Friday, 15 July 2016

ইন্টারন্যাশনাল তোলাবাজ


কেল্টু কেমন ছেলে সেটা আর নিশ্চয়ই নতুন করে বলতে হবে না! সুবোধ বালক বলে তার নামে কেউ কোনদিন কোনো দুর্নাম রটায়নি। তার অত্যাচারের শিকার হয়নি এমন কোনো ছেলে হোস্টেলে আছে বলে মনে হয় না! রান্নার ঠাকুর থেকে বাগানের মালী, এমনকি সুপারিনটেন্ডেন্টবাবুও বাদ যেতেন না। তবে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে নন্টে আর ফন্টেকে।

প্রথম প্রথম হোস্টেলের সবার টিফিনে সে জোর করে ভাগ বসাতো। রান্নার ঠাকুরকে চমকে রান্নাঘর থেকে খাবার সরাতো। তবে যেদিন থেকে সুপারিনটেন্ডেন্ট সাহেব সেই কেল্টুকেই হোস্টেলের মনিটর করে দিল, সেদিন থেকেই কেল্টুর দৌরাত্ম্য লাগামছাড়া হয়ে গেলো। নিয়মিত হোস্টেলের অন্য ছেলেদের র‌্যাগিং করে ‘দাদাগিরি ফি’ মানে তোলা আদায় করতে লাগল। ইদানিং তো কেল্টুর বাড়বাড়ন্ত হোস্টেল ছাড়িয়ে, গোটা সেক্টর ফাইভে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেলুনওয়ালা থেকে গরিব রিক্সাওয়ালা পর্যন্ত তার হাত থেকে নিস্তার পেত না।

গতকাল সকালে হঠাৎ নাসিরের রুম থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ পেয়ে নন্টে আর ফন্টে দৌড়ে গিয়ে দেখে, কেল্টুদা জোর করে নাসিরের মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে নিচ্ছে। নাসির হোস্টেলে নতুন। মাত্র এক সপ্তাহ হয়েছে সে বাংলাদেশ থেকে এদেশে পড়তে এসেছে। একটু গো-বেচারা টাইপের ছেলে নাসির। তাই কেল্টু যখন তাকে চমকালো, তখন সে একটু ভয়ই পেয়ে গিয়েছিল। কেল্টু নাসিরের মানিব্যাগ থেকে কড়কড়ে একটা ৫০০টাকার নোট বার করে নিয়ে বললে, ‘দু’দিনের দুটো কার্লসবার্গ আর চাটের খরচ।’ তারপর নাসিরকে উদ্দেশ্য করে বললে, ‘সপ্তাহে ৫০০ করে সেলামি দিতে হবেআর হ্যাঁ, পরের বার আমি নিতে আসব না, আমার রুমে এসে দিয়ে যাবি।’

কেল্টু চলে যাবার পর নাসির তার বড়ো খালা মহসিনাকে ফোন করে সব বেত্তান্ত বললো। এমনকি কেল্টুর একটা ছবিও হোয়াটস্‌অ্যাপে পাঠিয়ে দিলো। মহসিনা খালা প্রতিবেশী দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার ওপর খালার সাথে সুপারিনটেন্ডেন্ট সাহেবের আবার মধুর সম্পর্ক। তাই নাসিরের কাছ থেকে সবটা শুনে যখন মহসিনা বিবি সুপারিনটেন্ডেন্ট সাহেবকে কেল্টুর নামে অভিযোগ করলেন, তখন একপ্রকার বাধ্য হয়েই সুপারিনটেন্ডেন্ট সাহেব পুলিশ ডাকলেন। যদিও কেল্টু যে হোস্টেলে তোলাবাজি করে, সে কথা নন্টে-ফন্টে আগে অনেকবার সুপারিনটেন্ডেন্ট সাহেবকে বলেছে, কিন্তু তখন তিনি এসব কথা কানেই তোলেনি। তখন তো সুপারিনটেন্ডেন্ট সাহেবের নয়নের মণি ছিল কেল্টু। আর তোলার টাকায় প্রায়ই সুপারিনটেন্ডেন্ট সাহেবের জন্য নিত্যনতুন খাবার নিয়ে আসতো কেল্টু।

কেল্টুকে আজ যখন পুলিশ কলার ধরে প্রিজন ভ্যানে ভরে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন হোস্টেলের সবাই তা দেখে নিজেদের মধ্যে গুজ্‌গুজ্‌ ফুস্‌ফুস্‌ করছিল। সুপারেনটেন্ডেন্ট স্যার তার রুমের বাইরে দাড়িয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন, ‘হতচ্ছাড়াটা বড় বেড়েছিল, এতদিনে বিদায় হলো।’ কিন্তু কেল্টুর ভবি ভোলবার নয়। প্রিজন ভ্যানে ঢোকার আগে সে হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে নাসিরের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘পুলিশ আমাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারবে না। জামাইবাবুকে ফোন করেছি, বলেছে থানায় ছেলে পাঠিয়ে ছাড়িয়ে আনবে। ফিরে এসে হিসাবের খাতাটা মিলিয়ে নেব। তৈরি থাকিস্‌।’

নন্টে আর ফন্টে হোস্টেলের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। যখন প্রিজন ভ্যানটা গেট থেকে বের হচ্ছিল, তখন নন্টে কেল্টুদার দিকে তাকিয়ে ফন্টেকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘আমাদের কেল্টুদা আজ ইন্টারন্যাশনাল তোলাবাজের স্বীকৃতি পেল।’

Thursday, 7 July 2016

দাশুর দোলনা

দশটা বেজে গেছে, ঢং ঢং করে স্কুলের ঘণ্টা পড়ে গেল। সবাই যে যার ক্লাশে চলে গেল, এমন সময় দেখি পাগলা দাশু, স্কুল থেকে দেওয়া নতুন জুতো পরে পিঠে সরকারি ব্যাগ ঝুলিয়ে, মুখে একগাল হাসি নিয়ে ক্লাসে ঢুকছে। নবীনচাঁদ  বলল, ‘‘শুনেছিস? আমাদের স্কুলে দোলনা বসছে।’’ যেমন বলা, অমনি দাশরথি হঠাৎ হাত-পা ছেড়ে বইটই ফেলে খ্যাঃ খ্যাঃ খ্যাঃ খ্যাঃ করে হাসতে হাসতে একেবারে মেঝের ওপর বসে পড়ল! পেটে হাত দিয়ে গড়াগড়ি করে, একবার চিত হয়ে, একবার উপুড় হয়ে, তার হাসি আর কিছুতেই থামে না! দেখে আমরা তো অবাক!

