Tuesday, 6 June 2017

পরিবেশ সচেতন কালীপিসি

আজ ৫জুন, 'আনতোরজাতিক পোরিবেশ' দিবস। এই পোসঙ্গে আমি দু-চারটে কথা বলবো, সবাই মন দিয়ে শোনো। পোরিবেশ মানে জীব জগত, আকাশ, বাতাস, মাটি। আর মাটি মানেই তো তোমারা জানো, মামাটি! সুতরাং পোরিবেশ রক্ষা মানে, মামাটিকে রক্ষা করা। আর পোরিবেশ নিয়ে আন্দোলন মানে, মামাটির আন্দোলন!

বত্তোমান সময়ে গোটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো সমস্যা পোরিবেশ দূষণ। চারিদিকে এতো কলকারখানা, এতো শিল্পো, প্রতিদিন দূষণ ঘটাচ্ছে। আমাদের গরমেন্ট পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। তাই আমরা কারখানা ধ্বংস করে সেখানে সর্ষে চাষ করে বাংলাকে পোরিবেশ বান্ধব গড়ে তুলেছি। হাইওয়ের পাশে আমার চকলেট অনশন, আসলে পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলন। এটা চিপকো আন্দোলনের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন। আমরা ইতিমধ্যে সেই আন্দোলনের কথা ইতিহাসের সিলেবাসে দিয়েছি। ওনার সাথে কথা হয়েছে! উনি বলেছেন, এটা আইসিএসসি আর সিবিএসসি-র সিলেবাসে চালু করে দেবেন।

আমাদের গরমেন্ট কেবল এদেশের শিল্পো নয়, বিদেশ থেকেও শিল্পো আনতে চায় না! সিঙ্গাপুর, লন্ডন থেকে কতো বিনিয়োগ আসতে চেয়ে ছিল! কতো কারখানা করবে বলেছিল! জাম্মানি তো কালীঘাটের খাল পাড়ে বিএমডাবলিউ কারখানা খুলবে বলে উঠেপড়ে লেগেছিল! আমি সবাইকে না করে দিয়েছি! বলে দিয়েছি, বাংলার পোরিবেশ আমি নষ্ট হতে দেব না!

আমাদের গরমেন্ট পোথোম দিন থেকেই পোরিবেশ সচেতন। আমরা কোনো বন্ধ কারখানা খোলার উদ‍্যোগ নিইনি, বরঞ্চ অনেকগুলো চালু কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। এই যে চা শোমিকরা পোতিদিন গাছের পাতা আর কুঁড়ি ছিঁড়ে ক্ষতি করে! এর জন‍্য বাংলার বাতাসে অক্সিজেন কম হয়! আরে আমি মহেশের মতন মুখ্যু নই! আমি ইস্ট জজিয়া! সেই জন্যই আমি মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে চা বাগান গুলো না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হাইওয়ে থেকে শহর যত বুড়ো গাছ আছে আমি সব কেটে ফেলছি। আসলে ওগুলো সব বাম আমলের গাছ। আমাদের উইলকিনসন তো কবে থেকেই চন্দন গাছ কাটা শুরু করেছে! আয়লার পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমরা পাথর বসিয়ে বা কংকিটের নদী বাঁধ বানাই নি, কারণ এতে পানীদের বাস্তুতন্ত্রের ওপর পোভাব পড়ে।

এই, এই, চোপ! চোপ! আমি কি বলছি শোনো!পোরিবেশ দূষনের অন‍্যতম কারণ হলো প্লাস্টিক। আমাদের মামাটি গরমেন্টের কেউ প্লাস্টিক ব‍্যবহার করেনা, সেটা আপনারা সবাই জানেন। আমদের পোতিনিধিরা তোয়ালে, খবরের কাগজ, কাপড়ের ব‍্যাগ ব‍্যবহার করে। আমাদের গরমেন্টের কেউ পানী (ছুঁচো) হত‍্যা করে না! আমরা কেবল জল ধরো জল ভরো করি না! আমরা বৃক্ষরোপণও করি! আরে আমাদের গরমেন্টের পোতিনিধিরা, গোলাপ চাষ করে জেলে গিয়েছে।

সিপেম আমলে মানে গত চৌত্রিশ বছরে বাংলার পোরিবেশের কোনো উন্নতি হয়নি! ওরা পোরিবেশ নিয়ে আদৌ সচেতন ছিলো না! বরঞ্চ ওদের সময়ে আমরা বেশী পোরিবেশ নিয়ে সক্রিয় ছিলাম। কতোগুলো ধম্মোঘট ডেকেছিলাম মনেকরে দেখুন! যত কম গাড়ি চলবে তত কম দূষণ হবে। ওরা এই ছ-বছরে কটা ধম্মোঘট ডেকেছে! সিপেম কোনোদিন বাংলায় হেলিকপ্টারে করে ভোট পোচার করার কথা চিন্তাই করতে পারেনি। মাত্তো একটা যান, দূষণ মিনিমাম।

পোরিবেশ নিয়ে আজ অনেক তথ‍্যই তোমাদের দিলাম। সাংবাদিক বন্ধুরা, সবাই টিফিন পেয়েছো তো! আমি আমার লেখা একটা কবিতা দিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি..
এ সোনার বাংলাকে শিশুদের
বাসযোগ্য করে যাবো আমি,
যেখানে বিস্কুটের পেটিতে শুয়ে
শিশুরা একে অপরকে খাবে হামি!

(এটি কাল্পনিক রচনা। বাস্তবের সাথে কোনো মিল থাকলে কাকতালীয় )

Friday, 2 June 2017

মহেশ

জৈষ্ঠ্যের দুপুরে মাটির ঘরের বারান্দায় বসে একহাতে তালপাতা দিয়ে বাতাস খাচ্ছিল আর অন‍্য হাতে গামছা দিয়ে ঘাম মুছছিল গফুর। উঠানে কিছু শুকনো চিবাচ্ছিল মহেশ। এমনসময় সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তর্করত্ন। গফুরকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখে, 'গফুর বাড়ি আছো নাকি!' বলে হাঁক দিয়ে রাস্তা ছেড়ে গফুরের বাড়ির দিকে এগোলো...

- একি গফুর, তুমি মাতার আজকাল খেয়াল রাখছো না! গরমে নিজে হাওয়া খাচ্ছো আর মাতাকে হাওয়া দিচ্ছ না!

