষতি করে! এর জন‍্য বাংলার বাতাসে অক্সিজেন কম হয়! আরে আমি মহেশের মতন মুখ্যু নই! আমি ইস্ট জজিয়া! সেই জন্যই আমি মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে চা বাগান গুলো না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হাইওয়ে থেকে শহর যত বুড়ো গাছ আছে আমি সব কেটে ফেলছি। আসলে ওগুলো সব বাম আমলের গাছ। আমাদের উইলকিনসন তো কবে থেকেই চন্দন গাছ কাটা শুরু করেছে! আয়লার পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমরা পাথর বসিয়ে বা কংকিটের নদী বাঁধ বানাই নি, কারণ এতে পানীদের বাস্তুতন্ত্রের ওপর পোভাব পড়ে।

এই, এই, চোপ! চোপ! আমি কি বলছি শোনো!পোরিবেশ দূষনের অন‍্যতম কারণ হলো প্লাস্টিক। আমাদের মামাটি গরমেন্টের কেউ প্লাস্টিক ব‍্যবহার করেনা, সেটা আপনারা সবাই জানেন। আমদের পোতিনিধিরা তোয়ালে, খবরের কাগজ, কাপড়ের ব‍্যাগ ব‍্যবহার করে। আমাদের গরমেন্টের কেউ পানী (ছুঁচো) হত‍্যা করে না! আমরা কেবল জল ধরো জল ভরো করি না! আমরা বৃক্ষরোপণও করি! আরে আমাদের গরমেন্টের পোতিনিধিরা, গোলাপ চাষ করে জেলে গিয়েছে।

সিপেম আমলে মানে গত চৌত্রিশ বছরে বাংলার পোরিবেশের কোনো উন্নতি হয়নি! ওরা পোরিবেশ নিয়ে আদৌ সচেতন ছিলো না! বরঞ্চ ওদের সময়ে আমরা বেশী পোরিবেশ নিয়ে সক্রিয় ছিলাম। কতোগুলো ধম্মোঘট ডেকেছিলাম মনেকরে দেখুন! যত কম গাড়ি চলবে তত কম দূষণ হবে। ওরা এই ছ-বছরে কটা ধম্মোঘট ডেকেছে! সিপেম কোনোদিন বাংলায় হেলিকপ্টারে করে ভোট পোচার করার কথা চিন্তাই করতে পারেনি। মাত্তো একটা যান, দূষণ মিনিমাম।

পোরিবেশ নিয়ে আজ অনেক তথ‍্যই তোমাদের দিলাম। সাংবাদিক বন্ধুরা, সবাই টিফিন পেয়েছো তো! আমি আমার লেখা একটা কবিতা দিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি..
এ সোনার বাংলাকে শিশুদের
বাসযোগ্য করে যাবো আমি,
যেখানে বিস্কুটের পেটিতে শুয়ে
শিশুরা একে অপরকে খাবে হামি!

(এটি কাল্পনিক রচনা। বাস্তবের সাথে কোনো মিল থাকলে কাকতালীয় )

Friday, 2 June 2017

মহেশ

জৈষ্ঠ্যের দুপুরে মাটির ঘরের বারান্দায় বসে একহাতে তালপাতা দিয়ে বাতাস খাচ্ছিল আর অন‍্য হাতে গামছা দিয়ে ঘাম মুছছিল গফুর। উঠানে কিছু শুকনো চিবাচ্ছিল মহেশ। এমনসময় সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তর্করত্ন। গফুরকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখে, 'গফুর বাড়ি আছো নাকি!' বলে হাঁক দিয়ে রাস্তা ছেড়ে গফুরের বাড়ির দিকে এগোলো...

- একি গফুর, তুমি মাতার আজকাল খেয়াল রাখছো না! গরমে নিজে হাওয়া খাচ্ছো আর মাতাকে হাওয়া দিচ্ছ না!

(গফুর তর্করত্নের মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল)

- আমার মুখের দিকে না দেখে মাতার ডায়েটের দিকে লক্ষ্য দাও! এমন শুকনো খড় খাওয়ালে ২২ নয়, ১২ক‍্যারেটের সোনা পাবে চোনা তে!

(মহেশ একবার হাম্বা করে ডেকে উঠলো। তর্করত্ন ভাবলো মহেশ তার কথার সম্মতি জানালো।)

- (অবক হয়ে) মাতা কে? আমার আম্মা তো কবেই মারা গিয়েছে!