পণ্ডিতমশায় ক্লাসে এসেছেন, তখনো পুরোদমে তার হাসি চলেছে। সবাই ভাবল, ‘‘ছোঁড়াটা খেপে গেল নাকি?’’ যা হোক, খানিকটা হুটোপুটির পর সে ঠান্ডা হয়ে, ব্যাগ থেকে ‘কথাঞ্জলি’ বার করে ফার্স্ট বেঞ্চের এক ধারে বসে পড়ল। পণ্ডিতমশায় বললেন, ‘‘ওরকম হাসছিলে কেন?’’ দাশু নবিনচাঁদকে দেখিয়ে বলল, ‘‘স্যার, নবীন বলল, আমাদের স্কুল নাকি এবারে সেন্ট্রাল পার্ক মডেলে তৈরী হবে!’’ পণ্ডিতমশায় তাকে বললেন, ‘‘তোমাকে না আজ স্কুলে আসতে নিষেধ করেছিলাম দাশু। আজ বোর্ড থেকে কয়েকজন আসবেন স্কুল ইনস্পেকশন করতে। কোনোরকম বদমায়েশি করবে না। তাহলে কিন্তু আমার চাকরি চলে যাবে।’’ দাশু খানিক মাথা চুলকে বলল, ‘‘আচ্ছা স্যার, যদি আপনার চাকরি চলে যায়, তাহলে কি আপনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কোটায় আবার চাকরি পাবেন?’’ পণ্ডিতমশায় খুব কড়ারকমের ধমক লাগিয়ে তাকে বললেন, ‘‘আর একবার যদি তুমি মুখ খোলো তাহলে চাব্‌কে লাল করে দেব। এখন যাও গিয়ে পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বোসো।’’ কিন্তু পাগলার তাতেও লজ্জা নেই, সে ‘কথাঞ্জলি’ বইটা দিয়ে মুখ আড়াল করে ফিক্‌ফিক্ করে হাসতে হাসতে পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বসল।

কিছুক্ষণ পরে ইনস্পেক্টর সদলবলে এসে পৌছোলেন। প্রথমেই আমাদের ক্লাসে ঢুকে ইনস্পেক্টর প্রশ্ন করলেন, ‘‘আচ্ছা বলতো, কোলকাতার কাছে গড়ে ওঠা একটা স্মার্ট সিটির নাম কি?’’ কেউ উত্তর দিতে পারছে না। এমন সময় দাশু পিছনের বেঞ্চ থেকে হাত তুলল। পন্ডিতমশাই দাশুর দিকে কট্‌মট্‌ করে তাকিয়ে হাত নামাতে ইশারা করলেন। কিন্তু কে কার কথা শোনে! দাশু এবারে নিজে দাঁড়িয়ে বলল, ‘‘স্যার, ওটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর তৈরী রাজারহাট।’’ ইনস্পেক্টর-‘‘ইয়েস! রাজারহাট, উত্তরটা সঠিক। তবে ওটা তো ওনার তৈরী নয়!’’ দাশু-‘‘না স্যার, ওটা উনিই তৈরি করেছেন। আর ইঁট বালি সিমেন্ট সব সব্যদা সাপ্লাই দিয়েছেন। জানেন স্যার! আমি শুনেছি, তাজমহল তৈরীর সময় শাহজাহানকেও সব্যদা মার্বেল সাপ্লাই দিয়েছিলেন।’’

দাশুর এক্সট্রা উত্তরে ইনস্পেক্টর একটু থমকে গেলেন, তারপর দ্বিতীয় প্রশ্ন করলেন, ‘‘আচ্ছা বলতো, একজন শিক্ষকের বেতন যদি প্রতি বছরে ১৪শতাংশ করে বাড়ে, তাহলে যে ব্যক্তির বেতন এখন ১৫হাজার টাকা তার বেতন পাঁচ বছর পরে কতো হবে?’’ আবার দাশু সবার আগেই হাত তুলে দাঁড়িয়ে। পন্ডিতমশাই আবার তার দিকে কট্‌মট্‌ করে তাকিয়ে। অন্য কেউ পারছে না দেখে বাধ্য হয়ে ইনস্পেক্টর দাশুকে বলতে বললেন। দাশু বলল, ‘‘স্যার, এক টাকাও বাড়বে না। ওটা তো রাজ্য সরকারের আন্ডারে।’’

ইনস্পেক্টর এবারে পন্ডিতমশাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘‘আপনার এই ছাত্র তো দেখছি একেবারে রত্ন।’’ পন্ডিতমশাই বললেন, ‘‘স্যার, ওটা একটা গাধা! ওকে দিয়ে কিস্যু হবে না।’’ দাশু এবারে গম্ভীরভাবে বলল- ‘‘স্যার, আমি বড় হয়ে একদিন কিন্তু উপাচার্ষ হবো।’’ পন্ডিতমশাই রেগে গিয়ে বললেন, ‘‘ওরে ছাগল! উপাচার্ষ হতে গেলে কতো পড়াশুনা করতে হয় জানিস! পি এইচ ডি করতে হয়।’’ দাশু বলল, ‘‘স্যার, এখন আর ওসব পি এইচ ডি লাগে না! আর যদি বলেন একান্ত দরকার, তাহলে আমি অমন ডিগ্রি দুদিনেই বানিয়ে নিতে পারি। কোথাকার ডিগ্রি লাগবে বলুন না! ইস্ট জর্জিয়া, নাকি উত্তরবঙ্গ!’’

ইনস্পেক্টর এবারে নিজেই হেসে ফেললেন দাশুর উত্তর শুনে। তারপর বললেন, ‘‘আচ্ছা, তুমি এতো কিছু জানো, তোমার এতো জ্ঞান, তাহলে পিছনের বেঞ্চে বসো কেন?’’ দাশু এবারে ফিক্‌ করে হেসে বলল, ‘‘দাদা বলেছে পিছনের বেঞ্চে বসতে। কারণ ছুরিটা নাকি পিছন থেকেই আসে।’’


নবীন, কেষ্টা ও ক্লাসের বাকি বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল – ‘‘আচ্ছা, দাশু কি সত্যি সত্যি পাগল, না, কেবল মিচ্‌কেমি করে?’’

