Wednesday, 11 July 2018

তারিনী খুড়োর দাদা নরেন খুড়ো

তারিনী খুড়োর কথা আপনারা কমবেশি সবাই জানেন। তার এক্সপিরিয়েন্সের স্টক অফুরন্ত। ভারতবর্ষের ৩৩টা শহরে ৫৬ রকম চাকরি করেছিলেন। শেষে কোলকাতার বেনিয়াটোলাতে একটা ফ্ল‍্যাট নিয়ে আছেন। পাড়ার ছেলে ছোকরাদের মধ‍্যে খুড়ো খুব জনপ্রিয়। খুড়োর অভিজ্ঞতার গল্প সবাই গোগ্রাসে গেলে। খুড়ো দাবি করেন, বলার সময় একটু রঙ মেশালেও তার সব গল্পই আসলে সত্য ঘটনা অবলম্বনে। গতকাল সন্ধ্যায় আড্ডার ঠেকে অনেকদিন পরে তারিনী খুড়োকে দেখে সবাই খুব খুশি। অনেকদিন পরে খুড়োকে পাওয়া গেছে, আজ একটা জমিয়ে গল্প শোনা যাবে। বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। ন‍্যাপলা হেঁকে বলল, চারটে কাটা একটা গোটা লিকার! খুড়ো মুচকি হেসে বলল, আজ দুটো গোটা! ন‍্যাপলা অবাক হয়ে বললো, দুটো কেন? কেউ আসবে? খুড়ো রহস্যময় হাসি হেসে বলল, আমার দাদা।
আমরা এতদিন জানতাম তারিনী খুড়োর সাত কুলে কেউ নেই, তিনি একাই ভবঘুরের মতন ঘুরে বেড়ায়। খুড়োর একটা দাদা আছে! সুনন্দ বলল, আপনার দাদা আছে জানতাম না! তারিনী খুড়ো মুচকি হেসে বলল, তোমার ক পাতা বয়স! তুমি এর মধ‍্যেই আমার ব‍্যাপারে সব জেনে যাবে! ন‍্যপলা বলল, নাম কি? খুড়ো বললো, নরেন, আমার মতন অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ। ৫৬" ছাতি! উনি অবশ্য সংসার পেতে ছিলেন কিছুদিনের জন‍্য, একটা চায়ের দোকানও খুলেছিলেন। পরে বৌদিকে পরিত্যাগ করে ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এখন অবশ্য মাঝেমধ্যে ৭নম্বর রেস কোর্সে ওনাকে দেখা যায়। আমি যেমন তোদের, তোদের বাবাদের কাছেও খুড়ো। ঠিক তেমনই নরেন সবার কাছেই মিত্রো। আমার থেকেও নরেনের খুড়োর গল্পের স্টক অনেক বেশী। ৫৬টা দেশে ৭১ বার ভ্রমণ করেছেন উনি।
বাইরে বৃষ্টি তখনও চলছে। এমন সময় সেই বৃষ্টির মধ‍্য দিয়ে রেনকোর্ট পরে এক ব‍্যক্তি হাজির হলেন। মুখে সাদা দাড়ি, গোল্ডেন ফ্রেমের চশমা! বুঝতে বাকি রইলোনা ইনিই খুড়োর দাদা। আমি বললাম, এই বৃষ্টিতে গাড়ি আনতে পারতেন, না হলে উবের ধরে নিতে পারতেন। উনি হসে বললেন, আমি ফকির আদমি! গাড়ি কোথায় পাবো! তারপর আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা বিশ্বকাপ দেখছ না! ন‍্যাপলা বলল, সারাদিন কলেজে কলেজে লাইন দিয়েই কেটে যাচ্ছে, রাত জাগার এনার্জি থাকে! ততক্ষণে চা এসে গেছে। নরেন খুড়ো চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে বললেন, তোমাদের এখানে শুনছি অনুদান দিয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে? সুনন্দ বললো, হ‍্যাঁ, সব কলেজেই দিতে হচ্ছে। তবে জেইউ লড়েছে আমাদের জন‍্য। নরেন খুড়ো আরেকবার চুমুক দিয়ে বলল, কি জানি বাপু আমার কাছে জেএনইউ আর জেইউ দুটোই সমান! দেশদ্রোহীদের আখড়া মনেহয়! এবারে ন‍্যাপলা তারিনী খুড়োর দিকে তাকিয়ে বলল, আপনার দাদা যে ভক্ত সেটা কই বলেননি তো!
নরেন খুড়ো চা শেষ করে বলল, তোমরা আর্ষভট্টের নাম শুনেছ? আমি বললাম, হ‍্যাঁ উনি শূন্য আবিষ্কার করেছিলেন। নরেন খুড়ো বলল, ঠিক বলেছ, উনি জিরো আবিষ্কার করে বিখ্যাত হয়েছিলেন, আর আমরা জিরো ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়েই বিখ‍্যাত হবার সংকল্প নিয়েছি। তোমরা জিও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে পারো। কোনো অনুদান লাগবেনা, যাদের জিও সিম আছে তারা অ্যাডমিশনে ডিসকাউন্ট পাবে। প্রাইম মেমবারদের কোনো পয়সাই লাগবেনা। ন‍্যাপলা বলল, গোগলে তো কই দেখাচ্ছে না? খুড়ো চুপিচুপি বলল, সব জিনিস সবসময় দ‍্যাখা যায়না! ঠিক যেমন ইস্ট জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি ম‍্যাপে দেখা যায়না। ২০৫০এর পর এটাকে সামনে আনা হবে। এই ইনস্টিটিউটের ক‍্যাম্পাস গুজরাট মডেলের অনুকরণে তৈরী করা হয়েছে। সুনন্দ জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা এখানে কোন কোন বিষয়ে পিএইচডি করা যাবে? খুড়ো হেসে বলল, হোয়াটস অ্যাপের ওপর থিসিস লিখলেই পিএইচডি বাধা। এটা পরিবেশবান্ধব শিক্ষাঙ্গন, সমস্ত স্টাডি মেটেরিয়াল হোয়াটস অ্যাপেই দেওয়া হবে। কাগজ কালির কোনো ঝামেলা নেই। নোংরাও হবেনা, স্বচ্ছ ক‍্যাম্পাস!
তবে ড্রেস কোড খুব স্ট্রিক্ট! ফুলপ‍্যান্ট পরা যাবেনা। তবে সাভারকর আর গডসের কথা ভেবে হোমোসেক্সুয়ালিটির ব‍্যাপারে একটু নমনীয়তা দেখিয়েছি। তাহলে তোমরা সবাই তাড়াতাড়ি অ্যাপ্লাই করে ফেলো। ও হ‍্যাঁ, যাদের জিও সিম আছে তাদের আলাদা করে আধার নম্বর লাগবে না। আমি, ন‍্যাপলা, সুনন্দ সহ বাকিরা হাঁ করে খুড়োর কথা শুনছিলাম। টানা বৃষ্টিতে ততক্ষণে সামনের রাস্তা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে, বঙ্গোপসাগরে পরিনত হয়েছে। এমন সময় সেই জলের ওপর একটা সী-প্লেন এসে নামলো। তারপর ফকির নরেন খুড়ো সবার সাথে একটা সেলফি তুলে হাত নাড়াতে নাড়তে প্লেনে উঠে গেল। ন‍্যাপলা অবাক হয়ে তারিনী খুড়োকে বলল, আপনার দাদা কোথায় চললেন? তারিনী খুড়ো বললো, ফ্রান্সে, সেমিফাইনালে জয়ের শুভেচ্ছা জানাতে।

বুকটা এখনও চীন চীন করছে

অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে, সাত গাঁয়ের সবাইকে বড় মুখ করে কালীপিসি বলেছিল, এবারে 'চায়না' যাবো! গত একমাস ধরে মাঠে হাটে ঘাটে সব জায়গায়তেই একই আলোচনা, পিসি এবারে চায়না যাচ্ছে। নিন্দুকেরা আড়ালে আবডালে বলতে শুরু করলো, এদিকে বলে আমি হার্মাদের দুচক্ষে দেখতে পারিনা, আর তাদের দেশেই যাচ্ছে! আর কতো ঢং দেখতে হবে কে জানে! কৌতূহলবশত কেউ কেউ খোঁজ নিলো, পিসি দূরবীন নিয়ে যাচ্ছে কি না! কেউ কেউ জানতে চাইলো লন্ডনে টেমসের পাশে যেমন গান করেছিলেন এখানেও কি হোয়াংহো বা ইয়াংসিকিয়াং-এর পাড়ে দুকলি রবীন্দ্র নজরুল ঝরে পড়বে? পাড়ার বুদ্ধিজীবীরা অবশ‍্য বলতে শুরু করলো, উনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে ওনার সনাতনী তৃনমূলী মতাদর্শ বিনিময় করতে যাচ্ছেন। আর দামাল ছেলেরা স্লোগান তুললো, পিসি যাচ্ছে এবার চীন, বাংলায় আসবে আচ্ছে দিন! পাড়ায় পাড়ায় পোস্টার পড়লো, সিঙ্গাপুর থেকে সিঙ্গাপুরী কলা, জার্মানি থেকে বিএমডব্লিউ আনার পর পিসি এবার চীন থেকে চাউমিন শিল্প আনবে। বেকার যুবকদের আর চপ তেলেভাজার ওপর নির্ভর করতে হবেনা! পাড়ার মোড়ে বড়ো হোর্ডিং টাঙানো হলো চীনের প্রাচীরের ওপর পিসি হাঁটছে। ফাই-হিয়েন আর হিউ-এন-সাং এর ছবি দিয়ে নীচে লেখা অনুপ্রেরণায় পিসির চীন ভ্রমণ।

এদিকে পিসি চায়না যাবে শুনে ভাই ভাইপোদের নানান আবদার। স্নেহের কানন বলল, আমার জন‍্য বেজিং থেকে একটা চাইনিজ সিল্কের তোয়ালে আনবে কিন্তু। চাঁদ'দি বলল, যা গরম পড়েছে! দুটো চাইনিজ হাতপাখা এনো! দারুণ দেখতে ওগুলো! আমি আর সন্ধ্যা'দি সংসদে বসে ক‍্যালকাটা নাস্তা খেতে খেতে হাওয়া খাবো! সুব্বতো তোমার কি চাই? হেসে বলল, অনেকদিনের ইচ্ছা চাইনিজ চায়ের সাথে সিঙাড়া খাওয়ার! এরপর পিসি হাসিমুখে অধিকারীর দিকে তাকিয়ে বলল, তোর জন‍্য চপস্টিক আনবো, তুই বিরোধী প্রার্থী যারা ভোটে জিতবে তাদের পিছনে কাঠি করে উন্নয়নে সামিল করবি! ঘরের এক কোনে বসেছিল কেষ্টা, এমনিতেই তার মাথায় অক্সিজেন কম যায়, তার ওপর গরম পড়েছে! পিসি হেসে জিজ্ঞেস করলো, কি রে কেষ্টা, তোর জন‍্য কি চাইনিজ পেটো আনবো? কেষ্টা মাথা নেড়ে অসম্মতি জানিয়ে বলল, মশা আটকানো যাবেনা! মালের কোনো গ‍্যারান্টি নেই! মালের কথা শুনেই দরজার পাশে বসে থাকা মদন নড়েচড়ে বসে বলল, আমারও চাইনিজ মাল পছন্দ নয়! দিশির মতন টেম্পার নেই! তবে চাটের জন্য চিলিচিকেন আনতে পারো! ভেতরে যখন এই নিয়ে আলোচনা চলছে, বাইরে তখন কয়লা মাফিয়া কালু, তোলাবাজ তোতোন, সিন্ডিকেট সেক্রেটারি শঙ্কর নিজেদের মধ‍্যে মারামারি শুরু করে দিয়েছে। এবারে পিসির সফর সঙ্গী কে হবে এই নিয়ে!

ইদানিং নীলসাদার ভাগ্য যে খুব একটা ভালো যাচ্ছে না! শুধু বিশ্বকাপ নয়, উন্নয়নেরও ভাগ‍্য খারাপ চলছে! এদিকে সবাই পিসির চীন সফর নিয়ে উত্তেজিত থাকলে কি হবে, সীমান্তের ওপার থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চীনের কোনো প্রতিনিধিই নাকি পিসির সাথে সাক্ষাৎকারে উৎসুক নয়! কেউ পিসিকে পাত্তাই দিচ্ছে না! সুর খারাপ বুঝে পিসি শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করতে বাধ‍্য হয়। মুহূর্তের মধ‍্যে ভেঙে যায় ভাই ভাইপোদের স্বপ্ন! পিসি যতই পাড়ার সবাইকে বলতে থাকে, আমার 'পোচুর' কাজ পড়ে আছে। তাই বেড়ানোর 'পোগ্গাম' বাতিল করলাম‌। পাড়ার লোক কিন্তু সব বুঝতে পেরেছে। দু-এক জায়গায় কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, ইংল্যান্ড সফরের সময় পিসির সাঙ্গপাঙ্গরা হোটেল থেকে রুপোর চামচ চুরি করেছিল তাই চীন আর পিসির ওপর ভরসা করতে পারছে না! ওরাও জেনে গেছে পিসির বিদেশ সফ‍র চোরেদের দলবল নিয়েই করে!

আজ সকালে পিসি নরেন মুদির দোকানে গিয়েছিল বাজার করতে। দোকানে ভিড় না থাকায় পিসির সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো মুদির...
- তা গোছগাছ সব হয়ে গেছে? ফ্লাইট কটায়? নাকি চপার নিয়ে?
- খোটা না দিলে কি হচ্ছিল না! জানোই তো 'পোগ্গাম' ক‍্যানসেল হয়েছে!!
- এ বাবা! সত্যিই জানতাম না! তবে দুঃখ পেওনা, আবার সুযোগ আসবে!
- ন‍্যাকা! আমি কখন ট‍্যুইট করে দিয়েছি, আর উনি জানেনা! আমার কি আর আপনার মতন আচ্ছে দিন আছে, যে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াবো! কতো স্বপ্ন ছিলো চীনের প্রাচীরের ওপর বসে একটা কবিতা লিখবো! ভাবলেই কষ্টে এখনও বুকটা চীন চীন করছে!