- ওরে গাধা মাতা মানে গো-মাতা! সেটাও জানিস না! আরে ৩৩কোটি দেবতা মিলেমিশে ককটেল হয়ে আছে তোর মহেশের মধ‍্যে। আর তুই কিনা ৩৩কোটি দেবতাকে মানে মহেশকে এই ভাবে রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস! যদি জমিদারের গো-রক্ষক বাহিনীর চোখে পড়ে তাহলে তোকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। যদি মাতা সানস্টোক হয়ে মারা যায় তাহলে তোর কি অবস্থা হবে জানিস!

- আজ্ঞে, সামনেই চাষের সিজন। মহেশ মারা গেলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে।

- আরে মহেশ মারা যাওয়া মানে ৩৩কোটি দেবতা মারা যাওয়া। তুই শুধু চাষের কথা ভাবছিস! এই যে গরমে মাঠ ঘাট সব আগুন হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তোর খড়ের ঘরের চালার তলাটা ঠান্ডা সেটা মহেশের জন‍্য!

- তাই নাকি?

- আরে মহেশই তো, সমস্ত কসমিক রে, তেজস্ক্রিয় আলো, সব নিজের শিং দিয়ে শোষণ করে নিচ্ছে। তোর মেয়ে প্রতিদিন ঘরের মাটির দেওয়ালে গোবর লেপে দেয় বলেই তো তোর ঘরটা এতো ঠান্ডা। এই যে তুই এতো বিড়ি খাস, তাও তোর ক‍্যানসার হয়নি। কারণ তুই রোজ দুধ খাস। আর গোমূত্র তো অমৃত! তুই এতদিনে যত পাপ করেছিস, এমনকি পূর্বজন্মের পাপও সব ধুয়ে যাবে গো-মূত্র খেলে।

- বলো কি পন্ডিত! যদি পেট খারাপ হয়!

- ধুর! পেট খারাপ, ওলাওঠা সব সেরে যাবে! প্রতিদিন সকালে এক চামচ করে গোবর খাবি। তাছাড়া এই যে মহেশ প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা তোর বাড়িতে হাম্বা হাম্বা করে ঢাকছে, এতেই আশেপাশের সমস্ত জীবানু মরে যাবে। আরে মহেশ ঘরে আছে মানেই তোর ঘর আর ঘর নেই! জানবি ওটা নার্সিংহোম।

(মহেশ একবার শিং নাড়িয়ে হাম্বা করে ঢেকে উঠলো)

- (অবাক হয়ে) বলো কি পন্ডিত! মহেশের এতো গুণ!

- এই যে তুই মাঠে থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে বারান্দায় বসে বুক ভরে দম নিতে পারছিস, সেটাও মহেশের জন‍্য। মহেশই তো তোকে অক্সিজেন সাপ্লাই দিচ্ছে।

(ইস্কুল থেকে ফিরে আমিনা এতক্ষণ তর্করত্নের পিছনে দাঁড়িয়ে কথা গুলো শুনছিল। এবারে আমিনা তর্করত্নের কথা ধরলো..)

- কেবলমাত্র গাছ অক্সিজেন দেয়। আর কিছু নিন্ম শ্রেণীর প্রাণী।

(তর্করন্ত পিছন ফিরে আমিনাকে দেখে)

- ইস্কুল থেকে ফিরলে বুঝি!

- বলছিলাম গরু কোনোদিন অক্সিজেন দিতে পারে না। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।

- (হাসি মুখে) আমার কোনো ভুল হয়নি! আসলে এসব তথ‍্য তোমাদের ইস্কুলের বিজ্ঞানের স‍্যারেরাও জানেন না! তাই তোমাদের শেখাতে পারেনি! আরে গো-মূত্র খেলে যে লিভার ভালো থাকে, শ্বেত রক্ত কনিকা লাফায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, দুধে কেরেটিন প্রোটিন থাকে, ভিটামিন-এ সংশ্লেষ হয়! এসব তথ‍্য ওনারা কিছুই জানেন না। আর গরুর এতো গুণ আছে বলেই না কদিন পরেই গরু আমাদের জাতীয় পশু হবে! সে খবর তুমি রাখো!

- জাতীয় পশু তো বাঘ। তা হঠাৎ বাঘকে সরিয়ে গরু কেন?

- বাঘেরা এখন সংখ‍্যালঘু। আর সংখ‍্যালঘুরা কোনোদিন দেশের প্রতীক হতে পারে!