Thursday, 16 June 2016

অথ মদনানন্দ বচনামৃত


(জেলের মধ্যে এক কয়েদী ও কনস্টেবলের কাল্পনিক কথোপকথন)

কনস্টেবল = অনেক রাত হলো, এবারে ঘুমিয়ে পড়ুন।

(কয়েদী কনস্টেবলের দিকে না তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে নিজের পেগ বানাতেই ব্যস্ত)

কনস্টেবল = বলছিলাম কি স্যার, আজ অনেকটা খেয়েছেন। তাছাড়া আপনার শরীরটাও এখন ভালো যাচ্ছে না। এমনিতেই প্রায় প্যানিক অ্যাটাক হয়। সেদিন তো এস এস কে এম-এর সিঁড়িতেই মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন।

কয়েদী = (কটমট করে লাল চোখে তাকিয়ে) স্যার! কে স্যার? কার স্যার? স্যার তো এখন ঐ মেদনীপুরিয়া। অধিকারীরই তো এখন সব অধিকার। আমি তো বলির পাঁঠা!

কনস্টেবল = (মনে মনে) ব্যাটা ছিল ছাগল, হয়েছে পাঁঠা! (প্রকাশ্যে) ছিঃ! ছিঃ! কি যে বলেন, আপনিই তো আমাদের স্যার, আপনিই আমাদের দাদা! মাত্র কয়েকটা ভোটেরই তো পার্থক্য! মানুষ কিন্তু আপনার বিন্দু বিন্দু করে উন্নয়নের সিন্ধু করার কথা মোটেই ভোলেনি।

কয়েদী = (এক ঢোকে পেগটা শেষ করে দিয়ে) তিন দিন, বুঝলে মাত্র তিন দিন আমাকে বাইরে ছেড়ে দিয়ে আবার ভোট করুক। দেখি কত দম! কম করে পঞ্চাশ হাজার ভোটে জিতবো!

কনস্টেবল = বলেন কি দাদা! (মনে মনে) নেশাটা বেশ চড়েছে তাহলে!

কয়েদী = কি বিশ্বাস হচ্ছে না! মা সারদার দিব্যি, পঞ্চাশ হাজারে যদি না জিতি তাহলে সার্টিফিকেটই নেব না। আরে মানুষ আমার বক্তৃতা শুনলো না, আমাকে চোখে দেখল না, তাতেই এতো ভোট। তাহলে ভাবো আমি যদি বাইরে থাকতাম তাহলে কি রেজাল্ট হতো!

কনস্টেবল = শুনেছিলাম ভোটের সময় বীরভূম থেকে ঢাকী এসেছিল কামারহাটিতে চড়াম্‌ চড়াম্‌ করে ঢাক বাজাবে বলে! কেন্দ্রীয় বাহিনী আর কমিশনের জন্য নাকি তারা ঠিকমতো ঢাক বাজাতেই পারেনি?

কয়েদী = হ্যাঁ, কমিশন তো সিপিএমের হয়েই কাজ করেছে। কিন্তু তাতেও সিপিএমের এখন যা অবস্থা, তাতে OLX- বেচে দিতে হবে।

কনস্টেবল = কিন্তু স্যার, কেরালায় তো সিপিএম আবার জিতলো। ত্রিপুরাতেও ওদের গরমেন্ট আছে!

কয়েদী = আরে, ত্রিপুরাটা সামনের বার নিয়ে নেবো! খালি আমাকে একটু বেরোতে দিক না! কেরালাটাও ওদের হাতছাড়া হবে। সাউথে অনেকগুলো নায়িকা আমার জানাশোনা!

কনস্টেবল = (মনে মনে) নেশাটা একেবারে ব্রহ্মতালুতে চড়ে গেছে মনে হচ্ছে! (প্রকাশ্যে) আচ্ছা, আপনাকে তাহলে ছাড়ছে না কেন, স্যার! সবাইকেই তো ছেড়ে দিচ্ছে! এই তো মুন্নাভাই ছাড়া পেয়ে গেলো! দিদিভাই একটু দাদাভাইকে বলে ব্যবস্থা করতে পারছে না?

কয়েদী = (একটু হতবিহ্বল চোখে কিছুক্ষণ কনস্টেবলের দিকে তাকিয়ে রইলো, তারপর মুখ খুললো) হবে, হবে! সব হবে! তাছাড়া, আমি তো এখন ‘প্রভাবশালী’ও নই, ‘প্রাক্তন’  হয়ে গেছি। সিনেমাটা কিন্তু দেখার ইচ্ছে ছিল। দেখি, সিডিটা আনিয়ে নিতে হবে! 

কনস্টেবল = আচ্ছা স্যার, আপনি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটা দেখেছিলেন? ওটা তো ১০কোটি টাকার গালা মেগা ইভেন্ট! প্রচুর ঘ্যামা লোকজন এসেছিল। সবাই বলাবলি করছিল, এটা নাকি বিশ্বমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে! ঢালাও খানাপিনারও আয়োজন ছিল। হায়াত রিজেন্সি থেকে খাবার এসেছিল।

কয়েদী = যেতে তো পারিনি, তাই এই লক-আপে বসে বসেই আমার এল ই ডি-তে দেখেছি। অনেকগুলো সুবিধাবাদী লোক স্টেজে ঘোরাফেরা করছিল। কয়েকটা দিব্যি মন্ত্রীও হয়ে গেল। আমার এক চ্যালা এসে বললো, ‘গুরু খাওয়া-দাওয়ার মেনুতে সব দারুণ দারুণ চাট্‌ ছিল।’ আমার কপাল খারাপ তাই এই জেলে বসে শুকনো ছোলাভাজা, শসা আর কাঁচা লঙ্কা দিয়েই কাজ চালাচ্ছি।

কনস্টেবল = নবান্নে ঢুকতেই পুষ্পবৃষ্টি! আমাদের ডিপার্টমেন্ট তো ওনাকে 'গার্ড অব অনার' দিলো।

কয়েদী = (এবারে কিছুটা বিরক্ত হয়ে) আরে অমন পুষ্পবৃষ্টি আমি যখন জেলে ঢুকি তখন অনেকেই দিয়েছিল। আর কি বললে! গার্ড অব অনার! ওটা অনার (Honour) নয়, ওনার (Owner)। মানে আগামী পাঁচ বছর তুমি টেবিলের নিচে থাকো।

কনস্টেবল = আচ্ছা দিদি তো বলেছিলেন, আগে জানলে যারা নারদাকান্ডে অভিযুক্ত তাদেরকে টিকিটই দিতেন না। আর জেতার পরই তাদেরই মন্ত্রী করে দিলো! এটা একটা কেমন কেমন হলো না?