(এটি একটি কাল্পনিক রচনা। বাস্তবের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।)

Friday, 22 June 2018

মেসিকে পিসির ফোন

                                            মেসিকে পিসির ফোন
গতকাল কোর কমিটির বৈঠক থেকেই কালীপিসি মটকা গরম হয়েছিল। আর বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ৩ গোলে হারার পর রাগ চরমে পৌঁছে যায়। রাতেই তড়িঘড়ি নবান্নে বৈঠক ডাকা হয়। ডাকা হয় সমস্ত নেতা, মন্ত্রী, আমলাদেরও। আর্জেন্টিনার টিমের অফিসিয়ালদের ওপর ভরসা না করেই সিআইডিকে দিয়ে এই হারের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সিট গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে আনন্দবাবু বিশ্বকাপ কভার করতে রাশিয়া গেছে কিন্তু পিসির সাথে তার সম্পর্ক ইদানিং একটু এগিয়ে না থেকে পিছিয়ে রয়েছে তাই ফোন করে খোঁজ নিতেও পাচ্ছেন না! অগত্যা বাধ্য হয়েই নবান্ন থেকে পিসি সরাসরি ভিডিও কল করে মেসিকে ধমক দিলেন।
কি ব‍্যাপার! খেলায় তো দেখছি আদৌ মন নেই! তুমিও কি কাননের মতন কাউকে জুটিয়ে মাঠের বদলে খাটে কালবৈশাখী ঝড় তুলছো! আমার কতদিনের ইচ্ছা এবারে বিশ্বকাপ জিতলে ওনাকে নিয়ে আর্জেন্টিনা গিয়ে তোমাদের সংবর্ধনা দিতে যাবো! প্রত‍্যেককে আমার লেখা বই উপহার দেব! তাছাড়া ওনার এখনও আর্জেন্টিনা ভ্রমণ করা হয়নি, ২০১৯শের আগেই করতে হবে। পরে যদি সুযোগ না মেলে! আর তোমরা ব‍্যাপারটা মোটেই সিরিয়াসলি নিচ্ছোনা! কতবার বলেছি নীলসাদা জার্সি কেবল পরে খেললে হবেনা! সাথে হাওয়াই চটিও পরতে হবে। এ্যাই ববি, তুমি কালই ১০০জোড়া হাওয়াই চটি রাশিয়াতে পাঠানোর ব‍্যবস্থা করো। আমি তিন আঁচড়ে একটার পর একটা 'আন্তোরজাতিক' মানের ছবি আঁকছি আর তুমি তিন কাঠির মধ‍্যে বল রাখতে পারলেনা! ঠিক আছে চাপ নিও না, আমি ফিফার সাথে কথা বলছি, পরের ম‍্যাচ গুলোতে যেন রাগবির গোল পোস্ট লাগানোর ব‍্যবস্থা করে।
খেলার মধ‍্যে সেই ছন্দ আদৌ দেখতে পাচ্ছি না! ডিফেন্স খুব দুব্বল, অ্যাটাকও ঠিকমতো হচ্ছে না! সাম্পাওলিকে দিয়ে কিসস‍্যু হবেনা! আমি ভাইপোকে পাঠিয়ে দিচ্ছি, ও বেশকিছু টিপস দেবে। বিশ্বকাপে না খেললেও বিশ্ববাংলার বল নিয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে দারুণ। তিন তিনটে গোল খেতে হলো! ডিফেন্স বলে তো কিছু নেই! আমি ভাইপোর সাথে কেষ্টাকেও পাঠাচ্ছি। কিভাবে উন্নয়নকে দাঁড় করিয়ে ডিফেন্স করতে হয় শিখিয়ে দেবে। 'ফরোয়াড' তো দূর, একটা মশাও গলতে দেবেনা! এমনকি রেফারি, লাইস ম‍্যানকেও ডিফেন্সের ধারেকাছে ঘেসতে দেবেনা।
গ্রুপের শেষ ম‍্যাচ নাইজেরিয়ার সাথে। যেভাবেই হোক জিততেই হবে। আমি অধিকারীকে বলে দিচ্ছি - এ্যাই অধিকারী, তুমি আজ রাতের ফ্লাইটে বেরিয়ে যাও। এই কদিনের মধ‍্যে নাইজেরিয়ার স্টাইকারদের ভয় দেখিয়ে দল বদল করিয়ে আর্জেন্টিনার দলে নিয়ে নাও! আর হ‍্যাঁ যাওয়া সময় ১০০ সিভিক ভলেন্টিয়ার নিয়ে যেও। ওরা খেলার সময় রাশিয়ার পুলিশের সাথে মাঠে ডিউটি করবে। আর সুযোগ পেলে বিরোধীদের গোলে বল ঢোকাতে সাহায্য করবে। ঠিক যেমন পঞ্চায়েত ভোটে করেছিল!
তবে এটা মাথায় রাখতে হবে, খেলা হচ্ছে রাশিয়ায়। হার্মাদের দেশে। এর পেছনে সিপেমের চক্কান্ত থাকলেও থাকতে পারে। তাই 'তাজা ছেলে' এঁড়েবুলকে বলেছি 'গুফ' লীগের শেষ ম‍্যাচের আগে ও বাইক বাহিনী নিয়ে রাশিয়ার পৌঁছে যাবে আর স্টেডিয়ামের বাইরে পাহারা দেবে। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ বলল, বাইক নিয়ে বাংলা থেকে রাশিয়া! কালীপিসি দৃপ্ত কন্ঠে বলল, কেন পারবেনা! গৌতম বুদ্ধ যদি হেঁটে নেপাল থেকে জাপান যেতে পারে তাহলে বাইক বাহিনী কেন বাংলা থেকে রাশিয়া যেতে পারবেনা!
যে পরামর্শ গুলো দিলাম সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলো তবেই সাফল‍্য আসবে! যে পাবলিক তোমাকে আজ ভগবান ভাবে, ভুলে যেওনা তারাই ৩০০বছর পর আমার মন্দির করে পুজো করবে।
ও হ‍্যাঁ, আরেকটা কথা, নাইজেরিয়া সাথে খেলায় মাঠে নেমে সবাই একসাথে 'পাত্থোনা' করার পর আমার এই লেটেস্ট কবিতাটা সবাই মিলে একবার বলবে তাহলে দেখবে জয় আর কেউ আটকাতে পারবেনা!
ধরবো বল, কর্মফল, এগিয়ে চল,
'কন্নার' তোল, হবে গোল, হাল্লাবোল
অফসাইড, দারুণ ফাইট, ডে-নাইট
'ফি-কিক', চারিদিক, রেফারিক ধিক্
নেই ভয়, হবেই জয়, নিশ্চয়
(এটি কাল্পনিক রচনা। বাস্তবের সাথে কোনো মিল থাকলে কাকতালীয় )

Thursday, 15 February 2018

কৈলাশে ভ‍্যালেনটাইন

সকাল থেকেই পার্বতী আজ খুব কনফিউশনে আছে। বাবা ভোলেনাথকে গোলাপ দিয়ে আগে ভ‍্যালেনটাইন উইস করবে, নাকি মাথায় দুধ ঢেলে স্নান করাবে। তার ওপর ছেলেমেয়ে গুলো সকাল থেকেই একটার পর একটা আবদার করেই চলেছে। 

কার্তিক সাতসকালে মাঞ্জা দিয়ে ড্রেস করে এসে বলল, মা হাজার কুড়ি ক‍্যাশ দাও তো! এতো টাকা তুই কি করবি! আরে এবারে শিল্প সম্মেলনে গিয়ে একটা শিল্পপতির মেয়েকে পটিয়েছি তাই খরচা একটু বেশি। প্রথমে একটু খরচা হবে, তবে মেয়ে বলেছে ওর বাবা আমার ব‍্যবসায় বিনিয়োগ করবে। পার্বতী হাঁ করে ছেলের কথা শুনছিল। তারপর বলল, সে তো বুঝলাম, কিন্তু অতো টাকা তো এখন আমার কাছে নেই। কার্তিক এবারে আবদার করে বলল, পিসির ভোট প্রচারের জন‍্য মামা গতকাল যে এক কোটি তোমার কাছে দিয়ে গেছে, ওটা থেকেই নাহয় দাও। খবদ্দার কাতু, ঐ টাকার দিকে ভুলেও তাকাবিনা! জানিস তো তোর পিসি কেমন রাফ এন্ড টাফ! আবার গুন্ডা কন্ট্রোল করে! কার্তিক হতাশ হয়ে বলল, মা পিসির জন‍্য এবারও বিনিয়োগটা মনেহয় আটকে গেল!

সরস্বতী মন খারাপ করে বসে আছে দেখে পার্বতী কি ব‍্যাপার জিঞ্জেস করে জানতে পারলো ওর কাছে টাকা নেই। তাই ভ‍্যালেনটাইন-ডে তে ব্রম্মাকে সোনার চেন গিফ্ট করবে প্রমিস করেছিল। পার্বতী বলল, কেন তোর পিসি তো কন‍্যাশ্রীর টাকা দিয়েছে ওটা দিয়ে কিনে দে। সরস্বতী হেসে বলল, ঐ টাকায় কি হবে! ব্রম্ভার চারটে মাথা, চারটে চেন লাগবে। তাছাড়া নারদ কাকু পিসির দেওয়া কন‍্যাশ্রীর টাকা থেকে কমিশন খেয়েছে। পার্বতী সব শুনে বলল, এবছরটা জামাইকে বলে কয়ে ম‍্যানেজ করে নে। সরস্বতী মুখ বাঁকিয়ে বলল, তোমার জামাই পদ্মফুলে বসে থাকে, প্রচুর কালোধনের মালিক, অল্পতে মোটেই খুশি হবেনা। আহাঃ একটা বছরই তো! সামনে বছর তোর পিসি রূপশ্রীর টাকা দেবে তখন দেখবি আর সমস্যা হবে না।

এমন সময় গনেশ কাঁদতে কাঁদতে এলো। মা, মা, আমি আর তোমার বৌমা আজ একটু সেন্ট্রাল পার্কে বসে গল্প করছিলুম। হঠাৎ একদল ছেলে এসে আমাদের ক‍্যালাতে লাগলো। বলে কিনা পার্কে বসে গল্প করা যাবেনা। সত‍্যি করে বল, তোরা কি শুধুই গল্প করছিলিস? গনেশ মাথা নিচু ক‍রে বলল, একটা কিস খেয়েছি। তাবলে ওরা মারবে! আমি আমার বৌকে খেয়েছি, ওদের বৌকে তো খাইনগ। ওদের দলের মেইন পান্ডা পবন কাকুর ছেলে। 

এই প্রথম কোনো ভ‍্যালেনটাইনডে লক্ষীকে বিছানায় শুয়ে শুয়েই কাটাতে হচ্চে। আসলে নারায়ণ এখন দক্ষিণ লন্ডনে নতুন ফ্ল‍্যাট নিয়েছে। ওখানের কর্পোরেশনের জল খেয়েই বিপত্তি। বেচারির ডাইরিয়া হয়ে গেছে। 

ছেলেমেয়েদের সমস্ত ঝামেলা মিটিয়ে পার্বতী স্বামীর জন‍্য গোলাপ আর দুধ দুটো নিয়েই হাজির হলো। বাবা তখন ফুল আউট। পাঁচ ছ বার ডেকেও যখন সাড়া পেলো না তখন নন্দী ভিঙ্গীর দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলল, কি কেস! এতো গাঁজা বা ভাং নয়! কি খাইয়েছিস! তখন নন্দী মিঙমিঙ করে বলল, আপনার বোনের বাড়ি থেকে যে বোতলগুলো সিআইডি উদ্ধার করেছিল সেগুলো ... ভিঙ্গীর দিকে তাকাতে সেও ভয়েভয়ে বলল, কয়েকটা গুজরাট ভোটে বেঁচে যাওয়া বোতলও ছিল ওর সাথে। আসলে বাবার দুরকম খেয়ে ককটেল হয়ে গেছে। পার্বতী ধমক দিয়ে বলল, যা তাড়াতাড়ি লেবু নিয়ে এসে খাওয়া। নন্দী বলল, নাগপুর থেকে আনবো? পার্বতী আরও রেগে বলল, পাতিলেবু লাগবে, কমলা নয়!

অবশেষে লেবু খাইয়ে নেশা কাটিয়ে বাবা উঠে বসলেন। তখন পার্বতী বাবাকে বলল, আমি সত‍্যিই কনফিউশনে, কোনটা তোমাকে আগে দেব! গোলাপ নাকি দুধ? মহাদেব তখন হেসে বললেন, ওরে পাগলী গোলাপের পাপড়িগুলো ছিড়ে ঐ দুধে ছড়িয়ে দে। তারপর ঐ পাপড়ি মেশানো দুধটা আমার মাথায় ঢেলে দে। তাহলেই তোর শিবরাত্রী আর ভ‍্যালেনটাইন, দুটোই একসাথে পালন করা হয়ে যাবে।

Thursday, 18 January 2018

রানীর অসুখ

রানীর ভারি অসুখ। সরকারি, বেসরকারি, সুপার স্পেশ‍্যালিটি, কোনো হাসপাতালের ডাক্তারই সারাতে পারলো না। অসুখটা যে কী তা কেউ বলতে পারে না, অসুখ সারাতেও পারে না। সারাবে কী করে? অসুখ তো আর সত্যিকারের নয়। রানীর কেবলই মনেহয়, আসেপাশের সবাই তার বিরুদ্ধে চক্কান্ত, ষড়যন্ত্র করছে। কত রকমের কত ওষুধ রানী খেয়ে দেখলেন, কিছুতেই কিছু হল না। আই ফোন কিনে দেওয়া হলো, হাওয়া বদলের জন‍্য সিঙ্গাপুর, লন্ডন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হলো, কিন্তু রানীর মানসিক অবস্থার কোনো উন্নতি হ'ল না।

তখন রানী'মা গেলেন ক্ষেপে। তিনি বললেন, "চাবকে লাল করে দাও এই অপদার্থগুলোকে, পেছনে বাঁশ দিয়ে দাও।" এমনি করে চিকিৎসকেরা বিদায় হলেন। এমনকি রানীর পছন্দের চিকিৎসক, কুকুরের ডায়ালিসিস স্পেশালিস্টও ভয়ে আর কেউ রানীর বাড়ির দিকেও যায় না। তখন সকলের ভাবনা হ'ল, তাই তো, শেষটায় কী রানী প‍্যানিকেই মারা যাবেন?