- তাহলে তো ময়ূরকে সরিয়ে কাককে জাতীয় পাখি করা উচিত! ময়ূরের থেকে কাকের সংখ্যা তো অনেক বেশী। তাছাড়া কাককে জাতীয় পাখি করলে স্বচ্ছ ভারত অভিযানটাও খানিকটা গতি পাবে!

- না না, ওটা হচ্ছে না! গরু জাতীয় পশু আর কাক জাতীয় পাখি হলে তো গেরুয়া সবুজ জোটটা সবাই বুঝতে পেরে যাবে! তাছাড়া ময়ূর
ওরা তো সঙ্গম করে না! ওরা ব্রম্ভচর্য পালন করে।

- তাহলে ময়ূরের বাচ্ছা হয় কি করে?

- ময়ূর বর্ষাকালে আকাশ ডাকলে ভয়ে কাঁদে, তখন ময়ূরী ছুটে আসে আর ময়ূরের চোখের জল খেয়ে নেয়। ওরা তো আর আমাদের মতন রুমাল দিয়ে মুছে দিতে পারে না। ময়ূরের সেই চোখের জল খেয়েই ময়ূরী গর্ভবতী হয়।

- মোটেই না। বাজে কথা। ওরা সঙ্গম করে।

- মেয়ের সাহস তো কম নয়! তক্করত্নের মুখের ওপর তক্ক করে! জানিস তুই, সাত গেরামের সবাই আমার কথা মান‍্যি করে!

- আমি স্কুলে আমার বন্ধুদের মোবাইলে ইউটিউবে দেখেছি ময়ূর ময়ূরী সঙ্গম করে।

- ঐ দ‍্যাখ গফুর, তোর মেয়ে আজকাল ইস্কুলে গিয়ে কিসব দেখছে! পই পই করে বলেছিলুম, মেয়েকে ইস্কুলে পাঠাস নে! এখন বুঝলি তো! আজ আমার বিরূদ্ধে কথা বলছে, কাল জমিদারের বিরুদ্ধে বলবে, পরশু দ‍্যাশের বিরুদ্ধে বলবে! তোর মেয়ে শীঘ্রই দেশদ্রোহী হয়ে যাবে! কথাটা মিলিয়ে নিস....

তর্করত্ন আমিনার কাছে যোগ‍্য জবাব পেয়ে নিজের লাইনে ফিরে গেল, মানে ঐ উঠান টপকে যে পথে এসেছিল সেই পথ দিয়ে ধুতি গুটিয়ে জোরে পা চালালো। মুখে তার একটাই কথা- মেয়ের মুখের কি ভাষা! রাম! রাম!

আমিনা পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলল, রাম রাম নয়! জয় শ্রীরাম বলুন পন্ডিতমশাই!

(শরৎচন্দ্রের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী

জামাইষষ্ঠী স্পেশাল

জামাইষষ্ঠীর দিন সন্ধ‍্যাবেলায় সমস্ত ভাইয়েরা হরিশ চ‍্যাটারর্জি স্ট্রিটে হাজির। কালিপিসি সবার খোঁজ খবর নিচ্ছে কে কেমন জামাইষষ্ঠী কাটালো...

- কিরে কানন, টিভিতে দেখলাম ইলিশ, চিংড়ি, মটন বেশ জম্পেশ করে সাটাচ্ছিস!

- (একগাল হেসে) শাশুড়ি আদর করে দিলে না খেয়ে থাকা যায়! তাছাড়া তুমি তো জানোই, খাওয়ার সময় আমার ম‍্যাক্সিমাম মিনিমামের কথা মাথায় থাকে না!

- তোয়ালেটা তো পুরো হলুদ করে ফেলেছিস! আর কতোবার তোকে বারং করেছি, ক‍্যামেরার সামনে খাবি না!

- না না ওরা হুল ফোটায় না! ওরা এগিয়ে রাখে! তাই ভাবলুম আজকের দিনে যদি বাকি জামাইদের থেকে একটু এগিয়ে থাকা যায়! যদি সন্ধ‍্যাবেলায় শালা শালিরা আমাকে নিয়ে 'ঘন্টাখানেক' হই হুল্লোড় করে! তাই আরকি!

- তা শমিত দা, শাশুড়ির জন‍্য কি নিয়ে গেলে?