(কয়েদী পরের পেগটা বানাতে বানাতে হঠাৎ থমকে গিয়ে কট্‌মট্‌ আবার কনস্টেবলের দিকে তাকালেন)

কনস্টেবল = (চকিতে মনে পড়ে গেলো, ইনিও তো নারদায় অভিযুক্ত। তাই তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ পাল্টে) না মানে, অনেকেই তো হেরে গিয়েও মন্ত্রী সমতুল্য পদ পেল। তাই বলছিলুম, যদি আপনাকেও আবগারি দপ্তর বা কারা বিভাগের উপদেষ্টামন্ডলীর চেয়ারম্যান করে দিতেন তাহলে খুব ভালো হতো। আফটার অল, এই দুটি দপ্তর সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তো আপনারই সবচেয়ে বেশি।

কয়েদী = (কপট রেগে গিয়ে পেগটাতে জল-সোডা কিছুই না মিশিয়ে একেবারে র’ মেরে দিলো। তারপর চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট চুপ থাকার পর মুখ খুললো) নাহ, আমি কিছুতেই কুনাল হবো না। আমার হাজার রাগ হলেও আমি ওনার বিরুদ্ধে কিছুতেই মুখ খুলবো না। (তারপর দুটো ছোলাভাজা গালে ফেলে, রিমোটটা হাতে নিয়ে মিউজিক সিস্টেমটার ভলিউম বাড়িয়ে দিলো)

কনস্টেবল = আচ্ছা, আপনি তো বলেছিলেন ভোটের রেজাল্টের পর ভোজপুরী শুনবেন। তাহলে হঠাৎ মহম্মদ রফি শুনছেন কেন?

কয়েদি = ভোজপুরী আমার বরাবরই প্রিয়। তবে এখন এই জেলের ভিতর একা একা বসে ভোজপুরী শুনতে বড়ো কষ্ট হয়। বারে বারে মনটা পিয়ালীর জন্য হু হু করে ওঠে। চোখের সামনে পুরনো দিনগুলোর স্মৃতি ভেসে ওঠে।

(চোখের কোনে হালকা জল গারদের আবছা আলোতে একবার চিক্‌চিক্‌ করে ওঠে। মিউজিক সিস্টেমে তখন রফির কন্ঠ ভেসে আসছে, ‘জিনা ইঁহা, মরনা ইঁহা, ইসকে সিবা জানা কাঁহা!’)

(cartoon: collected from net)

******

Wednesday, 1 June 2016

নেহাতই একটি ‘ছোট্ট ঘটনা’


এত হইচই করার কী আছে মশাই বুঝি না! একটা গণধর্ষণই তো হয়েছে। এতে কী এমন গণতন্ত্র অশুদ্ধ হয়েছে শুনি! মাকুগুলোর খেয়েদেয়ে কাজ নেই তাই তারা ফেসবুকে একটার পর একটা পোস্ট করেই যাচ্ছে।
আসলে ওরা জানে না, যে ২১১টা আসন পেয়ে গণতন্ত্র যখন চড়াম্‌ চড়াম্‌ করে চলে তখন এমন হাজারো গণধর্ষণের কান্না চাপা পড়ে যায়। রাজ্যবাসী এখন বিজয় উৎসবে মত্ত। তাই এখন গণধর্ষণের মতন এমন একটা 'ছোট্ট ঘটনা' নিয়ে অগণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো মানেই হয় না।
আর আমরা তো জানি, নিউটনের ‘চতুর্থ’ সূত্রানুসারে- উন্নয়নের সাথে ধর্ষণ সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। গত পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গবাসী সেটাই দেখে আসছেন। সুতরাং এটা বলাই যায়, নির্বাচন পরবর্তী এই গণধর্ষণ বাংলার উন্নয়নের সূচককেই নির্দেশ করছে।
আর যে সমস্ত কুচুটে কুৎসাকারীরা এই ধর্ষণের মধ্যে পার্ক স্ট্রিটের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, দৃষ্টিশক্তি বাড়ান।
দরকার হলে চোখের ছানি পরিষ্কার করুন। তাহলেই পার্ক স্ট্রিট ছাড়িয়ে রেড রোড দেখতে পাবেন।
মন ভালো থাকবে। ‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল’ হয়ে যাবে।