এমন সময় নাগপুর থেকে এক হাফ প‍্যান্ট পরা সন্ন্যাসী এসে বলল, "অসুখ সারাবার উপায় আমি জানি, কিন্তু সে ভারি শক্ত। তোমরা কী সব করতে পারবে?" মন্ত্রী, কোটাল, সেনাপতি, পাত্রমিত্র সবাই বলল— "কেন পারব না? খুব পারব।" রানীর প্রিয় দামালরা বলল, "জান্‌ দিতে হয় জান্‌ দেব!" তখন সন্ন্যাসী বলল, "প্রথমে এমন এক লোক খুঁজে আন যিনি গোমাতার ভক্ত, যিনি সারাক্ষণ বন্ধুদের (মিত্রোঁ) মনের কথা শোনান (মন কি বাত), যে দাঙ্গা হোক বা কৃষক আত্মহত্যা, সব সময়ে, সব অবস্থাতেই খুশি থাকে।" সবাই বলল, "তারপর?" সন্ন্যাসী বলল, "তারপর সেই লোকের হাতে বানানো চা যদি রানীকে খাওয়ানো যায়, তাহলেই সব অসুখ সেরে উঠবে।"

তাড়াতাড়ি রানী মার কাছে খবর গেল। তিনি শুনে বললেন, "আরে, এই সহজ উপায়টা থাকতে এতদিন সবাই মিলে করছিল কী? যাও, এখনি খোঁজ করে সেই চা-ওয়ালা লোকটার কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে এস। জয়, মামা-টিমা-নুষ এর জয়"

চারিদিকে লোক ছুটল, রাজ্যময় 'খোঁজ-খোঁজ' রব পড়ে গেল, অলিতে গলিতে পাড়ার মোড়ে হাইওয়ের পাশে সব জায়গায় রানীর কাতিলানা হাসি মুখের ছবি দিয়ে পোস্টার টাঙানো হলো, কিন্তু সে লোকের আর সন্ধান পাওয়া যায় না। যে যায় সেই ফিরে আসে আর বলে, " কই, তেমন লোকের তো দেখা পাওয়া গেল না!" সবার মুখে এই একই কথা। তখন মন্ত্রীমশাই রেগে বললেন, "এদের দিয়ে কী কোন কাজ হয়? এ মূর্খেরা খুঁজতেই জানে না।" এই বলে তিনি নিজেই বেরোলেন সে অজানা লোকের খোঁজ করতে।

বিহারে গিয়ে তিনি দেখলেন, এক বুড়ো লোক প্রচুর গরুদের চারা খাওয়াচ্ছেন। মন্ত্রী ভাবলেন বাঃ এই লোকটাকে তো বেশ হাসি-খুশি দেখাচ্ছে, ওর তো অনেক ছেলেপুলে, টাকা পয়সাও আছে দেখছি। তাছাড়া এতো গরুকে ভালোবাসে। এর হাতের চা খেলেই রানী নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে উঠবেন। মন্ত্রীমশাই এর রকম ভাবছেন, ঠিক এই সময়েই পুলিশ এসে তাকে জেলে ধরে নিয়ে গেল। আশপাশের লোকজনদের জিঞ্জেস করে জানা গেল, লোকটা গরুদের খাবার নাকি নিজেই খেয়ে নিয়েছে। ব্যাপার দেখে মন্ত্রীমশাই মাথা নেড়ে সেখান থেকে সরে পড়লেন।

তারপর তিনি খোঁজ করতে দিল্লি চলে গেলেন। সেখানে গিয়ে রামলীলা ময়দানে দেখলেন এক বৃদ্ধ লোক শুয়ে আছে আর তাকে ঘিরে প্রচুর লোক জড়ো হয়েছে। কাছে গিয়ে তিনি জানলেন বৃদ্ধটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে অনশন করছেন। বৃদ্ধকে সমস্ত কথা খুলে বললেন মন্ত্রী। বৃদ্ধ বললেন, আমি তো অতো দূর যাওয়ার ধকল সইতে পারবো না! মন্ত্রী ভাবলো এতো আরেক সমস্যা, জোর করে নিয়ে গেলে যদি পথেই পটল তোলে! রানীকে খবর দেওয়া হলো। সব শুনে রানী নিজেই দ‍্যাখা করতে দিল্লি রওনা দিলেন। অবাক কান্ড, রানী দিল্লি পৌঁছে রামলীলা ময়দানে বসে আছে কিন্তু সেই বৃদ্ধর আর কোনো পাত্তা নেই! রানী বেজায় চটে গেছেন।

কিছুদিন পরে আবার রামলীলা ময়দানে ভিড় জমেছে দেখে মন্ত্রী ভাবলেন বৃদ্ধ বুঝি ফিরে এসেছে। অনেক আশা নিয়ে গিয়ে দেখলেন, সেই বৃদ্ধ নয়, এক অন‍্য গেরুয়া পোশাক পরা সাধু নাচানাচি করছে ওখানে। লোকটার মাথাভরা চুল, মুখভরা দাড়ি, সমস্ত শরীর পেঁচিয়ে ঠিক অস্কার পুরষ্কারের ট্রফির মতন অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়ছেন মাঝেমধ্যেই। তার সামনে রাখা আছে চাল ডাল সাবান শ‍্যাম্পু থেকে নুডুলস। মন্ত্রী দেখে প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। ইনি কি সাধু! নাকি মুদি দোকানদার! মন্ত্রী সেই বাবাকে সব কথা খুলে বলল। সব শুনে বাবা বললো, আমার পরিচিত এমন এক লোক আছে, তবে তাকে পাওয়া মুসকিল। আসলে তিনি কখন কোন দেশে থাকে বোঝা মুসকিল! আমি বাড়ির ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি। মন্ত্রী ঠিকানা নিয়ে প্রনাম করে উঠতে যাবে তখন বাবা তাকে তার বেশকিছু প্রোডাক্ট প‍্যাকেট দিয়ে বলল, এগুলো রানীর জন‍্য, একেবারে স্বদেশী।

দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়, মন্ত্রী সেই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। কানাঘুষো শুনতে পায় লোকটা নাকি সার্জিক্যাল স্টাইক করে বিদেশে পালিয়েছে। অবশেষে ছমাস পর দেখা মিলল। ছাপান্ন ইন্চি ছাতি, গায়ে ১০লাখ টাকার কোট, মুখে রানীর মতন শিশুসুলভ হাসি। মন্ত্রী বিনয়ের সাথে তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি যোদ্ধা? তিনি হেসে বলেন, আমি চৌকিদার। মন্ত্রী তারপর রানীর অসুখের কথা তাকে বলতে তিনি বললেন, আমি থাকতে রানীর কোনো ভয় নেই। এই নিন দুটো লাড্ডু, এদুটো রানীর দুহাতে দিয়ে দেবেন। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রানীকে নিয়ে আমার বাড়িতে চলে আসুন। দেরি করবেন না, আমাকে আবার জন্মদিনের কেক কাটতে বিদেশে চলে যেতে হবে।

রানীকে সব কথা খুলে বলতে, রানী তার বাড়িতে চা খেতে যেতে রাজি হয়ে গেল। যদিও প্রথমে একটু ইতস্তত করছিলেন। তারপর দুজনে একান্তে বন্ধ ঘরে চা খেতে খেতে কথা শুরু করলেন। ঘন্টা তিনেক পর যখন দুজনে ঘর থেকে বার হলেন, তখন দুজনের মুখেই হাসি। একজন 'বিকাশ' বলে চিৎকার করছেন তো অন‍্যজন 'উন্নয়ন' বলে চিৎকার করছেন। মন্ত্রী পারিষদ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। রানীকে এতো খুশি আগে কোনোদিন কেউ দেখেনি। শেষে রানীর সাথে উনি একটা সেলফি তুলে টুইট করলেনে। রানী ফেরার পথে সেটা রিটুইট করতে ভুললেন না।

(পুরোটাই কাল্পনিক গল্প)

Friday, 12 January 2018

পাগলা দাশু

আজ অভিকে হাসিমুখে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুলে ঢুকতে দেখে সবাই অবাক! কেষ্টা, নবিনচাঁদ ছুট্টে গেলো অভির কাছে। কেষ্টা জিঞ্জেস করলো, ভাই আজ এতো খুশির রহস্যটা কি? নবিনচাঁদ জিজ্ঞেস করলো, বিশ্ব বাংলার বলটা পিসি কি তোকে দিয়ে দিলো নাকি! অভি কেবল হাসতে লাগলো। দাশু একমনে বেঞ্চিতে ঘসে ঘসে কি একটা লিখছিলো। জগবন্ধু এসে দাশুকে বললো, ব‍্যাপারটা কিরে দাশু, অভি এতো লাফালাফি করছে কেন? দাশু বললো, অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকেই ওর মাথাটা গেছে। মাঝেমধ্যেই গরম হয়ে যায়, তখন এমন লাফালাফি করে। জগবন্ধু বললো, তবে যে ডাক্তার বললো অভি পুরো সুস্থ। দাশু হেসে বলল, ওরম মনে হয়!

অভি ক্লাসে ঢুকতেই জগবন্ধু অভির মাথায় একমগ জল ঢেলে দিলো। শীতেকালে এমনিতেই অভি সপ্তাহে একদিন স্নান করে। তাও গরম জলে। নেহাত তখন পাশে কেষ্টা আর নবিনচাঁদ ছিল, নাহলে জগবন্ধুর জগত ছাড়া হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারতো না। দুজনে মিলে অভিকে জাপটে ধরে রাখে। অভি চেঁচাতে থাকে, হারামজাদাটাকে আজ মেরেই ফেলবো! জগবন্ধু কাঁচুমাচু হয়ে বলতে লাগলো, দাশুই তো আমাকে বললো অভির মাথা মাঝেমধ্যে গরম হয়ে যায়! তাই আমি...। মিনিট দশেক বাদে অভি শান্ত হতে কেষ্টা জিঞ্জেস করলো, কি গুরু কেসটা কি বললে না তো! অভি বুক ফুলিয়ে বললো, আজ আমার পিসি ডক্টর হয়ে গেলো! নবিনচাঁদ উত্তেজিত হয়ে বললো করলো, নিশ্চয়ই হার্ট স্পেশালিস্ট! অভি ঘাড় নেড়ে না বললো। জগবন্ধু বললো, তাহলে ডেন্টিস্ট। পাড়ার মোড়ে পিসির ইয়া বড়ো দাঁত বার করা ছবি টাঙিয়েছে দেখেছি। কেষ্টা জগবন্ধুর দিকে কটমট করে তাকাতেই জগা চুপ হয়ে গেল। শেষে অভিই বলল, আরে এটা ঐ ডাক্তার নয় ডক্টরেট উপাধি দেওয়া হয়েছে। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পিসির 'পোতিভার' সম্মান জানিয়ে এটা দিয়েছে। দাশু এতক্ষণ ওদের কথা শুনছিল, এবারে সে ফোড়ন কাটলো, তা পিসি কবে ইস্ট জর্জিয়ার উপাধিটা রিটার্ন করলো? অভি দাশুর কথার উত্তর না দিয়েই পিসির গুণকীর্তন করতে লাগলো। পিসি সমাজ সেবা করে, গান করে, কবিতা লেখে। দাশু আবার বলল, এপাং ওপাং ঝপাং। অভি উপেক্ষা করে বলেই চললো, পিসি পাহাড় জঙ্গল নিয়ে লেখা বই, গীতাঞ্জলি কথাঞ্জলী নানান বই আছে, পিসি দারুণ ছবিও আঁকে। দাশু আবার ফোড়ন কাটলো, এখন আর আঁকে না, খরিদ্দার এখন জেলে। এবারে অভির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো। রেগে গিয়ে অভি দাশুকে বলতে লাগলো, আমার পিসির পিছনে লাগলে তোমার পিছনে অ্যাটম বোমা ফাটিয়ে দেব। এটা শুনেই নবিনচাঁদ বলল, তোর পিসির অ্যাটমবোমা বিষ্ফোরণের ছবিটা দারুণ।

এমন সময় প্রধানশিক্ষক বিষ্টুবাবু ক্লাসে প্রবেশ করলেন। ঝগড়া বন্ধ করে যে যার জায়গায় চুপচাপ বসে পড়লো। তোমাদের জন‍্য একটা সুখবর আছে। এবার থেকে প্রতিবছর যারা পরীক্ষায় প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় হবে তাদের স্কলারশিপ দেওয়ার হবে। জগবন্ধু, স‍্যারের প্রিয় ছাত্র। তাই দিকে তাকিয়ে বিষ্টুবাবু বললেন, জগবন্ধু মেডেল হাতছাড়া করলে চলবে না! কেষ্টা বললো, স‍্যার হঠাৎ করে এই স্কলারশিপ কি উপলক্ষে চালু হলো? বিষ্টুবাবু বললেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষামন্ত্রীর স্ত্রী গত হয়েছেন, তাই তার স্মরণে এটা উনি চালু করলেন। জগবন্ধু হাতের গাঁট গুনছে দেখে বিষ্টুবাবু জিঞ্জেস করলেন, কি হিসাব করছো? জগবন্ধু আফসোসের সুরে বলল, তিনটে বছর প্রথম হওয়া বৃথা হয়ে গেলো! যদি বছর খানেক আগে এটা চালু হতো...। বিষ্টুবাবু জিভ কেটে বললেন, ছিঃ ছিঃ অমন বলতে নেই! পিছনের বেঞ্চে বসে কেষ্টা আর দাশু ফিসফিস করে কথা বলছিল। বিষ্টুবাবুর চোখ যেতেই উনি কেষ্টাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি আলোচনা চলছে শুনি! তোমাদের তো এ জন্মেআর স্কলারশিপ পাওয়ার আশা দেখছি না! কেষ্ট বলল, স‍্যার খাদ‍্যমন্ত্রীর স্ত্রী মারা গেলে কি স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক প‍্যাকেট করে মিহিদানার প‍্যাকেট দেওয়া হবে? বিষ্টুবাবুর বেতের লাঠি কেষ্টার পিঠে পড়তেই কেষ্টা কাঁদতে কাঁদতে বলল, স‍্যার দাশু আমাকে বলেছে।

বিষ্টুবাবু ক্লাস থেকে বের হতে যাবেন এমন সময় নবিনচাঁদ বলল, স‍্যার আগামীকাল কি স্কুল ছুটি থাকবে? বিষ্টুবাবু রেগে গিয়ে বললেন, কোন দুঃখে! পড়াশোনার নাম নেই, কেবল ছুটি! নবিনচাঁদ ধমক খেয়ে কাঁচুমাচু হয়ে বলল, না মানে দাশু বলছিল অভির পিসি ডক্টর হয়েছে সেইজন‍্য আগামীকাল স্কুল অফিস কাছারি সব ছুটি থাকবে। স‍্যার যখন নবিনচাঁদকে ধমকাচ্ছিল তখন দাশু পিছনের বেঞ্চে বসে মিচকে মিচকে হাসছিল।

আচ্ছা, দাশু কি সত্যি সত্যি পাগল, না কেবল মিচ্‌‌কেমি করে ?

Monday, 11 December 2017

চারমূর্তি

শীত পড়তেই এবছর কোথায় পিকনিক করতে যাওয়া হবে সেই নিয়ে জোর ঝামেলা হাবুল আর প‍্যালার মধ‍্যে। হাবুলের ইচ্ছা বোলপুরে তাই হাবুল বলল, বোলপুর হলো 'কবিগুড়ি'র দ‍্যাশ। ছাতিম গাছের তলে বইস‍্যা কচি পাঁঠার ঝোল আর ভাত, ভাবলেই জিভে জল চইলা আ্যাইসে। তাছাড়া আমাগো মামা হইচে বীরভূমের ডিএসপি, সবাই তাকে দেইখ‍্যা সমীহ কইর‍্যা চলে। প‍্যালা এই শুনে বলল, থাক হাবুল, কেষ্টার হুমকি শুনে তোর মামার যে প‍্যান্ট ভিজে গিয়েছিল সেটা আমরা সবাই দেখেছি। তারচেয়ে বরং কোলকাতার কাছাকাছি নিউটাউন রাজারহাটের আশেপাশে কোথাও একটা করলে হয়। হাবুল বলল, আর জায়গা পেলিনা, মাংসের ঝোল কড়ায় ফুটবে আর হঠাৎ বিশ্ব বাংলার বল গড়িয়ে এসে সব উল্টেপাল্টে দিক আরকি!