(গফুর তর্করত্নের মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল)

- আমার মুখের দিকে না দেখে মাতার ডায়েটের দিকে লক্ষ্য দাও! এমন শুকনো খড় খাওয়ালে ২২ নয়, ১২ক‍্যারেটের সোনা পাবে চোনা তে!

(মহেশ একবার হাম্বা করে ডেকে উঠলো। তর্করত্ন ভাবলো মহেশ তার কথার সম্মতি জানালো।)

- (অবক হয়ে) মাতা কে? আমার আম্মা তো কবেই মারা গিয়েছে!

- ওরে গাধা মাতা মানে গো-মাতা! সেটাও জানিস না! আরে ৩৩কোটি দেবতা মিলেমিশে ককটেল হয়ে আছে তোর মহেশের মধ‍্যে। আর তুই কিনা ৩৩কোটি দেবতাকে মানে মহেশকে এই ভাবে রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস! যদি জমিদারের গো-রক্ষক বাহিনীর চোখে পড়ে তাহলে তোকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। যদি মাতা সানস্টোক হয়ে মারা যায় তাহলে তোর কি অবস্থা হবে জানিস!

- আজ্ঞে, সামনেই চাষের সিজন। মহেশ মারা গেলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে।

- আরে মহেশ মারা যাওয়া মানে ৩৩কোটি দেবতা মারা যাওয়া। তুই শুধু চাষের কথা ভাবছিস! এই যে গরমে মাঠ ঘাট সব আগুন হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তোর খড়ের ঘরের চালার তলাটা ঠান্ডা সেটা মহেশের জন‍্য!

- তাই নাকি?

- আরে মহেশই তো, সমস্ত কসমিক রে, তেজস্ক্রিয় আলো, সব নিজের শিং দিয়ে শোষণ করে নিচ্ছে। তোর মেয়ে প্রতিদিন ঘরের মাটির দেওয়ালে গোবর লেপে দেয় বলেই তো তোর ঘরটা এতো ঠান্ডা। এই যে তুই এতো বিড়ি খাস, তাও তোর ক‍্যানসার হয়নি। কারণ তুই রোজ দুধ খাস। আর গোমূত্র তো অমৃত! তুই এতদিনে যত পাপ করেছিস, এমনকি পূর্বজন্মের পাপও সব ধুয়ে যাবে গো-মূত্র খেলে।

- বলো কি পন্ডিত! যদি পেট খারাপ হয়!

- ধুর! পেট খারাপ, ওলাওঠা সব সেরে যাবে! প্রতিদিন সকালে এক চামচ করে গোবর খাবি। তাছাড়া এই যে মহেশ প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা তোর বাড়িতে হাম্বা হাম্বা করে ঢাকছে, এতেই আশেপাশের সমস্ত জীবানু মরে যাবে। আরে মহেশ ঘরে আছে মানেই তোর ঘর আর ঘর নেই! জানবি ওটা নার্সিংহোম।

(মহেশ একবার শিং নাড়িয়ে হাম্বা করে ঢেকে উঠলো)

- (অবাক হয়ে) বলো কি পন্ডিত! মহেশের এতো গুণ!

- এই যে তুই মাঠে থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে বারান্দায় বসে বুক ভরে দম নিতে পারছিস, সেটাও মহেশের জন‍্য। মহেশই তো তোকে অক্সিজেন সাপ্লাই দিচ্ছে।

(ইস্কুল থেকে ফিরে আমিনা এতক্ষণ তর্করত্নের পিছনে দাঁড়িয়ে কথা গুলো শুনছিল। এবারে আমিনা তর্করত্নের কথা ধরলো..)

- কেবলমাত্র গাছ অক্সিজেন দেয়। আর কিছু নিন্ম শ্রেণীর প্রাণী।

(তর্করন্ত পিছন ফিরে আমিনাকে দেখে)

- ইস্কুল থেকে ফিরলে বুঝি!

- বলছিলাম গরু কোনোদিন অক্সিজেন দিতে পারে না। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।

- (হাসি মুখে) আমার কোনো ভুল হয়নি! আসলে এসব তথ‍্য তোমাদের ইস্কুলের বিজ্ঞানের স‍্যারেরাও জানেন না! তাই তোমাদের শেখাতে পারেনি! আরে গো-মূত্র খেলে যে লিভার ভালো থাকে, শ্বেত রক্ত কনিকা লাফায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, দুধে কেরেটিন প্রোটিন থাকে, ভিটামিন-এ সংশ্লেষ হয়! এসব তথ‍্য ওনারা কিছুই জানেন না। আর গরুর এতো গুণ আছে বলেই না কদিন পরেই গরু আমাদের জাতীয় পশু হবে! সে খবর তুমি রাখো!

- জাতীয় পশু তো বাঘ। তা হঠাৎ বাঘকে সরিয়ে গরু কেন?

- বাঘেরা এখন সংখ‍্যালঘু। আর সংখ‍্যালঘুরা কোনোদিন দেশের প্রতীক হতে পারে!

- তাহলে তো ময়ূরকে সরিয়ে কাককে জাতীয় পাখি করা উচিত! ময়ূরের থেকে কাকের সংখ্যা তো অনেক বেশী। তাছাড়া কাককে জাতীয় পাখি করলে স্বচ্ছ ভারত অভিযানটাও খানিকটা গতি পাবে!

- না না, ওটা হচ্ছে না! গরু জাতীয় পশু আর কাক জাতীয় পাখি হলে তো গেরুয়া সবুজ জোটটা সবাই বুঝতে পেরে যাবে! তাছাড়া ময়ূর
ওরা তো সঙ্গম করে না! ওরা ব্রম্ভচর্য পালন করে।

- তাহলে ময়ূরের বাচ্ছা হয় কি করে?

- ময়ূর বর্ষাকালে আকাশ ডাকলে ভয়ে কাঁদে, তখন ময়ূরী ছুটে আসে আর ময়ূরের চোখের জল খেয়ে নেয়। ওরা তো আর আমাদের মতন রুমাল দিয়ে মুছে দিতে পারে না। ময়ূরের সেই চোখের জল খেয়েই ময়ূরী গর্ভবতী হয়।

- মোটেই না। বাজে কথা। ওরা সঙ্গম করে।

- মেয়ের সাহস তো কম নয়! তক্করত্নের মুখের ওপর তক্ক করে! জানিস তুই, সাত গেরামের সবাই আমার কথা মান‍্যি করে!