********
 একটি অপ্রয়োজনীয় সালতামামি

গতবার ক্ষমতায় আসার পরই ঘটেছিল পার্ক স্ট্রিট। তাই তালিকাটি তারপর থেকেই দিলাম। পারলে স্মৃতি রোমন্থন করতে পারেন। যদিও এই তালিকা এখন অপ্রয়োজনীয় মনে হতেই পারে।
তবুও!
‘স্মৃতি সততই সুখের’ হয় না।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২: বর্ধমানের কাটোয়ার কাছে চলন্ত ট্রেনে কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ধর্ষিতা হতে হলো এক মহিলাকে।
১ মার্চ ২০১২ : বাঁকুড়ার সরকারী হাসপাতালের এক জুনিয়র ডাক্তার ধর্ষণ করলো এক কিশোরীকে।
১০ মার্চ ২০১২ : বীরভূমে এক আদিবাসী মহিলাকে পাঁচজন মিলে গণধর্ষণ করলো। পরে সেই মহিলাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিলো গ্রামবাসী। ১২হাজার টাকা জরিমানা করা হলো মহিলার। এমনকি তাঁর গরু পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হলো।
২৩ মার্চ ২০১২ : হাওড়ায় ধর্ষিতা হলেন নববধু তাঁর স্বামীর দুই বন্ধুর দ্বারা।
১ জুলাই ২০১২ : বীরভূমের রামপুরহাট স্টেশনের কাছে ধর্ষিতা হলো দুমকার এক বালিকা।
১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ : মুর্শিদাবাদে ১৪ বছরের এক বালিকা ধর্ষিতা হলো।
১২ অক্টোবর ২০১২ : আসানসোলের কলেজ ছাত্রীর জন্মদিন সেলিব্রেট করতে গিয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিয়নে ম্যাঙ্গো জুসে ড্রাগ মেশানো হয়। পরে তাকে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়।
৬ জানুয়ারি ২০১৩ : উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের মিনাপাড়া গ্রামে দু- বছরের শিশুকেও ধর্ষিত হতে হয়!
৭ জানুয়ারি ২০১৩ : বাঁকুড়ায় ৪জন সংখ্যালঘু নাবালিকা ধর্ষিতা হয়। এদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ : হুগলীর ডানকুনিতে এক সংখ্যালঘু ছাত্রী ধর্ষিতা হলো।
১৯ মার্চ ২০১৩ : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং-এ ধর্ষিতা হলো বছর তিরিশের এক গৃহবধু। স্বামীর অনুপস্থিতিতে বন্দুক দেখিয়ে চলে ধর্ষণ।
১১ এপ্রিল ২০১৩ : কালিম্পঙ-এ ১৪ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ করলো বৌদ্ধ সাধু ও আরও দু’জন স্থানীয় লোক।
৩০ এপ্রিল ২০১৩ : রানীগঞ্জে ধর্ষিতা হলো সংখ্যালঘু এক নাবালিকা। বাস পুড়িয়ে বিক্ষোভ হলো।
২৮ মে ২০১৩ : হুগলীর আরামবাগে মধ্যবয়স্ক এক মহিলা তাঁর মেয়ের বিবাহ অন্য জায়গায় দেওয়ায় তাঁকে ক্ষোভে ধর্ষণ করে খুন করলো এক যুবক।
২ জুন ২০১৩ : কলকাতার কালিঘাটে ২১ বছরের এক বিদেশিনী(আইরিশ) ধর্ষিতা হলেন। দার্জিলিং এর এক এন জি ও-র হয়ে কাজ করছিলেন তিনি।
৭ জুন ২০১৩ : উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে এক কলেজ ছাত্রী গণধর্ষিতা হয়ে খুন হলো। অভিযুক্ত ৮ জন। প্রতিবাদীদের  তকমা জুটলো 
‘‘ওরা মাওবাদী "।
২১ জুন ২০১৩ : উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটাতে ধর্ষিতা হলো আট বছরের নাবালিকা।
২১ জুন ২০১৩ : বর্ধমানের কাটোয়ার বাসিন্দা দশম শ্রেণীর ছাত্রীর মৃতদেহ পাওয়া গেল নদীয়ার মায়াপুরের হোটেলে। ধর্ষণ। রক্তক্ষরণ। মৃত্যু।
২১ শে জানুয়ারি ২০১৪ : বীরভূমের সবলপুল গ্রামে গণধর্ষিতা হলো এক আদিবাসী মহিলা। লাভপুর থানায় অভিযোগ করা হলো। সুনীল সোরেন, সালিশী সভার প্রধান সহ অভিযুক্ত ১৩ জন।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ : বর্ধমানের বেলডাঙাতে এক আদিবাসী মহিলা রাতে স্বামীর সাথে ঘরে ফেরার সময় ধর্ষিতা হলেন দুই যুবকের দ্বারা।
১ মার্চ ২০১৪ : বর্ধমানের কেতুগ্রামে ধর্ষিতা হয়ে লজ্জায় গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করলো বছর বারোর এক বালিকা।
১৩ মার্চ ২০১৪ : হাওড়ায় এটিএম-এ টাকা তুলতে গিয়ে ধর্ষিতা হলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা।
৪ এপ্রিল ২০১৪ : মালদায় এক ৩০ বছরের গৃহবধু ধর্ষিতা হলেন। অপরাধীরকে শাস্তি না দিয়ে কেবলমাত্র ক্ষমা চাইতে বলা হলো। ধর্ষিতা লজ্জায় আত্মহত্যা করেন।
২ জুন ২০১৪ : বীরভূমের ১৪ বছরের এক আদিবাসী বালিকাকে তার স্কুলের তিন সহপাঠী মিলে ধর্ষণ করলো।
১৮ আগস্ট ২০১৪ : পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সুনিয়া গ্রামে এক গৃহবধুকে নগ্ন করে গণধর্ষণ করলো কিছু তৃণভোজী। পরে ওই মহিলা আত্মহত্যা করেন। মহিলার অপরাধ তাঁর স্বামী সি পি আই (এম) করেন।
৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ : ক্যানিং, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। বাস কন্ডাক্টর ধর্ষণ করলো ৭ বছরের এক সংখ্যালঘু নাবালিকাকে।
সেপ্টেম্বর ২০১৪ : আহ্লাদীপুর, বর্ধমান। ১৪ বছরের এক ছাত্রী ধর্ষিতা হয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলো।
অক্টোবর ২০১৪ : দূর্গাপুরে ১১ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণরত অবস্থায় ধরা পড়লো এক তৃণ নেতার ভাই।
ডিসেম্বর ২০১৪ : কলকাতার পাঠ ভবন স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিতা হলো।
জানুয়ারি ২০১৫ : নয় বছরের একটি মেয়ে ধর্ষিতা হয়ে খুন হলো মালদার কালিয়াচকে।
মার্চ ২০১৫ : নদীয়ার রানাঘাটে ধর্ষিতা হলেন সত্তরোর্ধ্ব এক বিদেশী সন্ন্যাসিনী।
এপ্রিল ২০১৫ : জলপাইগুড়িতে এক ১৬ বছরের স্কুল ছাত্রী ধর্ষিতা হলো।
আগস্ট ২০১৫ : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এ বন্যাত্রাণ শিবিরে ধর্ষিতা হল এক আশ্রয়ী মহিলা।.........)

********

এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয়। আরও অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিচার মেলেনি ধর্ষিতার, তাঁর পরিবারের।

‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে’-ই কেঁদেছে ‘পরিবর্তন’-এর জমানায়!!

আরও কত কান্না না জানি জমা হয়ে আছে সামনের দিনগুলিতে!  


ও, হ্যাঁ, কাকদ্বীপের কথাটা তো বললাম না ! আমার বাড়ির কাছেই তো! তাই কান্নার আওয়াজটা এখনও স্পষ্ট শুনতে পাই।) 

গ্রাফিক্স সৌজন্য: আনন্দবাজার পত্রিকা

Thursday, 12 May 2016

হ য ব র ল — ছিল হাওয়াই চটি, হয়ে গেল ময়না



বেজায় গরম। ফুটপাতে ত্রিফলার নিচে অল্প  ছায়ার মধ্যে চুপচাপ শুয়ে আছি, ঘেমে অস্থির। ত্রিফলা বাতিস্তম্ভে এখন নীল-সাদা টিউব জড়িয়ে দেওয়ায় গরম আরো বেড়ে গেছে। নীল-সাদা লোহার রেলিং-এর পাশেই আমার হাওয়াই চটিজোড়া রাখা ছিল। আকাশের দিকে তাকিয়ে আপন খেয়ালে যেই না আমি বললাম, ‘‘এবছরে মনে হয় কালবৈশাখী আর ‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল’ করবে না!’’ 

অমনি হাওয়াই চটি বললো, ‘কুৎসা!’ কি আপদ! চটিটা আবার কুৎসা বলে কেন?

চেয়ে দেখি আমার হাওয়াই চটিটা আর চটি নেই, দিব্যি একটা ময়না পাখি হয়ে গেছে! প্যাট্ প্যাট্ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলছে, ‘‘আমি কালীঘাটের ময়না!’’