এমন সময় ক‍্যাবলা বলল, ঐ তো টেনিদা আসছে। প‍্যালা পিছনের দিকে একবার তাকিয়েই তাড়াতাড়ি চানাচুরের ঠোঙাটা উল্টে পুরোটা গালের মধ‍্যে ঢেলে দিলো। টেনিদা এসে মাথায় চাঁটি মারতেই প‍্যালার মুখ দিয়ে চানাচুর বেরিয়ে পড়লো। টেনি মুখুজ‍্যেকে ফাঁকি দেওয়া অতো সহজ নয়! যা এখুনি আমার জন‍্য ঝালমুড়ি নিয়ে আয়। অগত্যা প‍্যালা ঝালমুড়ি আনতে চলল। টেনিদা তারপর হাবুল আর প‍্যালার সব যুক্তি শুনে বলল, পিকনিক করতে হয় এমন এক জায়গায় যেখানে পাড়াহ থাকবে, সমুদ্র থাকবে, ঘন জঙ্গল থাকবে, তা নাহলে অ্যাডভেঞ্চার হয় নাকি! হাবুল বলল, এতো ডেলো, মন্দারমনি আর জঙ্গলমহলের ককটেল, এমন জায়গা বাংলায় কোথাও আছে বলে শুনিনি! ক‍্যাবলা এতক্ষণ সব শুনছিল, এবারে সে বলল, আচ্ছা টেনিদা পিকনিকটা লিলুয়ায় করলে কেমন হয়? টেনিদা গাঁট্টা মেরে বলল, বাংলা, বিশ্ব বাংলায় পরিনত হয়ে গেল আর তুই এখনও লিলুয়ার মায়া ছাড়তে পারলি না!

এমন সময় প‍্যালা বলল, আজকে হাবুলের পিসি ডি-লিট পাওয়ার খুশিতে খাওয়াবে বলেছিল না? টেনিদা প‍্যালার মাথায় একটা জোরে গাঁট্টা মেরে বলল, হতচ্ছাড়া এতক্ষনে মনে পড়লো! আমি তাই এসে থেকে ভাবছি আজ কোথায় যেন একটা খাওয়া আছে। চল তাড়াতাড়ি চল, খিদেটা হঠাৎ আবার বেড়ে গেল। হাবুল বলল, কিন্তু আমাদের পিকনিক কোথায় হবে সেটা তো ঠিক হলো না! টেনিদা এবার রেগে গিয়ে বলল, মেফিস্টোফিলিসের মতন কথা বলিস না হাবুল, খালি পেটে হাজার চেষ্টা করলেও আমার পিকনিকের স্পটের নাম মনে পড়বে না।

হাবুলের বাড়িতে চারমূর্তি হাজির হতেই পিসি গরম গরম আলুরচপ আর বেগুনি খেতে দিলো। যথারীতি টেনিদা বাকিদের একটা করে দিয়ে নিজে সবটাই উদরস্ত করলো। তারপর জল খেয়ে একটা ঢেকুর তুলে বলল, কে বলে বাংলার শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়! পিসি হেসে বলল, তোমরা একটু বোসো আমি বাকি খাবারের জোগাড় একটু সেরে নিই! হাবুল বাকিদের নিয়ে তখন পিসির স্টাডিরুম ঘুরিয়ে দেখাতে লাগলো। দেওয়ালে সব পিসির আঁকা ঐতিহাসিক ছবি। হঠাৎ ক‍্যাবলা বলল, এই হাবুল সেই অ্যাটম বোম বিষ্ফোরণের ছবিটা দেখছি না! হাবুল বলল, ওটা কদিন আগে পিসি রাষ্ট্রপতিকে উপহার দিয়েছে। প‍্যালা টেবিল থেকে একটা বই হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো, 'এপাং ওপাং ঝপাং'। এটা শুনেই টেনিদা বলল, এদিকে খিদেতে আমার পেট চুঁই চুঁই করছে আর তোরা হরলিক্সের আ্যাড শোনাচ্ছিস! প‍্যালা বলল, আরে এটা অ্যাড নয়, এটা পিসির লেখা কবিতা!

এমন সময় পিসির ঢাক শুনে সবাই ছুটে গিয়ে রান্নাঘরে হাজির হলো। মাজ, মাংস, মিস্টি, এলাহি ব‍্যাপার। প‍্যালা দেখে বলল, এতো 'আহারে বাংলার' স্টল! টেনিদা রেগে গিয়ে বলল, প‍্যালা, তুই একদম বেশি খাবিনা। ব‍্যাটা পিলে রুগী, কাঁচা জল খেলে অম্বল হয়। তারপর টেনিদা নিজেই যথারীতি সিংহভাগ খাবার সাবাড় করে দিলো। এতে বাকিদের যথারীতি খুব রাগ হলো। তাই খাবার শেষে পিসি টেনিদাকে মিস্টি করে ধমক দিয়ে বলল, টেনি ম‍্যাক্সিমাম খেও না, মিনিমাম খাও। টেনিদা হেঁসে বলল, জিআই তকমা পাওয়ার পর নবীন ময়রার রসগোল্লার স্বাদ দ্বিগুণ ভালো হয়ে গেছে।
(পুরোটাই কাল্পনিক গল্প, বাস্তবের সাথে মিল থাকলে কাকতলীয়)

Wednesday, 15 November 2017

রসগোল্লা রহস্য

আজ রবিবার, তোপসের টিউশন পড়তে যাওয়া নেই। তাই বিকালবেলা সোফায় শুয়ে শুয়ে ইনস্টাগ্রামে সদ‍্য শুরু হওয়া ফ্লিম ফেস্টিভ্যালের ছবি দেখছে। শাহরুখ আর পিসির ছবি দেখে তার হঠাৎ 'করন অর্জুন' সিনেমার কথা মনে পড়ে গেল। ব‍্যাকগ্রাউন্ডে মনে হলো গান বাজছে, বন্ধন ইয়ে, প‍্যার কা বন্ধন হ‍্যায়। তোপসের চোখে অটমেটিক জল এসে গেলো। তোপসে দেখল পাশে বসে ফেলুদা তখন টিভিতে খবর দেখছে, কেষ্টা প্রকাশ‍্যে হুমকি দিচ্ছে। এমন হুমকি তো মাফিয়া গুন্ডারা দেয়, তোপসের মুখে এই কথা শুনে ফেলুদা বলল, সাধে কি আর উনি বলেছেন, আমি গুন্ডা কন্ট্রোল করি।

এমন সময় কলিং বেজ বেজে উঠলো। দরজা খুলতেই লালমোহন বাবু রেগেমেগে হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করলো। তারপর সোফাতে ধপাস করে বসে বলল, হরেন্ডাস ব‍্যাপার মশাই! কি ব‍্যাপার ফেলুদা জিঞ্জেস করাতে লালমোহন বাবু বললেন, দিব‍্যি আপনার বাড়িতে আসছিলাম। নিউ টাউনের সিগন‍্যালে দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ গাড়ির পিছনে জোর ধাক্কা। প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো গাড়ি এসে ঠুকলো বুঝি! কিন্তু নেমে দেখি হরেন্ডাস ব‍্যাপার, গাড়ি না! আমাদের গরমেন্টের তৈরি বিশ্ব বাংলার বল। ব‍্যাক লাইটটা ভেঙে গুড়ো হয়ে গেলো! ফেলুদা মুচকি হেসে বললেন, ওটা ভাইপোর বল। তোপসে অবাক হয়ে বলল, ওটা তো সরকারি বল! ফেলুদা বলল, বল গড়াগড়ি খাওয়ার আগে পর্যন্ত সবাই সেটাই জানতো।

লালমোহন বাবু ফেলুদাকে বলল, তা এবারে শীতে কোথায় যাওয়া হবে ঠিক করলেন কিছু? ফেলুদা একটা চারমিনার ধরিয়ে দুটো রিঙ ছেড়ে বললেন, গ‍্যাং বা ড‍্যাং তো যাওয়া যাবেনা! পাহাড় খুব জোর হাসছে। লালমোহন বাবু উত্তেজিত হয়ে বললেন, তাহলে রাজস্থানেই যাওয়া হোক। সেই কবে সোনারকেল্লা দেখেছিলাম, আপনার মনে আছে? ফেলুদা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো। লালমোহন বাবু বললেন, ছোট্টো ছেলে মুকুলটা তো ভয়ে আমার কোলের ভিতর ঢুকে পড়েছিল। আচ্ছা মিত্তির মশাই, মুকুল অনেক বড়ো হয়ে গেছে না! এখনও কি ভয় পায়? ফেলুদা চারমিনারে আরেকটা টান দিয়ে বলল, হ‍্যাঁ ভয় পায়। তবে সিবিআইয়ের, তাইতো সে এখন পদ্ম বনে লুকায়। লালমোহন বাবু ফেলুদার কথার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে না পেরে তোপসের মুখের দিকে তাকায়। তারপর ফেলুদাকে উদ‍্যেশ‍্য করে বলেন, মুকুল সম্বন্ধে আরেকটি প্রশ্ন করতে পারি? ফেলুদা ঘাড় নাড়তে লালমোহন বাবু বললেন, মুকুল কি কাঁটা বেছে পদ্ম বনে ঢুকেছে?

ফেলুদা চারমিনারের শেষটা অ্যাসট্রেতে গুঁজে লালমোহন বাবুকে বললেন, রহস্য উপন্যাসের জন‍্য রাজস্থানে না গিয়ে দেগঙ্গা বা ভাঙড়ে যেতে পারেন। প্রতিদিনই মার্ডার হচ্ছে, সবাই জানে খুনি কে, কিন্তু কেউ মুখ খুলছে না। লালমোহন বাবু অবাক হয়ে, বলেন কি মশাই! কেন কেউ মুখ খুলছে না? ফেলুদা হেসে বলেন, ওটাই তো রহস্য। তোপসে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, তুমি কি ডেঙ্গুর কথা বলছো! ফেলুদা তোপসের পিঠ চাপড়ে বলে, সাবাস! আস্তে আস্তে তুই আমার অ্যাসিসেন্ট হওয়ার যোগ‍্য হচ্ছিস। লালমোহন বাবু অবাক হয়ে বলেন, ডেঙ্গু তো বাংলায় নেই! ওরা তো ভিনদেশী। ফেলুদা লালমোহন বাবুকে বলল, বুঝলেন গাঙ্গুলী বাবু ডেঙ্গু নিয়ে লিখলে একটা সমস‍্যা আছে। উপন্যাস আপনি প্রকাশ করতে পারবেন না। তার চেয়ে বরং আপনি রসগোল্লা নিয়ে একটা উপন্যাস লিখুন। সদ‍্য ওড়িশা থেকে যুদ্ধ জয় করে ফিরেছে। মার্কেটে ভালো খাচ্ছে সবাই। দুদিনেই জুকেরবার্গের সুগার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। লালমোহন বাবু হেসে বললেন, এটা দারুণ বলেছেন। তাছাড়া রসগোল্লার ওপর আমার দুর্বলতা রয়েছে অনেকদিন থেকেই। কিন্তু উপন্যাসের নাম কি দেব? লালমোহন বাবু মাথা চুলকাতে লাগলেন।

বাড়ি ফেরার সময় গাড়ির দরজা খুলতে গিয়ে হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠলেন, পেয়েছি! পেয়েছি! তারপর গদগদ মুখে ফেলুদার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার পরবর্তী উপন্যাসের নাম 'রসগোল্লা রহস্য'। ফেলুদা প্রত‍্যুতরে হেসে বললেন, এবারে আপনার ডি-লিট পাওয়া আর কেউ আটকাতে পারবে না...

Thursday, 19 October 2017

ভূত চতুর্দশীর গল্প

ভূত চতুর্দশীর রাতে কালীঘাট শশ্মানে বেশকিছু বিখ‍্যাত ভূত জমায়েত হয়েছেন। সবাই মিলে রবি'দাকে, মানে রবি ঠাকুরকে সভার সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। সভাপতির চেয়ারে বসে...

রবি ঠাকুর - যাক ছ-বছর ট্রাফিক সিগন‍্যালে ঝোলার পর আজ অন্তত একটু বসতে পারলুম। যা দিনকাল পড়েছে এখন তো রাস্তাঘাটে বেরোতে ভয় লাগে। সেদিন এসবিআই ব‍্যাঙ্কে গিয়েছিলাম একটা দরকারে। ক‍্যাশ কাউন্টারের নতুন ছোকরাটা আমাকে চিনতেই পারলো না! যখন বললাম, আমি রবীন্দ্রনাথ তখন গম্ভীরভাবে বলল, ওহ আপনিই আমাদের কোচবিহারের এক স্টাফকে শুয়োরের বাচ্চা বলেছিলেন তাই না! অবস্থা বেগতিক দেখে আমি সেখান থেকে কেটে পড়লুম।

সিরাজউদ্দৌলা - যাই বলেন, পরিবর্তনের থেকে ব্রিটিশ পিরিয়ড অনেক বেটার ছিল। ওদের বড়লাটকে খাজনা দিলেই মিটে যেত। এখন তো কচিনেতা, বড়নেতা, মিনিমাম ম‍্যাক্সিমাম হাজার ঝামেলা। নীলকর সাহেরাও এদের তোলাবাজী সিন্ডিকেট দেখে লজ্জা পেত।

নেতাজি - হ‍্যাঁ, যাস্ট ভাবা যাচ্ছে না! আমার বাড়ি মেরামতি হবে সেখানেও সিন্ডিকেট ঢুকে পড়েছে! আমার পাত্তা দিস না ঠিক আছে, নাতি তো তোদের দলই করে। তার মুখ চেয়ে অন্তত ছাড় দিতে পারতো!

চিত্তরঞ্জন- তুই একবার ভেবে দেখ সুভাষ, আমরা যে ঘরে বসে কর্পোরেশন চালিয়ে ছিলাম, সেই ঘরে সিবিআই ঘুষখোরটা কিভাবে ঘুষ নিয়েছে সেটার তদন্ত করার জন‍্য যাচ্ছে।

নজরুল - আমিই বৃথাই লিখেছিলাম, কারার ই লৌহ কপাট, ভেঙে ফ‍্যাল... ব্রিটিশ পিরিয়ডে উনি থাকলে, কারাগার ভাঙার কোনো দরকারই পড়তো না। উনি থানায় গিয়ে ভাঙচুর করে, চমকিয়ে ধমকিয়ে ছাড়িয়ে আনতেন।

সত‍্যেন্দ্রনাথ দত্ত - 'আজব ছড়া' বইটা পড়ার পর বুঝেছি, কবিতার ছন্দ কিভাবে মেলাতে হয়।

অবনীন্দ্রনাথ - আমি এখনও ভেবে উঠতে পারিনি ঐ ছবিটার দাম কিরে ১কোটি ৮৬লক্ষ হলো! তবে কন‍্যাশ্রী পুরষ্কার নেওয়ার সময় ও যে ছবিটা উপহার দিয়েছিল, সেটা যে ব‍্যাঙের পৌস্টিকতন্ত্রের সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল।

বিদ‍্যাসাগর - জালি সার্টিফিকেটধারীদের নিয়ে কি আর বলবো! তবে ওদের সবার উচিত একবার করে বর্ণপরিচয় পড়া। ফ্লেক্সে যা বানান ভুল করে!