- আমি স্কুলে আমার বন্ধুদের মোবাইলে ইউটিউবে দেখেছি ময়ূর ময়ূরী সঙ্গম করে।

- ঐ দ‍্যাখ গফুর, তোর মেয়ে আজকাল ইস্কুলে গিয়ে কিসব দেখছে! পই পই করে বলেছিলুম, মেয়েকে ইস্কুলে পাঠাস নে! এখন বুঝলি তো! আজ আমার বিরূদ্ধে কথা বলছে, কাল জমিদারের বিরুদ্ধে বলবে, পরশু দ‍্যাশের বিরুদ্ধে বলবে! তোর মেয়ে শীঘ্রই দেশদ্রোহী হয়ে যাবে! কথাটা মিলিয়ে নিস....

তর্করত্ন আমিনার কাছে যোগ‍্য জবাব পেয়ে নিজের লাইনে ফিরে গেল, মানে ঐ উঠান টপকে যে পথে এসেছিল সেই পথ দিয়ে ধুতি গুটিয়ে জোরে পা চালালো। মুখে তার একটাই কথা- মেয়ের মুখের কি ভাষা! রাম! রাম!

আমিনা পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলল, রাম রাম নয়! জয় শ্রীরাম বলুন পন্ডিতমশাই!

(শরৎচন্দ্রের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী

জামাইষষ্ঠী স্পেশাল

জামাইষষ্ঠীর দিন সন্ধ‍্যাবেলায় সমস্ত ভাইয়েরা হরিশ চ‍্যাটারর্জি স্ট্রিটে হাজির। কালিপিসি সবার খোঁজ খবর নিচ্ছে কে কেমন জামাইষষ্ঠী কাটালো...

- কিরে কানন, টিভিতে দেখলাম ইলিশ, চিংড়ি, মটন বেশ জম্পেশ করে সাটাচ্ছিস!

- (একগাল হেসে) শাশুড়ি আদর করে দিলে না খেয়ে থাকা যায়! তাছাড়া তুমি তো জানোই, খাওয়ার সময় আমার ম‍্যাক্সিমাম মিনিমামের কথা মাথায় থাকে না!

- তোয়ালেটা তো পুরো হলুদ করে ফেলেছিস! আর কতোবার তোকে বারং করেছি, ক‍্যামেরার সামনে খাবি না!

- না না ওরা হুল ফোটায় না! ওরা এগিয়ে রাখে! তাই ভাবলুম আজকের দিনে যদি বাকি জামাইদের থেকে একটু এগিয়ে থাকা যায়! যদি সন্ধ‍্যাবেলায় শালা শালিরা আমাকে নিয়ে 'ঘন্টাখানেক' হই হুল্লোড় করে! তাই আরকি!

- তা শমিত দা, শাশুড়ির জন‍্য কি নিয়ে গেলে?

- ঐ একটা ছাপা শাড়ী।

- ছাপা কেন? জামদানি, ঢাকাই, ধনেখালী কিছুই পেলে না!

- আজ্ঞে, ঐ ধনই তো এখন খালি! একেই ৩৪ বছরের দেনা, তার ওপর এতবার বাজার থেকে ধার করেছি শশুর বাড়ির লোকজন আমাকে এখন 'ধারালো জামাই' বলে।

- তা অধিকারী, তোমার কি খবর? শশুরবাড়ি গিয়েছিলে?

- আমাকে তো আমার শাশুড়ি একদিন আগেই অপহরণ করে নিয়ে যায়! যদি দিনের দিন খুঁজে না পায়!

- কিরে পাত্তো, তোকে শাশুড়ি কি দিলো?

- গিন্নি আগে থেকেই শাশুড়িকে বলে রেখেছিল, টেট হোক বা জামাইষষ্ঠীর ভেট, জামাইয়ের ফিক্সড রেট। ১২লাখের কম দামি কোনো গিফ্ট নেয় না।

- প্রদীপ'দা, তুমি কি হাসপাতালেই এবারে ষষ্ঠী খেলে?

- ডাক্তার রিচ খেতে মানা করেছে। তাই শাশুড়ি জিরেবাটা, কাঁচকলা, পেঁপে দিয়ে কচি পাঁঠার ঝোল করেছিল। শালাবাবু সাইকেলে করে হাসপাতালে দিয়ে গেছে।

- নকুল'দার কেমন কাটলো জামাইষষ্ঠী?

- আমার তো দু-জায়গা থেকে ডাক এসেছিল। সত‍্যি, শিউলীর মায়ের হাতের রান্না ভজহরি মান্নাকেও হার মানায়।

- তা বেচা, তোমার তো হাই প্রেসার! তেলের রান্না তো খাওয়া বারং! শাশুড়ি কি স‍্যুপ করেছিল?

- না না! শাশুড়ি সিঙ্গুর সরিষার তেল দিয়ে রান্না করেছিল। একেবারে কোলেস্টেরল ফ্রি!

- ঐ দ‍্যাখো আরেকজন আসা থেকেই ঢুলছে। হ‍্যাঁরে মদনা, দুবছর জেল খেটে জামাইষষ্ঠী গেলি, কেমন খাওয়ালো? কি কি মাছ হয়েছিল? খাসিটাকি রেওয়াজি?

- (ঢুলতে ঢুলতে) ওসব আমার কিছুই মনে নেই! শাশুড়ি মাংস কষছিল, আমি বাটি নিয়ে গিয়ে বললাম, দুপিস কষা দাও। তারপর ঐ দুপিস কষা দিয়েই একটা পুরো বাংলা টেনে দিলাম। স্যাট করে মাথায় লেগে গেল। তারপর শালী এসে দুটো মিস্টি খাওয়াতেই ফুল আউট! বৌ, শালি এমনকি শশুর বাড়ির কাজের মেয়ে, যাকেই দেখি যেন পিয়ালী বলে মনে হয়!

(হঠাৎ হাকিম বেরিয়ে গেল)

- কি হলো হাকিম সাহেব? কোথায় চললেন?

- আমার রোজা চলছে। এইসময় বসে বসে এমন সব খাবারের নাম কতক্ষণ শোনা যায়!

(দরজার দিকে তাকিয়ে)
- কি খোকাবাবু মনখারাপ করে দাঁড়িয়ে কেন?