আমি বললাম, ‘‘কি মুশকিল! ছিল হাওয়াই চটি, হয়ে গেল একটা ময়না।’’

অমনি ময়না বলে উঠল, ‘‘মুশকিল আবার কি? ছিল ত্রিফলা, হয়ে গেলো ‘জ-ফলা’, ছিল ঘুষ, হয়ে গেল দিব্যি অনুদান। এ তো হামেশাই হচ্ছে।’’

আমি খানিক ভেবে বললাম, ‘‘তা হলে তোমায় এখন কি বলে ডাকব? তুমি তো সত্যিকারের ময়না নও, আসলে তুমি হচ্ছো হাওয়াই চটি।’’

ময়না বলল, ‘‘ময়না বলতে পার, সারদাও বলতে পার, নারদাও বলতে পার।’’

আমি বললাম, ‘‘আবার সারদা-নারদা কোথা থেকে এলো?’’

শুনে ময়না, ‘‘তাও জানো না?’’ বলে এক চোখ বুজে ফ্যাঁচ্‌ফ্যাঁচ্ করে বিশ্রীরকম হাসতে লাগল। আমি ভারি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো, ঠিকই তো, ঐ সারদা-নারদা কথাটা নিশ্চয় আমার বোঝা উচিত ছিল। তাই থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, ‘‘ও, হ্যাঁ-হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।’’

ময়নাটা খুশি হয়ে বললো, ‘‘হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে - সারদার স, জালিয়াত-এর ত, ক্ষমতার তা- হলো ‘সততা’কেমন, হল তো?’’

আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না, কিন্তু পাছে ময়নাটা আবার সেইরকম বিশ্রী করে হেসে ওঠে, তাই সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নেড়ে হুঁ-হুঁ করে গেলাম। তার পর ময়নাটা খানিকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠল, ‘‘গরম লাগে তো এই লন্ডনে কেন, সুইজারল্যান্ডেই গেলেই পার। শিয়ালদা থেকে ট্রেনে চাপলেই তো রামপুরহাটের মামাবাড়ি হয়ে সোজা রাস্তা।’’

আমি বললাম, ‘‘বলা ভারি সহজ, কিন্তু বললেই তো আর যাওয়া যায় না? ওখানকার আবহাওয়া নাকি এখন মোটেই ভালো নয়! আকাশ নাকি প্রায়ই ‘গুরুং গুরুং’ করে ডাকে, ‘হড়কা’ বানের ভয়ও আছে।’’

ময়না বলল, ‘‘যত সব কুৎসা। দিব্যি সুইজারল্যান্ড হাসছে।’’

আমি বললাম, ‘‘কি করে যেতে হয় তুমি জানো?’’

ময়না একগাল হেসে বলল, ‘‘তা আর জানি নে? বললাম তো একবার! লিখে নাও—কালীঘাট, পার্ক স্ট্রীট, কাকদ্বীপ, কামদুনি, কাটোয়া, লাভপুর, বারাসাতরানাঘাট, সুইজারল্যান্ড, ব্যাস্! সিধে রাস্তা, সওয়া ঘণ্টার পথ, গেলেই হলো।’’

আমি বললাম, ‘‘তা হলে রাস্তাটা আমায় বাতলে দিতে পারো?’’

শুনে ময়নাটা হঠাৎ কেমন গম্ভীর হয়ে গেল। তার পর মাথা নেড়ে বলল, ‘‘উঁহু, সে আমার কর্ম নয়। আমার মোদো-মাতাল ভাইটা যদি থাকতো, তা হলে সে ঠিকঠাক বাতলাতে পারতো।’’

আমি বললাম, ‘‘সেটা আবার কে? থাকে কোথায়?’’

ময়না বলল, ‘‘মাতালের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই।’’

আমি বললাম, ‘‘কোথায় গেলে তার সাথে দেখা হবে?’’

ময়না খুব জোরে মাথা নেড়ে বলল, ‘‘উহুঁ, সেটি হচ্ছে না বাপু, সেটি হবার জো নেই।’’

আমি বললাম, ‘‘সে আবার কি রকম?’’

ময়না বলল, ‘‘সে কিরকম তুমি জানো? মনে করো, তুমি যখন যাবে কামারহাটিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, তখন তিনি থাকবেন মিডল্যান্ড পার্কের অফিসে। যদি মিডল্যান্ড পার্কে যাও, তা হলে শুনবে তিনি আছেন চাঁদনির কোনো বারে। আবার সেখানে গেলে দেখবে নারায়নপুরে সিদ্ধা পাইনের ফ্ল্যাটে গেছেন। ওখানে গিয়ে শুনবে তিনি আছেন আলিপুরের জেলে। আলিপুরে যদি যাও, খোঁজ করে জানবে সে উডবার্ণে আছে। কিছুতেই দেখা হবার জো নেই। এসব দেখেই তো কবি লিখেছিল, ‘হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে।’’

আমি বললাম, ‘‘তা হলে তোমরা কি করে দেখা করো?’’

ময়না বলল, ‘‘সে অনেক হাঙ্গামা। আগে বিন্দু বিন্দু করে হিসেব কষে দেখতে হবে, ভাই কোথায় কোথায় নেই; তারপর হিসেব করে দেখতে হবে, ভাই কোথায় কোথায় থাকতে পারে; তারপর দেখতে হবে, ভাই এখন কোথায় আছে। তারপর দেখতে হবে, সেই হিসেব মতো তুমি যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছোবে, তখন ভাই কোথায় থাকবে। তারপর দেখতে হবে কার সাথে কি অবস্থায় থাকবে, তারপর দেখতে হবে জলের ঘোরে ‘অন’ হয়ে আছে কিনা! ‘অফ’ হলেই তবে দেখা মিলবে।’’

আমি তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললাম, ‘‘সে কিরকম হিসেব? এ তো বড়ই জটিল লাগছে!’’

ময়না বলল, ‘‘হুঁ হুঁ বাবা, সে ভারি শক্ত। দেখবে কিরকম?’’