শ‍্যামা প্রসাদ - উনি কেবল উন্নয়নের জোয়ার আনেননি, উনি এ রাজ‍্যে আরএসএসের জোয়ারও এনেছেন। দাঙ্গা দাঙ্গা খেলায় উনি আমাদের মতন সমান পারদর্শী। আর হবে নাই বা কেন, উনি যে সাক্ষাৎ 'দুর্গা'।

রামকৃষ্ণ - আমার স্ত্রী'র ওপর থেকে আমার বিশ্বাস উনিই তুলে দিয়েছেন। আমার নয়, ওনার অনুপ্রেরণায় প্রোমোটাররা মানুষের মধ্যে 'টাকা মাটি মাটি টাকা' এই বানী বেশ ভাল ছড়িয়েছে।

বিবেকানন্দ - ওনার বড়দা তো আমার শিকাগো বক্তৃতার পাঞ্চ লাইনটা, 'আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা' ঝেপে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলো। ঐ ভাষনের শুরুতেই বলে তো, মেরে প‍্যায়ারে ভাইয়ো ওউর ব‍্যাহেনো...

সত‍্যজিৎ - ওনার কৃপায় আমি মারা গিয়েও কিন্তু এখনও'ধরনী'তেই আছি। বেঁচে থাকলে ফেলুদা সিরিজে আর কয়েটা অ্যাড করতে পারতুম। এই যেমন ডেলোতে কেলো, পাতলেবাস সরগরম, জঙ্গলের হাসির রহস্য। তবে মুকুলের জন‍্য আজ খুব কষ্ট হয়। বেচারা আজও দুষ্টু লোক চিনতে শিখলো না।

সত‍্যেন্দ্রনাথ বসু - আমি শুধু ভাবি, ব‍্যাটা কেষ্টা, কেমিস্ট্রির ক জানেনা। কিন্তু বোমার মশলার মাপ কি করে এত নিখুঁত করে!

রামমোহন - আমি কোন বিধানসভা থেকে ভোটে জিতে এমএলএ হয়েছিলাম সেটা আজও খুঁজছি।

জগদীশ চন্দ্র - আমি গাছের প্রাণ আছে বলেছিলাম। আর এরা তাতেই বার খেয়ে সিঙ্গুরের কংক্রিটের জমিতে সর্সে চাষ করলো! এবারও ভেবে দেখলনা গাছ গুলো বাঁচবে কি করে!

ভূত চতুর্দশীর সভা বেশ ভালোই চলছিলো। হঠাৎ একটা বাচ্চা ছেলে আর একটা বাচ্চা মেয়ে খেলতে খেলতে সেখানে চলে আসে। এতরাতে দুটো বাচ্চাকে শ্মশানে খেলতে দেখে সবাই হকচকিয়ে যায়। তারা কোথা থেকে এখানে কিভাবে এসেছে তা জিঞ্জেস করাতে। বাচ্চা ছেলেটি জানালো, দিন চারেক আগে তাদের দুই ভাইবোনের একসাথে ডেঙ্গু হয়। শুনে বাকিরা সবাই চুপ হয়ে যায়। কেবল একে অপরের মুখের দিকে দেখতে থাকে। তখন তার ছোট বোনটি বলল, না না আমাদের ডেঙ্গু হয়নি। আমরা অজনা জ্বরে মারা গিয়েছি।

(কাল্পনিক গল্প, বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই)

Thursday, 5 October 2017

কার্নিভাল কাহিনী

দুর্গা= কৈ রে, বলি তোদের সাজুগুজু করা হলো! তাড়াতাড়ি নে, তোদের পিসি রেড রোডে অপেক্ষা করছে তো। 

সরস্বতী = মা, এই স্কার্টটা কেমন? এটা পরেই ভাবছি এবারে ক‍্যাট ওয়ার্ক করবো! 

দুর্গা = তুই কি পাগল নাকি! এই টাইট মিনিস্কার্ট পরে ওখানে কেউ হাঁটে নাকি! যদি হঠাৎ জ্বর বমি হয়ে যায়! 

সরস্বতী = আরে চিন্তা করছো কেন! আঙ্কেল তো এবারের কার্নিভালে নেই, ভুবনেশ্বরে আছে। তাই কোনো চিন্তা নেই!

দুর্গা = ওরে আঙ্কেল নেই তো কি হয়েছে, আঙ্কেলের ছেলেরা তো আছে। যদি ফস করে ঢুকে পড়ে! তাছাড়া আশেপাশে অনেক দুষ্টু দামালরা থাকবে। বিদায় বেলায় যদি একটা ছোট্টো ঘটনা ঘটে যায়! তোর পিসি তো ক্ষতিপূরণ ঘোষনা করেই খালাস হয়ে যাবে।

সরস্বতী = তাহলে কি পরবো? দিদি নম্বর ওয়ানে জেতা শাড়িটা? নাকি এবছরের লেটেস্ট, বাহুবলী চুড়িদার?

দুর্গা = চুড়িদারটাই পর। বাহুবলী নামটার মধ্যে একটা ইয়ে আছে...

লক্ষী = মা, আমার কন‍্যাশ্রীর বালা দুটো খুঁজেই পাচ্ছি না! পিসি বারবার করে বলে দিয়েছে ও দুটো পরে আসতে। 

দুর্গা = থাক মা, ও দুটো আর পরে কাজ নেই। ওখানে ছিঁচকে চোর থেকে ডাকাত, তোলাবাজ থেকে গুন্ডা সবাই আছে।

লক্ষী = পিসি তো গুন্ডা কন্ট্রোল করে, তাহলে ভয় কিসের?

দুর্গা = সেটা যেমন ঠিক, তেমন তোর পিসি মিলেমিশে ভাগ করে খেতেও বলে।

কার্তিক = মা, আমি ভাবছি, ময়ূরে করে না গিয়ে এবারে সবুজ সাথীর সাইকেলে করে কার্নিভালে যাবো।

দুর্গা = ঐ তো সাইকেলের হাল! দেখিস মাঝপথে ভেঙে যায়!

গনেশ = (সিঙাড়া খেতে খেতে এসে ) মা আমি তাহলে দাদার ময়ূরে চড়ে যাবো?

দুর্গা = না বাবা গনশা, তোমার চাপে যদি ময়ূর মাঝপথে কেঁদে ফেলে তাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে! আর তুমি এভাবে সিঙাড়া খেতে খেতে বাইরে বেরিও না, সিবিআই ইডির চোখে একবার পড়লে আর রক্ষে থাকবে না!

মহিষাসুর = মা, আমি কি গতবারের মতন মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে যাবো?

দুর্গা = ওটা ব‍্যাকডেটেড, পিসি কেসটা অনেকদিন আগেই শেষ করে দিয়েছে।

মহিষাসুর = তাহলে কি ফ্রেঞ্জকাট দাড়ি নিয়ে হাতে ক্রিকেট ব‍্যাট নিয়ে হাঁটবো?

দুর্গা = এটা যদিও টাকটা কেস, তবে আমার মনেহয় তুই একটা রঙিন জহরকোট পরে মাথায় একটা পাহাড়ি টুপি পরে নে। আর হ‍্যাঁ, হাঁটার সময় চোখ দুটো ছোট করে খুলবি।

কলা বৌ = মা, পিসি গতবছর বলেছিলো, পরেরবার বিএমডব্লিউ আর ভলবো করে কার্নিভালে নিয়ে যাবে। তা কই এবারে তো কিছু পাঠালো না!

দুর্গা = বলিহারি বৌমা তোমার আশা, যে বন‍্যা ত্রানে হেলিকপ্টার পাঠায় না, সে আমাদের জন্য ভলবো বিএমডব্লিউ পাঠাবে! খোলা ট্রাকে করে হাওয়া খেতে চলো।

( দুর্গার স্বপরিবারে কার্নিভালে প্রবেশ)

পিসি = আরে গৌরী, নীলসাদা শাড়িতে তোমাকে দারুণ লাগছে! গলায় উজ্জ্বল মুক্তোর হারটা দেখে মনে হচ্ছে ওটা ত্রিফলার গায়ে পেঁছিয়ে থাকা আলো। আমার তো দেখেই অটোমেটিক কবিতা পাচ্ছে..

(এই কথা শোনা মাত্রই সরস্বতী আর লক্ষী কানে হেডফোন গুঁজে দিয়েছে)

দুর্গা = দয়াকরে আমাকে গৌরী নামে ডাকবেন না। আসলে ঐ নামে ডাকলেই মনেহয় কেউ আমাকে এখুনি গূলি করবে।

পিসি = হ‍্যাঁরে গনশ, তোকে কতো করে বলেছি ডায়েট কন্ট্রোল কর। তোর মধ‍্যপ্রদেশ তো পাত্তোকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে। এই ভুড়ি নিয়ে ক‍্যাট ওয়ার্ক হয়! এবারে যাওয়ার সময় এক পেটি সিঙ্গুর সরিষার তেল নিয়ে যাবি। একেবারে কোলেস্টেরল ফ্রী। আর তোর বৌ-টা তো শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে আহারে বাংলা বা ইলিশ উৎসবে নিয়ে এসে ভালোমন্দ খাওয়া। 

(কার্তিককে ডিএসএলআর-এ ছবি তুলতে দেখে পিসি রেগে গিয়ে)

পিসি = এই! এই কাতু! ওটা ব‍্যাগে ঢোকা আগে। চালাকি পায়া হ‍্যায়! কার্নিভালে এসে ম‍্যাথুর মতন স্টিং করতা হ‍্যায়!

কার্তিক = আরে না না! আমি ফেসবুকে দেব বলে ছবি তুলছি। 

পিসি = ওসব আমি নেহি জানতা হ‍্যায়! ক‍্যামেরা দেখলেই আমার স্নেহের ভাই গুলো ভয় পায়! আসলে, গোয়াল বার্নিং কাউ ফিয়ার সিঁদুরে ক্লাউড, আরকি!

(কার্তিক ক‍্যামেরা ব‍্যাগে ঢুকিয়ে আবার তীর ধনুক নিয়ে পোজ দিতে শুরু করলো)

পিসি = তুই কি রে কাতু! এখনো তীর ধনুকেই পড়ে আছিস! ওরে কেস্টা ওকে দু-চারটে পেটো অন্তত দে।

(লক্ষীর দিকে তাকিয়ে)
পিসি = তোকে কতোবার ফোন করে বিশ্ব ব‍্যাঙ্গ সম্মেলনে আসতে বললাম, তাও একবারও এলি না! আগে তো প্রায় সুদীপ কাকুর সাথে অ্যাম্বুলেন্সে চড়েও আসতিস! 

(সরস্বতী নোটপ্যাড নিয়ে ব‍্যস্ত। তার দিকে তাকিয়ে খানিকটা রেগে গিয়ে)

পিসি = যতই খুটুর পুটুর করো না কেন, ভুলে যেও না , ইন্টারনেট ব‍্যালেন্স আমার গরমেন্টই ভরে। 

মহিষাসুর = পিসি আমাদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তিটার কি হলো?

পিসি = আমি তোর সাথে একটাও কথা বলবো না। আমাকে মা বোলতা হ‍্যায়। ওউর হামার বিরুদ্ধে চক্কান্ত করতা হ‍্যায়!

দুর্গা = পিসি এবারে অন্তত বিদায় দিন। আমার ভোলেবাবা হয়তো আমাকে ভুলেই গেছে..

পিসি = চিন্তা করিস না! যেতে দেরি হবে সেটা আমি হোয়াটস অ্যাপ করে দিয়েছি। আর হ‍্যাঁ, ভোলেবাবা যাতে একাএকা বোরিং না হয় তাই মদনাকে পাঠিয়ে দিয়েছি।

গান্ধী স্মরণে কালীপিসি

আজ গান্ধীজির জম্মোদিন। আমার সাথে ওনার জীবনের যথেষ্ট মিল আছে। দুজনকেই অনেক লড়াই করতে হয়েছে। অবশ‍্য আমাকে ওনার থেকে একটু বেশীই লড়তে হয়েছে। ওনার সময় তো বিটিশরা কুৎসা অপপোচার করতো না। আমাকে যেমন সবাই অগ্নিকন‍্যা বলে ডাকে, ঠিক তেমনই ওনাকে সবাই বাপুজি বলে ডাকতো। তোমরা যে এখন বাপুজি কেক খাও ঐ কেকের কারখানা উনিই করেছিলেন। আমি যেমন হাওয়াই চটি আর ছাপাশাড়ি পরে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াই উনিও তেমনই সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। ওনার সময়ে যদি মোবাইল থাকতো তাহলে উনিও একটা আইফোন কিনে অহিংসাই পরম ধম্মো লিখে, টুইট করতেন। ডান্ডি মার্চ ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করতেন। উনি সত‍্যাগ্রহে বিশ্বাসী ছিলেন, আর আমি সততার পোতীক। যদিও ইদানিং আমার তেরো হাত কাটআউট একটু কম জনপিয়। 

উনি আমার মতন আন্দোলন করার সময় মাঝেমধ্যেই অনশন করতেন। রবীন্দোনাথ একবার ফলের রস খাইয়ে অনশন ভাঙান, সেটা আগেই তোমাদেরকে বলেছি। আমি অবশ্য চকলেট খেয়েই অনশন করতাম। আমাকে যেমন সবাই কন‍্যাশ্রীর জননী বলে, ওনাকেও লোকে জাতীর জনক বলে। উনিও আমার মতন আইন নিয়ে পড়েছিলেন। আমাদের খোকাবাবু যেখানে চাঁদের পাহাড়ের সুটিং করেছিল সেই আফ্রিকায়। তবে ওনার কলেজের বাইরে সিপেম স্টেনগান নিয়ে অপেক্ষা করতো না। তবে ওনাকে আমার মতন সিঙ্গাপুর, লন্ডন, জার্মানি ঘুরে বিনিয়োগ আনার ঝামেলা পোয়াতে হয়নি। আমি যেমন গলায় 'আমরা সবাই চোর' লিখে মহানগর মার্চ করেছিলাম, সিঙ্গুরে সর্ষে চাষের দাবী নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। উনিও ঠিক তেমনই ডান্ডি মার্চ করেছিলেন। 

আমি যেমন ২০১১ আগে প্রায় প্রতি মাসেই দুচারটে বনধ ঢেকে, হাইওয়ে অবরোধ করে সরকারের সাথে অসহযোগিতা করেছিলাম, উনিও ঠিক তেমনই অসহযোগ আন্দোলন করেছিলেন বিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে। আমি যেমন ডেলোতে গোলটেবিল বৈঠক করছি, উনিও তেমনই বিটিশদের সাথে গোলটেবিল বৈঠক করেছিলেন। আমি যেমন ডাক দিয়েছি, সিপেম ভারত ছাড়ো। উনিও ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলন করেছেন। 

এই এই চোপ! চোপ! কেউ কথা বলবে না! তবে এতোকিছু মিল থাকার স্বত্ত্বেও বেশকিছু অমিলও আছে। উনি কিন্তু আমার মতন, কবিতা লিখতে, গান লিখতে, কোটি টাকার ছবি আঁকতে পারতেন না। উনি অহিংসায় বিশ্বাসী আর আমি, বদল নয় বদলা চাই। আমি ওনার থেকে অনেক বেশি রাফ এন্ড টাফ, গুন্ডা কন্টোল করি। চৌরিচৌরায় আগুন লাগলে উনি আন্দোলন থামিয়ে দেন আর আমি বিধানসভা ভাঙচুর করে আন্দোলন শুরু করি। 

হঠাৎ সামনে থেকে উঠে এক দামাল বলল- পিসি, এবারে আমরা বুঝেছি আপনার অনুপ্রেরণা না থাকলে উনি এতকিছু করতেই পারতেন না! পিসি মুচকি হেসে বলল, দুষ্টু। ওনার জন্মদিনে, আমার বড়দাও আজ ওনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ওনাকে স্মরণ করেছেন। যদিও কিছু লোকে কুৎসা করে, বড়দার বড়দা নাকি ওনাকে গুলি করেছিল। যাই হোক সেসব পুরোনো কথা ভুলে গিয়ে আমরা সবাই মোহনভগবত, সরি! সরি! মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে শোদ্ধার সাথে স্মরণ করি চলুন...
ইন্দোনীল একটা গান করে অনুষ্ঠান শেষ করো...