- 'আ...মি কবে জা...মাইছটি যাব! সবাই এ....নজয় করছে, আমি কবে করবো! আমার কি আদৌ বি....ইয়ে হবে না!'

- (খোকাবাবুর দিকে তাকিয়ে মদনা) আমার তো খেলে কথা জড়ায়, তোর তো সারাক্ষণ জড়ায়। তোকে কে বিয়ে করবে!

- (কালিপিসি মদনাকে ধমক দিয়ে খোকাবাবুর মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে) চিন্তা করিস না, তোর জন্য আমি গরমেন্ট থেকে পাত্রীচাই বিজ্ঞাপন দেব। আগামী বছর থেকে গরমেন্ট জামাইশ্রী দেওয়া শুরু করবে। আর হ‍্যাঁ, আগামী বছর থেকে জামাইষষ্ঠী উৎসবে সমস্ত সরকারি অফিস 'পুন্ন' দিবস ছুটি থাকবে।

(সব চরিত্র কাল্পনিক)

Wednesday, 26 April 2017

গরুর রচনা

নরেন স্কুলে প্রতিদিন একটি রচনাই মুখস্থ করে যায়। আর সেটা দিয়েই সব রচনা দিব‍্যি চালিয়ে দেয়। আসলে এই গুণটা তার জিন সূত্রে পাওয়া। সেই ঘটনাটা মনে আছে তো যেখানে একটা ছেলে স্কুলে কেবল কুমীরের রচনা মুখস্ত করে যেত। আর শিক্ষক তাকে যে রচনাই লিখতে দিতো, সে ঘুরে ফিরে সেই কুমিরেই এসে শেষ করতো। নরেন তার নাতির ছেলে। 'চারটে জেনারেশন' ধরে সেই একই ট্র‍্যাডিশন চলছে। কেবল কুমীর পাল্টে কখনও হয়েছে হনুমান, কখনও বা পাঁঠা। এই ফোর্থ জেনারেশনে এসে হয়েছে গরু। হ‍্যাঁ সেই কুমীরখ‍্যাত ভদ্রলোকের পোপৌত্র, নরেন স্কুলে কেবল একটি রচনাই মুখস্ত করে যায়। গরুর রচনা। গরু গৃহপালিত প্রানী। গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ..... গরু গোবর দেয়। গোবর থেকে ঘুটে ও গোবর গ‍্যাস তৈরী হয়। এই গোবর গ‍্যাসই সমস্ত শক্তির উৎস। এই গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

একেবারে ঝড়ঝড়ে ২০০টি শব্দের গরুর রচনা মুখস্ত করে নরেন স্কুলে হাজির। বাংলার শিক্ষক এসে, 'একটি গাছ, একটি প্রাণ' রচনা বলতে বললে নরেন শুরু করলো - গাছ খুব উপকারি, গাছ সালোকসংশ্লেষ করে কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে আমাদের অক্সিজেন দেয়। তবে এই কাজ যে গাছ একা পারে তা কিন্তু নয়! গরুও পারে পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে অক্সিজেন ছাড়তে। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত। পরেরদিন শিক্ষক মশাই নরেনকে, 'জাতীয় সুরক্ষা' নিয়ে রচনা বলতে বললেন। নরেন যথারিতী শুরু করলো - জাতীয় সুরক্ষা দেশের পক্ষে খুব জরুরি। দেশে শক্তিশালী জল, স্থল ও আকাশ বাহিনী আছে। এছাড়া রয়েছে গো-রক্ষা বাহিনী। এরা গরুদের সুরক্ষা প্রদান করে। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

শিক্ষক মশাই দেখলো ভারি মুসকিল! নরেনকে যাই রচনা জিজ্ঞেস করে সে ঘুরে ফিরে গরুতেই এসে শেষ করে। পরেরদিন শিক্ষক মশাই একটু শক্ত রচনা দিলেন, 'অলিম্পিকে ভারত'। মনেমনে শিক্ষক মশাই ভাবতে লাগলেন, দ‍্যেখি অলিম্পিকে কি করে নরেন গরু ঢোকায়! নরেন একটু ভেবে শুরু করলো - অলিম্পিক বিশাল বড়ো খেলার আসর। ভারত এবারের অলিম্পিকে এতো কষ্ট করেও একটাও সোনা পায়নি। তবে সোনা কিন্তু সহজেই গো-মূত্রে পাওয়া যায়। গরুই আপনাকে দিতে পারে সোনা। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত। শিক্ষক মশাই রেগে আগুন তেলে বেগুন। পরেরদিন এসেই নরেনকে বলল, আজকের রচনা 'গ্লোবাল ওয়ার্মিং'। দ‍্যেখি এতে গরু ঢোকা! নরেন শুরু করলো - গ্লোবাল ওয়ার্মিং মানে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এটার জন‍্য দায়ী গ্রীনহাউস গ‍্যাস। যার মধ‍্যে থাকে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ( সি এফ সি )। এই গ‍্যাস রেফ্রিজেরেটরে ব‍্যবহার করা হয়। আর ওর ভিতরেই আকলাখ গো-মাংস লুকিয়ে রেখেছিল। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

আজ শিক্ষক মশাই কোনো কথা বলছে না, একেবারে গম্ভীর। ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসছে। ক্লাসে ঢুকেই নরেনকে ডেকে বলল, আজ 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' নিয়ে বল। দেখি এটার মধ‍্যে তুই কি করে গরু আনিস! হাতে বেতের ছড়িটা নিয়ে শিক্ষক স‍্যাডো প্র‍্যাক্টিস করতে শুরু করলেন।নরেন আজ বিখ‍্যাত উক্তি কোট করে শুরু করলো - 'পরে হবে ভাত ডাল, আগে হোক ডিজিটাল'। আমাদের দেশে এখন সুদিন, দেশ এখন ডিজিটাল। দেশ এখন ক‍্যাসলেস। দেশ এখন কার্ড নির্ভর। প‍্যানকার্ড, এটিএম কার্ড, আঁধার কার্ড। আঁধার কার্ডের সুবিধা এবার থেকে গরুরাও পাবে। গরুও এখন থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার শরিক। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

শেষে হতাশ হয়ে ও রেগে গিয়ে শিক্ষক মশাই চিৎকার করে বলতে লাগলো, গরুর আঁধার কার্ড হবে, গরু গোয়ালে না থেকে ইন্দিরা আবাসের ঘরে থাকবে, গরুর জনধন যোজনায় অ্যাকাউন্ট হবে, গরু এবার থেকে ভোটাধিকারও পাবে। নরেন মুচকি হেসে বলল, স‍্যার গরু জিওর সিমও তুলতে পারবে।