এই বলে সে একটা কাঠি দিয়ে ঘাসের উপর লম্বা আঁচড় কেটে বলল, ‘‘এই মনে করো মাতালভাই।’’ বলেই খানিকক্ষণ গম্ভীর হয়ে চুপ করে বসে রইলো।

তার পর আবার ঠিক তেমনি একটা আঁচড় কেটে বললো, ‘‘এই মনে করো পিয়ালীর ফ্ল্যাট’’—বলে আবার ঘাড় বেঁকিয়ে চুপ করে রইলো।

তার পর হঠাৎ আবার একটা আঁচড় কেটে বললো, ‘‘এই তিন আঁচড় দিয়ে দিলাম, এবারে ১কোটি ৮৬লক্ষ টাকা দাও।’’

এইরকম শুনতে-শুনতে শেষটায় আমার কেমন যেন রাগ ধরে গেলো। আমি বললাম, ‘‘দূর ছাই! কি সব আবোল তাবোল বকছো, একটুও ভালো লাগছে না।’’

ময়না বলল, ‘‘আচ্ছা, তা হলে আর একটু সহজ করে বলছি। চোখ বোঁজ, আমি যা বলবো, মন দিয়ে শোনো।’’ আমি চোখ বুঁজলাম।

ময়না বলতে শুরু করলো- ‘‘মাতাল ভাইটা চোলাই খেয়ে খেয়ে নিজের বাঁশ নিজেই নিয়েছে। প্রায়ই এখন এস এস কে এম ছুটতে হয়। কদিন নজরবন্দি করে রেখেও লাভ হয়নি। অ্যালকোহল আর ওর ওপর ‘প্রভাবশালী’ নয়। আগে সকাল সন্ধ্যা মিউজিক সিস্টেমে হরিনাম শুনতো। এখন আবার ভোজপুরি শোনার সখ জেগেছে। তবে ইদানীং ভাই আমার প্রায় নাকি ‘ঐশ্বরিক দুঃস্বপ্ন’ দেখছে, হার্মাদরা নাকি আবার ‘দুষ্টগ্রহ’-র দুঃস্বপ্নেও তাকে তাড়া করে ফিরছে..।’’ 

এই বলে ময়নাটা সেই যে চুপ করে গেলো, তারপর আর কোনো কথাই নেই।

চোখ বুঁজেই আছি, বুঁজেই আছি, অনেকক্ষণ হয়ে গেলো ময়নাটার আর কোনো সাড়া-শব্দ নেই। হঠাৎ কেমন সন্দেহ হল, চোখ চেয়ে দেখি ময়নাটা গাছের ডালে বসে একটা ৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা হনুমানের সাথে সেলফি তুলছে। কান পাততে শুনতে পেলুম ফিস্‌ফিস্‌ করে ডিগ্রি নিয়ে কিসব আলোচনা করছে!


************

Tuesday, 10 May 2016

‘জোড়াসাঁকোর জোড়াপিশাচ’

পঁচিশে বৈশাখ একেবারে সাতসকালে ধপ্‌ধপে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে লালমোহনবাবু হাজির। কথা অবিশ্যি গতকালই হয়েছিল যে সেদিন সকালে জোড়াসাঁকো যাওয়া হবে। প্রস্তাবটা লালমোহনবাবুই দিয়েছিলেন, ফেলুদাও এককথায় রাজি হয়ে যায়।

গাড়িতে বসে ফেলুদা জিজ্ঞেস করলো, ‘কি ব্যাপার বলুন তো? পঁচিশে বৈশাখের দিন হঠাৎ জোড়াসাঁকো যাওয়ার ইচ্ছে জাগলো কেন? আমি যতদূর চিনি তাতে আপনাকে তো ঠিক রবীন্দ্রভক্ত আখ্যা দেওয়া চলে না!

ঢুলুঢুলু চোখে একটু হেসে লালমোহনবাবু বললেন, ‘জোড়াসাঁকোর পটভূমিকায় একটা নতুন গল্পের প্লট মাথায় এসেছে, তাই জায়গাটার ডিটেলটা একটু সার্ভে করা দরকার।’’

এবার আমাদের দু’জনেরই চোখ কপালে উঠে গেল।

‘‘বলেন কি মশাই? জোড়াসাঁকোতে রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস উইথ প্রখর রুদ্র!’’

‘‘ইয়েস স্যার, জোড়াসাঁকোর জোড়াপিশাচ’’

‘‘ব্যাপারটা কিন্তু একটু রিস্কি হয়ে যাচ্ছে। জোড়াসাঁকো নামটার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাঙালীর আবেগদ্বারকানাথ, দেবেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ—কে নেই তার মধ্যে? সেই জোড়াসাঁকোয় আপনার জোড়াপিশাচকে এনে ফেলাটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না কি? বাঙালীর আবেগ ধরে এরকম টানাটানি কিন্তু হজম হবে না!’’

‘‘দেখুন মশাই, আমার গপ্প জোড়াসাঁকোকে নিয়ে, ঠাকুরবাড়ি সম্পর্কে তো তাতে কিছু থাকছে না, তাহলে অসুবিধেটা কোথায়? টু বি ভেরি অনেস্ট, আমি জোড়াসাঁকোটা দেখতেই ওখানে যাচ্ছি।’’

এইবার ফেলুদা সোজা হয়ে বসে বললো, ‘‘কিন্তু জোড়াসাঁকো এলাকায় ‘জোড়াসাঁকো’টা যে ঠিক কোথায় ছিল সেটা এখন আর জানা যায় না। সম্ভবত ওটা রবীন্দ্রনাথেরও জন্মের আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কাজেই সেক্ষেত্রে আপনার সার্ভে মাঠে মারা যেতে বাধ্য।’’

এইবার জটায়ুর ঠোঁটে একটা উচ্চাঙ্গের হাসি দেখা দিল, যেটাকে লামা স্মাইলবললেও ভুল হয় না। ‘‘ফেলুবাবু, জোড়া কথাটার দু’রকম মানে হয় জানেন তো? একটা হল জোড়া মানে ডবল, আর অন্যটা হল যুক্ত।’’

‘‘এ তো আমারই কথা আমাকে ফেরত দিচ্ছেন মশাই!’’ ফেলুদা অবাক।

‘‘হ্যাঁ, ঠিক তেমনই জোড়াসাঁকো কথাটারও দু’রকম মানে হয়। এক হল আপনার রবীন্দ্রনাথের জোড়াসাঁকো, আর আমি বলছি জোড়াতালি দেওয়া সাঁকো-র কথা যেটা এই সেদিন ভেঙ্গে পড়ল। ওই জোড়াতালি দেওয়া সাঁকোটাই সার্ভে করতে যাচ্ছি মশায়ওই সাঁকো ভেঙে পড়ার চক্রান্ত নিয়েই তো ‘জোড়াসাঁকোর জোড়াপিশাচ’ নামে আমার নতুন রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস। ফ্লাইওভার মানে তো একরকম সাঁকোই, কি বলেন মশাই?’’