Tuesday, 19 September 2017

মহিষাসুরমর্দিনী

প্রতি বছরই মা কৈলাস থেকে ফ্লাইট ধরে দার্জিলিং-এ ল‍্যান্ড করেন। তারপর দার্জিলিং থেকে কোলকাতায়। এবছর দার্জিলিংয়ের আবহাওয়া ভালো নয়। আকাশ 'গুরুং, গুরুং' করছে। 'হড়কা' বানের সম্ভবনাও আছে। মা তো ক্ষেপে ব‍্যোম! সরাসরি গঙ্গাপাড়ের বাড়িতে ফোন, বলি পাহাড় এতো হাসলে আমি ল‍্যান্ড করবো কি করে? আর কতদিন লাগবে হাসি থামাতে? ওপার থেকে পিসি, না মানে ওরা কোন ট্র‍্যাকে খেলতে চাইছে সেটা ধরে ফেলেছি। আর মাত্র কয়েকটি দিন। দেবী রেগে গিয়ে, তোমরা কেমন খেলছো সেটা বাইচুং-কে দেখেই বুঝতে পারছি! লক্ষী বলল, মা এবারে তাহলে পাতলেবাসে যাওয়া হবেনা? দেবী গম্ভীরভাবে বললে, এবারে শুধু বাসেই যেতে হবে বোধহয়।

গনেশ এতক্ষণ খবর দেখছিল। সে হঠাৎ ছুটে এসে বলল, মা এবারে অন্ডালে ল‍্যান্ড করি চলো। ওখান থেকে 'বুলেটপ্রুফ' ট্রেনে কোলকাতায় যাওয়া যাবে। দেবী অবাক হয়ে বলল, বলিস কিরে গনশা! তোর পিসি বুলেটপ্রুফ ট্রেন চালু করে দিয়েছে! ভালো করে খোঁজ নিয়ে দ‍্যাখ ঢপ দেয়নি তো! হ‍্যাঁরে সর, তুই কিছু শুনেছিস? সরস্বতী ফেসবুক ঘাঁটতে ঘাঁটতে বলল, পিসি কন‍্যাশ্রীর পুরস্কার পাওয়ার প্রচার ছাড়া আর কিছু করছে বলে শুনিনি। অতপর দোনামোনা ক‍রে অন্ডালেই মা ল‍্যান্ড করলেন। তারপর বুলেটপ্রুফ ট্রেন না পেয়ে মা পুরো খচে ব‍্যোম! অনেক কষ্টে কার্তিক শান্ত করে। নারদ কাকুকে হোয়াটস অ্যাপ করতে, উনি ওলা নিয়ে হাজির হন। লং জার্নিতে এমনিতেই ক্লান্ত, খিদেও পেয়েছে তাই ল‍্যাঙচা আর শিঙাড়া কিনে নিয়ে ওলাতে চাপলো সবাই। ল‍্যাঙচাটা জঘন্য খেতে। তবে সিঙাড়াটা দারুণ। কার্তিক হেসে বলল, জানতাম এটা ভালো হবে। দোকানের ওপরে তো সুব্রত কাকুর হোল্ডিং ঝুলছে দেখেছি।

দীর্ঘ জার্নি শেষ করে অবশেষে তারা গঙ্গা পাড়ের বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়ির নীচে নারদকে আটকে দিলো সিকিউরিটি। দেবী জিজ্ঞেস করাতে সিকিউরিটি বলল, ম‍্যাডামের নিষেধ আছে। যদি আবার স্টিং ফিং কিছু করে বসে। তারপর লিফ্টে করে চোদ্দ তলায় পৌঁছালেন দেবী। দেবী বললেন, এতো কড়া সিকিউরিটি! এতোগুলো কুকুর পাহারায়! কার্তিক বলল, আমাদের দেখে ঘেউঘেউ করেই চলেছে। পিসি হেসে বলল, নারে কাতু, তোদের দেখে নয়! ওরা ডিএ-র জন‍্য চ‍্যাঁচাচ্ছে। তারপর পিসি দেবীকে উদ‍্যেশ‍্য করে বললেন, এত লাগেজ নিয়ে একা একা কেউ আসে! নন্দী ভিঙ্গীকে সাথে করে আনতে পারতে তো! দেবী আক্ষেপের সুরে বললেন, নিয়ে আসবো তো ঠিকই ছিল, তারপর হঠাৎ কোথা থেকে খবর পেল যে অষ্টমী থেকে টানা পাঁচদিন জল বন্ধ। ব‍্যাস, আর আসতে চাইলো না। পিসি হেসে বললে, আরে ধুর, ওটা তো নামেই বন্ধ। আসলে যারা ব্ল‍্যাকে বেচে তাদেরকেও তো দেখতে হবে নাকি! ওরা আবার প্রচুর অনুদান দেয়। এরপর পিসি হাসি মুখে সবার খোঁজ নিতে লাগলো, তা সর, কন‍্যাশ্রীর টাকা পেয়েছ তো? লক্ষী মা, সবুজ সাথীর সাইকেল পেয়েছো? গনেশের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল, ওমা! ১৫০০ কেজির বাচ্চাটা কতো বড়ো হয়ে গেছে! ওমা, কাতুটাকে কি সুন্দর লাগছে! তুই বাংলা সিনেমা কর। আরে চিন্তা করিসনা, আমি ছবি ট‍্যাক্স ফ্রি করিয়ে দেব।

আরও এটা সেটা কথার পর দেবী বললেন, তা এবারে কোন অসুরটাকে মারবো? বয়স হয়েছে আমার তাই বেশি ছোটাছুটি করতে পারবো না। একটা ভালো দেখে অসুর বেছে দাও, আমি তার ফোনে ব্লু হোয়েল ইনস্টল করে দেব ব‍্যাস। পিসি বললেন, এবারে আর কাউকে মেরোনা! এমনিতেই সিবিআইয়ের চাপে বড়ো বড়ো অসুরগুলো সব আধমরা হয়ে আছে। চাপ সবাই নিতে পারছে না। দেবী বললেন, সেকি! অসুর না মেরেই ফিরে যাবো! সেটা কি করে হয়! এত খরচা করে স্বপরিবারে এলাম! পিসি বলল, তাতে কি হয়েছে! আমিও তো দলবল নিয়ে সিঙ্গাপুর, লন্ডন, জার্মানি ঘুরি। আমি কি বিনিয়োগ আনি নাকি!

দেবী বলল, অসুর যখন মারা হবে না তাহলে এবছর দশমীর দিন সকালেই ফ্লাইট ধরে ফিরবো। পিসি হেসে বলল, আসা পঞ্জিকা মতে, কিন্তু যাওয়া আমার ইচ্ছায়। রেড রোডে ফ‍্যামিলি প‍্যারেড না করেই চলে যাবে, ওটি হচ্ছে না। দেবী অবাক হয়ে বলল, মানে! আমাকে আরও দুদিন থাকতে হবে! কার্তিক খুব খুশি। আচ্ছা পিসি, এবারের কার্নিভালটা ব্রাজিলিয়ান স্টাইলে করলে হয়না! ইওয় ভয়েস উইথ বেঙ্গা বয়েস! পিসি হেসে বলল, দুষ্টু...

Thursday, 3 August 2017

ভাইপোর লিপস নড়ছে না

কালীপিসির মনটা খুব বিচলিত। সন্তানসম ভাইপোটা কিছুই খাচ্ছেনা। দিব‍্যি আলুরচপ মুড়ি খেতে খেতে সন্ধাবেলায় 'টাইমস নাও'এ খবর দেখছিল। তারপর হঠাৎ কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেনা পিসি। কিছুতেই মুখে কিছু তুলছে না! ছোট্টো নাতনি ঘরে খেলছিল। সে কালীপিসিকে কেবল বলছে, পিসিদিদা পিসিদিদা, পাপা লিপ উন্ড। নাতনির কথা শুনে কালীপিসি ভাবলো বর্ষাকাল, ঠান্ডা লেগে ভাইপোর ঠোটে হয়তো ব‍্যাথা হয়েছে। কিন্তু এমনকি হয়েছে যে ভাইপো কথা বলছে না! পিসি কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।

এমন সময় মদনার ফোন। একটু ইতস্ততঃ করে রিসিভ করতেই মদনার জড়ানো গলা ভেসে এলো, আমি পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলাম বলে আমাকে শহীদ দিবসে স্টেজে উঠতে দাওনি। জুলিকে নিয়ে রাস্তায় বসে আমাকে সেদিন পোগ্গাম দেখতে হয়েছিল। দিদি, তোমার অভি লিপস এন্ড বাউন্ডসের জন‍্য মুদীর কাছ থেকে ১.১৫কোটি টাকা নিয়েছে। এবারে দেখবো তুমি তোমার ভাইপোকে স্টেজে চান্স দাও কিনা?

এতক্ষণে পিসির কাছে স্পষ্ট হলো নাতনির 'লিপ উন্ড' আসলে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস। রেগে গিয়ে ভাইপোকে ধিক্কার জানিয়ে বলল, ছিঃ অভি ছিঃ! শেষে কিনা মুদীজির কাছ থেকে টাকা নিলি! বড়দার সাথে তুই এমন করবি আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। উনি আমাদের ভোটের সময় কতো সাহায্য করেন, উনি না থাকলে এত সিট জিততে পারতিস! উনি সাহায‍্য না করলে আমাকে ক‍্যাবিনেট মিটিং জেলে বসেই করতে হতো। তুই কি ভেবেছিস তোর সুদীপদা সত‍্যিই বীর! আরে বড়দা না থাকলে ওকেও ভুবনেশ্বরে বসে ডায়েরী লিখতে হতো। তোর ছেলে ঢোকানো দাদা, যে এখন নিজেই ঢুকে আছে। সে যে জেলের মধ‍্যে দুবেলা ফ্রায়েড রাইস চিলিচিকেন গিলছে, সেটাও বড়দার দয়ায়। আর যে বড়দা আমাদের জন্যে এতকিছু করে তুই কিনা তার কাছ থেকে..... ছিঃ...

পিসির মুখে ভৎসনা শুনে এবারে ভাইপো হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, পিসি আমি টাকা নিয়েছি মুদীর কাছ থেকে ঠিকই কিন্তু আমি তোমার বড়দাকে ঠকাইনি, বড়দার কাছ থেকে টাকা নিইনি। পিসির এবারে খটকা লাগলো, মুদীর কাছ থেকে নিয়েছে অথচ বড়দাকে ঠকায়নি! ভাইপোর দিকে কটমট করে তাকিয়ে পিসি বলল, কি ব‍্যাপার খুলে বলো অভি। ভাইপো কাঁদতে কাঁদতে বলল, তুমি বি....শ্বাস করো পি.....সি আমি তোমার বড়...দার থেকে টা....কা নিইনি। আমি কিশোর কাকু্র কাছ থেকে নিয়েছি। পিসি এবারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, আগে বলবি তো এটা দ্রাপর যুগের নয়, বৈদিক যুগের টাকা। আর আমিও ঐ মাতালটার ফোন পেয়ে সাত পাঁচ না ভেবে কতো কিছু বললাম তোকে।

ভাইপো এবারে করুনভাবে জিঞ্জেস করলো, আচ্ছা পিসি সবাই তো সব জেনে গেছে, ওদের হাতে প্রমাণও আছে, যদি সিবিআই আমাকে জেলে ভরে দেয়? পিসি একগাল হেসে বলল, ধুর পাগলা আমি কি উলের কম্বলটা এমনি এমনি পাঠিয়েছি। সিবিআই ইডি সবাই ওটা চাপা দিয়ে শীতঘুমে চলে যাবে। এতক্ষণে ভাইপোর মুখে হাসি ফুটলো। কৌতূহলবশত ভাইপো পিসিকে জিঞ্জেস করলো, আচ্ছা আমি তো ১.১৫কোটি নিয়েছি তাহলে এস বি আই নিশ্চয়ই আমাকে ৪%সুদ দেবে, তাই না পিসি? কালীপিসি হেসে বলল, দুষ্টু একটা...

(বি.দ্র. - এটি একটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই। থাকলে কাকতলীয়)

Tuesday, 6 June 2017

পরিবেশ সচেতন কালীপিসি

আজ ৫জুন, 'আনতোরজাতিক পোরিবেশ' দিবস। এই পোসঙ্গে আমি দু-চারটে কথা বলবো, সবাই মন দিয়ে শোনো। পোরিবেশ মানে জীব জগত, আকাশ, বাতাস, মাটি। আর মাটি মানেই তো তোমারা জানো, মামাটি! সুতরাং পোরিবেশ রক্ষা মানে, মামাটিকে রক্ষা করা। আর পোরিবেশ নিয়ে আন্দোলন মানে, মামাটির আন্দোলন!

বত্তোমান সময়ে গোটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো সমস্যা পোরিবেশ দূষণ। চারিদিকে এতো কলকারখানা, এতো শিল্পো, প্রতিদিন দূষণ ঘটাচ্ছে। আমাদের গরমেন্ট পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। তাই আমরা কারখানা ধ্বংস করে সেখানে সর্ষে চাষ করে বাংলাকে পোরিবেশ বান্ধব গড়ে তুলেছি। হাইওয়ের পাশে আমার চকলেট অনশন, আসলে পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলন। এটা চিপকো আন্দোলনের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন। আমরা ইতিমধ্যে সেই আন্দোলনের কথা ইতিহাসের সিলেবাসে দিয়েছি। ওনার সাথে কথা হয়েছে! উনি বলেছেন, এটা আইসিএসসি আর সিবিএসসি-র সিলেবাসে চালু করে দেবেন।

আমাদের গরমেন্ট কেবল এদেশের শিল্পো নয়, বিদেশ থেকেও শিল্পো আনতে চায় না! সিঙ্গাপুর, লন্ডন থেকে কতো বিনিয়োগ আসতে চেয়ে ছিল! কতো কারখানা করবে বলেছিল! জাম্মানি তো কালীঘাটের খাল পাড়ে বিএমডাবলিউ কারখানা খুলবে বলে উঠেপড়ে লেগেছিল! আমি সবাইকে না করে দিয়েছি! বলে দিয়েছি, বাংলার পোরিবেশ আমি নষ্ট হতে দেব না!