Thursday, 20 April 2017

কালীপিসির পুরী ভ্রমণ

অনেকদিন ধরেই পিসি ভাবছে পুরী গিয়ে পুজো দিয়ে আসবে কিন্তু লন্ডন জার্মানি একটার পর একটা ট‍্যুর, বিশ্ব ব‍্যাঙ্গ সম্মেলন, আহারে বাহারে নানা উৎসব আর কাজের মধ‍্যে সময় হয়নি। তাই উনি ঠিক করেছেন, হার্মাদের দেশে যাবার আগে এবারে পুজোটা দিয়েই যাবেন। তাছাড়া পুরীর কাছেই ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে পিসির দুই ভাই, দীপ আর মাল, পা ভেঙে ভর্তি আছে। তাদের সাথে দ‍্যাখাও করবে। গোলাপী উপত‍্যাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে পা ভাঙে। কয়েক মাস হলো ভর্তি আছে। পিসি ভাইয়েদের দেখতে যায়নি বলে তারা খুব দুঃখু পেয়েছে। দীপ হাসপাতালে পিসিকে দেখেই,' দিদি গো..' বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো! পিসি দীপের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আহারে বাছা একেবারে শুকিয়ে গেছে! জিম না করেই ১৫-২০কিলো ওজন কমিয়ে ফেলেছে! দীপ বরাবরই সাইকেল চালাতে খুব পছন্দ করে, তাই পিসি ভেবেছিল সবুজ সাথীর সাইকেল একটা দিয়ে আসবে। কিন্তু পা তো ভাঙা, চালাবে কি করে! তাই একটা ডায়েরি দিয়ে বলে এসেছে, এটাতে গান কবিতা যা মনে আসে লেখ, ছবি আঁকো। আমি বই মেলাতে এটাকে প্রকাশ করবো। নাম হবে, 'হাসপাতালের ডায়েরি'। 'মাল'টার সাথে পিসি আর দ‍্যাখা করেনি। পিসি খোঁজ নিয়ে দেখেছে, 'মাল'টা হাসপাতালে প্রতিদিন ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন খেয়ে দিব‍্যি আছে।


এদিকে হয়েছে আরেক বিপত্তি। গতবছর পিসির এক ভাই কৃষ্ণ দাস মানে কেডিভাই পিসির বাড়িতে নারায়ণ পাঠিয়ে ছিলেন পুজো করার জন‍্য। পিসির আরেক ভাই 'বাল'এশ্বর দায়িত্ব নিয়ে পুজো করিয়ে সবাইকে প্রসাদ দেয়। পিসির বেশকিছু ভাই, ভাইপো, ভাইঝি পুজোর প্রসাদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। খবরটা গোটা পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই তারা মাঝে মধ‍্যেই অসুস্থ হয়ে পড়তো। বেলভিউতে ভর্তিও করতে হয়েছে কয়েকবার। পিসি তার নিজের ডায়গনস্টিক সেন্টারে সবাইকে ফ্রিতে পরীক্ষা করবে বলেছিল। সেটা বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর টেনশানে আর করে উঠতে পারেনি। তবে জনস্বার্থে, এই অসুখ ছোঁয়াচে কিনা জানার জন‍্য স‍্যাম্পেল দিল্লীর ল‍্যাবে পাঠানো হয়েছিল। প্রসাদ প্রায় সবাই খেয়েছিল। কেউ তোয়ালে মুড়ে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল, তো কেউ খবরের কাগজ মুড়ে নিয়ে গিয়েছিল! কেউ আবার ব‍্যাগে করে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল! পিসির নকুল ভাই তো সবারচেয়ে বেশী প্রসাদ খেয়েছিল। এক ভাই জলখাবারে সিঙাড়া দিয়েই খেয়েছিল আর মাতাল ভাইটা তো পুজোর ফলকে চাট বানিয়ে পেগ মারতে মারতে খেয়েছিল। ভাইপোর ফিজিক্সের প্রাইভেট টিউটর, ফুটবল কোচ সবাই খেয়েছিল। পিসির ফ‍্যামেলি ফিজিসিয়ন মিতালী আর হাকিম সাহেবও খেয়েছিল। এমনকি বাড়ির সিকিউরিটি গার্ডও খেয়েছিল। এটা নিশ্চিত, প্রসাদ আরও অনেকে খেয়েছিল। তবে বাকিদের অবস্থা দেখে আর কেউ মুখ খুলছে না! পাড়ার লোকজনের মুখে একটাই কথা, পিসির বাড়ির নাযরাণ পুজো আর পিসি প্রসাদ পায়নি! এটা হতেই পারে না।

দিল্লীর ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ১৩জনের ইনফেকশনের রিপোর্ট এসেছে। মনেহয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। উডবার্নে রেখে চিকিৎসা করলে রোগ সারবে না তাই ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হবে। সেটা পিসি ভালো ভাবেই জানেন। খুব শীঘ্রই আরও জনা পোনেরোর রিপোর্ট পাঠাবে জানিয়েছে দিল্লী থেকে। তাই ভাইয়েদের হাসপাতালে থাকতে যাতে কোনো অসুবিধা নাহয় সেটাই তদারকি করতে উনি এসেছেন। অবশ‍্য সেকথা পিসি স্বিকার করেনা। বলে, আমি পুজো দিতে এসেছি।

একটার পর একটা টেনশানে পিসি যখন জর্জরিত তখন ভাবলেন পুরীর সমুদ্রে জয় জগন্নাথ বলে একটা ঢুব দিয়ে মন্দিরে একবার মাথা ঠেকিয়ে আসি। কিন্তু সমস‍্যা যেন পিসির পিছু ছাড়ছে না! এক পান্ডা হুমকি দিয়েছে, পিসিকে পুজো দিতে দেবেনা। এতো আর সাংবাদিক পান্ডা নয়, যে পিসির চাবকানির ভয়ে চুপ করে যাবে! এ আই এস আই ছাপ যুক্ত বিশুদ্ধ হিন্দু পান্ডা। পিসির রাফ এন্ড টাফ মেজাজকে তোড়াই কেয়ার করে! পান্ডাটা নিশ্চয়ই পিসিকে হিজাব পরে টিভিতে দেখেছে। অনেক কষ্টে নিজেকে 'পোকিতো হিন্দু পোমান' করে পিসি পুজো দিতে পেরেছে।