- ঐ একটা ছাপা শাড়ী।

- ছাপা কেন? জামদানি, ঢাকাই, ধনেখালী কিছুই পেলে না!

- আজ্ঞে, ঐ ধনই তো এখন খালি! একেই ৩৪ বছরের দেনা, তার ওপর এতবার বাজার থেকে ধার করেছি শশুর বাড়ির লোকজন আমাকে এখন 'ধারালো জামাই' বলে।

- তা অধিকারী, তোমার কি খবর? শশুরবাড়ি গিয়েছিলে?

- আমাকে তো আমার শাশুড়ি একদিন আগেই অপহরণ করে নিয়ে যায়! যদি দিনের দিন খুঁজে না পায়!

- কিরে পাত্তো, তোকে শাশুড়ি কি দিলো?

- গিন্নি আগে থেকেই শাশুড়িকে বলে রেখেছিল, টেট হোক বা জামাইষষ্ঠীর ভেট, জামাইয়ের ফিক্সড রেট। ১২লাখের কম দামি কোনো গিফ্ট নেয় না।

- প্রদীপ'দা, তুমি কি হাসপাতালেই এবারে ষষ্ঠী খেলে?

- ডাক্তার রিচ খেতে মানা করেছে। তাই শাশুড়ি জিরেবাটা, কাঁচকলা, পেঁপে দিয়ে কচি পাঁঠার ঝোল করেছিল। শালাবাবু সাইকেলে করে হাসপাতালে দিয়ে গেছে।

- নকুল'দার কেমন কাটলো জামাইষষ্ঠী?

- আমার তো দু-জায়গা থেকে ডাক এসেছিল। সত‍্যি, শিউলীর মায়ের হাতের রান্না ভজহরি মান্নাকেও হার মানায়।

- তা বেচা, তোমার তো হাই প্রেসার! তেলের রান্না তো খাওয়া বারং! শাশুড়ি কি স‍্যুপ করেছিল?

- না না! শাশুড়ি সিঙ্গুর সরিষার তেল দিয়ে রান্না করেছিল। একেবারে কোলেস্টেরল ফ্রি!

- ঐ দ‍্যাখো আরেকজন আসা থেকেই ঢুলছে। হ‍্যাঁরে মদনা, দুবছর জেল খেটে জামাইষষ্ঠী গেলি, কেমন খাওয়ালো? কি কি মাছ হয়েছিল? খাসিটাকি রেওয়াজি?

- (ঢুলতে ঢুলতে) ওসব আমার কিছুই মনে নেই! শাশুড়ি মাংস কষছিল, আমি বাটি নিয়ে গিয়ে বললাম, দুপিস কষা দাও। তারপর ঐ দুপিস কষা দিয়েই একটা পুরো বাংলা টেনে দিলাম। স্যাট করে মাথায় লেগে গেল। তারপর শালী এসে দুটো মিস্টি খাওয়াতেই ফুল আউট! বৌ, শালি এমনকি শশুর বাড়ির কাজের মেয়ে, যাকেই দেখি যেন পিয়ালী বলে মনে হয়!

(হঠাৎ হাকিম বেরিয়ে গেল)

- কি হলো হাকিম সাহেব? কোথায় চললেন?

- আমার রোজা চলছে। এইসময় বসে বসে এমন সব খাবারের নাম কতক্ষণ শোনা যায়!

(দরজার দিকে তাকিয়ে)
- কি খোকাবাবু মনখারাপ করে দাঁড়িয়ে কেন?

- 'আ...মি কবে জা...মাইছটি যাব! সবাই এ....নজয় করছে, আমি কবে করবো! আমার কি আদৌ বি....ইয়ে হবে না!'

- (খোকাবাবুর দিকে তাকিয়ে মদনা) আমার তো খেলে কথা জড়ায়, তোর তো সারাক্ষণ জড়ায়। তোকে কে বিয়ে করবে!

- (কালিপিসি মদনাকে ধমক দিয়ে খোকাবাবুর মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে) চিন্তা করিস না, তোর জন্য আমি গরমেন্ট থেকে পাত্রীচাই বিজ্ঞাপন দেব। আগামী বছর থেকে গরমেন্ট জামাইশ্রী দেওয়া শুরু করবে। আর হ‍্যাঁ, আগামী বছর থেকে জামাইষষ্ঠী উৎসবে সমস্ত সরকারি অফিস 'পুন্ন' দিবস ছুটি থাকবে।

(সব চরিত্র কাল্পনিক)