আমাদের গরমেন্ট পোথোম দিন থেকেই পোরিবেশ সচেতন। আমরা কোনো বন্ধ কারখানা খোলার উদ‍্যোগ নিইনি, বরঞ্চ অনেকগুলো চালু কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। এই যে চা শোমিকরা পোতিদিন গাছের পাতা আর কুঁড়ি ছিঁড়ে ক্ষতি করে! এর জন‍্য বাংলার বাতাসে অক্সিজেন কম হয়! আরে আমি মহেশের মতন মুখ্যু নই! আমি ইস্ট জজিয়া! সেই জন্যই আমি মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে চা বাগান গুলো না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হাইওয়ে থেকে শহর যত বুড়ো গাছ আছে আমি সব কেটে ফেলছি। আসলে ওগুলো সব বাম আমলের গাছ। আমাদের উইলকিনসন তো কবে থেকেই চন্দন গাছ কাটা শুরু করেছে! আয়লার পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমরা পাথর বসিয়ে বা কংকিটের নদী বাঁধ বানাই নি, কারণ এতে পানীদের বাস্তুতন্ত্রের ওপর পোভাব পড়ে।

এই, এই, চোপ! চোপ! আমি কি বলছি শোনো!পোরিবেশ দূষনের অন‍্যতম কারণ হলো প্লাস্টিক। আমাদের মামাটি গরমেন্টের কেউ প্লাস্টিক ব‍্যবহার করেনা, সেটা আপনারা সবাই জানেন। আমদের পোতিনিধিরা তোয়ালে, খবরের কাগজ, কাপড়ের ব‍্যাগ ব‍্যবহার করে। আমাদের গরমেন্টের কেউ পানী (ছুঁচো) হত‍্যা করে না! আমরা কেবল জল ধরো জল ভরো করি না! আমরা বৃক্ষরোপণও করি! আরে আমাদের গরমেন্টের পোতিনিধিরা, গোলাপ চাষ করে জেলে গিয়েছে।

সিপেম আমলে মানে গত চৌত্রিশ বছরে বাংলার পোরিবেশের কোনো উন্নতি হয়নি! ওরা পোরিবেশ নিয়ে আদৌ সচেতন ছিলো না! বরঞ্চ ওদের সময়ে আমরা বেশী পোরিবেশ নিয়ে সক্রিয় ছিলাম। কতোগুলো ধম্মোঘট ডেকেছিলাম মনেকরে দেখুন! যত কম গাড়ি চলবে তত কম দূষণ হবে। ওরা এই ছ-বছরে কটা ধম্মোঘট ডেকেছে! সিপেম কোনোদিন বাংলায় হেলিকপ্টারে করে ভোট পোচার করার কথা চিন্তাই করতে পারেনি। মাত্তো একটা যান, দূষণ মিনিমাম।

পোরিবেশ নিয়ে আজ অনেক তথ‍্যই তোমাদের দিলাম। সাংবাদিক বন্ধুরা, সবাই টিফিন পেয়েছো তো! আমি আমার লেখা একটা কবিতা দিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি..
এ সোনার বাংলাকে শিশুদের
বাসযোগ্য করে যাবো আমি,
যেখানে বিস্কুটের পেটিতে শুয়ে
শিশুরা একে অপরকে খাবে হামি!

(এটি কাল্পনিক রচনা। বাস্তবের সাথে কোনো মিল থাকলে কাকতালীয় )

Friday, 2 June 2017

মহেশ

জৈষ্ঠ্যের দুপুরে মাটির ঘরের বারান্দায় বসে একহাতে তালপাতা দিয়ে বাতাস খাচ্ছিল আর অন‍্য হাতে গামছা দিয়ে ঘাম মুছছিল গফুর। উঠানে কিছু শুকনো চিবাচ্ছিল মহেশ। এমনসময় সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তর্করত্ন। গফুরকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখে, 'গফুর বাড়ি আছো নাকি!' বলে হাঁক দিয়ে রাস্তা ছেড়ে গফুরের বাড়ির দিকে এগোলো...

- একি গফুর, তুমি মাতার আজকাল খেয়াল রাখছো না! গরমে নিজে হাওয়া খাচ্ছো আর মাতাকে হাওয়া দিচ্ছ না!

(গফুর তর্করত্নের মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল)

- আমার মুখের দিকে না দেখে মাতার ডায়েটের দিকে লক্ষ্য দাও! এমন শুকনো খড় খাওয়ালে ২২ নয়, ১২ক‍্যারেটের সোনা পাবে চোনা তে!

(মহেশ একবার হাম্বা করে ডেকে উঠলো। তর্করত্ন ভাবলো মহেশ তার কথার সম্মতি জানালো।)

- (অবক হয়ে) মাতা কে? আমার আম্মা তো কবেই মারা গিয়েছে!

- ওরে গাধা মাতা মানে গো-মাতা! সেটাও জানিস না! আরে ৩৩কোটি দেবতা মিলেমিশে ককটেল হয়ে আছে তোর মহেশের মধ‍্যে। আর তুই কিনা ৩৩কোটি দেবতাকে মানে মহেশকে এই ভাবে রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস! যদি জমিদারের গো-রক্ষক বাহিনীর চোখে পড়ে তাহলে তোকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। যদি মাতা সানস্টোক হয়ে মারা যায় তাহলে তোর কি অবস্থা হবে জানিস!

- আজ্ঞে, সামনেই চাষের সিজন। মহেশ মারা গেলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে।

- আরে মহেশ মারা যাওয়া মানে ৩৩কোটি দেবতা মারা যাওয়া। তুই শুধু চাষের কথা ভাবছিস! এই যে গরমে মাঠ ঘাট সব আগুন হয়ে যাচ্ছে কিন্তু তোর খড়ের ঘরের চালার তলাটা ঠান্ডা সেটা মহেশের জন‍্য!

- তাই নাকি?

- আরে মহেশই তো, সমস্ত কসমিক রে, তেজস্ক্রিয় আলো, সব নিজের শিং দিয়ে শোষণ করে নিচ্ছে। তোর মেয়ে প্রতিদিন ঘরের মাটির দেওয়ালে গোবর লেপে দেয় বলেই তো তোর ঘরটা এতো ঠান্ডা। এই যে তুই এতো বিড়ি খাস, তাও তোর ক‍্যানসার হয়নি। কারণ তুই রোজ দুধ খাস। আর গোমূত্র তো অমৃত! তুই এতদিনে যত পাপ করেছিস, এমনকি পূর্বজন্মের পাপও সব ধুয়ে যাবে গো-মূত্র খেলে।

- বলো কি পন্ডিত! যদি পেট খারাপ হয়!

- ধুর! পেট খারাপ, ওলাওঠা সব সেরে যাবে! প্রতিদিন সকালে এক চামচ করে গোবর খাবি। তাছাড়া এই যে মহেশ প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা তোর বাড়িতে হাম্বা হাম্বা করে ঢাকছে, এতেই আশেপাশের সমস্ত জীবানু মরে যাবে। আরে মহেশ ঘরে আছে মানেই তোর ঘর আর ঘর নেই! জানবি ওটা নার্সিংহোম।

(মহেশ একবার শিং নাড়িয়ে হাম্বা করে ঢেকে উঠলো)

- (অবাক হয়ে) বলো কি পন্ডিত! মহেশের এতো গুণ!

- এই যে তুই মাঠে থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে বারান্দায় বসে বুক ভরে দম নিতে পারছিস, সেটাও মহেশের জন‍্য। মহেশই তো তোকে অক্সিজেন সাপ্লাই দিচ্ছে।

(ইস্কুল থেকে ফিরে আমিনা এতক্ষণ তর্করত্নের পিছনে দাঁড়িয়ে কথা গুলো শুনছিল। এবারে আমিনা তর্করত্নের কথা ধরলো..)

- কেবলমাত্র গাছ অক্সিজেন দেয়। আর কিছু নিন্ম শ্রেণীর প্রাণী।

(তর্করন্ত পিছন ফিরে আমিনাকে দেখে)

- ইস্কুল থেকে ফিরলে বুঝি!

- বলছিলাম গরু কোনোদিন অক্সিজেন দিতে পারে না। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।

- (হাসি মুখে) আমার কোনো ভুল হয়নি! আসলে এসব তথ‍্য তোমাদের ইস্কুলের বিজ্ঞানের স‍্যারেরাও জানেন না! তাই তোমাদের শেখাতে পারেনি! আরে গো-মূত্র খেলে যে লিভার ভালো থাকে, শ্বেত রক্ত কনিকা লাফায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, দুধে কেরেটিন প্রোটিন থাকে, ভিটামিন-এ সংশ্লেষ হয়! এসব তথ‍্য ওনারা কিছুই জানেন না। আর গরুর এতো গুণ আছে বলেই না কদিন পরেই গরু আমাদের জাতীয় পশু হবে! সে খবর তুমি রাখো!

- জাতীয় পশু তো বাঘ। তা হঠাৎ বাঘকে সরিয়ে গরু কেন?

- বাঘেরা এখন সংখ‍্যালঘু। আর সংখ‍্যালঘুরা কোনোদিন দেশের প্রতীক হতে পারে!

- তাহলে তো ময়ূরকে সরিয়ে কাককে জাতীয় পাখি করা উচিত! ময়ূরের থেকে কাকের সংখ্যা তো অনেক বেশী। তাছাড়া কাককে জাতীয় পাখি করলে স্বচ্ছ ভারত অভিযানটাও খানিকটা গতি পাবে!

- না না, ওটা হচ্ছে না! গরু জাতীয় পশু আর কাক জাতীয় পাখি হলে তো গেরুয়া সবুজ জোটটা সবাই বুঝতে পেরে যাবে! তাছাড়া ময়ূর
ওরা তো সঙ্গম করে না! ওরা ব্রম্ভচর্য পালন করে।

- তাহলে ময়ূরের বাচ্ছা হয় কি করে?

- ময়ূর বর্ষাকালে আকাশ ডাকলে ভয়ে কাঁদে, তখন ময়ূরী ছুটে আসে আর ময়ূরের চোখের জল খেয়ে নেয়। ওরা তো আর আমাদের মতন রুমাল দিয়ে মুছে দিতে পারে না। ময়ূরের সেই চোখের জল খেয়েই ময়ূরী গর্ভবতী হয়।

- মোটেই না। বাজে কথা। ওরা সঙ্গম করে।

- মেয়ের সাহস তো কম নয়! তক্করত্নের মুখের ওপর তক্ক করে! জানিস তুই, সাত গেরামের সবাই আমার কথা মান‍্যি করে!

- আমি স্কুলে আমার বন্ধুদের মোবাইলে ইউটিউবে দেখেছি ময়ূর ময়ূরী সঙ্গম করে।

- ঐ দ‍্যাখ গফুর, তোর মেয়ে আজকাল ইস্কুলে গিয়ে কিসব দেখছে! পই পই করে বলেছিলুম, মেয়েকে ইস্কুলে পাঠাস নে! এখন বুঝলি তো! আজ আমার বিরূদ্ধে কথা বলছে, কাল জমিদারের বিরুদ্ধে বলবে, পরশু দ‍্যাশের বিরুদ্ধে বলবে! তোর মেয়ে শীঘ্রই দেশদ্রোহী হয়ে যাবে! কথাটা মিলিয়ে নিস....

তর্করত্ন আমিনার কাছে যোগ‍্য জবাব পেয়ে নিজের লাইনে ফিরে গেল, মানে ঐ উঠান টপকে যে পথে এসেছিল সেই পথ দিয়ে ধুতি গুটিয়ে জোরে পা চালালো। মুখে তার একটাই কথা- মেয়ের মুখের কি ভাষা! রাম! রাম!

আমিনা পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলল, রাম রাম নয়! জয় শ্রীরাম বলুন পন্ডিতমশাই!

(শরৎচন্দ্রের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী

জামাইষষ্ঠী স্পেশাল

জামাইষষ্ঠীর দিন সন্ধ‍্যাবেলায় সমস্ত ভাইয়েরা হরিশ চ‍্যাটারর্জি স্ট্রিটে হাজির। কালিপিসি সবার খোঁজ খবর নিচ্ছে কে কেমন জামাইষষ্ঠী কাটালো...

- কিরে কানন, টিভিতে দেখলাম ইলিশ, চিংড়ি, মটন বেশ জম্পেশ করে সাটাচ্ছিস!

- (একগাল হেসে) শাশুড়ি আদর করে দিলে না খেয়ে থাকা যায়! তাছাড়া তুমি তো জানোই, খাওয়ার সময় আমার ম‍্যাক্সিমাম মিনিমামের কথা মাথায় থাকে না!

- তোয়ালেটা তো পুরো হলুদ করে ফেলেছিস! আর কতোবার তোকে বারং করেছি, ক‍্যামেরার সামনে খাবি না!

- না না ওরা হুল ফোটায় না! ওরা এগিয়ে রাখে! তাই ভাবলুম আজকের দিনে যদি বাকি জামাইদের থেকে একটু এগিয়ে থাকা যায়! যদি সন্ধ‍্যাবেলায় শালা শালিরা আমাকে নিয়ে 'ঘন্টাখানেক' হই হুল্লোড় করে! তাই আরকি!

- তা শমিত দা, শাশুড়ির জন‍্য কি নিয়ে গেলে?

- ঐ একটা ছাপা শাড়ী।

- ছাপা কেন? জামদানি, ঢাকাই, ধনেখালী কিছুই পেলে না!

- আজ্ঞে, ঐ ধনই তো এখন খালি! একেই ৩৪ বছরের দেনা, তার ওপর এতবার বাজার থেকে ধার করেছি শশুর বাড়ির লোকজন আমাকে এখন 'ধারালো জামাই' বলে।

- তা অধিকারী, তোমার কি খবর? শশুরবাড়ি গিয়েছিলে?

- আমাকে তো আমার শাশুড়ি একদিন আগেই অপহরণ করে নিয়ে যায়! যদি দিনের দিন খুঁজে না পায়!

- কিরে পাত্তো, তোকে শাশুড়ি কি দিলো?

- গিন্নি আগে থেকেই শাশুড়িকে বলে রেখেছিল, টেট হোক বা জামাইষষ্ঠীর ভেট, জামাইয়ের ফিক্সড রেট। ১২লাখের কম দামি কোনো গিফ্ট নেয় না।

- প্রদীপ'দা, তুমি কি হাসপাতালেই এবারে ষষ্ঠী খেলে?

- ডাক্তার রিচ খেতে মানা করেছে। তাই শাশুড়ি জিরেবাটা, কাঁচকলা, পেঁপে দিয়ে কচি পাঁঠার ঝোল করেছিল। শালাবাবু সাইকেলে করে হাসপাতালে দিয়ে গেছে।

- নকুল'দার কেমন কাটলো জামাইষষ্ঠী?

- আমার তো দু-জায়গা থেকে ডাক এসেছিল। সত‍্যি, শিউলীর মায়ের হাতের রান্না ভজহরি মান্নাকেও হার মানায়।

- তা বেচা, তোমার তো হাই প্রেসার! তেলের রান্না তো খাওয়া বারং! শাশুড়ি কি স‍্যুপ করেছিল?

- না না! শাশুড়ি সিঙ্গুর সরিষার তেল দিয়ে রান্না করেছিল। একেবারে কোলেস্টেরল ফ্রি!