এতো ঝামেলার চাপে পড়ে কাকাতুয়া থেকে ভাইপোর জন‍্য জিভেগজা কিনবে সেটাও ভুলে গিয়েছে। জিভেগজা যে ভাইপোর ফেবারিট। বারবার করে পিসিকে জিভেগজা আনতে বলেছে ভাইপো। তাই পিসি সোনার তরী থেকে বার হবার সময় হোটেলের ম‍্যানেজারকে ২০০০এর একটা নোট দিয়ে বললো, কাউকে দিয়ে খাজা এনে দিন তো। ম‍্যানেজার মুচকি হেসে বলল, নিতে হবেনা ম‍্যাডাম! কদিন বাদেই তো ছোটোবাবু এখানে আসবে। তখন প্রতিদিন খাজা খাবে।

বি.দ্র. - বাস্তবের সাথে এই গল্পের কোনো মিল নেই। থাকলে কাকতালীয়।

Friday, 7 April 2017

মিনিটখানেক সঙ্গে চুমন

                              মিনিটখানেক সঙ্গে চুমন
চুমন = কেমন আছেন পিসি? না মানে এখন তো সুস্থ মানুষও হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে! তার ওপর আপনার ওপর তো গোটা রাজ‍্যের চাপ।

পিসি = তা যা বলেছ! এই তো ইকবাল আর কানন দিব‍্যি সুস্হ ছিল, হঠাৎ করে অসুস্থ‍্য হয়ে পড়ল।

চুমন = স্বাস্থ‍্যের কথা বললে এখন সবচেয়ে হট টপিক, গুন্ডা কন্ট্রোলের মতন বেসরকারি হাসপাতাল গুলোকেও কন্ট্রোল করতে শুরু করেছেন কি?

পিসি = তোর কি মনেহয়, পৃথাকে আমি ঘর সংসারের গল্প করতে ডেকেছিলাম! সবাই যদি বেসরকারিতে ছোটে তাহলে আমি যে সুপারস্পেশালিটির নামে নীলসাদা বাড়ি গুলো বানিয়েছি সেগুলোর কি হবে! ন‍্যায‍্য মূল‍্যের ব‍্যবসাটাও তো বন্ধ হয়ে যাবে!

চুমন = আচ্ছা পিসি, আপনি এখন আর ছবি আঁকেন না?

পিসি = কিনবে কে? যে কিনতো সে তো জেলে। তাই আর আঁকি না! সবাই তো এইসবের কদর বোঝে না!

চুমন = আচ্ছা সরকারি কর্মচারিদের ডিএ কবে বাড়বে? টেটে দূর্নিতীর অভিযোগ করছে বিরোধীরা। আপনি কি বলছেন?

পিসি = দ‍্যাখো বাপু, ভাতা হলো সরকারি অনুদান। আমি দিতেও পারি, নাও পারি। তাছাড়া অতো হুটোপাটা করলে চলবে! আমি দেব না, সে কথা তো একবারও বলিনি! এই তো আমার বিধায়করা বাইরে খাওয়া খায়ি করছে দেখে চক্ষু লজ্জায় ওদের ভাতা বাড়িয়ে দিলাম। বামেরা প্রত‍্যাখান করেছে সেটা আলাদা ব্যাপার। আর টেটের নিয়োগ ম‍্যক্সিমাম মিনিমাম থিওরি মেনেই স্বচ্ছভাবে হয়েছে।

চুমন = আচ্ছা শিশু চুরি প্রসঙ্গে কিছু বলুন? মেডিক‍্যালের মেয়েটা কিন্তু সবুজ শাড়ি পরেছিল? জুহি নাহয় অন‍্য দলের, চন্দনা তো আপনার দলের?

পিসি = দ‍্যাখো বাপু, চক্কান্ত কুৎসা আর অপপোচার করে চিটফান্ড ব‍্যবসাটা লাটে তুলে দিয়েছ! কিছু করে তো খেতে হবে নাকি! আর সবুজ শাড়ির কথায় বলি, সবুজ কিন্তু উন্নয়নের পোতিক। এটা হলো কেন্দ্র-রাজ‍্য যৌথ পোকল্প।

চুমন = সুদীপ তাপস কেমন আছে? কোনো যোগাযোগ আছে? নাকি মদনের মতন ওদেরও বয়কট করেছেন?

পিসি = দিব‍্যি আছে! তাপস তো চিলি চিকেন পিৎসার ছবি হোয়াটসঅ্যাপ করে পাঠায়। ওদের বলেছি, পুরীতে নতুন পার্টি অফিস খুলেছি। ওরা জেলে বসে আপাতত সেটার তদারকি করুক।

চুমন = অনেক প্রশ্ন হলো, এবারে আসল প্রশ্নে আসা যাক! নারদা নিয়ে কি ভাবছেন? আপনি তো বলেছিলেন আগে জানলে টিকিট দিতাম না! এখন কি করবেন? ম‍্যাথু বলেছে কেডি নাকি সমস্থ টাকা দিয়েছে। সুপ্রিম কর্টের রায় যদি বিপক্ষে যায় তাহলে আপনি কি করবেন?

পিসি = (রেগে গিয়ে ) সুপিম কোট যদি চক্কান্ত করে তাহলে আমি ইন্টারন‍্যাশান‍্যাল কোট হেগে যাবো। খচ্চার চিন্তা করি না! পাবলিকের করের টাকায় যাবো। বলেদিলুম...
তবে মনেহয় যেতে হবে না! একমাস সময় পেয়েছি তো! ঠিক ম‍্যানেজ করে নেবো। মণিপুর দিয়েই খেলা শুরু করে দিয়েছি। তবে কেডির ওপর আমি খুব খচে আছি। ওকে বুদ্ধবাবুর পাশে দেখে মনে হয়েছিল সত ব‍্যক্তি, এখন দেখছি পুরো জালি!

চুমন = তাহলে আপনি স্বিকার করছেন বুদ্ধবাবু সত? আচ্ছা আইপিএস অফিসারও আপনার পার্টির জন‍্য অনুদান নেয়?