‘‘সে না হয় জোড়া সাঁকোটা বোঝা গেলো, কিন্তু আপনার ওই ‘জোড়াপিশাচ’-টা তো ঠিক বুঝলাম না?’’ ফেলুদা গাড়ি থেকে নামতে নামতে প্রশ্ন করলো।

লালমোহনবাবুও গাড়ি থেকে নেমেই একটা আস্ত পান মুখে নিয়ে কচর-মচর করতে করতে বললেন, ‘‘আরে বুঝলেন না মশাই! ওই খুড়ো-ভাইপোই তো যত নষ্টের মূল! পচা মাল দিয়ে সাঁকোর গোড়া এমন পচিয়ে দিয়েছে যে এতগুলো লোক মারা গেলো! অবিশ্যি ওদের ওপরে একটা মামদো, আর তারও ওপরে একটা শাকচুন্নি আছে। কিন্তু আমার গোয়েন্দা প্রখর রুদ্রকে অত উঁচুতে তুলছি না। আপাতত জোড়া পিশাচেই হয়ে যাবে।’’

জটায়ু একটু থেমে মুচকি হেসে আবার বললেন, ‘‘কি মশাই, বলুন, কেমন প্লট নামিয়েছি? জমবে না?’’

ফেলুদা সিগারেটটা ফস্‌ করে জ্বালিয়ে একগাল ধোঁয়া টেনে বললো, ‘‘জমবে আবার না! জমে একেবারে ক্ষীর! কি বল তোপ্‌সে!‌’’

(সংগৃহীত ও সম্পাদিত)

Sunday, 8 May 2016

‘রবীন্দ্র মরেনি’

এ্যাই, এ্যাই, চোপ্‌! চোপ্‌! কোনো কথা নয়! আমি কি বলছি সবাই মন দিয়ে শোনো। আজ ২৫শে বৈশাখ, ‘কবিগুড়ি’-র জন্মদিন। সমস্ত কাগজে আমার গরমেন্ট থেকে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। উনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে ওনার অভাব আমাদের নাটাবাড়ির রবি অনেকটাই পূরণ করে দিয়েছেন। এই তো সামনেই বসে আছে আমাদের রবি। রবি একটু দাঁড়িয়ে হাতটা নেড়ে দাও।

হ্যাঁ, যে কথা বলছিলুম, ওনার সাথে আমার প্রথম আলাপ হয় কোলকাতা বইমেলায় ‘ভাগো বাংলা’-র স্টলে। উনি আমার লেখা ‘আমার জঙ্গল’, ‘আমার পাহাড়’, ‘আমার দামাল’, ‘সিন্ডিকেট সুবিধা’, ‘আমরা সবাই চোর’, ‘আজব ত্রিফলা’, ‘কলঙ্কিত সারদা’ ইত্যাদি বইগুলি খুব মন দিয়ে দেখছিলেন। তখনই ওনার সাথে আমার পরিচয় হয়। উনি বললেন, ‘‘আমি আপনার গুণমুগ্ধ পাঠক।’’ আমি সঙ্গে সঙ্গে ‘কথাঞ্জলি’-র একটা কপি ওনাকে আমার অটোগ্রাফ দিয়ে গিফ্‌ট করি। পরে উনি ‘কথাঞ্জলি’-র অনুপ্রেরণায় ‘গীতাঞ্জলি’ নামে একটা বই লেখেন। ওই কয়েকটা গান-টান আর কি!

তো একদিন বিকেলে হঠাৎ উনি আমার বাড়িতে চলে এলেন। আবদার করে বললেন, ‘কথাঞ্জলি’-র মতন ‘গীতাঞ্জলি’-র ও ইংরেজি অনুবাদটা করে দিতে হবে। বয়স্ক মানুষের অনুরোধ তো আর ফেলতে পারি না। অগত্যা বাধ্য হয়ে করে দিলাম। নোবেল প্রাইজও পেয়ে গেলেন। অবশ্য পরে দেখা করে এর জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছিলেন। নোবেল নেওয়ার জন্য যখন লন্ডনে যাওয়ার কথা বললেন, আমিই সব ব্যবস্থা করে দিলাম। ওখানে শেক্সপীয়ার আর কীটস্‌-এর সঙ্গে সিটিং করার অ্যাপোটা আমিই করে দিয়েছিলাম। আর কেউই সেটা পারছিল না। যাইহোক এসব ‘ছোট্ট ঘটনা’।  

ঝর্না দেখে উনি ‘মুক্তধারা’ লিখেছিলেন সেকথা তোমাদের আগেই বলেছি। আজ আরও একটা গোপন কথা বলছি। উনি ‘সোনার তরী’ কবিতাটি, পুরীতে আমার হোটেলে বসেই লেখেন।

এই এই কে কথা বলছে! আমি কি বলছি শোনো! গান্ধীজি যখন অনশন করেন তখন উনি নিজের হাতে গান্ধীজিকে ফলের রস খাইয়ে অনশন ভাঙান। তখনই তো উনি লিখেছিলেন, ‘জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো।’

আমি যখন সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় অনশন করি তখন উনি এসে আমাকে চকলেট খাইয়ে যেতেন। গরমের সময় যখন উনি বোলপুরে থাকতেন, শরীর ‘ঠান্ডা ঠান্ডা, কুল কুল’ রাখতে প্রতিদিন অনুব্রতর ‘গুড় জল’ খেতেন।

৩৪ বছর ধরে উনি বাংলায় কোনো সম্মান পাননি। তাই ‘পরিবর্তন’-এর পরে আমি ওনাকে ট্র্যাফিক সিগন্যাল পোস্টে ঝুলিয়ে দিয়েছি। যাতে বাংলার মানুষ হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও ওনাকে স্মরণ করতে পারেন। তবে কারো কারো ব্যাপারটা ঠিক হজম হচ্ছে না। ছোটলাটের বউয়ের নাকি শীতের রাতে রাজভবনের সামনের সিগন্যালে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আওয়াজে ঘুম হচ্ছিলো না, তাই সাউন্ড কমানোর কমপ্লেন করেছে লালবাজারে। আমিও বলে দিয়েছি, ওখানে আওয়াজ কমাচ্ছো, কমাও, কিন্তু আর কোথাও একফোঁটা কমানো আমি অ্যালাউ  করবো না।  

এ্যাই, এ্যাই, চেঁচামেচি একদম নয়! সবাই এবারে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ো আমরা এবারে কেক কাটবো। সবাই আমার সাথে গলা মিলিয়ে বলো, “Happy birthday to you, Happy birthday to you, Happy birthday dear Rabi.”

শোনো, শোনো, এবার পোগ্গাম শেষ। আমার গরমেন্ট-এর শেষ কাজ হিসেবে আমি রবীন্দ্রনাথকে চিরজীবী করে যেতে চাই, যেমন সত্তোজিতকে করে দিয়েছি। আজ থেকে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির সামনের রাস্তার নাম করে দিলাম রবীন্দ্র মরেনি


এবার সবাই হাততালি দাও। কি হলো? হাততালি দিতে বলছি তো!!!? দিচ্ছো না কেন? এ্যাই, এ্যাই......সবাই চুপ কেন?...কি হলো? কি হয়েছে?!!!!!!!!!!!!!!