- ঐ দ‍্যাখো আরেকজন আসা থেকেই ঢুলছে। হ‍্যাঁরে মদনা, দুবছর জেল খেটে জামাইষষ্ঠী গেলি, কেমন খাওয়ালো? কি কি মাছ হয়েছিল? খাসিটাকি রেওয়াজি?

- (ঢুলতে ঢুলতে) ওসব আমার কিছুই মনে নেই! শাশুড়ি মাংস কষছিল, আমি বাটি নিয়ে গিয়ে বললাম, দুপিস কষা দাও। তারপর ঐ দুপিস কষা দিয়েই একটা পুরো বাংলা টেনে দিলাম। স্যাট করে মাথায় লেগে গেল। তারপর শালী এসে দুটো মিস্টি খাওয়াতেই ফুল আউট! বৌ, শালি এমনকি শশুর বাড়ির কাজের মেয়ে, যাকেই দেখি যেন পিয়ালী বলে মনে হয়!

(হঠাৎ হাকিম বেরিয়ে গেল)

- কি হলো হাকিম সাহেব? কোথায় চললেন?

- আমার রোজা চলছে। এইসময় বসে বসে এমন সব খাবারের নাম কতক্ষণ শোনা যায়!

(দরজার দিকে তাকিয়ে)
- কি খোকাবাবু মনখারাপ করে দাঁড়িয়ে কেন?

- 'আ...মি কবে জা...মাইছটি যাব! সবাই এ....নজয় করছে, আমি কবে করবো! আমার কি আদৌ বি....ইয়ে হবে না!'

- (খোকাবাবুর দিকে তাকিয়ে মদনা) আমার তো খেলে কথা জড়ায়, তোর তো সারাক্ষণ জড়ায়। তোকে কে বিয়ে করবে!

- (কালিপিসি মদনাকে ধমক দিয়ে খোকাবাবুর মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে) চিন্তা করিস না, তোর জন্য আমি গরমেন্ট থেকে পাত্রীচাই বিজ্ঞাপন দেব। আগামী বছর থেকে গরমেন্ট জামাইশ্রী দেওয়া শুরু করবে। আর হ‍্যাঁ, আগামী বছর থেকে জামাইষষ্ঠী উৎসবে সমস্ত সরকারি অফিস 'পুন্ন' দিবস ছুটি থাকবে।

(সব চরিত্র কাল্পনিক)

Wednesday, 26 April 2017

গরুর রচনা

নরেন স্কুলে প্রতিদিন একটি রচনাই মুখস্থ করে যায়। আর সেটা দিয়েই সব রচনা দিব‍্যি চালিয়ে দেয়। আসলে এই গুণটা তার জিন সূত্রে পাওয়া। সেই ঘটনাটা মনে আছে তো যেখানে একটা ছেলে স্কুলে কেবল কুমীরের রচনা মুখস্ত করে যেত। আর শিক্ষক তাকে যে রচনাই লিখতে দিতো, সে ঘুরে ফিরে সেই কুমিরেই এসে শেষ করতো। নরেন তার নাতির ছেলে। 'চারটে জেনারেশন' ধরে সেই একই ট্র‍্যাডিশন চলছে। কেবল কুমীর পাল্টে কখনও হয়েছে হনুমান, কখনও বা পাঁঠা। এই ফোর্থ জেনারেশনে এসে হয়েছে গরু। হ‍্যাঁ সেই কুমীরখ‍্যাত ভদ্রলোকের পোপৌত্র, নরেন স্কুলে কেবল একটি রচনাই মুখস্ত করে যায়। গরুর রচনা। গরু গৃহপালিত প্রানী। গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ..... গরু গোবর দেয়। গোবর থেকে ঘুটে ও গোবর গ‍্যাস তৈরী হয়। এই গোবর গ‍্যাসই সমস্ত শক্তির উৎস। এই গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

একেবারে ঝড়ঝড়ে ২০০টি শব্দের গরুর রচনা মুখস্ত করে নরেন স্কুলে হাজির। বাংলার শিক্ষক এসে, 'একটি গাছ, একটি প্রাণ' রচনা বলতে বললে নরেন শুরু করলো - গাছ খুব উপকারি, গাছ সালোকসংশ্লেষ করে কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে আমাদের অক্সিজেন দেয়। তবে এই কাজ যে গাছ একা পারে তা কিন্তু নয়! গরুও পারে পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে অক্সিজেন ছাড়তে। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত। পরেরদিন শিক্ষক মশাই নরেনকে, 'জাতীয় সুরক্ষা' নিয়ে রচনা বলতে বললেন। নরেন যথারিতী শুরু করলো - জাতীয় সুরক্ষা দেশের পক্ষে খুব জরুরি। দেশে শক্তিশালী জল, স্থল ও আকাশ বাহিনী আছে। এছাড়া রয়েছে গো-রক্ষা বাহিনী। এরা গরুদের সুরক্ষা প্রদান করে। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

শিক্ষক মশাই দেখলো ভারি মুসকিল! নরেনকে যাই রচনা জিজ্ঞেস করে সে ঘুরে ফিরে গরুতেই এসে শেষ করে। পরেরদিন শিক্ষক মশাই একটু শক্ত রচনা দিলেন, 'অলিম্পিকে ভারত'। মনেমনে শিক্ষক মশাই ভাবতে লাগলেন, দ‍্যেখি অলিম্পিকে কি করে নরেন গরু ঢোকায়! নরেন একটু ভেবে শুরু করলো - অলিম্পিক বিশাল বড়ো খেলার আসর। ভারত এবারের অলিম্পিকে এতো কষ্ট করেও একটাও সোনা পায়নি। তবে সোনা কিন্তু সহজেই গো-মূত্রে পাওয়া যায়। গরুই আপনাকে দিতে পারে সোনা। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত। শিক্ষক মশাই রেগে আগুন তেলে বেগুন। পরেরদিন এসেই নরেনকে বলল, আজকের রচনা 'গ্লোবাল ওয়ার্মিং'। দ‍্যেখি এতে গরু ঢোকা! নরেন শুরু করলো - গ্লোবাল ওয়ার্মিং মানে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এটার জন‍্য দায়ী গ্রীনহাউস গ‍্যাস। যার মধ‍্যে থাকে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ( সি এফ সি )। এই গ‍্যাস রেফ্রিজেরেটরে ব‍্যবহার করা হয়। আর ওর ভিতরেই আকলাখ গো-মাংস লুকিয়ে রেখেছিল। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

আজ শিক্ষক মশাই কোনো কথা বলছে না, একেবারে গম্ভীর। ভিতরে ভিতরে রাগে ফুঁসছে। ক্লাসে ঢুকেই নরেনকে ডেকে বলল, আজ 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' নিয়ে বল। দেখি এটার মধ‍্যে তুই কি করে গরু আনিস! হাতে বেতের ছড়িটা নিয়ে শিক্ষক স‍্যাডো প্র‍্যাক্টিস করতে শুরু করলেন।নরেন আজ বিখ‍্যাত উক্তি কোট করে শুরু করলো - 'পরে হবে ভাত ডাল, আগে হোক ডিজিটাল'। আমাদের দেশে এখন সুদিন, দেশ এখন ডিজিটাল। দেশ এখন ক‍্যাসলেস। দেশ এখন কার্ড নির্ভর। প‍্যানকার্ড, এটিএম কার্ড, আঁধার কার্ড। আঁধার কার্ডের সুবিধা এবার থেকে গরুরাও পাবে। গরুও এখন থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার শরিক। আর এই গরুর দুটো শিং, চারটে পা, একটা লেজ.... গরুই আমাদের মাতা, ঘুটে আমাদের ভিত্তি আর গোবর আমাদের ভবিষ‍্যত।

শেষে হতাশ হয়ে ও রেগে গিয়ে শিক্ষক মশাই চিৎকার করে বলতে লাগলো, গরুর আঁধার কার্ড হবে, গরু গোয়ালে না থেকে ইন্দিরা আবাসের ঘরে থাকবে, গরুর জনধন যোজনায় অ্যাকাউন্ট হবে, গরু এবার থেকে ভোটাধিকারও পাবে। নরেন মুচকি হেসে বলল, স‍্যার গরু জিওর সিমও তুলতে পারবে।

Thursday, 20 April 2017

কালীপিসির পুরী ভ্রমণ

অনেকদিন ধরেই পিসি ভাবছে পুরী গিয়ে পুজো দিয়ে আসবে কিন্তু লন্ডন জার্মানি একটার পর একটা ট‍্যুর, বিশ্ব ব‍্যাঙ্গ সম্মেলন, আহারে বাহারে নানা উৎসব আর কাজের মধ‍্যে সময় হয়নি। তাই উনি ঠিক করেছেন, হার্মাদের দেশে যাবার আগে এবারে পুজোটা দিয়েই যাবেন। তাছাড়া পুরীর কাছেই ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে পিসির দুই ভাই, দীপ আর মাল, পা ভেঙে ভর্তি আছে। তাদের সাথে দ‍্যাখাও করবে। গোলাপী উপত‍্যাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে পা ভাঙে। কয়েক মাস হলো ভর্তি আছে। পিসি ভাইয়েদের দেখতে যায়নি বলে তারা খুব দুঃখু পেয়েছে। দীপ হাসপাতালে পিসিকে দেখেই,' দিদি গো..' বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো! পিসি দীপের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আহারে বাছা একেবারে শুকিয়ে গেছে! জিম না করেই ১৫-২০কিলো ওজন কমিয়ে ফেলেছে! দীপ বরাবরই সাইকেল চালাতে খুব পছন্দ করে, তাই পিসি ভেবেছিল সবুজ সাথীর সাইকেল একটা দিয়ে আসবে। কিন্তু পা তো ভাঙা, চালাবে কি করে! তাই একটা ডায়েরি দিয়ে বলে এসেছে, এটাতে গান কবিতা যা মনে আসে লেখ, ছবি আঁকো। আমি বই মেলাতে এটাকে প্রকাশ করবো। নাম হবে, 'হাসপাতালের ডায়েরি'। 'মাল'টার সাথে পিসি আর দ‍্যাখা করেনি। পিসি খোঁজ নিয়ে দেখেছে, 'মাল'টা হাসপাতালে প্রতিদিন ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন খেয়ে দিব‍্যি আছে।


এদিকে হয়েছে আরেক বিপত্তি। গতবছর পিসির এক ভাই কৃষ্ণ দাস মানে কেডিভাই পিসির বাড়িতে নারায়ণ পাঠিয়ে ছিলেন পুজো করার জন‍্য। পিসির আরেক ভাই 'বাল'এশ্বর দায়িত্ব নিয়ে পুজো করিয়ে সবাইকে প্রসাদ দেয়। পিসির বেশকিছু ভাই, ভাইপো, ভাইঝি পুজোর প্রসাদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। খবরটা গোটা পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই তারা মাঝে মধ‍্যেই অসুস্থ হয়ে পড়তো। বেলভিউতে ভর্তিও করতে হয়েছে কয়েকবার। পিসি তার নিজের ডায়গনস্টিক সেন্টারে সবাইকে ফ্রিতে পরীক্ষা করবে বলেছিল। সেটা বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর টেনশানে আর করে উঠতে পারেনি। তবে জনস্বার্থে, এই অসুখ ছোঁয়াচে কিনা জানার জন‍্য স‍্যাম্পেল দিল্লীর ল‍্যাবে পাঠানো হয়েছিল। প্রসাদ প্রায় সবাই খেয়েছিল। কেউ তোয়ালে মুড়ে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল, তো কেউ খবরের কাগজ মুড়ে নিয়ে গিয়েছিল! কেউ আবার ব‍্যাগে করে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল! পিসির নকুল ভাই তো সবারচেয়ে বেশী প্রসাদ খেয়েছিল। এক ভাই জলখাবারে সিঙাড়া দিয়েই খেয়েছিল আর মাতাল ভাইটা তো পুজোর ফলকে চাট বানিয়ে পেগ মারতে মারতে খেয়েছিল। ভাইপোর ফিজিক্সের প্রাইভেট টিউটর, ফুটবল কোচ সবাই খেয়েছিল। পিসির ফ‍্যামেলি ফিজিসিয়ন মিতালী আর হাকিম সাহেবও খেয়েছিল। এমনকি বাড়ির সিকিউরিটি গার্ডও খেয়েছিল। এটা নিশ্চিত, প্রসাদ আরও অনেকে খেয়েছিল। তবে বাকিদের অবস্থা দেখে আর কেউ মুখ খুলছে না! পাড়ার লোকজনের মুখে একটাই কথা, পিসির বাড়ির নাযরাণ পুজো আর পিসি প্রসাদ পায়নি! এটা হতেই পারে না।

দিল্লীর ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ১৩জনের ইনফেকশনের রিপোর্ট এসেছে। মনেহয় হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। উডবার্নে রেখে চিকিৎসা করলে রোগ সারবে না তাই ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হবে। সেটা পিসি ভালো ভাবেই জানেন। খুব শীঘ্রই আরও জনা পোনেরোর রিপোর্ট পাঠাবে জানিয়েছে দিল্লী থেকে। তাই ভাইয়েদের হাসপাতালে থাকতে যাতে কোনো অসুবিধা নাহয় সেটাই তদারকি করতে উনি এসেছেন। অবশ‍্য সেকথা পিসি স্বিকার করেনা। বলে, আমি পুজো দিতে এসেছি।

একটার পর একটা টেনশানে পিসি যখন জর্জরিত তখন ভাবলেন পুরীর সমুদ্রে জয় জগন্নাথ বলে একটা ঢুব দিয়ে মন্দিরে একবার মাথা ঠেকিয়ে আসি। কিন্তু সমস‍্যা যেন পিসির পিছু ছাড়ছে না! এক পান্ডা হুমকি দিয়েছে, পিসিকে পুজো দিতে দেবেনা। এতো আর সাংবাদিক পান্ডা নয়, যে পিসির চাবকানির ভয়ে চুপ করে যাবে! এ আই এস আই ছাপ যুক্ত বিশুদ্ধ হিন্দু পান্ডা। পিসির রাফ এন্ড টাফ মেজাজকে তোড়াই কেয়ার করে! পান্ডাটা নিশ্চয়ই পিসিকে হিজাব পরে টিভিতে দেখেছে। অনেক কষ্টে নিজেকে 'পোকিতো হিন্দু পোমান' করে পিসি পুজো দিতে পেরেছে।

এতো ঝামেলার চাপে পড়ে কাকাতুয়া থেকে ভাইপোর জন‍্য জিভেগজা কিনবে সেটাও ভুলে গিয়েছে। জিভেগজা যে ভাইপোর ফেবারিট। বারবার করে পিসিকে জিভেগজা আনতে বলেছে ভাইপো। তাই পিসি সোনার তরী থেকে বার হবার সময় হোটেলের ম‍্যানেজারকে ২০০০এর একটা নোট দিয়ে বললো, কাউকে দিয়ে খাজা এনে দিন তো। ম‍্যানেজার মুচকি হেসে বলল, নিতে হবেনা ম‍্যাডাম! কদিন বাদেই তো ছোটোবাবু এখানে আসবে। তখন প্রতিদিন খাজা খাবে।

বি.দ্র. - বাস্তবের সাথে এই গল্পের কোনো মিল নেই। থাকলে কাকতালীয়।