পিসি = অনুদান যে কেউ নিতে পারে। আমার কাছে ভাগ আসলেই হলো! মদনকে নিয়ে আমার চিন্তা নেই! ওর জেল খাটা অভ‍্যেস আছে। বাকিদের নিয়ে আমার একটু চিন্তা আছে বটে। তবে জেল হলেও আমার চারটে প্রজন্ম রেডি আছে! তবে চিন্তা একটাই, নারদের অসম্পাদিত ফুটেজে যে ভাইপো আছে...
(হাসি মুখে) ও হ‍্যাঁ, আদবানী বাবু, সুসমা'জি আমার খুব প্রিয়। ওদের মধ‍্যে কাউকে আমি পরবর্তি রাষ্ট্রপতি হিসাবে দেখতে চাই।

চুমন = একটা শেষ প্রশ্ন, আপনি আগের মতন এখনও ব‍্যাগে টফি, চকলেট নিয়ে ঘোরেন?

পিসি = (এক গাল হাসি নিয়ে ) ওরে দুষ্টু, এখন কি হাইওয়ের পাশে মাচা বেঁধে আর অনশন করি! ওটা ইতিহাস....

চুমন = ধন‍্যবাদ পিসি। আমাদের চ‍্যানেলে সময় বার করে আসার জন‍্য।

পিসি = আমি কি সাধে এসেছি! জ্বালায় এসেছি!

চুমন = আপনার এতক্ষণ দেখছিলেন, মিনিটখানেক সঙ্গে চুমন। হেগে থাকে, হেগে রাখে।

ডিজিটাল রামায়ণ

                                    ডিজিটাল রামায়ণ
আদিকাণ্ড :-
দশরথ ছিলেন কোশল রাজ্যের রাজা। তখনকার দিনে রাজাদের বহুবিবাহ ছিল নিতান্তই 'ছোট্ট ঘটনা'। তাঁর তিন মহিষী: কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। কৌশল্যার গর্ভে রাম, কৈকেয়ীর গর্ভে ভরত এবং সুমিত্রার গর্ভে লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন নামে দুই যমজ পুত্রের জন্ম হয়। একদা ঋষি বিশ্বামিত্র দশরথের সভায় উপস্থিত হয়ে তাঁর আশ্রমে উপদ্রব সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসবাদীদের ধ্বংস করতে রাজার সহায়তা প্রার্থনা করেন। তিনি এই কাজের জন্য রাম ও লক্ষ্মণকে নিয়ে যান এবং শিফুজির স্পেশাল কমান্ডো ট্রেনিং ও রামদেব বাবার যোগ সাধনা করান। দুজনে সার্জিক‍্যাল স্টাইক করে আশ্রমে উপদ্রব সৃষ্টিকারী সকল সন্ত্রাসবাদীদের হত্যা করেন। এর ভিডিও ফুটেজ যদিও পাওয়া যায়নি! তবে হয়েছিল বটে!

এই সময়ে মিথিলার রাজা জনক তাঁর বিবাহযোগ্যা কন‍্যার জন্য স্বয়ম্বরের আয়োজন করেন। শিব রাজা জনককে একটা ধনুক গিফ্ট দিয়েছিলেন। রাজা গোঁ ধরেন, যে এই ধনুকে গুণ সংযোজন করতে পারবে, তাকেই অপরূপা সীতা পতিত্বে বরণ করবে। ঋষি বিশ্বামিত্র সীতার ফেসবুক পেজে এই খবর দেখে রাম ও লক্ষ্মণকে নিয়ে সেই স্বয়ম্বর সভায় উপস্থিত হলেন। রাম সেই ধনুকে গুণ পরালেন এবং বার খেয়ে সেটা ভেঙেও দিলেন। রামের সঙ্গে সীতার বিবাহ হল। শুধু তাই নয়, ডিমনিটাইজেশনের জন‍্য খরচ বাঁচাতে দশরথের অন্যান্য পুত্রদের সঙ্গে জনকে অন্যান্য কন্যা ও ভাগিনেয়ীদের বিবাহ সম্পন্ন হল।

অযোধ্যাকাণ্ড :-
রাম ও সীতার বিবাহের বারো বছরের বিবাহ বার্ষিকিতে বৃদ্ধ রাজা দশরথ রামকে একটা দশলাখি কোর্ট গিফ্ট করলেন এবং যুবরাজ হিসাবে অভিষিক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। পিসি মন্থরার কুমন্ত্রণায় কৈকেয়ী রাজার কাছে দাবি করেন যে রামকে চৌত্রিশ বছরের জন্য বনবাসে পাঠাতে হবে এবং তাঁর স্থলে ভরতকে যুবরাজ হিসাবে অভিষিক্ত করতে হবে। রানীর সব কিছুতেই চৌত্রিশ, এই নিয়ে পরে সবাই যখন সমালোচনা করতে শুরু করলো তখন উনি কমিয়ে চোদ্দ বছর করেন।

রাম পিতাকে আশ্বস্থ করে বলেছিল, চিন্তা করো না! কোনো ভয় নেই! জঙ্গলমহল এখন হাসছে! লক্ষ্মণও নিজের ক‍্যারিয়ার বিষর্জন দিয়ে, বৌ ছেড়ে দাদা বৌদির সাথে চলল। রাম চলে যাবার পর পুত্রশোকে দশরথের স্টোক হয়। এই ঘটনার সময় ভরত ছিলেন তাঁর মাতুলালয় নন্দীগ্রামে। সব শুনে ভরত সত্বর অযোধ্যায় ফিরে এলেন। রামকে খুঁজতে ভরতও জঙ্গলমহলে গেলো। তিনি রামকে অযোধ্যায় ফিরে রাজপদ গ্রহণের অনুরোধ জানাল। কিন্তু রাম রাজি না হলে, ভরত তখন রামের হাওয়াই চটি চেয়ে নিয়ে বললেন, এই হাওয়াই চটিই আপাতত রাজ‍্য চালাবে।

অরণ্যকাণ্ড:-
রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ, কোনো কালেই ওরা কখনও বামে যাননি তাই দক্ষিনে যাত্রা করেন। গোদাবরী নদীর তীরে আম্বানীর লিজে নেওয়া জমির পাশে পঞ্চবটী বনে কুটির নির্মাণ করে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন তাঁরা। একদিন রাবণের বোন সুর্পনখা রামকে দেখে প্রোপোজ করলো। রাম তারপর প্রোপজটা ভাই লক্ষণকে ফরয়ার্ড করলো। লক্ষণ এক ছোবলেই ছবি বানিয়ে দিলো।

রাবণ এই সংবাদ পেয়ে ভগিনীর অপমানের প্রতিশোধ নিতে অধিকারীর সাথে পরামর্শ করে সীতাকে অপহরণ করলেন। তিনি ঋষির ছদ্মবেশে এসে সীতার নিকট পতঞ্জলীর প্রোডাক্ট বিক্রি করতে এলেন। কসমেটিক দেখেই সীতা গন্ডির বাইরে বেরিয়ে এলো। আর তখনই রাবন তাকে নিয়ে পারসোনাল চাটার্ড ফ্লাইটে সোজা লঙ্কা।
রাবণ সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে লঙ্কায় অশোক কানন নজরবন্দী করে একদল সন্ত্রাসবাদীর তত্ত্বাবধানে রাখলেন। তিনি সীতাকে প্রোপজও করলেন। সীতা তো এখন রামের অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডে জানাতেও পারবে না! অপমান সহ‍্য করা ছাড়া সীতার কিছু করার নেই।

কিষ্কিন্ধাকাণ্ড :-
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বানরবীর তথা সুগ্রীবের লবি হনুমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হল রাম ও লক্ষ্মণের। সুগ্রীব ছিলেন কিষ্কিন্ধার নির্বাসিত এক রাজপদপ্রার্থী। ইভিএম-এ জালিয়াতি করে তাকে ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়। রাম সুগ্রীবের লবিতেযোগ দিলেন। রাম এবং সুগ্রীব, বালীকে চক্রান্ত করে হত্যা করলেন। রামের সহায়তায় সুগ্রীব নিজভ্রাতা বালীকে হত্যা করে কিষ্কিন্ধার সিংহাসনে আরোহণ করলেন।

সুন্দরকাণ্ড :-
হনুমান প্রদ‍্যুম্ন ভল্ট দিয়ে এক লাফে সাগর পার হয়ে লঙ্কায় উপস্থিত হলেন। লঙ্কায় এসে তিনি সীতাকে রামের দেওয়া জিও সিম লাগানো ফোরজি সেটটা দিলেন। সেটা দিয়েই সীতা প্রতিদিন রামকে মন কি বাত শোনাতো। হনুমান সীতাকে নিয়ে যেতে চাইলে সীতা বায়না ধরে, রামকে এসেই নিয়ে যেতে হবে। অতঃপর হনুমান রামের স্বচ্ছতার প্রোপাগান্ডা গুলি মেরে, নিজেই পাকামি মেরে লঙ্কায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালালেন। তারপর লেজে আগুন লাগিয়ে লঙ্কা পুড়িয়ে, নিজের মুখ পুড়িয়ে ফিরে আসে।

লঙ্কাকাণ্ড :-
সীতার হোয়সঅ্যাপ ম‍্যাসেজ পেয়ে রাম ও লক্ষ্মণ বানর সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সমুদ্রতীরে রাবণের ভ্রাতা রেজ্জাকের সাথে দেখা হয়। তিনিও মন্ত্রীত্ব লাভের আশায় উন্নয়নের জোয়ারে সামিল হলেন। অঙ্গদ, জাম্বুবান প্রমুখ বানরেরা আর্কিমিডিসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাথর জলে ভাসিয়ে সমুদ্রের উপর একটি সেতু করলেন। সেই সেতুপথে রাম সসৈন্যে লঙ্কায় প্রবেশ করলেন। লঙ্কায় রাম ও রাবণের মধ্যে এক দীর্ঘ যুদ্ধ সংঘটিত হল। যুদ্ধান্তে রাবণ নিহত করে লঙ্কায় হিন্দু রাজ‍্য প্রতিষ্ঠা করলেন। সীতা ফিরে এলো কিন্তু রামের মন থেকে খচখচানি গেলো না! দীর্ঘদিন সন্ত্রাসবাদীদের সাথে সীতা ছিল। যদি কিছু ... তাই সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে সতীত্ব প্রমাণ করতে বললেন রাম। সীতাও আর পাঁচটা গৃহবধূর মতন মেনেও নিলো।

উত্তরকাণ্ড :-
রাজা হওয়ার পর রাম অনেক কাল সীতাকে নিয়ে সুখে সংসার করেন। এদিকে অগ্নিপরীক্ষিতা হওয়া সত্ত্বেও সীতাকে নিয়ে অযোধ্যায় নানান কুৎসা অপপোচার ছড়াতে শুরু করে। এই সব বিচলিত হয়ে রাম সীতাকে নির্বাসনে পাঠান। প্রেগন‍্যান্ট সীতা রামের জননী সুরক্ষা যোজনার সুবিধা না পেয়ে আশ্রয় নেন ঋষি বাল্মীকির আশ্রমে। সেখানেই তাঁর যমজ পুত্রসন্তান লব ও কুশের জন্ম হয়। সীতা দুই শিশুকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। আসলে বেশকিছু রামভক্ত যে শিশুপাচারে যুক্ত সেটা তিনি জানতেন।

বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও - এর প্রচারে লব ও কুশ রামের সভায় উপস্থিত হন। লব ও কুশের কথা শুনে রামের মনটা নস্টালজিক হয়ে পড়ে। তখন বাল্মীকি সীতাকে নিয়ে আসেন রামের সম্মুখে। কিন্তু রাম তো বাঙালী তাই অভ‍্যেসটা একই রয়ে গেছে। সকলের সম্মুখে সীতাকে পুনরায় অগ্নিপরীক্ষা দেওয়ার আবদার করে বসে। অপমানিতা সীতা স্বামীর এই নারীনির্যাতন সহ‍্য না করতে পেরে, মাতা ধরিত্রীকে আহ্বান জানান। মাটি বিদীর্ণ হয়। দেবী ধরিত্রী উঠে এসে সীতাকে নিয়ে পাতালে চলে যান। স্ত্রী চিরকালের মতন ছেড়ে যাবার পর, রামের চেতনা হয়। তখন রাম পুত্রদ্বয়ের হাতে শাসনভার ছেড়ে দিয়ে সরযূ নদীর উন্নয়নের জোয়ারে আত্মবিসর্জন করে বৈকুণ্ঠে ফিরে আসেন।

( বি.দ্র. - এটি একটি কাল্পনিক রচনা। ধর্মের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।)